ক্ষমা করুণা ও কল্যাণের মাস
jugantor
ক্ষমা করুণা ও কল্যাণের মাস

  আবুল ফাতাহ কাসেমি  

১৬ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন রমজান মাস আসে, তখন জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়; শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। (বুখারি, হাদিস নং ১৮৯৯)।

অপরাধে জর্জরিত এ জীবন হাঁপিয়ে উঠলে রমজান তার নাজাতের মৃদু সমিরণ নিয়ে হাজির হয় বান্দার দুয়ারে। রহমত, বরকত ও নাজাতে øাত বান্দা লুটিয়ে পড়ে মহাপ্রতিপালকের দরবারে।

‘সওম’ শব্দটি আরবি, এর অর্থ বিরত থাকা; বহুবচন হলো ‘সিয়াম’। ফারসি, উর্দু, হিন্দি ও বাংলায় সওমকে ‘রোজা’ বলা হয়। (ফরহাঙ্গে কাসিমি ৬০২)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসে সওম পালন করবে, তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি শরিফ, হাদিস নং ১৯০১)। প্রিয় নবী (সা.) আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের উদ্দেশ্যে রমজান মাসে রাতে ইবাদত করবে, তারাবির নামাজ আদায় করবে, তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি শরিফ, হাদিস নং ৩৩)। রমজান মাসে রয়েছে দয়াময়ের করুণার পরম পূর্ণতার মহিমান্বিত রজনি লাইলাতুল কদর বা শবেকদর তথা মহিমাময় মহামর্যাদাপূর্ণ সম্মানিত রাত। বিশ্বনবী রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় লাইলাতুলকদরে ইবাদতে অতিবাহিত করবে, তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস নং ৩৪)।

পুরো রমজানজুড়ে রয়েছে ইবাদত বন্দেগির বিশেষ আমল। দিনভর সিয়াম পালন, ইফতার, বিশ রাকাত তারাবির নামাজ, সেহরি, দান-সদকা, কুরআন তেলাওয়াত, কুরআন তেলাওয়াত শুদ্ধকরণ, কুরআন খতম ও বেশি বেশি ইসতেগফার এ মাসের বিশেষ আমল।

বিশ রাকাত তারাবির নামাজ পুরুষদের মসজিদে জামাতে আদায় করা সুন্নাত। ওজরের কারণে যদি মসজিদে যাওয়া সম্ভব না হয় এবং জামাত করা না যায়, তখন একা পড়লেও পূর্ণ সওয়াব পাওয়া যাবে। এ মাসে তারাবির নামাজে পূর্ণ কুরআন শরিফ একবার পাঠ করা সুন্নাত। একে খতম তারাবি বলা হয়। যারা সব সময় খতম তারাবি পড়ে থাকেন বা পড়ার ইচ্ছা রাখেন, তারা বিশেষ কোনো কারণে তা করতে না পারলেও এর পূর্ণ সওয়াব লাভ করবেন।

রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। কারো দ্বারা যেন রমজানের পবিত্রতা নষ্ট না হয়, সে দিকে সবার দৃষ্টি রাখতে হবে।

লেখক : প্রবন্ধকার ও মুফতি, জামিয়া কারিমিয়া রামপুরা, ঢাকা

ক্ষমা করুণা ও কল্যাণের মাস

 আবুল ফাতাহ কাসেমি 
১৬ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন রমজান মাস আসে, তখন জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়; শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। (বুখারি, হাদিস নং ১৮৯৯)।

অপরাধে জর্জরিত এ জীবন হাঁপিয়ে উঠলে রমজান তার নাজাতের মৃদু সমিরণ নিয়ে হাজির হয় বান্দার দুয়ারে। রহমত, বরকত ও নাজাতে øাত বান্দা লুটিয়ে পড়ে মহাপ্রতিপালকের দরবারে।

‘সওম’ শব্দটি আরবি, এর অর্থ বিরত থাকা; বহুবচন হলো ‘সিয়াম’। ফারসি, উর্দু, হিন্দি ও বাংলায় সওমকে ‘রোজা’ বলা হয়। (ফরহাঙ্গে কাসিমি ৬০২)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসে সওম পালন করবে, তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি শরিফ, হাদিস নং ১৯০১)। প্রিয় নবী (সা.) আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের উদ্দেশ্যে রমজান মাসে রাতে ইবাদত করবে, তারাবির নামাজ আদায় করবে, তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি শরিফ, হাদিস নং ৩৩)। রমজান মাসে রয়েছে দয়াময়ের করুণার পরম পূর্ণতার মহিমান্বিত রজনি লাইলাতুল কদর বা শবেকদর তথা মহিমাময় মহামর্যাদাপূর্ণ সম্মানিত রাত। বিশ্বনবী রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় লাইলাতুলকদরে ইবাদতে অতিবাহিত করবে, তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস নং ৩৪)।

পুরো রমজানজুড়ে রয়েছে ইবাদত বন্দেগির বিশেষ আমল। দিনভর সিয়াম পালন, ইফতার, বিশ রাকাত তারাবির নামাজ, সেহরি, দান-সদকা, কুরআন তেলাওয়াত, কুরআন তেলাওয়াত শুদ্ধকরণ, কুরআন খতম ও বেশি বেশি ইসতেগফার এ মাসের বিশেষ আমল।

বিশ রাকাত তারাবির নামাজ পুরুষদের মসজিদে জামাতে আদায় করা সুন্নাত। ওজরের কারণে যদি মসজিদে যাওয়া সম্ভব না হয় এবং জামাত করা না যায়, তখন একা পড়লেও পূর্ণ সওয়াব পাওয়া যাবে। এ মাসে তারাবির নামাজে পূর্ণ কুরআন শরিফ একবার পাঠ করা সুন্নাত। একে খতম তারাবি বলা হয়। যারা সব সময় খতম তারাবি পড়ে থাকেন বা পড়ার ইচ্ছা রাখেন, তারা বিশেষ কোনো কারণে তা করতে না পারলেও এর পূর্ণ সওয়াব লাভ করবেন।

রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। কারো দ্বারা যেন রমজানের পবিত্রতা নষ্ট না হয়, সে দিকে সবার দৃষ্টি রাখতে হবে।

লেখক : প্রবন্ধকার ও মুফতি, জামিয়া কারিমিয়া রামপুরা, ঢাকা

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন