মহামারিতে ঘরে সালাত আদায় করার বিধান
jugantor
মহামারিতে ঘরে সালাত আদায় করার বিধান

  সুহাইল আহমদ  

১৬ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজান শুনে নামাজের জামাতে অংশগ্রহণের ব্যাপারে জোর তাগিদ দিয়েছেন মহানবী (সা.)। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি কিংবা মারাত্মক অসুস্থতাসহ যথাযথ কারণ থাকলে মসজিদে না গিয়ে ঘর-বাড়িতেও নামাজ পড়া যাবে- এ বিষয়ে সব আলেমরা একমত।

হজরত নাফি (রহ.) বর্ণনা করেন, প্রচণ্ড এক শীতের রাতে হজরত ইবনে ওমর (রা.) ‘জাজনান’ নামক স্থানে আজান দিলেন। এরপর তিনি ঘোষণা করলেন- ‘সাল্লু ফি রিহালিকুম’ অর্থাৎ তোমরা আবাসস্থলেই নামাজ আদায় করে নাও।’ পরে তিনি আমাদের জানালেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) সফরের অবস্থায় বৃষ্টি অথবা তীব্র শীতের রাতে মুয়াজ্জিনকে আজান দিতে বললেন এবং সঙ্গে সঙ্গে এ কথাও ঘোষণা করতে বললেন যে, তোমরা নিজ বাসস্থলে সালাত আদায় কর।’ (বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে আহমদ)। এ হাদিসের আলোকে এ কথা প্রমাণিত হয় যে প্রাণঘাতী মহামারি করোনাভাইরাসের বর্তমান প্রেক্ষাপটেও মসজিদে না গিয়ে ফরজ নামাজ বাড়িতে পড়তে ইসলামে কোনো বাধা নেই। এ সময় মসজিদে না গিয়ে সতর্কতামূলক ঘরে জামাতে নামাজের ব্যাপারে বিশ্ববিখ্যাত বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দের মুফতিরাও ফতোয়া দিয়েছেন। তবে স্বল্প পরিসরে কীভাবে মসজিদে জামাত চালু রাখা যায় সে ব্যাপারে তারা মতামত ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছেন। তারা সুস্পষ্ট করে বলেছেন, সার্বিকভাবে পরিস্থিতি বিবেচনায় মসজিদে না গিয়ে বাড়িতে নামাজ আদায়ে কোনো বাধা নেই।

সংক্রামক রোগ-ব্যাধির কারণে জনসমাগমে না আসতে সতর্ক করেছেন স্বয়ং বিশ্বনবী (সা.)। হাদিসে এসেছে- হজরত আমর ইবনু শারিদ (রা.) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, ‘সাকিফ গোত্রের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে একজন কুষ্ঠ রোগী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তার কাছে এ মর্মে সংবাদ পাঠালেন যে, আমরা তোমাকে বায়আত করে নিয়েছি। তুমি ফিরে যাও।’ (মুসলিম)।

মহামারির এ সময়ে আমাদের উচিত যতটা সম্ভব জনসমাগম এড়িয়ে নিজেকে ও অপরকে রক্ষা করা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া সর্বোপরি এ কঠিন দুর্যোগে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা। কায়মনে তার কাছে ক্ষমা চাওয়া।

লেখক : আলেম ও প্রবন্ধকার

মহামারিতে ঘরে সালাত আদায় করার বিধান

 সুহাইল আহমদ 
১৬ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজান শুনে নামাজের জামাতে অংশগ্রহণের ব্যাপারে জোর তাগিদ দিয়েছেন মহানবী (সা.)। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি কিংবা মারাত্মক অসুস্থতাসহ যথাযথ কারণ থাকলে মসজিদে না গিয়ে ঘর-বাড়িতেও নামাজ পড়া যাবে- এ বিষয়ে সব আলেমরা একমত।

হজরত নাফি (রহ.) বর্ণনা করেন, প্রচণ্ড এক শীতের রাতে হজরত ইবনে ওমর (রা.) ‘জাজনান’ নামক স্থানে আজান দিলেন। এরপর তিনি ঘোষণা করলেন- ‘সাল্লু ফি রিহালিকুম’ অর্থাৎ তোমরা আবাসস্থলেই নামাজ আদায় করে নাও।’ পরে তিনি আমাদের জানালেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) সফরের অবস্থায় বৃষ্টি অথবা তীব্র শীতের রাতে মুয়াজ্জিনকে আজান দিতে বললেন এবং সঙ্গে সঙ্গে এ কথাও ঘোষণা করতে বললেন যে, তোমরা নিজ বাসস্থলে সালাত আদায় কর।’ (বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে আহমদ)। এ হাদিসের আলোকে এ কথা প্রমাণিত হয় যে প্রাণঘাতী মহামারি করোনাভাইরাসের বর্তমান প্রেক্ষাপটেও মসজিদে না গিয়ে ফরজ নামাজ বাড়িতে পড়তে ইসলামে কোনো বাধা নেই। এ সময় মসজিদে না গিয়ে সতর্কতামূলক ঘরে জামাতে নামাজের ব্যাপারে বিশ্ববিখ্যাত বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দের মুফতিরাও ফতোয়া দিয়েছেন। তবে স্বল্প পরিসরে কীভাবে মসজিদে জামাত চালু রাখা যায় সে ব্যাপারে তারা মতামত ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছেন। তারা সুস্পষ্ট করে বলেছেন, সার্বিকভাবে পরিস্থিতি বিবেচনায় মসজিদে না গিয়ে বাড়িতে নামাজ আদায়ে কোনো বাধা নেই।

সংক্রামক রোগ-ব্যাধির কারণে জনসমাগমে না আসতে সতর্ক করেছেন স্বয়ং বিশ্বনবী (সা.)। হাদিসে এসেছে- হজরত আমর ইবনু শারিদ (রা.) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, ‘সাকিফ গোত্রের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে একজন কুষ্ঠ রোগী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তার কাছে এ মর্মে সংবাদ পাঠালেন যে, আমরা তোমাকে বায়আত করে নিয়েছি। তুমি ফিরে যাও।’ (মুসলিম)।

মহামারির এ সময়ে আমাদের উচিত যতটা সম্ভব জনসমাগম এড়িয়ে নিজেকে ও অপরকে রক্ষা করা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া সর্বোপরি এ কঠিন দুর্যোগে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা। কায়মনে তার কাছে ক্ষমা চাওয়া।

লেখক : আলেম ও প্রবন্ধকার

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন