সমাজ সংস্কারে আপনার ভূমিকা কী

  মোহম্মদ ইলিয়াস আলমগীর ০৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সমাজ সংস্কারে আপনার ভূমিকা কী

চায়ের দোকানের বেঞ্চিতে, কাজের ফাঁকে, অফিসের লাঞ্চ আওয়ারে, ধ্যানীদের উন্নত চিন্তাবিষয়ক আলোচনায়, সাধারণ মানুষ কিংবা বুদ্ধিজীবী সর্বত্রই- সমকালীন চটকদার রাজনৈতিক আলোচনার সমান্তরালে যে বিষয়টি বড় জীবন্ত সেটা হল সামাজিক সংস্কার প্রসঙ্গ! এ বিষয়ক আলোচনা প্রতিদিন নতুন নতুন যে অধ্যায় রচনা করে তার একটি ছোট পাতা অনেকটা এমন- নাহ সমাজটা একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে, আর চলে না! জ্ঞানীর কদর নেই, সততার, শিক্ষার মূল্য নেই! এই নেই, ওই নেই! এ সমাজের আমূল সংস্কার সংশোধন দরকার! ইত্যাদি ইত্যাদি।

সমাজ সংস্কারের এই কথা আমরা টকশোতে শুনি, শিক্ষকের লেকচারে শুনি, ধর্মীয় বিদ্বানদের উপদেশে শুনি, সেমিনার-সেম্পোজিয়ামে শুনি, শুনি পাড়ার সবচেয়ে খারাপ লোকটার মুখেও, সবিশেষ সবার কাছেই শুনি।

কিন্তু এই তৎপরতায় সমাজে সংস্কার খুব হালকাভাবেও গৃহীত হয় বলে মনে হয় না। অথচ সবার কাছেই কাক্সিক্ষত এই সংস্কার, এই অবক্ষয়ের সামাজিক সংশোধন! তবু কেন এর আবেদন ও আরশিতে আমরা স্পন্দন খুঁজে পাই না? এই ছোট প্রশ্নটা এখানেই রাখলাম।

এবার আসুন আপনাদের নিয়ে যাই ইসলামী সমাজব্যবস্থায়! আল্লাহ তায়ালা সূরা মায়েদায় বলেছেন, হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের কথা ভাব। সূরা বাকারায় বলেছেন, তোমরা সৎ কাজের আদেশ কর আর নিজেরাই তো ভুলে যাও। দুটো বাণীর সহজ পাঠোদ্ধারে আমরা বুঝি সমাজ সংস্কারের সূচনা হবে ব্যক্তির নিজ অঙ্গন থেকে, নিজের উঠান থেকে, নিজের মন চরিত্র থেকে ব্যক্তি গঠনের মাধ্যমে।

কে না জানে যে ব্যক্তির সামষ্টিক রূপই হচ্ছে সমাজ! সুতরাং ব্যক্তির সংস্কারই সামাজিক সংস্কারের মূল স্তম্ভ! ব্যক্তির নৈতিক সংশোধনই সামাজিক সংশোধন। এখানেই মূলত ইসলামী আদর্শের সঙ্গে আমাদের কাক্সিক্ষত সংস্কারের দূরত্ব! ইসলাম সামাজিক সংস্কার শুরু করে প্রতিটি ব্যক্তির নিজের নৈতিকতা এবং চরিত্র গঠন দিয়ে, আর আমরা সংশোধন শুরু করি অন্যকে দিয়ে!

যে নিজের সংশোধন না করে অন্যকেই দোষারোপ করে তার সম্পর্কে প্রিয় নবীর বাণী, তিনি বলেছেন, যে অন্যের ওপর আপত্তি করে বলবে যে, মানুষ ধ্বংস হয়ে গেছে, সর্বাধিক ধ্বংসিত ব্যক্তি সে নিজে! কি চমৎকার শাসনে ব্যক্তি গঠনের উর্বর চাষ! সমাজ সংস্কার শুরু হবে প্রত্যেকের নিজের আঙিনা থেকে অন্যের প্রতি উন্নাসিকতায় নয়!

ইসলাম ধর্মের এই শাশ্বত শিক্ষাই সাহাবায়ে কেরামকে নিজেদের সংশোধনে সদা তৎপর রাখত! ইসলামের এই ভাষা কি চমৎকারভাবে অনূদিত হয়েছে সাহাবিদের জীবনে! ব্যক্তিগত সংশোধনের তৎপরতায় সাহাবায়ে কেরামের ইতিহাস কি বিস্ময়কর সমৃদ্ধ তার দু’একটা উদাহরণ দিচ্ছি! সাহাবি হজরত হানজাল দৌড়ে রাসূলের দরবারে এসে কাতর কণ্ঠে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ আমি মুনাফিক হয়ে গেছি! রাসূল (স.) বললেন, কিভাবে?

তিনি বললেন, আমি আপনার দরবারে থাকলে আপনার কথা শুনে হৃদয়ে নিজেকে আরও উত্তম করার স্পৃহা জাগে, কিন্তু এখান থেকে চলে গেলে সব আবেগ-উদ্দীপনা চলে যায়! সুবহানাল্লাহ! সরল স্বীকারুক্তিতে নিজেকে সংস্কারের কি তীব্র বাসনা! কী আশ্চর্য দেখুন, ইসলামের এই শিক্ষার বিভায় ওমরের মতো সাহাবিও নিজেকে নিয়ে তটস্থ থাকতেন তিনি মুনাফিক হয়ে যাননি তো! ব্যক্তি গঠনের এমন অবাক করা অসংখ্য দৃষ্টান্তে সজ্জিত ইসলামী ইতিহাস! তাদের এই ব্যক্তিকেন্দ্রিক তৎপরতাই তো সেই যুগকে সোনালি যুগের উপাধি এনে দিয়েছিল! এই হচ্ছে সমাজ সংস্কারের ইসলামী আদর্শ!

লেখক : প্রাবন্ধিক

আরও পড়ুন
pran
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

mans-world

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter