চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোজা
jugantor
চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোজা

   

০৯ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোজা

রোজা পালন করার দ্বারা শুধু আত্মিক উন্নতিই হয় এমনটি নয় বরং রোজা একজন মানুষের শরীরিক উন্নতিতেও অসাধারণ ভূমিকা রাখে। রোজা শরীরের বহু কঠিন রোগ-বালাই দূরীভূত করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক ইবনে সিনা তার অনেক রোগীকে একাধারে তিন সপ্তাহ রোজা পালনের নির্দেশ দিতেন।

রোজা গ্যাসট্রিক ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে রোজা পালনের মাধ্যমে মানুষ অতিরিক্ত ওজন দূর করতে পারে এবং স্বাভাবিক ওজনে ফিরে আসে। পাশাপাশি বিপাকক্রিয়া শক্তিশালী হয়। এর ফলে সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির ডায়াবেটিস প্রতিরোধের ক্ষমতা অনেকাংশে বেড়ে যায়। রমজানে শরীরে ধপরফরঃু স্বাভাবিক পর্যায়ে থাকে। ফলে রমজান মাস চলাকালীন তাদের গ্যাসট্রিক যন্ত্রণা দূর হয় এবং বিরামহীনভাবে এক মাস রোজা পালনের ফলে রমজানের পরবর্তী বহুদিন তাদের গ্যাসট্রিকের সমস্যা থাকে না।

মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র উজ্জীবিত করে

রোজার সর্বাধিক প্রভাব বিস্তার করে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর। ফলে তা উজ্জীবিত এবং উর্বরতা লাভ করে। এর মাধ্যমে মানুষের ধ্যান-ধারণা, মানসিকতা সুন্দর হয় এবং স্নায়ুবিক বিষণ্নভাব ও দুর্বলতা দূরীভূত হয়। যার দরুন মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহের স্বাভাবিক ভারসাম্য সৃষ্টি হয়, যা সুস্থ স্নায়ুবিক প্রক্রিয়ার পথ প্রদর্শন করে এবং সূক্ষ্ম অনুকোষগুলো জীবাণুমুক্ত ও সবল রাখে (সুন্নতে রাসূল ও আধুনিক বিজ্ঞান)।

পাকস্থলীর ক্ষয় পূরণ ও পুনর্গঠন করে

যকৃত ও পাকস্থলীর অবস্থান পাশাপাশি। বিভিন্ন ভেজাল খাদ্যের প্রভাব যকৃতের ওপর পড়ে। আর পাকস্থলীর ভেতরে অনায়াসে বিভিন্ন ধরনের খাবার হজম হয়। হজম হলেও সারা দিনে বিভিন্ন ধরনের খাবারের ফলে এক ধরনের ক্ষয় হয়। সঙ্গে সঙ্গে পাকস্থলীর আয়তনও বৃদ্ধি পায়। আর এ আয়তন বর্ধিত হওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর (শরীর বিদ্যা)। কিন্তু দীর্ঘ এক মাস রোজা পালন পাকস্থলীকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে এবং পাকস্থলীকে খাদ্যমুক্ত বা বিশ্রামে রাখে। এতে করে পাকস্থলীর ক্ষয় পূরণ ও পুনর্গঠন হয়। যা প্রতিটি মানুষের সুস্থতার জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। (স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও ইসলাম : ডা. গোলাম মোয়াযযম)।

জিহ্বা ও লালাগ্রন্থি সতেজ হয়

জিহ্বা মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। জিহ্বায় অসংখ্য কোষের সমন্বয়ে স্বাদ নলি রয়েছে। এসব নলি দ্বারাই খাবারের বিভিন্ন স্বাদ গ্রহণ করা যায়। আমরা দৈনন্দিন বিরামহীন খাবারের ফলে স্বাদ গ্রহণের এসব নলিতে ফাটল সৃষ্টি হয়। যা স্বাদ গ্রহণে বাধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রোজা পালনের ফলে জিহ্বা ও লালাগ্রন্থিগুলো বিশ্রামের সুযোগ পায়। জিহ্বার অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বাদ নলিকাগুলো সতেজতা ফিরে পায় এবং খাবারের প্রতি রুচির প্রবণতা ফিরে আসে।

স্মরণশক্তি বাড়ায়

রোজা মানুষের মানসিকতা নান্দনিক করে তোলে। স্মৃতিশক্তির প্রখরতা বৃদ্ধি পায়। এ ব্যাপারে ডা. আলেক্স হেইগ বলেন, ‘সিয়াম হতে মানুষের মানসিক শক্তি ও বিশেষ বিশেষ অনুভূতিগুলো উপকৃত হয়। স্মরণশক্তি বাড়ে, মনোসংযোগ ও শক্তি পরিবর্ধিত হয়।’ (মাহে রমজানের শিক্ষা ও তাৎপর্য : অধ্যাপক সাঈদুর রহমান)।

রক্তের কলস্টেরলের পরিমাণ স্বাভাবিক রাখে

মানবদেহে অতিরিক্ত মেদ বা চর্বির কারণে রক্তে কলস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। রক্তে অতিরিক্ত কলস্টেরল হলে হৃৎপিণ্ড, ধমনিতন্ত্র ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভয়াবহ রোগ সৃষ্টির মাধ্যমে ব্যক্তিকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে। কিন্তু নিয়মিত রোজা পালনের ফলে দেহে অতিরিক্ত মেদ-চর্বি হয় না এবং রক্তের কলস্টেরলের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে।

রোজায় মানসিক প্রশান্তি মেলে

রমজান মাসে একাধারে রোজা পালনের ফলে রোজা পালনকারী মানসিক শান্তি লাভ করে। মস্তিষ্ক সর্বদা শীতল ও স্বাভাবিক থাকে। এতে মানসিক অশান্তির সম্ভাবনা একেবারেই শূন্য। রোজা পালনকারীর মন সর্বদা পবিত্র চিন্তায়ই ব্যস্ত থাকে। এতে মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি পায়। সে জন্যই রোজা পালনকারীর মানসিক অশান্তির কারণে কোনো রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। উল্লেখ্য, মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে শারীরিক বহু রোগ-ব্যাধির অন্যতম কারণ মানসিক অশান্তি বা অমানবিক পীড়া।

লেখক : অধ্যক্ষ সৈয়দপুর সৈয়দিয়া শামছিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, সুনামগঞ্জ

চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোজা

  
০৯ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোজা

রোজা পালন করার দ্বারা শুধু আত্মিক উন্নতিই হয় এমনটি নয় বরং রোজা একজন মানুষের শরীরিক উন্নতিতেও অসাধারণ ভূমিকা রাখে। রোজা শরীরের বহু কঠিন রোগ-বালাই দূরীভূত করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক ইবনে সিনা তার অনেক রোগীকে একাধারে তিন সপ্তাহ রোজা পালনের নির্দেশ দিতেন।

রোজা গ্যাসট্রিক ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে রোজা পালনের মাধ্যমে মানুষ অতিরিক্ত ওজন দূর করতে পারে এবং স্বাভাবিক ওজনে ফিরে আসে। পাশাপাশি বিপাকক্রিয়া শক্তিশালী হয়। এর ফলে সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির ডায়াবেটিস প্রতিরোধের ক্ষমতা অনেকাংশে বেড়ে যায়। রমজানে শরীরে ধপরফরঃু স্বাভাবিক পর্যায়ে থাকে। ফলে রমজান মাস চলাকালীন তাদের গ্যাসট্রিক যন্ত্রণা দূর হয় এবং বিরামহীনভাবে এক মাস রোজা পালনের ফলে রমজানের পরবর্তী বহুদিন তাদের গ্যাসট্রিকের সমস্যা থাকে না।

মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র উজ্জীবিত করে

রোজার সর্বাধিক প্রভাব বিস্তার করে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর। ফলে তা উজ্জীবিত এবং উর্বরতা লাভ করে। এর মাধ্যমে মানুষের ধ্যান-ধারণা, মানসিকতা সুন্দর হয় এবং স্নায়ুবিক বিষণ্নভাব ও দুর্বলতা দূরীভূত হয়। যার দরুন মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহের স্বাভাবিক ভারসাম্য সৃষ্টি হয়, যা সুস্থ স্নায়ুবিক প্রক্রিয়ার পথ প্রদর্শন করে এবং সূক্ষ্ম অনুকোষগুলো জীবাণুমুক্ত ও সবল রাখে (সুন্নতে রাসূল ও আধুনিক বিজ্ঞান)।

পাকস্থলীর ক্ষয় পূরণ ও পুনর্গঠন করে

যকৃত ও পাকস্থলীর অবস্থান পাশাপাশি। বিভিন্ন ভেজাল খাদ্যের প্রভাব যকৃতের ওপর পড়ে। আর পাকস্থলীর ভেতরে অনায়াসে বিভিন্ন ধরনের খাবার হজম হয়। হজম হলেও সারা দিনে বিভিন্ন ধরনের খাবারের ফলে এক ধরনের ক্ষয় হয়। সঙ্গে সঙ্গে পাকস্থলীর আয়তনও বৃদ্ধি পায়। আর এ আয়তন বর্ধিত হওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর (শরীর বিদ্যা)। কিন্তু দীর্ঘ এক মাস রোজা পালন পাকস্থলীকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে এবং পাকস্থলীকে খাদ্যমুক্ত বা বিশ্রামে রাখে। এতে করে পাকস্থলীর ক্ষয় পূরণ ও পুনর্গঠন হয়। যা প্রতিটি মানুষের সুস্থতার জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। (স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও ইসলাম : ডা. গোলাম মোয়াযযম)।

জিহ্বা ও লালাগ্রন্থি সতেজ হয়

জিহ্বা মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। জিহ্বায় অসংখ্য কোষের সমন্বয়ে স্বাদ নলি রয়েছে। এসব নলি দ্বারাই খাবারের বিভিন্ন স্বাদ গ্রহণ করা যায়। আমরা দৈনন্দিন বিরামহীন খাবারের ফলে স্বাদ গ্রহণের এসব নলিতে ফাটল সৃষ্টি হয়। যা স্বাদ গ্রহণে বাধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রোজা পালনের ফলে জিহ্বা ও লালাগ্রন্থিগুলো বিশ্রামের সুযোগ পায়। জিহ্বার অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বাদ নলিকাগুলো সতেজতা ফিরে পায় এবং খাবারের প্রতি রুচির প্রবণতা ফিরে আসে।

স্মরণশক্তি বাড়ায়

রোজা মানুষের মানসিকতা নান্দনিক করে তোলে। স্মৃতিশক্তির প্রখরতা বৃদ্ধি পায়। এ ব্যাপারে ডা. আলেক্স হেইগ বলেন, ‘সিয়াম হতে মানুষের মানসিক শক্তি ও বিশেষ বিশেষ অনুভূতিগুলো উপকৃত হয়। স্মরণশক্তি বাড়ে, মনোসংযোগ ও শক্তি পরিবর্ধিত হয়।’ (মাহে রমজানের শিক্ষা ও তাৎপর্য : অধ্যাপক সাঈদুর রহমান)।

রক্তের কলস্টেরলের পরিমাণ স্বাভাবিক রাখে

মানবদেহে অতিরিক্ত মেদ বা চর্বির কারণে রক্তে কলস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। রক্তে অতিরিক্ত কলস্টেরল হলে হৃৎপিণ্ড, ধমনিতন্ত্র ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভয়াবহ রোগ সৃষ্টির মাধ্যমে ব্যক্তিকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে। কিন্তু নিয়মিত রোজা পালনের ফলে দেহে অতিরিক্ত মেদ-চর্বি হয় না এবং রক্তের কলস্টেরলের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে।

রোজায় মানসিক প্রশান্তি মেলে

রমজান মাসে একাধারে রোজা পালনের ফলে রোজা পালনকারী মানসিক শান্তি লাভ করে। মস্তিষ্ক সর্বদা শীতল ও স্বাভাবিক থাকে। এতে মানসিক অশান্তির সম্ভাবনা একেবারেই শূন্য। রোজা পালনকারীর মন সর্বদা পবিত্র চিন্তায়ই ব্যস্ত থাকে। এতে মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি পায়। সে জন্যই রোজা পালনকারীর মানসিক অশান্তির কারণে কোনো রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। উল্লেখ্য, মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে শারীরিক বহু রোগ-ব্যাধির অন্যতম কারণ মানসিক অশান্তি বা অমানবিক পীড়া।

লেখক : অধ্যক্ষ সৈয়দপুর সৈয়দিয়া শামছিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, সুনামগঞ্জ

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন