চাই আল্লাহর প্রতি ভরসা
jugantor
চাই আল্লাহর প্রতি ভরসা

  মুহাম্মদ মিজানুর রহমান  

১১ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিপদ-আপদ আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। যা বান্দার কর্মের প্রতিফল। তবে সব সময় এটি মানুষের আমলের কারণে হয় না। কখনো কখনো এটি আল্লাহ তার প্রিয় বান্দার ওপর পরীক্ষা হিসাবে দিয়ে থাকেন।

এ পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয় আল্লাহ তাদের মর্যাদাকে বাড়িয়ে দেন। ইমানদার কখনো এ পরীক্ষায় বিচলিত হয় না। বরং সে হাসিমুখে মেনে নেয়। মুসলিম সর্বাবস্থায় আল্লাহর কৃতজ্ঞতা ও আনুগত্য স্বীকার করে।

আল্লাহর অকৃতজ্ঞ বান্দা বিপদে পড়া মাত্র দিশেহারা হয়। ছুটে আসে আল্লাহর দিকে। কিন্তু যখনই আল্নাহ তাকে এ বিপদ থেকে বাঁচিয়ে দেন, সে ভুলে যায় আল্লাহকে। তার অনুগ্রহকে।

আবার নিজস্ব মত ও পথের ওপর চলতে থাকে। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘মানুষকে যখন কোনো দুঃখকষ্ট স্পর্শ করে তখন একনিষ্ঠভাবে সে তার রবের দিকে ফিরে যায়। আল্লাহ যখন তাকে নেয়ামত দান করে তার ওপর অনুগ্রহ করেন, তখন সে আগের কথা ভুলে যায়। যে কারণে সে তাঁকে ডেকেছিল।’ (সূরা ঝুমার, আয়াত : ০৮)।

মানুষ বিপদে পড়লে দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। সে কামনা করে আল্লাহ যেন এ বিপদ থেকে তাকে মুক্ত করেন। যখনই আল্লাহর অসীম কৃপায় এ বিপদ থেকে সে পরিত্রাণ পায়, তাঁর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে, নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতায় বিপদে থেকে মুক্তি পেয়েছে বলে দাবি করে।

এসব মানুষকে লক্ষ করে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘মানুষের প্রকৃত অবস্থা হচ্ছে, যখন কোনো দুঃখ-কষ্ট তাদের পেয়ে বসে, তখন সে আমাকে ডাকে। আমি যখন তার এ দুঃখ-কষ্টকে লাঘব করে আমার কোনো নেয়ামত দান করি, তখন সে বলে, এটা আমার যোগ্যতার কারণে দেওয়া হয়েছে। বরং এটি হচ্ছে একটি পরীক্ষা। কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোকই তা জানে না।’ (সূরা ঝুমার, আয়াত : ৪৯)।

বিপদগ্রস্ত বান্দার বিনয়পূর্ণ আহাজারি কারণে আল্লাহ তার নেয়ামতের দ্বারা বান্দাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। পরক্ষণে সে-ই আল্লাহকে ভুলে তারই সঙ্গে অংশীদারি সাব্যস্ত করে। বলে, অমুকের কারণে এ যাত্রায় আমি বেঁচে গেলাম। অথচ সে বলতে পারত, আল্লাহ আমায় ঠিকই বিপদ থেকে বাঁচিয়ে দিলেন। তাই অমুককে আমার সাহায্যকারী হিসাবে পাঠিয়েছেন।

এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘মানুষকে যখন কোনো দুঃখ-দুর্দশা স্পর্শ করে তখন তারা আল্লাহর প্রতি বিনয়ী হয়। তাদের রবকে ডাকতে থাকে। যখন তিনি তাদের দয়া ও নেয়ামতের স্বাদ আস্বাদন করান, তখন তাদেরই একদল লোক তাদের রবের সঙ্গে অন্যদের শরিক করে।’ (সূরা রুম, আয়াত : ৩৩)।

খুশিতে-আপদে, কঠিন মুসিবতে সর্বাবস্থায় বিচলিত না হয়ে ধৈর্যের সঙ্গে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে। তাঁর অনুগ্রহ থেকেও নিরাশ হওয়া যাবে না। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি যখন মানুষকে অনুগ্রহ ভোগ করাই তখন তারা ভীষণ খুশি হয়। আবার যখন তাদেরই অর্জিত কাজের কারণে তাদের ওপর কোনো বিপদ আসে তখন তারা সঙ্গে সঙ্গে নিরাশ হয়ে যায়।’ (সূরা রুম, আয়াত : ৩৬)।

কিছু মানুষ এমন যারা আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আল্লাহর অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতার কথা চিন্তাও করে না। যখন আল্লাহ বেজার হয়ে এ মানুষগুলোকে পাকড়াও করেন তখন তারা হতাশ হয়ে পড়ে।

এদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘যখন আমি মানুষের ওপর দয়া ও অনুগ্রহ করি তখন মানুষ কৃতজ্ঞতার বদলে আমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এবং নিজেকে দূরে সরিয়ে নেয়। আবার যখন বালা-মুসিবত তাকে স্পর্শ করে তখন নিরাশ হয়ে যায়।’ (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত : ৮৩)।

‘আর কোনো দুঃখ-দৈন্যতাকে স্পর্শ করার পর যদি আমি তাকে অনুগ্রহের স্বাদ আস্বাদন করাই, তখন অবশ্যই সে বলতে শুরু করবে এবার আমার সমুদয় বিপদ-আপদ, বালা-মুসিবত কেটে গেছে, মানুষ যেমন অল্পতেই তুষ্ট হয় তেমনি সহজেও অহংকারী হয়ে যায়।’ (সূরা হুদ, আয়াত : ১০)।

অতিমাত্রায় আত্মতুষ্টি মানুষের অহমিকা বাড়িয়ে তার মর্যাদাকে হ্রাস করে। এ কারণে খুব বেশি আত্মপ্রশান্তি অনুভব করে আল্লাহর শোকরগুজার বান্দা হতে হবে।

লেখক : সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও ইসলামি গবেষক

চাই আল্লাহর প্রতি ভরসা

 মুহাম্মদ মিজানুর রহমান 
১১ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিপদ-আপদ আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। যা বান্দার কর্মের প্রতিফল। তবে সব সময় এটি মানুষের আমলের কারণে হয় না। কখনো কখনো এটি আল্লাহ তার প্রিয় বান্দার ওপর পরীক্ষা হিসাবে দিয়ে থাকেন।

এ পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয় আল্লাহ তাদের মর্যাদাকে বাড়িয়ে দেন। ইমানদার কখনো এ পরীক্ষায় বিচলিত হয় না। বরং সে হাসিমুখে মেনে নেয়। মুসলিম সর্বাবস্থায় আল্লাহর কৃতজ্ঞতা ও আনুগত্য স্বীকার করে।

আল্লাহর অকৃতজ্ঞ বান্দা বিপদে পড়া মাত্র দিশেহারা হয়। ছুটে আসে আল্লাহর দিকে। কিন্তু যখনই আল্নাহ তাকে এ বিপদ থেকে বাঁচিয়ে দেন, সে ভুলে যায় আল্লাহকে। তার অনুগ্রহকে।

আবার নিজস্ব মত ও পথের ওপর চলতে থাকে। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘মানুষকে যখন কোনো দুঃখকষ্ট স্পর্শ করে তখন একনিষ্ঠভাবে সে তার রবের দিকে ফিরে যায়। আল্লাহ যখন তাকে নেয়ামত দান করে তার ওপর অনুগ্রহ করেন, তখন সে আগের কথা ভুলে যায়। যে কারণে সে তাঁকে ডেকেছিল।’ (সূরা ঝুমার, আয়াত : ০৮)।

মানুষ বিপদে পড়লে দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। সে কামনা করে আল্লাহ যেন এ বিপদ থেকে তাকে মুক্ত করেন। যখনই আল্লাহর অসীম কৃপায় এ বিপদ থেকে সে পরিত্রাণ পায়, তাঁর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে, নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতায় বিপদে থেকে মুক্তি পেয়েছে বলে দাবি করে।

এসব মানুষকে লক্ষ করে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘মানুষের প্রকৃত অবস্থা হচ্ছে, যখন কোনো দুঃখ-কষ্ট তাদের পেয়ে বসে, তখন সে আমাকে ডাকে। আমি যখন তার এ দুঃখ-কষ্টকে লাঘব করে আমার কোনো নেয়ামত দান করি, তখন সে বলে, এটা আমার যোগ্যতার কারণে দেওয়া হয়েছে। বরং এটি হচ্ছে একটি পরীক্ষা। কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোকই তা জানে না।’ (সূরা ঝুমার, আয়াত : ৪৯)।

বিপদগ্রস্ত বান্দার বিনয়পূর্ণ আহাজারি কারণে আল্লাহ তার নেয়ামতের দ্বারা বান্দাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। পরক্ষণে সে-ই আল্লাহকে ভুলে তারই সঙ্গে অংশীদারি সাব্যস্ত করে। বলে, অমুকের কারণে এ যাত্রায় আমি বেঁচে গেলাম। অথচ সে বলতে পারত, আল্লাহ আমায় ঠিকই বিপদ থেকে বাঁচিয়ে দিলেন। তাই অমুককে আমার সাহায্যকারী হিসাবে পাঠিয়েছেন।

এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘মানুষকে যখন কোনো দুঃখ-দুর্দশা স্পর্শ করে তখন তারা আল্লাহর প্রতি বিনয়ী হয়। তাদের রবকে ডাকতে থাকে। যখন তিনি তাদের দয়া ও নেয়ামতের স্বাদ আস্বাদন করান, তখন তাদেরই একদল লোক তাদের রবের সঙ্গে অন্যদের শরিক করে।’ (সূরা রুম, আয়াত : ৩৩)।

খুশিতে-আপদে, কঠিন মুসিবতে সর্বাবস্থায় বিচলিত না হয়ে ধৈর্যের সঙ্গে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে। তাঁর অনুগ্রহ থেকেও নিরাশ হওয়া যাবে না। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি যখন মানুষকে অনুগ্রহ ভোগ করাই তখন তারা ভীষণ খুশি হয়। আবার যখন তাদেরই অর্জিত কাজের কারণে তাদের ওপর কোনো বিপদ আসে তখন তারা সঙ্গে সঙ্গে নিরাশ হয়ে যায়।’ (সূরা রুম, আয়াত : ৩৬)।

কিছু মানুষ এমন যারা আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আল্লাহর অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতার কথা চিন্তাও করে না। যখন আল্লাহ বেজার হয়ে এ মানুষগুলোকে পাকড়াও করেন তখন তারা হতাশ হয়ে পড়ে।

এদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘যখন আমি মানুষের ওপর দয়া ও অনুগ্রহ করি তখন মানুষ কৃতজ্ঞতার বদলে আমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এবং নিজেকে দূরে সরিয়ে নেয়। আবার যখন বালা-মুসিবত তাকে স্পর্শ করে তখন নিরাশ হয়ে যায়।’ (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত : ৮৩)।

‘আর কোনো দুঃখ-দৈন্যতাকে স্পর্শ করার পর যদি আমি তাকে অনুগ্রহের স্বাদ আস্বাদন করাই, তখন অবশ্যই সে বলতে শুরু করবে এবার আমার সমুদয় বিপদ-আপদ, বালা-মুসিবত কেটে গেছে, মানুষ যেমন অল্পতেই তুষ্ট হয় তেমনি সহজেও অহংকারী হয়ে যায়।’ (সূরা হুদ, আয়াত : ১০)।

অতিমাত্রায় আত্মতুষ্টি মানুষের অহমিকা বাড়িয়ে তার মর্যাদাকে হ্রাস করে। এ কারণে খুব বেশি আত্মপ্রশান্তি অনুভব করে আল্লাহর শোকরগুজার বান্দা হতে হবে।

লেখক : সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও ইসলামি গবেষক

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন