কুরআনের ব্যাখ্যায় প্রযুক্তি ও মিডিয়া
jugantor
কুরআনের ব্যাখ্যায় প্রযুক্তি ও মিডিয়া

  শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী  

০২ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সত্য তথ্য সঠিক জ্ঞানের উৎস। মিডিয়া বা মাধ্যম হলো তথ্যের বাহন। প্রযুক্তি হলো মিডিয়া বা বাহনের সহজিকরণ। সত্য জানতে বা সত্যে উপনীত হতে তথ্য অপরিহার্য।

তথ্যপ্রাপ্তির জন্য মিডিয়া অতীব জরুরি উপকরণ। তথ্যের সহজলভ্যতার জন্য প্রযুক্তি খুবই প্রয়োজন। সব নবী ও রাসূলরা (আ.) বিশ্ব মানবতার উন্নয়নে ও সভ্যতার উৎকর্ষ সাধনে যে দাওয়াতি কাজ করেছিলেন, তাতেও তারা সত্য তথ্য প্রচারে সময়োপযোগী মিডিয়া ও প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন।

মিডিয়ার উন্নয়ন ঘটছে প্রতিনিয়ত, প্রযুক্তি উন্নতি চলমান। পরিবর্তনের এ অবিরাম ধারায় যুক্ত হচ্ছে নিত্য-নতুন আবিষ্কার প্রযুক্তি ও মিডিয়ার নানা নতুন সংস্করণ।

আল্লাহতায়ালা কুরআনে কারিমে বলেন, ‘আর তিনি এমন কিছু সৃষ্টি করবেন, যা তোমরা (এখনো) জান না।’ (সূরা-১৬ নাহল, আয়াত : ৮)। ‘এভাবে আল্লাহ যা চান, তা সৃজন করেন।’ (সূরা-৩ আলে ইমরান, আয়াত : ৪৭)। ‘তিনি যা চান, তা সৃজন করেন।’ (সূরা-৫ মায়িদাহ, আয়াত : ১৭)।

‘সৃষ্টি করেন আল্লাহ তিনি যা ইচ্ছা করে।’ (সূরা-২৪ নূর, আয়াত : ৪৫)। ‘আপনার রব যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং মনোনীত করেন।’ (সূরা-২৮ কাছাছ, আয়াত : ২৮)। ‘সৃষ্টি করেন তিনি যা তিনি ইচ্ছা করেন।’ (সূরা-৩০ রুম, আয়াত : ৫৪; সূরা-৩৯ জুমার, আয়াত : ৪; সূরা-৪২ শুআরা, আয়াত : ৪৯)।

প্রত্যেক নব-আবিষ্কৃৃত জিনিসেই থাকে বিভিন্ন সুবিধা ও অসুবিধা। সব সৃষ্টিই আল্লাহতায়ালার নিয়ামত। প্রয়োজন হলো এর যথাযথ প্রয়োগ বা সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

সর্বযুগে সব মিডিয়ার ব্যবহারে প্রথম ও প্রধান যে মৌলিক নৈতিক মূল্যবোধটি সক্রিয়ভাবে কাজে লাগাতে হবে, তা হলো ‘তাকওয়া-পরহেজগারি’ তথা আল্লাহভীতি। মনে রাখতে হবে আমি যা করছি তা কেউ না জানলেও মহান আল্লাহতায়ালা জানেন ও দেখেন।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআন মাজিদে বলেন, ‘আর তিনি তোমাদের সঙ্গেই থাকেন, তোমরা যেখানেই থাক; আর আল্লাহতায়ালা দেখেন, যা তোমরা কর।’ (সূরা-৫৭ হাদিদ, আয়াত : ৪)।

ধর্ম মানুষের কল্যাণের জন্য এবং অকল্যাণ থেকে সুরক্ষার জন্য। ইসলামি বিধান মতে মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য দ্বিবিধ-‘হক্কুল্লাহ’ বা আল্লাহর প্রতি কর্তব্য এবং ‘হক্কুল ইবাদ’ বা বান্দার প্রতি করণীয়। বান্দাহ হলো আল্লাহর সৃষ্টি সব। মানুষের প্রতি মানুষের হক তিনটি। তা হলো সব মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মান হেফাজত করা।

প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) বিদায় হজের ভাষণে বলেছিলেন: ‘এ মক্কা নগরী যেমন সম্মানিত, এ আরাফাতের প্রান্তর যেমন মর্যাদাবান, এ হজের দিবস যেমন ফজিলতপূর্ণ, এ কাবাঘর যেমন পবিত্র; প্রত্যেক মানুষের জান, মাল ও ইজ্জত অনুরূপ সম্মানীয় ও পবিত্র এবং তা অপরের জন্য হারাম ও নিষিদ্ধ। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসির)।

তাই মিডিয়ার ব্যবহারে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। কারণ আল্লাহর হক আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন। কিন্তু বান্দার হক আল্লাহ ক্ষমা করবেন না, যতক্ষণ বান্দা তাকে ক্ষমা না করেন।

ইসলামি বিধানের উদ্দেশ্য তথা মাকাসিদুশ শরিয়া হলো- মানুষের জীবনের সুরক্ষা, সম্পদের সুরক্ষা, জ্ঞানের সুরক্ষা, বংশধারা বা প্রজন্ম সুরক্ষা ও ধর্ম-কর্ম সুরক্ষা। সব কাজে এ বিষয়গুলো লক্ষ রাখা বাঞ্ছনীয়।

রোজ হাশরে বিচারের দিনে প্রথমে যাচাই হবে ইমান বা বিশ্বাসের। তারপর বিচার হবে বান্দার হকের, যা উপরোক্ত তিন পর্যায় জীবন, সম্পদ ও সম্মানের আওতাভুক্ত।

হাদিস শরিফে আছে, এ ধাপে অনেক নেকির অধিকারী ব্যক্তিরা বান্দার হক তার নেকি দিয়ে শোধ দিতে গিয়ে সব নেকি নিঃশেষ হয়ে যাবে এবং তাকে অন্যদের গুনাহের বোঝা নিয়ে জাহান্নামে যেতে হবে। দ্বিতীয় ধাপ উত্তীর্ণ হলেই শেষ পর্বে প্রশ্ন করা হবে আল্লাহর হক সম্পর্কে। যা আল্লাহ চাইলে যাকে ইচ্ছা ক্ষমাও করবেন।

তথ্য আদান-প্রদানের অন্যতম মাধ্যম হলো দেখা ও শোনা (অডিও-ভিডিও)। কোনো কিছু দেখা ও শোনার ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান হলো; যা সরাসরি দেখা বা শোনা জায়েজ বা বৈধ, তা যে কোনো মাধ্যমে দেখা বা শোনা জায়েজ বা বৈধ। আর যা সরাসরি দেখা বা শোনা হারাম বা নিষিদ্ধ, তা যে কোনো মাধ্যমেই দেখা বা শোনা হারাম বা নিষিদ্ধ।

সুতরাং যা জায়েজ বা বৈধ তা আপলোড বা ডাউনলোড করাও জায়েজ বা বৈধ এবং যা হারাম বা নিষিদ্ধ তা আপলোড বা ডাউনলোড করাও হারাম বা নিষিদ্ধ।

ইসলামে মিথ্যাকে সব পাপের জননী বলা হয়েছে। প্রতারক নবীজি (সা.)-এর উম্মত নয় বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গিবত শিকায়াত পরনিন্দাকে কুরআনে আপন মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সমান বলা হয়েছে। তোহমত বা মিথ্যা অপবাদ রটনা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। (সূরা-৪৯ হুজুরাত, আয়াত : ১২)। উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিষয় বা বিবরণ অসম্পূর্ণ রাখা অথবা আংশিক পরিবর্তন করা এবং সত্য-মিথ্যার সংশ্রিণ ও সত্য গোপন করা ইসলামে হারাম।

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা জেনে শুনে সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশিয়ো না, আর সত্যকে গোপন কর না।’ (সূরা-২ বাকারা, আয়াত : ৪২)। ‘কেন তোমরা জেনে শুনে সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশাচ্ছ, আর সত্যকে গোপন করছ?’ (সূরা-৩ আলে ইমরান, আয়াত : ৭১)।

প্রতিনিয়ত আমাদের কাছে যেসব তথ্য আসে; তার সত্যাসত্য যাচাই না করে, এর উৎস বা সূত্রের নির্ভরযোগ্যতা না জেনে, তা কখনো প্রচার বা পুনঃপ্রচার করা ঠিক নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যা শুনে তাই বলতে থাকা, মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যথেষ্ট।’ (বায়হাকি)।

যেসব তথ্য-উপাত্ত দেশ, জাতি, সমাজ ও জনগণের কল্যাণে বা উপকারে আসবে সেসব প্রচার করা বিধেয়। আর যেসব বিষয় বিশৃঙ্খলা ও অশান্তির কারণ হবে তা প্রচার করা অনুচিত।

সঠিক তথ্যের প্রয়োজনে সহায়ক হিসাবে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বিবরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কখনো দেখা যায় কেউ কেউ কোনো ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে বা পরিবর্তন করে অথবা ভিন্ন বিষয় বা বিবরণ সংযোজন করে প্রকাশ বা প্রচার করে থাকেন। যা একেবারেই অনৈতিক, মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থি ও ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম।

পাপ বা অপরাধের বিভিন্ন ধাপ বা মাত্রা রয়েছে। কিছু পাপ সাময়িক অর্থাৎ যা একবার সংঘটিত হওয়ার পর একবারই পাপ হয়। আবার এমন কিছু পাপ আছে যা একবার করলে তার গুনাহ চলতেই থাকে, যতদিন এ পাপের ধারা চলতে থাকে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজের সূচনা করল; সে তার পাপের অধিকারী হবে এবং ওই কাজের অনুগামীদের পাপের ভাগীদার হবে। (মুসলিম)। সুতরাং ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়াতে কোনো অপরাধমূলক বা গর্হিত বিষয় প্রকাশ করার আগে এ বিষয়টি চিন্তা করে অবশ্যই এর থেকে বিরত থাকা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

লেখক : চেয়ারম্যান, ইসলামিক স্কলার্স ফোরাম বাংলাদেশ

smusmangonee@gmail.com

কুরআনের ব্যাখ্যায় প্রযুক্তি ও মিডিয়া

 শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী 
০২ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সত্য তথ্য সঠিক জ্ঞানের উৎস। মিডিয়া বা মাধ্যম হলো তথ্যের বাহন। প্রযুক্তি হলো মিডিয়া বা বাহনের সহজিকরণ। সত্য জানতে বা সত্যে উপনীত হতে তথ্য অপরিহার্য।

তথ্যপ্রাপ্তির জন্য মিডিয়া অতীব জরুরি উপকরণ। তথ্যের সহজলভ্যতার জন্য প্রযুক্তি খুবই প্রয়োজন। সব নবী ও রাসূলরা (আ.) বিশ্ব মানবতার উন্নয়নে ও সভ্যতার উৎকর্ষ সাধনে যে দাওয়াতি কাজ করেছিলেন, তাতেও তারা সত্য তথ্য প্রচারে সময়োপযোগী মিডিয়া ও প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন।

মিডিয়ার উন্নয়ন ঘটছে প্রতিনিয়ত, প্রযুক্তি উন্নতি চলমান। পরিবর্তনের এ অবিরাম ধারায় যুক্ত হচ্ছে নিত্য-নতুন আবিষ্কার প্রযুক্তি ও মিডিয়ার নানা নতুন সংস্করণ।

আল্লাহতায়ালা কুরআনে কারিমে বলেন, ‘আর তিনি এমন কিছু সৃষ্টি করবেন, যা তোমরা (এখনো) জান না।’ (সূরা-১৬ নাহল, আয়াত : ৮)। ‘এভাবে আল্লাহ যা চান, তা সৃজন করেন।’ (সূরা-৩ আলে ইমরান, আয়াত : ৪৭)। ‘তিনি যা চান, তা সৃজন করেন।’ (সূরা-৫ মায়িদাহ, আয়াত : ১৭)।

‘সৃষ্টি করেন আল্লাহ তিনি যা ইচ্ছা করে।’ (সূরা-২৪ নূর, আয়াত : ৪৫)। ‘আপনার রব যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং মনোনীত করেন।’ (সূরা-২৮ কাছাছ, আয়াত : ২৮)। ‘সৃষ্টি করেন তিনি যা তিনি ইচ্ছা করেন।’ (সূরা-৩০ রুম, আয়াত : ৫৪; সূরা-৩৯ জুমার, আয়াত : ৪; সূরা-৪২ শুআরা, আয়াত : ৪৯)।

প্রত্যেক নব-আবিষ্কৃৃত জিনিসেই থাকে বিভিন্ন সুবিধা ও অসুবিধা। সব সৃষ্টিই আল্লাহতায়ালার নিয়ামত। প্রয়োজন হলো এর যথাযথ প্রয়োগ বা সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

সর্বযুগে সব মিডিয়ার ব্যবহারে প্রথম ও প্রধান যে মৌলিক নৈতিক মূল্যবোধটি সক্রিয়ভাবে কাজে লাগাতে হবে, তা হলো ‘তাকওয়া-পরহেজগারি’ তথা আল্লাহভীতি। মনে রাখতে হবে আমি যা করছি তা কেউ না জানলেও মহান আল্লাহতায়ালা জানেন ও দেখেন।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআন মাজিদে বলেন, ‘আর তিনি তোমাদের সঙ্গেই থাকেন, তোমরা যেখানেই থাক; আর আল্লাহতায়ালা দেখেন, যা তোমরা কর।’ (সূরা-৫৭ হাদিদ, আয়াত : ৪)।

ধর্ম মানুষের কল্যাণের জন্য এবং অকল্যাণ থেকে সুরক্ষার জন্য। ইসলামি বিধান মতে মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য দ্বিবিধ-‘হক্কুল্লাহ’ বা আল্লাহর প্রতি কর্তব্য এবং ‘হক্কুল ইবাদ’ বা বান্দার প্রতি করণীয়। বান্দাহ হলো আল্লাহর সৃষ্টি সব। মানুষের প্রতি মানুষের হক তিনটি। তা হলো সব মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মান হেফাজত করা।

প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) বিদায় হজের ভাষণে বলেছিলেন: ‘এ মক্কা নগরী যেমন সম্মানিত, এ আরাফাতের প্রান্তর যেমন মর্যাদাবান, এ হজের দিবস যেমন ফজিলতপূর্ণ, এ কাবাঘর যেমন পবিত্র; প্রত্যেক মানুষের জান, মাল ও ইজ্জত অনুরূপ সম্মানীয় ও পবিত্র এবং তা অপরের জন্য হারাম ও নিষিদ্ধ। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসির)।

তাই মিডিয়ার ব্যবহারে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। কারণ আল্লাহর হক আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন। কিন্তু বান্দার হক আল্লাহ ক্ষমা করবেন না, যতক্ষণ বান্দা তাকে ক্ষমা না করেন।

ইসলামি বিধানের উদ্দেশ্য তথা মাকাসিদুশ শরিয়া হলো- মানুষের জীবনের সুরক্ষা, সম্পদের সুরক্ষা, জ্ঞানের সুরক্ষা, বংশধারা বা প্রজন্ম সুরক্ষা ও ধর্ম-কর্ম সুরক্ষা। সব কাজে এ বিষয়গুলো লক্ষ রাখা বাঞ্ছনীয়।

রোজ হাশরে বিচারের দিনে প্রথমে যাচাই হবে ইমান বা বিশ্বাসের। তারপর বিচার হবে বান্দার হকের, যা উপরোক্ত তিন পর্যায় জীবন, সম্পদ ও সম্মানের আওতাভুক্ত।

হাদিস শরিফে আছে, এ ধাপে অনেক নেকির অধিকারী ব্যক্তিরা বান্দার হক তার নেকি দিয়ে শোধ দিতে গিয়ে সব নেকি নিঃশেষ হয়ে যাবে এবং তাকে অন্যদের গুনাহের বোঝা নিয়ে জাহান্নামে যেতে হবে। দ্বিতীয় ধাপ উত্তীর্ণ হলেই শেষ পর্বে প্রশ্ন করা হবে আল্লাহর হক সম্পর্কে। যা আল্লাহ চাইলে যাকে ইচ্ছা ক্ষমাও করবেন।

তথ্য আদান-প্রদানের অন্যতম মাধ্যম হলো দেখা ও শোনা (অডিও-ভিডিও)। কোনো কিছু দেখা ও শোনার ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান হলো; যা সরাসরি দেখা বা শোনা জায়েজ বা বৈধ, তা যে কোনো মাধ্যমে দেখা বা শোনা জায়েজ বা বৈধ। আর যা সরাসরি দেখা বা শোনা হারাম বা নিষিদ্ধ, তা যে কোনো মাধ্যমেই দেখা বা শোনা হারাম বা নিষিদ্ধ।

সুতরাং যা জায়েজ বা বৈধ তা আপলোড বা ডাউনলোড করাও জায়েজ বা বৈধ এবং যা হারাম বা নিষিদ্ধ তা আপলোড বা ডাউনলোড করাও হারাম বা নিষিদ্ধ।

ইসলামে মিথ্যাকে সব পাপের জননী বলা হয়েছে। প্রতারক নবীজি (সা.)-এর উম্মত নয় বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গিবত শিকায়াত পরনিন্দাকে কুরআনে আপন মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সমান বলা হয়েছে। তোহমত বা মিথ্যা অপবাদ রটনা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। (সূরা-৪৯ হুজুরাত, আয়াত : ১২)। উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিষয় বা বিবরণ অসম্পূর্ণ রাখা অথবা আংশিক পরিবর্তন করা এবং সত্য-মিথ্যার সংশ্রিণ ও সত্য গোপন করা ইসলামে হারাম।

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা জেনে শুনে সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশিয়ো না, আর সত্যকে গোপন কর না।’ (সূরা-২ বাকারা, আয়াত : ৪২)। ‘কেন তোমরা জেনে শুনে সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশাচ্ছ, আর সত্যকে গোপন করছ?’ (সূরা-৩ আলে ইমরান, আয়াত : ৭১)।

প্রতিনিয়ত আমাদের কাছে যেসব তথ্য আসে; তার সত্যাসত্য যাচাই না করে, এর উৎস বা সূত্রের নির্ভরযোগ্যতা না জেনে, তা কখনো প্রচার বা পুনঃপ্রচার করা ঠিক নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যা শুনে তাই বলতে থাকা, মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যথেষ্ট।’ (বায়হাকি)।

যেসব তথ্য-উপাত্ত দেশ, জাতি, সমাজ ও জনগণের কল্যাণে বা উপকারে আসবে সেসব প্রচার করা বিধেয়। আর যেসব বিষয় বিশৃঙ্খলা ও অশান্তির কারণ হবে তা প্রচার করা অনুচিত।

সঠিক তথ্যের প্রয়োজনে সহায়ক হিসাবে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বিবরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কখনো দেখা যায় কেউ কেউ কোনো ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে বা পরিবর্তন করে অথবা ভিন্ন বিষয় বা বিবরণ সংযোজন করে প্রকাশ বা প্রচার করে থাকেন। যা একেবারেই অনৈতিক, মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থি ও ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম।

পাপ বা অপরাধের বিভিন্ন ধাপ বা মাত্রা রয়েছে। কিছু পাপ সাময়িক অর্থাৎ যা একবার সংঘটিত হওয়ার পর একবারই পাপ হয়। আবার এমন কিছু পাপ আছে যা একবার করলে তার গুনাহ চলতেই থাকে, যতদিন এ পাপের ধারা চলতে থাকে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজের সূচনা করল; সে তার পাপের অধিকারী হবে এবং ওই কাজের অনুগামীদের পাপের ভাগীদার হবে। (মুসলিম)। সুতরাং ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়াতে কোনো অপরাধমূলক বা গর্হিত বিষয় প্রকাশ করার আগে এ বিষয়টি চিন্তা করে অবশ্যই এর থেকে বিরত থাকা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

লেখক : চেয়ারম্যান, ইসলামিক স্কলার্স ফোরাম বাংলাদেশ

smusmangonee@gmail.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন