হজের জন্য প্রাণ কাঁদে
jugantor
হজের জন্য প্রাণ কাঁদে

  নিজাম উদ্দিন আল আদনান  

১১ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বায়তুল্লাহ। আল্লাহর ঘর। মদিনা। প্রিয় নবীর শহর। মক্কার কালো গিলাফ আর মদিনার সবুজ গম্বুজ ছুঁয়ে দেখার জন্য প্রতিটি মুমিন গোণেন প্রতিক্ষার প্রহর।

নবীর দেশের দু’মুঠো ধুলাবালি গায়ে মাখার তীব্র নেশায় জীবন-মরণ বায়না ধরেন। জগৎস্রষ্টা যাকে ভালোবাসেন-যার চোখের জ্বলে ফুটে ওঠে খোদায়ী প্রেমের দ্যুতি। যার অবয়বে দীপ্ত হয় জান্নাতের জ্যোতি। মাবুদ তাকে তার ঘরের মেহমান করে হজ পালন করান।

নবীজির হেঁটে চলা পথে তাকে চালান। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ বলার মতো শক্তি দান করেন। ‘আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ’ বলার তাওফিক দান করেন।

বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে সৌদি আরব হজ পালনের অনুমতি না দেওয়ায় গত বছর হজযাত্রী পরিবহন বন্ধ ছিল। গতবারের মতো এবারও হজাযাত্রী পরিবহন বন্ধ থাকবে।

গত বৃহস্পতিবার (৩ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ তথ্য জানান। এর ফলে গত দু’বছর থেকে হজে যাওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ লাখ লাখ নিবন্ধিত হজযাত্রীর মধ্যে হাতাশার ছায়া নেমে আসে।

এবার হজে যাওয়ার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণকারী এমন বেশ ক’জনের সঙ্গে কথা বললে তাদের অনেকেই চোখের পানি ফেলে হৃদয়ের ব্যথা উপশম করার চেষ্টা করেছেন। সবার মুখের কথা একটাই ছিল-আমাদের পাপই আমাদের জন্য ধ্বংস ডেকে নিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশ হাজী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি আলহাজ মুফতি রেদওয়ানুল বারী সিরাজীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বললে তিনি বলেন, মানুষ যখন কারও প্রতি চরম পর্যায়ের ক্ষোভ প্রকাশ করতে চায় তখনই বলে আপনি আমার বাড়িতে আসবেন না। তেমনি আমরা সীমাহীন অপরাধ করে আল্লাহর ক্রোধকে উত্তেজিত করে ফেলেছি। তাই আল্লাহ আমাদের জন্য তার ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন। আমাদের কৃতকর্মের কারণে আজকের পৃথিবীতে বিপর্যয় নেমে এসেছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, মানুষের কৃতকর্মের কারণে জলে ও স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে (সূরা রুম-৪১)। এ থেকে উত্তরণের পথ একটাই-সেটা হলো আল্লাহর কাছে বিনয়াবনত তাওবা। তাওবা ছাড়া বায়তুল্লাহর দরজা খুলবে না।

আলহাজ হাফেজ মাওলানা কাউসার মোল্লা। ২০১৩ সাল থেকে প্রতি বছর আল্লাহর ঘর জিয়ারত করেন। গত দু’বছর থেকে হজে যেতে না পারার কষ্ট তিনি ব্যক্ত করেন এভাবে-‘প্রতিদিন কাবার জিয়ারতের স্বপ্ন দেখি। জাগতিক যে কোনো ঝামেলায় পড়লেই কাবার কথা মনে হয়ে যায়। আহা! এখন তো আর চাইলেই কাবায় যাওয়া যায় না। মন চায় উড়াল দিয়ে কাবায় চলে যাই। নবীর রওজা জিয়ারতের জন্য দুটি বছর থেকে প্রতীক্ষা করছি। জানি না আল্লাহ কবে আবার নবীর দেশে নিয়ে যাবেন। আমাদের আমল নষ্ট হয়ে গেছে তাই আল্লাহ সাময়িক বিপদ দিয়ে পরীক্ষা করছেন। নেক আমল দিয়ে এ পরীক্ষা থেকে আমাদের উত্তীর্ণ হতে হবে।

রাজধানীর নবীনবাগের নূর-ই-শমশের জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি আতাউর রহমান খান। ২০২০ সালে সপরিবারে হজে যাওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছিলেন। একটি এজেন্সির কাছে সম্পূর্ণ টাকা-পয়সা জমাও দিয়েছেন কিন্তু পরিস্থিতির কারণে এবারও হজে যেতে পারছেন না।

তিনি বলেন, হজে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করা কী যে কষ্ট তা বলে বোঝাতে পারব না। আগামীবার যেন যথাসময়ে হজে যেতে পারি এ জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছি। পাশাপাশি রাষ্ট্রের কাছে আবেদন করতে চাই-বরাবর হাজীদের সেবায় যে অব্যবস্থাপনা শুনে শুনে আমরা অভ্যস্ত আগামীর দিনগুলোতে যেন আর তা শুনতে না হয়।

হজের জন্য প্রাণ কাঁদে

 নিজাম উদ্দিন আল আদনান 
১১ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বায়তুল্লাহ। আল্লাহর ঘর। মদিনা। প্রিয় নবীর শহর। মক্কার কালো গিলাফ আর মদিনার সবুজ গম্বুজ ছুঁয়ে দেখার জন্য প্রতিটি মুমিন গোণেন প্রতিক্ষার প্রহর।

নবীর দেশের দু’মুঠো ধুলাবালি গায়ে মাখার তীব্র নেশায় জীবন-মরণ বায়না ধরেন। জগৎস্রষ্টা যাকে ভালোবাসেন-যার চোখের জ্বলে ফুটে ওঠে খোদায়ী প্রেমের দ্যুতি। যার অবয়বে দীপ্ত হয় জান্নাতের জ্যোতি। মাবুদ তাকে তার ঘরের মেহমান করে হজ পালন করান।

নবীজির হেঁটে চলা পথে তাকে চালান। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ বলার মতো শক্তি দান করেন। ‘আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ’ বলার তাওফিক দান করেন।

বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে সৌদি আরব হজ পালনের অনুমতি না দেওয়ায় গত বছর হজযাত্রী পরিবহন বন্ধ ছিল। গতবারের মতো এবারও হজাযাত্রী পরিবহন বন্ধ থাকবে।

গত বৃহস্পতিবার (৩ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ তথ্য জানান। এর ফলে গত দু’বছর থেকে হজে যাওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ লাখ লাখ নিবন্ধিত হজযাত্রীর মধ্যে হাতাশার ছায়া নেমে আসে।

এবার হজে যাওয়ার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণকারী এমন বেশ ক’জনের সঙ্গে কথা বললে তাদের অনেকেই চোখের পানি ফেলে হৃদয়ের ব্যথা উপশম করার চেষ্টা করেছেন। সবার মুখের কথা একটাই ছিল-আমাদের পাপই আমাদের জন্য ধ্বংস ডেকে নিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশ হাজী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি আলহাজ মুফতি রেদওয়ানুল বারী সিরাজীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বললে তিনি বলেন, মানুষ যখন কারও প্রতি চরম পর্যায়ের ক্ষোভ প্রকাশ করতে চায় তখনই বলে আপনি আমার বাড়িতে আসবেন না। তেমনি আমরা সীমাহীন অপরাধ করে আল্লাহর ক্রোধকে উত্তেজিত করে ফেলেছি। তাই আল্লাহ আমাদের জন্য তার ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন। আমাদের কৃতকর্মের কারণে আজকের পৃথিবীতে বিপর্যয় নেমে এসেছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, মানুষের কৃতকর্মের কারণে জলে ও স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে (সূরা রুম-৪১)। এ থেকে উত্তরণের পথ একটাই-সেটা হলো আল্লাহর কাছে বিনয়াবনত তাওবা। তাওবা ছাড়া বায়তুল্লাহর দরজা খুলবে না।

আলহাজ হাফেজ মাওলানা কাউসার মোল্লা। ২০১৩ সাল থেকে প্রতি বছর আল্লাহর ঘর জিয়ারত করেন। গত দু’বছর থেকে হজে যেতে না পারার কষ্ট তিনি ব্যক্ত করেন এভাবে-‘প্রতিদিন কাবার জিয়ারতের স্বপ্ন দেখি। জাগতিক যে কোনো ঝামেলায় পড়লেই কাবার কথা মনে হয়ে যায়। আহা! এখন তো আর চাইলেই কাবায় যাওয়া যায় না। মন চায় উড়াল দিয়ে কাবায় চলে যাই। নবীর রওজা জিয়ারতের জন্য দুটি বছর থেকে প্রতীক্ষা করছি। জানি না আল্লাহ কবে আবার নবীর দেশে নিয়ে যাবেন। আমাদের আমল নষ্ট হয়ে গেছে তাই আল্লাহ সাময়িক বিপদ দিয়ে পরীক্ষা করছেন। নেক আমল দিয়ে এ পরীক্ষা থেকে আমাদের উত্তীর্ণ হতে হবে।

রাজধানীর নবীনবাগের নূর-ই-শমশের জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি আতাউর রহমান খান। ২০২০ সালে সপরিবারে হজে যাওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছিলেন। একটি এজেন্সির কাছে সম্পূর্ণ টাকা-পয়সা জমাও দিয়েছেন কিন্তু পরিস্থিতির কারণে এবারও হজে যেতে পারছেন না।

তিনি বলেন, হজে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করা কী যে কষ্ট তা বলে বোঝাতে পারব না। আগামীবার যেন যথাসময়ে হজে যেতে পারি এ জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছি। পাশাপাশি রাষ্ট্রের কাছে আবেদন করতে চাই-বরাবর হাজীদের সেবায় যে অব্যবস্থাপনা শুনে শুনে আমরা অভ্যস্ত আগামীর দিনগুলোতে যেন আর তা শুনতে না হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন