সৃষ্টির ভালোবাসায় স্রষ্টার খুশি
jugantor
সৃষ্টির ভালোবাসায় স্রষ্টার খুশি

  গোলাম রাজ্জাক কাসেমী  

২০ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মহানবী (সা.) শুধু মানুষকে ভালোবাসতেন না। ভালোবাসতেন পশুপাখি। ভালোবাসতেন তরুলতা ও প্রকৃতি। কেবল মানবজাতি নয়, জীবজন্তুর অধিকার রক্ষায়ও তিনি ছিলেন সোচ্চার। এক দিনের ঘটনা।

রাসূলুল্লাহ (সা.) এক আনসারির খেজুর বাগানে প্রবেশ করলে হঠাৎ একটি উট দেখতে পান। উটটি নবী (সা.)কে দেখে কাঁদতে লাগল। নবীজি অনেক ব্যথিত হলেন। উটটির কাছে গিয়ে তার মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করলেন। এতে উটটির কান্না বন্ধ হয়ে গেল।

তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ উটের মালিক কে? এক আনসারি যুবক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি। নবীজি (সা.) বললেন, ‘আল্লাহ যে তোমাকে এই নিরীহ প্রাণীটির মালিক বানালেন, এর ব্যাপারে তুমি কি আল্লাহকে ভয় করো না?

উটটি আমার কাছে অভিযোগ করেছে, তুমি একে ক্ষুধার্ত রাখ এবং কষ্ট দাও (সুনানে আবু দাউদ : ২৫৪৯)। পশুপাখির প্রতি কোমল ব্যবহার ইবাদতের পর্যায়ভুক্ত। পশুপাখিকে কষ্ট দেয়া গুনাহের কাজ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : ‘আল্লাহতায়ালা প্রত্যেক বিষয়ে তোমাদের কাছে সদাচার কামনা করেন।

অতএব, তোমরা যখন হত্যা করবে, দয়াশীল হয়ে হত্যা করবে; আর যখন জবাই করবে তখন দয়ার সঙ্গে জবাই করবে। তোমাদের সবাই যেন ছুরি ধারালো করে নেয় এবং তার জবাইকৃত জন্তুকে কষ্টে না ফেলে’ (সহিহ মুসলিম : ১৯৫৫)। পশুপাখির সঙ্গে যথাসম্ভব দয়াশীল আচরণ করতে হবে।

পশুপাখির অঙ্গহানি করা নিষিদ্ধ। ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) ওই ব্যক্তিকে অভিশাপ দিয়েছেন, যে প্রাণীদের অঙ্গচ্ছেদ করে’ (বুখারি, হাদিস নং : ৫৫১৫)। বিড়ালকে কষ্ট দেয়ার কারণে এক মহিলাকে জাহান্নামে যেতে হয়েছিল।

রাসূল (সা.) বলেন : ‘এক নারীকে একটি বিড়ালের কারণে আজাব দেয়া হয়েছিল। সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল। সে অবস্থায় বিড়ালটি মারা যায়। মহিলাটি ওই কারণে জাহান্নামে গেল।

কেননা সে বিড়ালটিকে খানাপিনা কিছুই দেয়নি এবং ছেড়েও দেয়নি যাতে সে জমিনের পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকত’ (সহিহ বুখারি : ৩৪৮২)। আসুন সব ধরনের প্রাণীর প্রতি সদয় ও স্নেহশীল হই। তাদের জন্য ভালোবাসা ও মমতা লালন করি এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য রক্ষায় মনোযোগী হই।

লেখক : শিক্ষক

সৃষ্টির ভালোবাসায় স্রষ্টার খুশি

 গোলাম রাজ্জাক কাসেমী 
২০ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মহানবী (সা.) শুধু মানুষকে ভালোবাসতেন না। ভালোবাসতেন পশুপাখি। ভালোবাসতেন তরুলতা ও প্রকৃতি। কেবল মানবজাতি নয়, জীবজন্তুর অধিকার রক্ষায়ও তিনি ছিলেন সোচ্চার। এক দিনের ঘটনা।

রাসূলুল্লাহ (সা.) এক আনসারির খেজুর বাগানে প্রবেশ করলে হঠাৎ একটি উট দেখতে পান। উটটি নবী (সা.)কে দেখে কাঁদতে লাগল। নবীজি অনেক ব্যথিত হলেন। উটটির কাছে গিয়ে তার মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করলেন। এতে উটটির কান্না বন্ধ হয়ে গেল।

তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ উটের মালিক কে? এক আনসারি যুবক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি। নবীজি (সা.) বললেন, ‘আল্লাহ যে তোমাকে এই নিরীহ প্রাণীটির মালিক বানালেন, এর ব্যাপারে তুমি কি আল্লাহকে ভয় করো না?

উটটি আমার কাছে অভিযোগ করেছে, তুমি একে ক্ষুধার্ত রাখ এবং কষ্ট দাও (সুনানে আবু দাউদ : ২৫৪৯)। পশুপাখির প্রতি কোমল ব্যবহার ইবাদতের পর্যায়ভুক্ত। পশুপাখিকে কষ্ট দেয়া গুনাহের কাজ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : ‘আল্লাহতায়ালা প্রত্যেক বিষয়ে তোমাদের কাছে সদাচার কামনা করেন।

অতএব, তোমরা যখন হত্যা করবে, দয়াশীল হয়ে হত্যা করবে; আর যখন জবাই করবে তখন দয়ার সঙ্গে জবাই করবে। তোমাদের সবাই যেন ছুরি ধারালো করে নেয় এবং তার জবাইকৃত জন্তুকে কষ্টে না ফেলে’ (সহিহ মুসলিম : ১৯৫৫)। পশুপাখির সঙ্গে যথাসম্ভব দয়াশীল আচরণ করতে হবে।

পশুপাখির অঙ্গহানি করা নিষিদ্ধ। ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) ওই ব্যক্তিকে অভিশাপ দিয়েছেন, যে প্রাণীদের অঙ্গচ্ছেদ করে’ (বুখারি, হাদিস নং : ৫৫১৫)। বিড়ালকে কষ্ট দেয়ার কারণে এক মহিলাকে জাহান্নামে যেতে হয়েছিল।

রাসূল (সা.) বলেন : ‘এক নারীকে একটি বিড়ালের কারণে আজাব দেয়া হয়েছিল। সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল। সে অবস্থায় বিড়ালটি মারা যায়। মহিলাটি ওই কারণে জাহান্নামে গেল।

কেননা সে বিড়ালটিকে খানাপিনা কিছুই দেয়নি এবং ছেড়েও দেয়নি যাতে সে জমিনের পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকত’ (সহিহ বুখারি : ৩৪৮২)। আসুন সব ধরনের প্রাণীর প্রতি সদয় ও স্নেহশীল হই। তাদের জন্য ভালোবাসা ও মমতা লালন করি এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য রক্ষায় মনোযোগী হই।

লেখক : শিক্ষক