নারীদের ইতিকাফ
jugantor
নারীদের ইতিকাফ

  কুলসুম রশীদ  

৩০ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রমজান পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য রজব মাস থেকে আমরা অতি বিনয়ের সঙ্গে আসছিলাম, তা মহান রাব্বুল আলামিন কবুল করেছেন নিজ দয়ায়। আমরা অনেক সৌভাগ্যবান যে একটি বছর পেরিয়ে এ বরকতময় মাস পেয়েছি। এ মাসেই এমন একটি রাত আমাদের জন্য রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম তা হচ্ছে লাইলাতুল কদর। রমজান এসেছে নেয়ামতের টুকরি মাথায় নিয়ে। ‘রমজ’ কথা থেকে এসেছে রমজান। যার অর্থ আগুন। হৃদয়ের ভেতর যেসব আগাছা (কলুষ) জন্মে, তাকে জালিয়ে পুড়িয়ে খাক করে দিতে আসে রমজান। আর ওই খাকে সার পড়ে হৃদ বাগিচা গজিয়ে ওঠে। এ রহস্য একমাত্র আশিকরাই বুঝে থাকেন। রমজান অতিথি হয়ে এসেছে আমাদের মাঝে। তাই প্রতিটি পলে দয়াময়ের স্মরণে ব্যস্ত থাকতে হবে নারী-পুরুষ সবাইকে। তবেই আমরা মালামাল হয়ে যাব। নয় তো আফসোসের সীমা থাকবে না।

লাইলাতুল কদর সম্পর্কে আল্লাহ পাক সূরা কদরে জানিয়েছেন, এটি হাজার মাস থেকে উত্তম।

লাইলাতুল কদর পাওয়ার জন্য রমজানের শেষ দশ দিন রাসূল (সা.) ইতিকাফ করতেন এবং তার স্ত্রীরা তার জীবদ্দশায় এবং তাঁর ওফাতের পরও করেছেন। ইতিকাফ আরবি শব্দ যার অর্থ আবদ্ধ রাখা। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে সন্তুষ্ট করার জন্য রোজা রেখে কোনো একটি নিদৃষ্ট স্থানে নিজেকে আবদ্ধ করে ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকার নাম ইতিকাফ। পুরুষের জন্য এটি সুন্নতে মোয়াক্কাদায়ে কেফায়া। এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। কোনো এলাকার কেউ যদি এটা আদায় করে তবে সুন্নত পালন হয়ে যাবে সবার জন্য। সুন্নত তরকের গুনাহ থেকে মুক্ত থাকবে বাকিরা। মহিলাদের জন্য মুস্তাহাব। না করলে গুনাহ হবে না। মহিলা পুরুষ উভয়েরই মসজিদে ইতিকাফ করার নিয়ম রয়েছে। তবে হানাফি মাজহাবে নারীদের নিজ গৃহে ইতিকাফের অনুমতি দিয়েছে। কারণ নারীদের নিরাপত্তার ব্যাপারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বায়তুল্লাহ শরিফ এবং মসজিদে নববীতে অনেক মা বোনদের ইতিকাফ করতে দেখা যায় কারণ স্থান দুটিতে পূর্ণ নিরাপত্তা বিরাজ করে। মুস্তাহাব হলেও তারা লাইলাতুল কদর পাওয়ার জন্য করে থাকেন। রাসূল (সা.) যেহেতু নিজ স্ত্রীদের ইতিকাফ করার অনুমতি দিয়েছেন তাই আমাদেরও এ বিষয়ে আগ্রহী হতে হবে। ইতিকাফ করতে গিয়ে নারীদের বিরাট সমস্যায় পড়তে হয়। অথচ যখন তাদের কোনো অফিসের কাজ কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য গৃহের বাইরে থাকতে হয় তখন পরিবারের লোকজন তা আনন্দচিত্তে মেনে নেয়। গৃহপরিচালনা নিয়ে তখন তারা শঙ্কিত হয় না। বর্তমানে করোনার কারণে কর্মজীবী মহিলারা বাড়ির একটি নিভৃত স্থানে বসে অনলাইনে অফিস করেন। সব সদস্যের সহযোগিতা সেখানে থাকে। গৃহকত্রীও গৃহস্থালির আনুষঙ্গিক কাজকর্ম গুছিয়ে নেন আগে থেকে। ঠিক তেমনি আমরা নারীরা ইতিকাফে বসার আগে অগ্রিম সংসারের কাজকর্ম সম্পাদন করে রাখি। তবে তো কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বরং গৃহিণীর ইবাদত বন্দেগি দেখে ছেলেমেয়েরা অনুপ্রাণিত হবে। পরে তারাও করতে চাইবে। খুব জরুরি কোনো নির্দেশনা তিনি দিতে পারবেন। খুব সমস্যা থাকলে ১০ দিনের কমও করা যেতে পারে। তবে স্বামীর অনুমতি ছাড়া ইতিকাফ করা যাবে না। আমাদের উচিত নারীদের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের ইবাদত বন্দেগি করার ব্যাপারে সহযোগিতা করা।

ইতিকাফকারী নারীরা স্বামী সন্তানের সঙ্গ ত্যাগ করে একাকী নির্জন কক্ষে প্রভুর স্মরণে ব্যস্ত থাকেন। নির্জন কক্ষের অভাবে অনেকে কাপড় দিয়ে ঘিরে পর্দা করে নেন। ইস্তিগফার, জিকির, কুরআন তিলাওয়াত, তাফসির, ইসলামি পুস্তক পাঠ, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঙ্গে রাত জেগে তারাবির নামাজ, তাহাজ্জুদের নামাজসহ অন্য নফল নামাজ, দরুদ শরিফ বিভিন্ন দোয়া কালাম এবং প্রার্থনার মধ্যে সময় অতিবাহিত করে থাকেন। মহামহিম প্রভুর ধ্যানে থাকার ফলে ইতিকাফকারী নারীর ভেতরে কুরআন নাজেলের মাসে কুরআনে নূর দিয়ে তাদের হৃদয় নুরানি হয়ে যায়। সে আল্লাহতায়ালার দয়াপ্রাপ্তদের দলে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। ইতিকাফ শেষে হৃদয়ের প্রশান্ততার কারণে তারা সংসারে সবার প্রতি আগের চেয়ে সদ্ব্যবহার করে। পরিবারে শান্তি নামে। এ রমজানে আমরা যেন নারীদের প্রতি বেখেয়ালি না হই। তাদেরও আছে সিয়াম, তারাবি এবং ইতিকাফ। আল্লাহ সবাইকে সহি বুঝ দান করুন।

লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক

নারীদের ইতিকাফ

 কুলসুম রশীদ 
৩০ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রমজান পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য রজব মাস থেকে আমরা অতি বিনয়ের সঙ্গে আসছিলাম, তা মহান রাব্বুল আলামিন কবুল করেছেন নিজ দয়ায়। আমরা অনেক সৌভাগ্যবান যে একটি বছর পেরিয়ে এ বরকতময় মাস পেয়েছি। এ মাসেই এমন একটি রাত আমাদের জন্য রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম তা হচ্ছে লাইলাতুল কদর। রমজান এসেছে নেয়ামতের টুকরি মাথায় নিয়ে। ‘রমজ’ কথা থেকে এসেছে রমজান। যার অর্থ আগুন। হৃদয়ের ভেতর যেসব আগাছা (কলুষ) জন্মে, তাকে জালিয়ে পুড়িয়ে খাক করে দিতে আসে রমজান। আর ওই খাকে সার পড়ে হৃদ বাগিচা গজিয়ে ওঠে। এ রহস্য একমাত্র আশিকরাই বুঝে থাকেন। রমজান অতিথি হয়ে এসেছে আমাদের মাঝে। তাই প্রতিটি পলে দয়াময়ের স্মরণে ব্যস্ত থাকতে হবে নারী-পুরুষ সবাইকে। তবেই আমরা মালামাল হয়ে যাব। নয় তো আফসোসের সীমা থাকবে না।

লাইলাতুল কদর সম্পর্কে আল্লাহ পাক সূরা কদরে জানিয়েছেন, এটি হাজার মাস থেকে উত্তম।

লাইলাতুল কদর পাওয়ার জন্য রমজানের শেষ দশ দিন রাসূল (সা.) ইতিকাফ করতেন এবং তার স্ত্রীরা তার জীবদ্দশায় এবং তাঁর ওফাতের পরও করেছেন। ইতিকাফ আরবি শব্দ যার অর্থ আবদ্ধ রাখা। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে সন্তুষ্ট করার জন্য রোজা রেখে কোনো একটি নিদৃষ্ট স্থানে নিজেকে আবদ্ধ করে ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকার নাম ইতিকাফ। পুরুষের জন্য এটি সুন্নতে মোয়াক্কাদায়ে কেফায়া। এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। কোনো এলাকার কেউ যদি এটা আদায় করে তবে সুন্নত পালন হয়ে যাবে সবার জন্য। সুন্নত তরকের গুনাহ থেকে মুক্ত থাকবে বাকিরা। মহিলাদের জন্য মুস্তাহাব। না করলে গুনাহ হবে না। মহিলা পুরুষ উভয়েরই মসজিদে ইতিকাফ করার নিয়ম রয়েছে। তবে হানাফি মাজহাবে নারীদের নিজ গৃহে ইতিকাফের অনুমতি দিয়েছে। কারণ নারীদের নিরাপত্তার ব্যাপারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বায়তুল্লাহ শরিফ এবং মসজিদে নববীতে অনেক মা বোনদের ইতিকাফ করতে দেখা যায় কারণ স্থান দুটিতে পূর্ণ নিরাপত্তা বিরাজ করে। মুস্তাহাব হলেও তারা লাইলাতুল কদর পাওয়ার জন্য করে থাকেন। রাসূল (সা.) যেহেতু নিজ স্ত্রীদের ইতিকাফ করার অনুমতি দিয়েছেন তাই আমাদেরও এ বিষয়ে আগ্রহী হতে হবে। ইতিকাফ করতে গিয়ে নারীদের বিরাট সমস্যায় পড়তে হয়। অথচ যখন তাদের কোনো অফিসের কাজ কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য গৃহের বাইরে থাকতে হয় তখন পরিবারের লোকজন তা আনন্দচিত্তে মেনে নেয়। গৃহপরিচালনা নিয়ে তখন তারা শঙ্কিত হয় না। বর্তমানে করোনার কারণে কর্মজীবী মহিলারা বাড়ির একটি নিভৃত স্থানে বসে অনলাইনে অফিস করেন। সব সদস্যের সহযোগিতা সেখানে থাকে। গৃহকত্রীও গৃহস্থালির আনুষঙ্গিক কাজকর্ম গুছিয়ে নেন আগে থেকে। ঠিক তেমনি আমরা নারীরা ইতিকাফে বসার আগে অগ্রিম সংসারের কাজকর্ম সম্পাদন করে রাখি। তবে তো কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বরং গৃহিণীর ইবাদত বন্দেগি দেখে ছেলেমেয়েরা অনুপ্রাণিত হবে। পরে তারাও করতে চাইবে। খুব জরুরি কোনো নির্দেশনা তিনি দিতে পারবেন। খুব সমস্যা থাকলে ১০ দিনের কমও করা যেতে পারে। তবে স্বামীর অনুমতি ছাড়া ইতিকাফ করা যাবে না। আমাদের উচিত নারীদের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের ইবাদত বন্দেগি করার ব্যাপারে সহযোগিতা করা।

ইতিকাফকারী নারীরা স্বামী সন্তানের সঙ্গ ত্যাগ করে একাকী নির্জন কক্ষে প্রভুর স্মরণে ব্যস্ত থাকেন। নির্জন কক্ষের অভাবে অনেকে কাপড় দিয়ে ঘিরে পর্দা করে নেন। ইস্তিগফার, জিকির, কুরআন তিলাওয়াত, তাফসির, ইসলামি পুস্তক পাঠ, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঙ্গে রাত জেগে তারাবির নামাজ, তাহাজ্জুদের নামাজসহ অন্য নফল নামাজ, দরুদ শরিফ বিভিন্ন দোয়া কালাম এবং প্রার্থনার মধ্যে সময় অতিবাহিত করে থাকেন। মহামহিম প্রভুর ধ্যানে থাকার ফলে ইতিকাফকারী নারীর ভেতরে কুরআন নাজেলের মাসে কুরআনে নূর দিয়ে তাদের হৃদয় নুরানি হয়ে যায়। সে আল্লাহতায়ালার দয়াপ্রাপ্তদের দলে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। ইতিকাফ শেষে হৃদয়ের প্রশান্ততার কারণে তারা সংসারে সবার প্রতি আগের চেয়ে সদ্ব্যবহার করে। পরিবারে শান্তি নামে। এ রমজানে আমরা যেন নারীদের প্রতি বেখেয়ালি না হই। তাদেরও আছে সিয়াম, তারাবি এবং ইতিকাফ। আল্লাহ সবাইকে সহি বুঝ দান করুন।

লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন