মা-বাবার সেবায় মিলে কবুল হজের সওয়াব
jugantor
মা-বাবার সেবায় মিলে কবুল হজের সওয়াব

  এমএম আরিফুল কাদের  

০৬ আগস্ট ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হজ মুসলিম উম্মাহর ঐক্য-সংহতি ও সাম্যের সসুজ্জ্বল নিদর্শন। ইসলামের অন্যতম স্তম্ভও বটে। প্রত্যেক মুমিনের অন্তরেই পবিত্র কাবার সঙ্গে এক আধ্যাত্মিক সুতায় বাঁধা।

মুসলিম মাত্রই হৃদয়ের মণিকোঠায় লালন করে হজের স্বপ্ন। সম্বলহীন বান্দাদের দয়াবান আল্লাহ এমন এক পথ বের করে দিয়েছেন; যা দ্বারা কবুল হজের সওয়াব পেতে পারেন।

প্রিয়নবী (সা.) আমাদের সে পথ বা আমল বলে দিয়েছেন হাদিসে। আমরা যদি বিশ্বাস এবং সওয়াবের দৃঢ় আশ্বাস নিয়ে এ আমল করতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ অনেক বিরাট প্রতিদানের অধিকারী হতে পারব। আর তা হলো, পিতামাতার সেবা এবং তাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা।

এ সম্পর্কে মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন, ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তার সঙ্গে শরিক করো না এবং পিতামাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো।’ (সূরা নিসা, আয়াত : ৩৬)।

পিতামাতার সব ধরনের সেবা বা সদ্ব্যবহার সন্তানের ওপর ফরজ; যা সব ইবাদতকে হার মানায়। সন্তানের সেবায় পিতামাতা সন্তুষ্ট হলে মহান আল্লাহতায়ালা সন্তানের আমলনামায় হজ, ওমরাহ ও জিহাদের সওয়াব লিখে দেন।

হাদিস শরিফে উল্লেখ আছে, ‘হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন। জনৈক ব্যক্তি নবীজি (সা.)-এর কাছে এসে বলল, আমি জিহাদে অংশগ্রহণ করতে চাই। কিন্তু আমার সেই সামর্থ্য ও সক্ষমতা নেই। নবীজি (সা.) প্রশ্ন করলেন, তোমার পিতামাতার কেউ কি জীবিত আছেন? লোকটি বলল, আমার মা জীবিত। প্রত্যুত্তরে নবীজি (সা.) বললেন, তাহলে মায়ের সেবা করে আল্লাহর কাছে জিহাদে যেতে না পারার অপারগতা বা ওজর পেশ কর। এভাবে যদি করতে পার এবং তোমার মা সন্তুষ্ট থাকেন তাহলে তুমি হজ, ওমরাহ এবং জিহাদের সওয়াব পেয়ে যাবে। সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর এবং মায়ের সেবা কর।’ (মাজমাউয যাওয়াইদ, হাদিস নম্বর-১৩৩৯৯)।

সন্তান নিজের দুঃখে, সুখে, ভালো বা খারাপ সর্বাবস্থায় যদি পিতামাতার দিকে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সন্তুষ্টির নজরে থাকায়, তাহলে সন্তানের আমলনামায় কবুল হজের সওয়াব লিখে দেওয়া হয়। এমনকি সে সন্তান যদি পিতামাতার দিকে ১০০ বারও তাকায়, তার আমলনামায় ১০০ কবুল হজের সওয়াব দেওয়া হবে।

হাদিসে এসেছে, ‘হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, যে সন্তান তার পিতামাতার দিকে সশ্রদ্ধ ও ভালোবাসার নজরে তাকায়, সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহপাক তার আমলনামায় একটি কবুল হজের সওয়াব লিখে দেন।

এ কথা শুনে উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম (রা.) আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! সে যদি ওইভাবে দৈনিক ১০০ বার তাকায় তাহলে কি সে ১০০ কবুল হজের সওয়াব পাবে? উত্তরে বিশ্বনবী (সা.) বললেন হ্যাঁ! যদি দৈনিক ১০০ বারও তাকায়, তাহলে সে সন্তান ১০০ কবুল হজের সওয়াব পাবে।’

(আবুল ঈমান নম্বর-৭৪৭২, মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নম্বর-৪৯৪৪)

মা-বাবার সেবায় মিলে কবুল হজের সওয়াব

 এমএম আরিফুল কাদের 
০৬ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হজ মুসলিম উম্মাহর ঐক্য-সংহতি ও সাম্যের সসুজ্জ্বল নিদর্শন। ইসলামের অন্যতম স্তম্ভও বটে। প্রত্যেক মুমিনের অন্তরেই পবিত্র কাবার সঙ্গে এক আধ্যাত্মিক সুতায় বাঁধা।

মুসলিম মাত্রই হৃদয়ের মণিকোঠায় লালন করে হজের স্বপ্ন। সম্বলহীন বান্দাদের দয়াবান আল্লাহ এমন এক পথ বের করে দিয়েছেন; যা দ্বারা কবুল হজের সওয়াব পেতে পারেন।

প্রিয়নবী (সা.) আমাদের সে পথ বা আমল বলে দিয়েছেন হাদিসে। আমরা যদি বিশ্বাস এবং সওয়াবের দৃঢ় আশ্বাস নিয়ে এ আমল করতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ অনেক বিরাট প্রতিদানের অধিকারী হতে পারব। আর তা হলো, পিতামাতার সেবা এবং তাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা।

এ সম্পর্কে মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন, ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তার সঙ্গে শরিক করো না এবং পিতামাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো।’ (সূরা নিসা, আয়াত : ৩৬)।

পিতামাতার সব ধরনের সেবা বা সদ্ব্যবহার সন্তানের ওপর ফরজ; যা সব ইবাদতকে হার মানায়। সন্তানের সেবায় পিতামাতা সন্তুষ্ট হলে মহান আল্লাহতায়ালা সন্তানের আমলনামায় হজ, ওমরাহ ও জিহাদের সওয়াব লিখে দেন।

হাদিস শরিফে উল্লেখ আছে, ‘হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন। জনৈক ব্যক্তি নবীজি (সা.)-এর কাছে এসে বলল, আমি জিহাদে অংশগ্রহণ করতে চাই। কিন্তু আমার সেই সামর্থ্য ও সক্ষমতা নেই। নবীজি (সা.) প্রশ্ন করলেন, তোমার পিতামাতার কেউ কি জীবিত আছেন? লোকটি বলল, আমার মা জীবিত। প্রত্যুত্তরে নবীজি (সা.) বললেন, তাহলে মায়ের সেবা করে আল্লাহর কাছে জিহাদে যেতে না পারার অপারগতা বা ওজর পেশ কর। এভাবে যদি করতে পার এবং তোমার মা সন্তুষ্ট থাকেন তাহলে তুমি হজ, ওমরাহ এবং জিহাদের সওয়াব পেয়ে যাবে। সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর এবং মায়ের সেবা কর।’ (মাজমাউয যাওয়াইদ, হাদিস নম্বর-১৩৩৯৯)।

সন্তান নিজের দুঃখে, সুখে, ভালো বা খারাপ সর্বাবস্থায় যদি পিতামাতার দিকে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সন্তুষ্টির নজরে থাকায়, তাহলে সন্তানের আমলনামায় কবুল হজের সওয়াব লিখে দেওয়া হয়। এমনকি সে সন্তান যদি পিতামাতার দিকে ১০০ বারও তাকায়, তার আমলনামায় ১০০ কবুল হজের সওয়াব দেওয়া হবে।

হাদিসে এসেছে, ‘হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, যে সন্তান তার পিতামাতার দিকে সশ্রদ্ধ ও ভালোবাসার নজরে তাকায়, সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহপাক তার আমলনামায় একটি কবুল হজের সওয়াব লিখে দেন।

এ কথা শুনে উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম (রা.) আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! সে যদি ওইভাবে দৈনিক ১০০ বার তাকায় তাহলে কি সে ১০০ কবুল হজের সওয়াব পাবে? উত্তরে বিশ্বনবী (সা.) বললেন হ্যাঁ! যদি দৈনিক ১০০ বারও তাকায়, তাহলে সে সন্তান ১০০ কবুল হজের সওয়াব পাবে।’

(আবুল ঈমান নম্বর-৭৪৭২, মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নম্বর-৪৯৪৪)

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন