ইসলামে শিশুর পরিচর্যা
jugantor
ইসলামে শিশুর পরিচর্যা

  ওলিউর রহমান  

১৮ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মানবজীবনে শিশুকাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়েই মানুষের বাস্তবজীবনের শিক্ষা আর দীক্ষা নিতে হয়। যার শিশুকাল যতটা স্বযত্নে গড়ে উঠবে, তার জীবনের পরবর্তী জীবন ততই সুন্দর হবে। এজন্য ইসলামে মানবজীবনের শিশুকালের ব্যাপারে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়। একজন সচেতন মুসলিম অভিভাবক তার সন্তানের পরিচর্যা কীভাবে করবেন সে বিষয়ে লিখেছেন-ওলিউর রহমান

আকিদা : শিশুকে সর্বপ্রথম আল্লাহর তাওহিদ (একত্ববাদ)-এর শিক্ষা দিতে হবে। ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর অর্থ আর এর চেতনা তার মনে ঢুকিয়ে দিতে হবে। আল্লাহর গুণাবলি ও মানুষের প্রতি তার নেয়ামতরাজির আলোচনা করে আল্লাহর সঙ্গে তার ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। তাকে এ কথা বুঝিয়ে দিতে হবে, আল্লাহ বান্দার সবকিছু দেখেন। তিনি বান্দাকে পর্যবেক্ষণ করেন। ফলে, বান্দা ভালো কাজ করলে তাকে আখেরাতে পুরস্কার দেবেন। খারাপ কাজ করলে শাস্তি দেবেন।

ইবাদত : শিশুকে ইবাদত শিক্ষা দিতে হবে। প্রথমেই তাকে ইসলামের মৌলিক পাঁচটি বিষয় শেখাতে হবে। এরপর তাকে পর্যায়ক্রমে অজু, নামাজ ইত্যাদি বিষয় শিখিয়ে দিতে হবে। মসজিদ ও নামাজের সঙ্গে ভালোবাসা তৈরি হয়, ঘরে সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

চরিত্র : শিশুকে সচরিত্র শিক্ষা দিতে হবে। এর জন্য বাবা-মা সবচেয়ে বড় শিক্ষক। বাবা-মাকেই এজন্যই প্রথমে উদ্যোগ নিতে হবে। শিশুকে প্রেম ও ভালোবাসা শেখাতে হবে। এজন্য বাবা-মা’র মন হতে কঠোরতা, শত্রুতার মানসিকতা পরিহার করতে হবে। সবসময় সত্য কথা বলতে হবে। একজন শিশু যখন দেখবে, তার বাবা-মা সত্য কথা বলেন, তখন সে তাদের দ্বারা প্রভাবিত হবে এবং সততা শিখবে। শিশু কোনো ভালো কাজ করলে তাকে প্রশংসা করতে হবে। উৎসাহ দিতে হবে।

শিষ্টাচার : শিশুকে সামাজিক শিষ্টাচার শিক্ষা দিতে হবে। নিজের সন্তানকেই সালাম দিতে হবে। তাদের সামনে মার্জিতভাবে কথা বলতে হবে। প্রতিবেশীর প্রতি সদ্ভাব রাখতে হবে। এতে করে সন্তানের সামাজিক শিক্ষা হয়ে ওঠে।

শারীরিক গঠন : শিশুদের জন্য খেলাধুলা আর বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। শিশুদের উপযোগী ব্যায়ামের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে তাদের শারীরিক গঠন সুন্দর হবে। শিশুদের সাঁতার, দৌড়সহ শারীরিক সক্ষমতা বাড়ে, এমন সব খেলার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। পুষ্টিকর খাবার এবং মৌসুমি ফল খাওয়াতে হবে। ক্ষতিকর বিনোদন বা খেলাধুলা থেকে তাকে বিরত রাখতে হবে। প্রযুক্তির উন্নতির এ যুগে আপনার ছেলে কী খেলছে, কী করছে; সেটি দেখভাল করা আপনার কর্তব্য। মোবাইলে প্রচলিত যেসব গেমসের ব্যাপারে গবেষকরা সতর্ক করেছেন, সেগুলো থেকে শিশুদের নিরাপদ দূরত্বে রাখতে হবে।

মানসিক গঠন : সময়ে সময়ে শিশুর সঙ্গে জ্ঞানের আলোচনা করতে হবে। তাকে সমসাময়িক বিষয়গুলো তার মতো করে জানাতে হবে। তার সঙ্গে মতবিনিময় করতে হবে। এজন্য সারা দিনের ব্যস্ততার পরও একটি সময় নির্দিষ্ট রাখতে হবে। তাকে সবসময় ধমকানো যাবে না। শিশু কোনো ভালো কাজ করলে তার প্রশংসা করতে হবে।

একজন শিশুকে এভাবে গড়ে তুললে আশা করা যায়, সেই সন্তাকে দিয়ে বাবা-মা’র মুখ উজ্জ্বল হবে। এমন সন্তানের কারণে সমাজে কষ্ট পেতে হবে না। আল্লাহতায়ালা আমাদের প্রতিটি সন্তানকে আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার তাওফিক দান করুন।

লেখক : মুহাদ্দিস, প্রবন্ধকার, অনুবাদক

ইসলামে শিশুর পরিচর্যা

 ওলিউর রহমান 
১৮ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মানবজীবনে শিশুকাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়েই মানুষের বাস্তবজীবনের শিক্ষা আর দীক্ষা নিতে হয়। যার শিশুকাল যতটা স্বযত্নে গড়ে উঠবে, তার জীবনের পরবর্তী জীবন ততই সুন্দর হবে। এজন্য ইসলামে মানবজীবনের শিশুকালের ব্যাপারে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়। একজন সচেতন মুসলিম অভিভাবক তার সন্তানের পরিচর্যা কীভাবে করবেন সে বিষয়ে লিখেছেন- ওলিউর রহমান

আকিদা : শিশুকে সর্বপ্রথম আল্লাহর তাওহিদ (একত্ববাদ)-এর শিক্ষা দিতে হবে। ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর অর্থ আর এর চেতনা তার মনে ঢুকিয়ে দিতে হবে। আল্লাহর গুণাবলি ও মানুষের প্রতি তার নেয়ামতরাজির আলোচনা করে আল্লাহর সঙ্গে তার ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। তাকে এ কথা বুঝিয়ে দিতে হবে, আল্লাহ বান্দার সবকিছু দেখেন। তিনি বান্দাকে পর্যবেক্ষণ করেন। ফলে, বান্দা ভালো কাজ করলে তাকে আখেরাতে পুরস্কার দেবেন। খারাপ কাজ করলে শাস্তি দেবেন।

ইবাদত : শিশুকে ইবাদত শিক্ষা দিতে হবে। প্রথমেই তাকে ইসলামের মৌলিক পাঁচটি বিষয় শেখাতে হবে। এরপর তাকে পর্যায়ক্রমে অজু, নামাজ ইত্যাদি বিষয় শিখিয়ে দিতে হবে। মসজিদ ও নামাজের সঙ্গে ভালোবাসা তৈরি হয়, ঘরে সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

চরিত্র : শিশুকে সচরিত্র শিক্ষা দিতে হবে। এর জন্য বাবা-মা সবচেয়ে বড় শিক্ষক। বাবা-মাকেই এজন্যই প্রথমে উদ্যোগ নিতে হবে। শিশুকে প্রেম ও ভালোবাসা শেখাতে হবে। এজন্য বাবা-মা’র মন হতে কঠোরতা, শত্রুতার মানসিকতা পরিহার করতে হবে। সবসময় সত্য কথা বলতে হবে। একজন শিশু যখন দেখবে, তার বাবা-মা সত্য কথা বলেন, তখন সে তাদের দ্বারা প্রভাবিত হবে এবং সততা শিখবে। শিশু কোনো ভালো কাজ করলে তাকে প্রশংসা করতে হবে। উৎসাহ দিতে হবে।

শিষ্টাচার : শিশুকে সামাজিক শিষ্টাচার শিক্ষা দিতে হবে। নিজের সন্তানকেই সালাম দিতে হবে। তাদের সামনে মার্জিতভাবে কথা বলতে হবে। প্রতিবেশীর প্রতি সদ্ভাব রাখতে হবে। এতে করে সন্তানের সামাজিক শিক্ষা হয়ে ওঠে।

শারীরিক গঠন : শিশুদের জন্য খেলাধুলা আর বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। শিশুদের উপযোগী ব্যায়ামের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে তাদের শারীরিক গঠন সুন্দর হবে। শিশুদের সাঁতার, দৌড়সহ শারীরিক সক্ষমতা বাড়ে, এমন সব খেলার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। পুষ্টিকর খাবার এবং মৌসুমি ফল খাওয়াতে হবে। ক্ষতিকর বিনোদন বা খেলাধুলা থেকে তাকে বিরত রাখতে হবে। প্রযুক্তির উন্নতির এ যুগে আপনার ছেলে কী খেলছে, কী করছে; সেটি দেখভাল করা আপনার কর্তব্য। মোবাইলে প্রচলিত যেসব গেমসের ব্যাপারে গবেষকরা সতর্ক করেছেন, সেগুলো থেকে শিশুদের নিরাপদ দূরত্বে রাখতে হবে।

মানসিক গঠন : সময়ে সময়ে শিশুর সঙ্গে জ্ঞানের আলোচনা করতে হবে। তাকে সমসাময়িক বিষয়গুলো তার মতো করে জানাতে হবে। তার সঙ্গে মতবিনিময় করতে হবে। এজন্য সারা দিনের ব্যস্ততার পরও একটি সময় নির্দিষ্ট রাখতে হবে। তাকে সবসময় ধমকানো যাবে না। শিশু কোনো ভালো কাজ করলে তার প্রশংসা করতে হবে।

একজন শিশুকে এভাবে গড়ে তুললে আশা করা যায়, সেই সন্তাকে দিয়ে বাবা-মা’র মুখ উজ্জ্বল হবে। এমন সন্তানের কারণে সমাজে কষ্ট পেতে হবে না। আল্লাহতায়ালা আমাদের প্রতিটি সন্তানকে আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার তাওফিক দান করুন।

লেখক : মুহাদ্দিস, প্রবন্ধকার, অনুবাদক

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন