বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি সুস্পষ্ট হারাম
jugantor
বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি সুস্পষ্ট হারাম

  মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ  

১৮ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের হাট-বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি খুবই সাধারণ দৃশ্য। সুযোগ পেলেই এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মূল্যবৃদ্ধি করে থাকেন। যে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যের দাম বাড়ানো ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ প্রসঙ্গে রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মুসলমানদের খাদ্যশস্য মজুত করে রাখে, আল্লাহপাক তার ওপর দরিদ্রতা চাপিয়ে দেন।’ (আবু দাউদ : ৫৫) ব্যবসায়িক পণ্য বিক্রি না করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বর্ধিত মুনাফা আদায়ের প্রচেষ্টা একটি মারাত্মক অপরাধ। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে খাদ্যশস্য গুদামজাত করে সে অভিশপ্ত।’ (ইবনে মাজাহ) তবে গুদামজাত পণ্য যদি মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু না হয়, কিংবা মানুষের মুখাপেক্ষী না হয় অথবা এসব পণ্য চাহিদার অতিরিক্ত হয় বা গুদামজাতকারী বর্ধিত মুনাফা অর্জনের অভিলাষী না হয়, তাহলে এসব অবস্থায় পণ্য মজুত রাখা অবৈধ নয়। হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (সা.)কে বলতে শুনেছি, ‘গুদামজাতকারী কতই না ঘৃণিত মানুষ। আল্লাহতায়ালা দ্রব্যমূল্য কমিয়ে দিলে সে চিন্তিত হয়ে পড়ে। আর বাড়িয়ে দিলে সে আনন্দিত হয়। (মেশকাত : ২৭৭১।) রাসূল (সা.) আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমদানি করবে সে রিজিকপ্রাপ্ত হবে। আর যে গুদামজাত করবে, সে অভিশপ্ত হবে। (ইবনে মাজাহ : ২১৪৪, সুনান দারেমি : ২৪৬৪।)

রাসূল (সা.) মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য মদিনায় ইনসাফভিত্তিক বাজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি নিজেই মদিনার বনু কায়নুকা বাজারটি পরিচালনার দায়িত্বভার নিয়েছিলেন। এ বাজারটির বৈশিষ্ট্য ছিল, এখানে কোনো রকম ধোঁকা-প্রতারণা, ঠকবাজি, মাপে কম-বেশি করার বা পণ্যদ্রব্য মজুত অথবা আটক করে কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি করে জনগণকে কষ্ট দেওয়ার সুযোগই ছিল না। আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) একদিন এক বিক্রেতার খাদ্যের স্তূপের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তার হাত ওই খাদ্যের স্তূপে প্রবেশ করান, এতে তার হাত ভিজে গেল এবং অনুপযুক্ত খাদ্যের সন্ধান পেলেন। তখন রাসূল (সা.) ইরশাদ করলেন, ‘হে খাদ্য বিক্রেতা! এগুলো কী?’ তখন সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! খাদ্যগুলো বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। রাসূল (সা.) ইরশাদ করলেন, ‘তুমি এই ভিজা খাদ্যগুলো ওপরে রাখনি কেন, যাতে সবাই তা দেখে নিতে পারে? যে ব্যক্তি কাউকে ধোঁকা দেবে সে আমার উম্মত নয়।’ (মুসলিম, হাদিস নং: ১০২)

নবী করিম (সা.) বলেন, ‘কেয়ামতের দিন ব্যবসায়ীরা মহা অপরাধী হিসাবে উত্থিত হবে, তবে যারা আল্লাহকে ভয় করবে, নেকভাবে সততা ও ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে ব্যবসা করবে তারা ব্যতীত।’ (তিরমিজি : ১২১০)। তাই যাদের কারণে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পায় এবং বাজার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে তারা শিগগির সুপথে ফিরবেন এটাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা।

বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি সুস্পষ্ট হারাম

 মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ 
১৮ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের হাট-বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি খুবই সাধারণ দৃশ্য। সুযোগ পেলেই এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মূল্যবৃদ্ধি করে থাকেন। যে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যের দাম বাড়ানো ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ প্রসঙ্গে রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মুসলমানদের খাদ্যশস্য মজুত করে রাখে, আল্লাহপাক তার ওপর দরিদ্রতা চাপিয়ে দেন।’ (আবু দাউদ : ৫৫) ব্যবসায়িক পণ্য বিক্রি না করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বর্ধিত মুনাফা আদায়ের প্রচেষ্টা একটি মারাত্মক অপরাধ। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে খাদ্যশস্য গুদামজাত করে সে অভিশপ্ত।’ (ইবনে মাজাহ) তবে গুদামজাত পণ্য যদি মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু না হয়, কিংবা মানুষের মুখাপেক্ষী না হয় অথবা এসব পণ্য চাহিদার অতিরিক্ত হয় বা গুদামজাতকারী বর্ধিত মুনাফা অর্জনের অভিলাষী না হয়, তাহলে এসব অবস্থায় পণ্য মজুত রাখা অবৈধ নয়। হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (সা.)কে বলতে শুনেছি, ‘গুদামজাতকারী কতই না ঘৃণিত মানুষ। আল্লাহতায়ালা দ্রব্যমূল্য কমিয়ে দিলে সে চিন্তিত হয়ে পড়ে। আর বাড়িয়ে দিলে সে আনন্দিত হয়। (মেশকাত : ২৭৭১।) রাসূল (সা.) আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমদানি করবে সে রিজিকপ্রাপ্ত হবে। আর যে গুদামজাত করবে, সে অভিশপ্ত হবে। (ইবনে মাজাহ : ২১৪৪, সুনান দারেমি : ২৪৬৪।)

রাসূল (সা.) মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য মদিনায় ইনসাফভিত্তিক বাজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি নিজেই মদিনার বনু কায়নুকা বাজারটি পরিচালনার দায়িত্বভার নিয়েছিলেন। এ বাজারটির বৈশিষ্ট্য ছিল, এখানে কোনো রকম ধোঁকা-প্রতারণা, ঠকবাজি, মাপে কম-বেশি করার বা পণ্যদ্রব্য মজুত অথবা আটক করে কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি করে জনগণকে কষ্ট দেওয়ার সুযোগই ছিল না। আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) একদিন এক বিক্রেতার খাদ্যের স্তূপের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তার হাত ওই খাদ্যের স্তূপে প্রবেশ করান, এতে তার হাত ভিজে গেল এবং অনুপযুক্ত খাদ্যের সন্ধান পেলেন। তখন রাসূল (সা.) ইরশাদ করলেন, ‘হে খাদ্য বিক্রেতা! এগুলো কী?’ তখন সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! খাদ্যগুলো বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। রাসূল (সা.) ইরশাদ করলেন, ‘তুমি এই ভিজা খাদ্যগুলো ওপরে রাখনি কেন, যাতে সবাই তা দেখে নিতে পারে? যে ব্যক্তি কাউকে ধোঁকা দেবে সে আমার উম্মত নয়।’ (মুসলিম, হাদিস নং: ১০২)

নবী করিম (সা.) বলেন, ‘কেয়ামতের দিন ব্যবসায়ীরা মহা অপরাধী হিসাবে উত্থিত হবে, তবে যারা আল্লাহকে ভয় করবে, নেকভাবে সততা ও ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে ব্যবসা করবে তারা ব্যতীত।’ (তিরমিজি : ১২১০)। তাই যাদের কারণে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পায় এবং বাজার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে তারা শিগগির সুপথে ফিরবেন এটাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন