ইয়া ইলাহি কবুল করো আমার মোনাজাত
jugantor
ইয়া ইলাহি কবুল করো আমার মোনাজাত

  মুহাম্মদ মিজানুর রহমান  

২৫ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সূরা আল মুমিনুন, আয়াত-৬০)। এ আয়াতে পরকালের সাফল্য অর্জনের জন্য মানুষকে ইবাদতে মনোযোগী হতে বলা হয়েছে। এ ইবাদতে মনোযোগী হওয়ার সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো- তাঁকে ডাকা। তাঁকে ডাকতে হবে ইবাদতের মাধ্যমে। মানুষের যা কিছু প্রয়োজন, তা সে আল্লাহর কাছে চাইবে। কারণ দেওয়ার মালিক আল্লাহ। তাই মানুষের যত চাওয়া, যত আর্জি- সবই তাঁর কাছে করতে হবে। এ চাওয়ার সহজ ও সঠিক প্রক্রিয়াটি দোয়া। যা বিনয়ের সঙ্গে আল্লাহর কাছে করতে হয়। যাতে বান্দা আল্লাহর পক্ষ থেকে সমূহকল্যাণ ও উপকার লাভ করতে পারে। যেন তিনি তাকে সব ক্ষতি ও অপকার থেকে বাঁচিয়ে রাখেন। আল্লাহর কাছে বান্দার এ ফরিয়াদ ইবাদত হিসাবে গণ্য। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘দোয়াই ইবাদত।’ (তিরমিজি)।

আল্লাহর কাছে মানুষের পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ ব্যতীত তাঁর নৈকট্য লাভ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভ করতে চাইলে আল্লাহর কাছে মাথা নত করতেই হবে। ইবাদাত ছাড়া মানুষের মুক্তির কোনো উপায় নেই। যেহেতু দোয়াই ইবাদত, তাই দোয়ার মাধ্যমে মানুষের ইবাদতগুলো যাতে গ্রহণযোগ্য হয়, সে চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য মানুষের রুজি-রোজগার হালাল হওয়া দরকার। কারণ ইবাদত কবুলের জন্য এটিই সবচেয়ে বেশি জরুরি। কারণ ব্যক্তি যা খায় বা যা পরে তা যদি হারাম হয়, এমন ব্যক্তির দোয়া কখনো কবুল হতে পারে না। তা ছাড়া ‘যে শরীরের গোশত হারামের দ্বারা গঠিত হয়েছে, তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (বায়হাকি, আহমাদ)।

মানুষের এ বিষয়গুলো অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে। সে হালাল-হারামের বাছ-বিচার করবে। পবিত্রতা অর্জন করে আদব ও বিনয়ের সঙ্গে ব্যথিত অন্তরে আল্লাহর কাছে দোয়া চাইলে, অবশ্যই তা ইবাদতে পরিণত হবে। কারণ আল্লাহ অনুতপ্ত বান্দাকে কখনোই নিরাশ করেন না। তবে একজন ইমানদার বা মজলুম বান্দা আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা যে কোনো সময় কবুল হতে পারে। এ জন্য আলাদা কোনো সময়ের প্রয়োজন হয় না। তবে দিনক্ষণ ও সময়ের কারণে ইবাদতের মর্যাদাগত দিক থেকে কিছু পার্থক্য রয়েছে। তেমনি দোয়ার ক্ষেত্রেও কিছু সময় নির্ধারিত রয়েছে। সে সময়গুলোয় দোয়া করলে, তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। রাসূল (সা.) হাদিসে এ রকম কিছু সময়ের কথা বলেছেন। যেমন-আজান ও ইকামতের মধ্যে দোয়া কবুল হয়ে থাকে। অন্যদিকে সিজদারত অবস্থায় বা সিজদায় দোয়া কবুল হয়। যখন বৃষ্টি অবতীর্ণ হয়, তখনো দোয়া কবুল হয়।

হাদিস শরিফে এসেছে, শুক্রবার জুমার দিন ইমাম যখন খুতবা দেওয়া শুরু করে, তখন থেকে সালাত শেষ করা পর্যন্ত দোয়া কবুলের সময় অব্যাহত থাকে। ওইদিন বিকাল বেলায় আসরের নামাজের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ সুযোগ বিদ্যমান থাকে। অন্যদিকে প্রতি রাতে ফজরের আগে যে প্রহর রয়েছে (শেষ সময়), এ সময়ও দোয়া কবুল হয়। যারা রাত জেগে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়েন তারা এ ফজিলত হাসিল করতে পারেন। এ ছাড়া প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরও দোয়া কবুল হয়ে থাকে। এ সাধারণ সময়গুলো ছাড়াও কদরের রাত, ইয়াওমুল আরাফা, জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন ও রোজাদার ব্যক্তির ইফতারির আগ মুহূর্তের দোয়াও কবুল হওয়ার ব্যাপারে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

রাসূল (সা.) হাদিসে দোয়া কবুলের যে সময়গুলোর কথা বলেছেন, মানুষ যদি জেনে-বুঝে ও সঠিক নিয়মে আল্লাহর কাছে দোয়া করে-আল্লাহ তাঁর বান্দার এ দোয়া কবুল করবেন। রাসূল (সা.) যখনই কোনো বিপদ-আপদ ও বালা-মুসিবতে পড়তেন, তখন আল্লাহর কাছে দোয়া চাইতেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৫২)।

লেখক : প্রাবন্ধিক

ইয়া ইলাহি কবুল করো আমার মোনাজাত

 মুহাম্মদ মিজানুর রহমান 
২৫ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সূরা আল মুমিনুন, আয়াত-৬০)। এ আয়াতে পরকালের সাফল্য অর্জনের জন্য মানুষকে ইবাদতে মনোযোগী হতে বলা হয়েছে। এ ইবাদতে মনোযোগী হওয়ার সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো- তাঁকে ডাকা। তাঁকে ডাকতে হবে ইবাদতের মাধ্যমে। মানুষের যা কিছু প্রয়োজন, তা সে আল্লাহর কাছে চাইবে। কারণ দেওয়ার মালিক আল্লাহ। তাই মানুষের যত চাওয়া, যত আর্জি- সবই তাঁর কাছে করতে হবে। এ চাওয়ার সহজ ও সঠিক প্রক্রিয়াটি দোয়া। যা বিনয়ের সঙ্গে আল্লাহর কাছে করতে হয়। যাতে বান্দা আল্লাহর পক্ষ থেকে সমূহকল্যাণ ও উপকার লাভ করতে পারে। যেন তিনি তাকে সব ক্ষতি ও অপকার থেকে বাঁচিয়ে রাখেন। আল্লাহর কাছে বান্দার এ ফরিয়াদ ইবাদত হিসাবে গণ্য। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘দোয়াই ইবাদত।’ (তিরমিজি)।

আল্লাহর কাছে মানুষের পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ ব্যতীত তাঁর নৈকট্য লাভ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভ করতে চাইলে আল্লাহর কাছে মাথা নত করতেই হবে। ইবাদাত ছাড়া মানুষের মুক্তির কোনো উপায় নেই। যেহেতু দোয়াই ইবাদত, তাই দোয়ার মাধ্যমে মানুষের ইবাদতগুলো যাতে গ্রহণযোগ্য হয়, সে চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য মানুষের রুজি-রোজগার হালাল হওয়া দরকার। কারণ ইবাদত কবুলের জন্য এটিই সবচেয়ে বেশি জরুরি। কারণ ব্যক্তি যা খায় বা যা পরে তা যদি হারাম হয়, এমন ব্যক্তির দোয়া কখনো কবুল হতে পারে না। তা ছাড়া ‘যে শরীরের গোশত হারামের দ্বারা গঠিত হয়েছে, তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (বায়হাকি, আহমাদ)।

মানুষের এ বিষয়গুলো অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে। সে হালাল-হারামের বাছ-বিচার করবে। পবিত্রতা অর্জন করে আদব ও বিনয়ের সঙ্গে ব্যথিত অন্তরে আল্লাহর কাছে দোয়া চাইলে, অবশ্যই তা ইবাদতে পরিণত হবে। কারণ আল্লাহ অনুতপ্ত বান্দাকে কখনোই নিরাশ করেন না। তবে একজন ইমানদার বা মজলুম বান্দা আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা যে কোনো সময় কবুল হতে পারে। এ জন্য আলাদা কোনো সময়ের প্রয়োজন হয় না। তবে দিনক্ষণ ও সময়ের কারণে ইবাদতের মর্যাদাগত দিক থেকে কিছু পার্থক্য রয়েছে। তেমনি দোয়ার ক্ষেত্রেও কিছু সময় নির্ধারিত রয়েছে। সে সময়গুলোয় দোয়া করলে, তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। রাসূল (সা.) হাদিসে এ রকম কিছু সময়ের কথা বলেছেন। যেমন-আজান ও ইকামতের মধ্যে দোয়া কবুল হয়ে থাকে। অন্যদিকে সিজদারত অবস্থায় বা সিজদায় দোয়া কবুল হয়। যখন বৃষ্টি অবতীর্ণ হয়, তখনো দোয়া কবুল হয়।

হাদিস শরিফে এসেছে, শুক্রবার জুমার দিন ইমাম যখন খুতবা দেওয়া শুরু করে, তখন থেকে সালাত শেষ করা পর্যন্ত দোয়া কবুলের সময় অব্যাহত থাকে। ওইদিন বিকাল বেলায় আসরের নামাজের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ সুযোগ বিদ্যমান থাকে। অন্যদিকে প্রতি রাতে ফজরের আগে যে প্রহর রয়েছে (শেষ সময়), এ সময়ও দোয়া কবুল হয়। যারা রাত জেগে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়েন তারা এ ফজিলত হাসিল করতে পারেন। এ ছাড়া প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরও দোয়া কবুল হয়ে থাকে। এ সাধারণ সময়গুলো ছাড়াও কদরের রাত, ইয়াওমুল আরাফা, জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন ও রোজাদার ব্যক্তির ইফতারির আগ মুহূর্তের দোয়াও কবুল হওয়ার ব্যাপারে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

রাসূল (সা.) হাদিসে দোয়া কবুলের যে সময়গুলোর কথা বলেছেন, মানুষ যদি জেনে-বুঝে ও সঠিক নিয়মে আল্লাহর কাছে দোয়া করে-আল্লাহ তাঁর বান্দার এ দোয়া কবুল করবেন। রাসূল (সা.) যখনই কোনো বিপদ-আপদ ও বালা-মুসিবতে পড়তেন, তখন আল্লাহর কাছে দোয়া চাইতেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৫২)।

লেখক : প্রাবন্ধিক

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন