প্রধানমন্ত্রী ইসলামের ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন

সামীম মোহাম্মদ আফজাল

  এহসান সিরাজ ০৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী ইসলামের ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন

মসজিদের নগরী ঢাকা। এ খ্যাতি দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিয়ে ইসলামী সংস্কৃতির আলোয় দেশকে আলোকিত করতে চান যিনি, তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল। এক দুপুরে দৈনিক যুগান্তরের পক্ষ থেকে তার মুখোমুখি হয়েছেন এহসান সিরাজ

যুগান্তর: ইসলামিক ফাউন্ডেশনে আপনিই একমাত্র জন, যিনি টানা নয় বছর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সম্প্রতি আপনি ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনেরও চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছেন, কেমন লাগছে?

সামীম মো. আফজাল : শুকরিয়া আদায় করছি রাব্বুল আলামিনের কাছে। যিনি আমাকে সম্মানিত করেছেন। কৃতজ্ঞতা জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে। যিনি আমাকে যোগ্য মনে করে এ আসনে বারবার বসিয়েছেন। ধন্যবাদ জানাই ইফার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। যারা আমাকে এ পর্যন্ত আসতে সহযোগিতা করেছেন।

যুগান্তর: ইফায় আপনার উল্লেখযোগ্য কাজ কী কী।

সামীম মো. আফজাল : পুরো বিবরণ দেয়া তো সম্ভব নয়; তবে এটুকু বলা যেতে পারে আমরা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমের সৌন্দর্যবর্ধন ও সম্প্রসারণ, মিনার নির্মাণ, মসজিদের দক্ষিণ আঙ্গিনা সম্প্রসারণ ও সৌন্দর্যবর্ধন, মসজিদের মহিলা নামাজ কক্ষ সম্প্রসারণ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন লাইব্রেরি ভবন নির্মাণ, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমে আলেম-ওলামার কর্মসংস্থান, শিশু গণশিক্ষা ও কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমে মহিলাদের কর্মসংস্থান, কওমি শিক্ষার্থীদের সনদের সরকারি স্বীকৃতির জন্য কমিশন গঠন, ইমাম প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা, ইসলামী পুস্তক প্রকাশনা কার্যক্রম-২য় পর্যায় চালু, ইসলামিক মিশন কেন্দ্রের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দান, মসজিদ পাঠাগার স্থাপন প্রকল্প, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম ডিজিটালে রূপান্তর, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ, আন্তর্জাতিক হিফজ, কিরাত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় সাফল্য, চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উন্নয়ন, চট্টগ্রাম জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ কমপ্লেক্স ইফার অনুকূলে ন্যস্তকরণ, এ ছাড়া পবিত্র রমজান মাসে মসজিদে মসজিদে ব্যাপক কোরআন শিক্ষা প্রদান এবং হলাল সনদ প্রদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য হালাল ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরিসহ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে অনেক কাজ বাস্তবায়ন করেছি।

যুগান্তর : এত বিশাল কর্ম তালিকা থেকে দুটি সেরা কাজ কী বলুন।

সামীম মো. আফজাল : দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ এবং ইফার অধীনে ১০১০টি দারুল আরকাম মাদ্রাসার কার্যক্রম চালু করা। এ দুটি আমার নয়, আমি মনে করি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার অনন্য অবদান। আমি তার সহযোগী মাত্র। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে ইসলাম প্রচার-প্রসারের লক্ষ্যে ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করে যেমন ইতিহাস হয়েছেন; তার সুযোগ্যকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও একই সঙ্গে ১০১০টি দারুল আরকাম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইতিহাসের জায়গা করে নিয়েছেন।

যুগান্তর : দেশে লাখ লাখ মসজিদ থাকতেও কেন এ দিকটায় এত গুরুত্ব দিলেন?

সামীম মো. আফজাল : ইসলাম চির আধুনিক। সাহাবিদের যুগ থেকেই এ অঞ্চলে ইসলামের আগমন। পীর-আউলিয়াদের মাধ্যমে এ দেশের আনাচে-কানাচে ইসলামের শাশ্বত বাণী সম্প্রসারণ হয়েছে। মানুষ সেই আলোয় জীবন গড়েছে। বর্তমান সময়টা হল প্রযুক্তির। এর মাধ্যমে মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এগিয়ে যাচ্ছে এক ভয়ংকর অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে। তারা বুঝতে পারছে না ভালো-মন্দের পার্থক্য। ধর্মের ক্ষেত্রেও তাই। ছেলেমেয়েদের অবাধ মেলামেশা এখন সংস্কৃতির হুমকিস্বরূপ!

বাংলাদেশে প্রায় তিন লাখ মসজিদ রয়েছে। তবে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত দৃষ্টিনন্দন কোনো মসজিদ বা ইসলামী স্থাপনা নেই। এ সব বিবেচনায় রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় ইসলামী মূল্যবোধের উন্নয়ন এবং ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশসহ সর্বস্তরের জনগণের ধর্মীয় ও নৈতিক উন্নয়ন এবং ধর্মের নামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিরসনের লক্ষ্যে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ এবং ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি নয়টি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। খুব শিগগির আরও ১০০টির ভিত্তিপ্রস্তর করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

যুগান্তর : মসজিদগুলোয় কোন ধরনের কার্যক্রম থাকবে?

সামীম মো. আফজাল : মসজিদগুলোয় থাকবে, ই-সেবা, গবেষণা ও অটিজম কর্নার, মিলনায়তন, অতিথি কক্ষ, পাঠাগার, ইমাম প্রশিক্ষণ, উপজেলা পর্যায়ে ৫০ এবং জেলা পর্যায়ে ১০০ মহিলার নামাজের ব্যবস্থাসহ মৃতদেহ গোসল ও জানাজার ব্যবস্থা, গাড়ি পার্কিং, ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসনসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসের ব্যবস্থা। অফিস অংশে মাল্টিপারপাস হল ও দেশি-বিদেশি মেহমানদের আবাসনসহ হজযাত্রীদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে হজ-নিবন্ধনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও থাকবে মক্তব ও হেফজখানা, বই বিক্রয় কেন্দ্রসহ সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিশাল ক্ষেত্র।

যুগান্তর : মাদ্রাসা কেন প্রতিষ্ঠা করা হল?

সামীম মো. আফজাল : প্রথমে বলব, এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক আগ্রহে হয়েছে। পরের কথা হল, বর্তমানে আলিয়া ও কওমি ধারার শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে কাক্সিক্ষত মানের পর্যাপ্ত সংখ্যক আলেম ও বিশেষজ্ঞ তৈরি হচ্ছে না। এ কারণে আরবি ভাষায় কোরআন ও হাদিসের মর্ম বুঝে মানুষের সামনে তুলে ধরার মতো যোগ্য লোকের বড়ই অভাব। আলিয়া মাদ্রাসার পাঠ্যপুস্তকে জামায়াতে ইসলামী ও মওদুদিবাদের চিন্তাধারা এবং দর্শন সুকৌশলে ঢোকানো হয়েছে। সিলেবাস ও কারিকুলাম এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা জামায়াত-মওদুদির চিন্তাধারা ও দর্শন পড়ে সহজেই প্রভাবিত হয়। মাদ্রাসা পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে ইসলামের মর্মবাণী, প্রকৃত শিক্ষা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবতাবাদী, ইলম ও আমলওয়ালা আলেম তথা নায়েবে রসূল তৈরি হওয়ার কথাছিল; কিন্তু সেটি হয়নি। এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদার, মানবতাবাদী, আধ্যাত্মিক, অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মর্মালোকে একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। সেই আলোকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় যেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই সেখানে দারুল আরকাম নামে একটি ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এ বছর সারা দেশে ১০১০টি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

যুগান্তর : প্রতিষ্ঠানগুলোয় পাঠদান করাবেন কারা?

সামীম মো. আফজাল : এখানে জেনারেল, আলিয়া এবং কওমি থেকে পাস করা আলেমরাই পাঠ দেবেন।

যুগান্তর : একটু আগে আপনি বলেছেন, আলিয়া ও কওমি ধারার শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে কাক্সিক্ষত আলেম ও বিশেষজ্ঞ তৈরি হচ্ছে না। এ জন্য দারুল আরকাম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা। প্রশ্ন হল, এখানে যাদের নিয়োগ দিচ্ছেন তারা তো সেই আলিয়া আর কওমি পড়ুয়াই। এতে আপনাদের লক্ষ্য কতটুকু অর্জন হবে?

সামীম মো. আফজাল : হ্যাঁ, তারা আলিয়া বা কওমির। তাদের আমাদের মতো করে গড়ে তোলার জন্য ইফার পক্ষ থেকে চার মাসব্যাপী একটি বিশেষ ট্রনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যুগান্তর : কওমি থেকে পাস করা আলেমরা সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পায় কীভাবে। তাদের তো সনদের সরকারি মান এখনও হয়নি?

সামীম মো. আফজাল : এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি দূরদর্শী চিন্তা। কওমি পাস আলেমরা স্বাধীন দেশে বাস করলেও কোনো সরকারই তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করেনি। দারুল আরকামে তাদের নিয়োগ হয়েছে দুই বছরমেয়াদি চুক্তিতে। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু কওমি শিক্ষার্থীদের সনদের মান ঘোষণা করেছেন তা অবশ্যই বাস্তবায়ন হবে। আর সেটি দুই বছরের মধ্যে হলে তাদের চাকরিও পুরো সরকারি হয়ে যেতে পারে।

যুগান্তর : ধন্যবাদ আপনাকে।

সামীম মো. আফজাল : ধন্যবাদ, যুগান্তর কর্তৃপক্ষ ও এর পাঠকদের।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter