হোসাইনি দুনিয়ায় শোকের মাতম
jugantor
হোসাইনি দুনিয়ায় শোকের মাতম
এলো আশুরা এলো মহররম

  মাহমুদ আহমদ  

১৩ আগস্ট ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বময় মহামারি করোনাকাল চলছে। যার ফলে গোটাবিশ্ব এক কঠিন সময় পার করছে। করোনাকালীন এ দিনগুলোয় ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের ক্ষেত্রেও এসেছে পরিবর্তন।

বর্তমানে আমরা পবিত্র মহররম মাস অতিবাহিত করছি। এ মাসেই নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল ন্যায়ের মূর্ত প্রতীক হজরত ইমাম হোসাইনকে (রা.)। মহানবী (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র, হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে চক্রান্তকারী ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে এই পবিত্র মহররম মাসের ১০ তারিখে নির্মমভাবে কারবালার প্রান্তরে শাহাদাতবরণ করেন।

যে শাহাদাতের ঘটনা শুনে গা শিউরে ওঠে। এ পাষাণরা এক মুহূর্তের জন্যও সেদিন চিন্তা করল না যে, কাকে আমরা খড়গাঘাত করতে যাচ্ছি। মহানবী (সা.) সেসব কুপ্রথা এবং সামাজিক রীতি-নীতিকে মেটাতে এসেছেন যার কারণে মানবিক মূল্যবোধ পদদলিত হয়।

তিনি (সা.) কাফেরদের প্রতিও মার্জনা ও ক্ষমার নির্দেশ দিয়েছেন কিন্তু খোদার এই প্রিয় রাসূলের অত্যন্ত আদরের দৌহিত্র যার জন্য তিনি আল্লাহর কাছে এ দোয়া করতেন, হে আল্লাহ আমি একে ভালোবাসি তুমিও তাকে ভালোবাস। এরপর তিনি (সা.)-এও বলেছেন, যে আমার এই দৌহিত্রকে ভালোবাসে সে আমাকে ভালোবাসবে, যে আমাকে ভালোবাসে সে আসলে আল্লাহ পাককে ভালোবাসে, আর আল্লাহকে ভালোবাসার ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

মহররম মাসকে কেন্দ্র করে শিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারীরা এক থেকে ১০ মহররম বিভিন্নভাবে শোক প্রকাশ করে থাকে। বিশেষ করে ১০ মহররম তাজিয়া মিছিল বের করে। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে গত বছর সীমিত পরিসরে দালানের ভেতরে এ আয়োজন করেছিল। ঢাকার হোসেনি দালানের ইমামবাড়ার কর্তৃপক্ষ জানান, এ বছরও হয়তো স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরেই তাজিয়া মিছিলের আয়োজন করা হবে।

করোনা পরিস্থিতিতে মহররম মাসের বিভিন্ন আয়োজন নিয়ে ঢাকার হোসেনি দালানের ইমামবাড়ায় সরাসরি গিয়ে জানার চেষ্টা করি। যেই হোসেনি দালানের ইমাম বাড়ায় এ সময় ‘হায় হোসেন-হায় হোসেন ধ্বনিতে’ হাজারো মানুষের ভিড় থাকে কিন্তু এখন অনেকটাই ফাঁকা।

কথা হয় হোসেনি দালানের ইমামবাড়া সভাপতি মির্জা মোহাম্মদ ফিরোজের সঙ্গে। তিনি বলেন, করোনাকালীন আমরা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছি। করোনা পরিস্থিতির কারণে আমরা গত বছরও তাজিয়া মিছিল বের করিনি, সীমিত পরিসরে দালানের ভেতর করেছি। এবারও হয়তো তেমনি করতে হবে।

ইমামবাড়ার খাদেম সৈয়দ সালিম আলির সঙ্গে কথা বলি। তিনি তার হৃদয়ের ব্যথা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছরও আমরা আমাদের তাজিয়া মিছিল করতে পারিনি। এ বছরও হয়তো তা সম্ভব হবে না। এতে আমাদের হৃদয় ক্ষতবিক্ষত। আমাদের প্রার্থনা, উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে যেন আমরা মুক্তি পাই।

কথা হয় মওলানা মোহাম্মদ ইকবালের সঙ্গে, যিনি মহররমের ১-১০ তারিখ ইমামবাড়ায় কুরআন তিলাওয়াত করেন। তিনি বলেন, মহররম মাসের ৮, ৯ এবং ১০ তারিখ প্রত্যেক দিন একটি করে তাজিয়া মিছিল বের হয় কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে হয়তো তা এবারও সম্ভব হবে না। হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর প্রতি আমাদের যে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা তার বহিঃপ্রকাশ অনেকটাই করোনার কারণে আমাদের করা সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে আমাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত।

ইমাম হোসাইনের শাহাদাত স্মরণে শিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারীরা এ মহররম মাস বিশেষ ইবাদতে রত থেকে অতিবাহিত করে। এ মহররম মাস শুধু শিয়া সম্প্রদায়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয় বরং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ১০ মহররমের দিন প্রকৃত ইসলাম ও সত্যের জন্য হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) ইয়াজিদ বাহিনীর কাছে মাথানত না করে যুদ্ধ করে শাহাদাতবরণ করেছিলেন।

তিনি সেদিন ন্যায় ও সত্যের জন্য চরম আত্মত্যাগের যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা অনুকরণীয়। ধর্মের জন্য তার যে ত্যাগ তা আমাদের অনুসরণ করতে হবে। নিঃসন্দেহে আমরা বলতে পারি হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) ইসলামে একক নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য নিজ দেহের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত দান করে গেছেন, যুগ যুগ ধরে তার এ ত্যাগ মুসলিম উম্মাহকে এক ইমামের ছত্রছায়ায় জীবন অতিবাহিত করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

ইমাম হোসাইন (রা.) শান্তি চেয়েছিলেন, তিনি ইয়াজিদের প্রতিনিধিদের এ কথাও বলেছিলেন, আমি যুদ্ধ চাই না, আমাকে যেতে দাও, আমি গিয়ে আল্লাহর ইবাদত করতে চাই বা কোনো সীমান্তে আমাকে পাঠিয়ে দাও যেন ইসলামের জন্য যুদ্ধ করতে করতে আমি শাহাদাতবরণ করতে পারি।

কিন্তু ইয়াজিদ বাহিনী তা গ্রহণ করেনি। আল্লাহতায়ালারও প্রতিশোধ নেওয়ার নিজস্ব রীতি আছে যেভাবে হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) নিজেই বলেছিলেন, আল্লাহতায়ালা আমার হত্যার প্রতিশোধ নেবেন আর আল্লাহ প্রতিশোধ নিয়েছেনও। হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর জীবনের একটি উদ্দেশ্য ছিল।

তিনি কখনো রাষ্ট্র ক্ষমতা অর্জনের লোভ রাখতেন না, তিনি সত্য প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। যে ন্যায়ের জন্য ইমাম হোসাইন দণ্ডায়মান হয়েছিলেন অর্থাৎ খেলাফতের নির্বাচনের অধিকার রাষ্ট্রবাসীর ও সব মুসলমানের। কোনো ছেলে পিতাকে উত্তরাধিকার সূত্রে এ অধিকার দিতে পারে না।

তিনি বলেন, এই নীতি আজও সেভাবেই পবিত্র যেভাবে আগে পবিত্র ছিল। তার শাহাদাত এ অধিকারকে আরও স্পষ্ট করেছে। তার ত্যাগ, কুরবানি আমাদের জন্য অনেক শিক্ষা রেখে গেছে। তাই অশান্ত বিশ্বকে শান্তিময় করার জন্য আবারও সত্য ইমাম হোসাইনের মতো নেতার খুবই প্রয়োজন।

লেখক : ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট

masumon83@yahoo.com

হোসাইনি দুনিয়ায় শোকের মাতম

এলো আশুরা এলো মহররম
 মাহমুদ আহমদ 
১৩ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বময় মহামারি করোনাকাল চলছে। যার ফলে গোটাবিশ্ব এক কঠিন সময় পার করছে। করোনাকালীন এ দিনগুলোয় ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের ক্ষেত্রেও এসেছে পরিবর্তন।

বর্তমানে আমরা পবিত্র মহররম মাস অতিবাহিত করছি। এ মাসেই নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল ন্যায়ের মূর্ত প্রতীক হজরত ইমাম হোসাইনকে (রা.)। মহানবী (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র, হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে চক্রান্তকারী ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে এই পবিত্র মহররম মাসের ১০ তারিখে নির্মমভাবে কারবালার প্রান্তরে শাহাদাতবরণ করেন।

যে শাহাদাতের ঘটনা শুনে গা শিউরে ওঠে। এ পাষাণরা এক মুহূর্তের জন্যও সেদিন চিন্তা করল না যে, কাকে আমরা খড়গাঘাত করতে যাচ্ছি। মহানবী (সা.) সেসব কুপ্রথা এবং সামাজিক রীতি-নীতিকে মেটাতে এসেছেন যার কারণে মানবিক মূল্যবোধ পদদলিত হয়।

তিনি (সা.) কাফেরদের প্রতিও মার্জনা ও ক্ষমার নির্দেশ দিয়েছেন কিন্তু খোদার এই প্রিয় রাসূলের অত্যন্ত আদরের দৌহিত্র যার জন্য তিনি আল্লাহর কাছে এ দোয়া করতেন, হে আল্লাহ আমি একে ভালোবাসি তুমিও তাকে ভালোবাস। এরপর তিনি (সা.)-এও বলেছেন, যে আমার এই দৌহিত্রকে ভালোবাসে সে আমাকে ভালোবাসবে, যে আমাকে ভালোবাসে সে আসলে আল্লাহ পাককে ভালোবাসে, আর আল্লাহকে ভালোবাসার ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

মহররম মাসকে কেন্দ্র করে শিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারীরা এক থেকে ১০ মহররম বিভিন্নভাবে শোক প্রকাশ করে থাকে। বিশেষ করে ১০ মহররম তাজিয়া মিছিল বের করে। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে গত বছর সীমিত পরিসরে দালানের ভেতরে এ আয়োজন করেছিল। ঢাকার হোসেনি দালানের ইমামবাড়ার কর্তৃপক্ষ জানান, এ বছরও হয়তো স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরেই তাজিয়া মিছিলের আয়োজন করা হবে।

করোনা পরিস্থিতিতে মহররম মাসের বিভিন্ন আয়োজন নিয়ে ঢাকার হোসেনি দালানের ইমামবাড়ায় সরাসরি গিয়ে জানার চেষ্টা করি। যেই হোসেনি দালানের ইমাম বাড়ায় এ সময় ‘হায় হোসেন-হায় হোসেন ধ্বনিতে’ হাজারো মানুষের ভিড় থাকে কিন্তু এখন অনেকটাই ফাঁকা।

কথা হয় হোসেনি দালানের ইমামবাড়া সভাপতি মির্জা মোহাম্মদ ফিরোজের সঙ্গে। তিনি বলেন, করোনাকালীন আমরা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছি। করোনা পরিস্থিতির কারণে আমরা গত বছরও তাজিয়া মিছিল বের করিনি, সীমিত পরিসরে দালানের ভেতর করেছি। এবারও হয়তো তেমনি করতে হবে।

ইমামবাড়ার খাদেম সৈয়দ সালিম আলির সঙ্গে কথা বলি। তিনি তার হৃদয়ের ব্যথা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছরও আমরা আমাদের তাজিয়া মিছিল করতে পারিনি। এ বছরও হয়তো তা সম্ভব হবে না। এতে আমাদের হৃদয় ক্ষতবিক্ষত। আমাদের প্রার্থনা, উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে যেন আমরা মুক্তি পাই।

কথা হয় মওলানা মোহাম্মদ ইকবালের সঙ্গে, যিনি মহররমের ১-১০ তারিখ ইমামবাড়ায় কুরআন তিলাওয়াত করেন। তিনি বলেন, মহররম মাসের ৮, ৯ এবং ১০ তারিখ প্রত্যেক দিন একটি করে তাজিয়া মিছিল বের হয় কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে হয়তো তা এবারও সম্ভব হবে না। হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর প্রতি আমাদের যে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা তার বহিঃপ্রকাশ অনেকটাই করোনার কারণে আমাদের করা সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে আমাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত।

ইমাম হোসাইনের শাহাদাত স্মরণে শিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারীরা এ মহররম মাস বিশেষ ইবাদতে রত থেকে অতিবাহিত করে। এ মহররম মাস শুধু শিয়া সম্প্রদায়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয় বরং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ১০ মহররমের দিন প্রকৃত ইসলাম ও সত্যের জন্য হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) ইয়াজিদ বাহিনীর কাছে মাথানত না করে যুদ্ধ করে শাহাদাতবরণ করেছিলেন।

তিনি সেদিন ন্যায় ও সত্যের জন্য চরম আত্মত্যাগের যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা অনুকরণীয়। ধর্মের জন্য তার যে ত্যাগ তা আমাদের অনুসরণ করতে হবে। নিঃসন্দেহে আমরা বলতে পারি হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) ইসলামে একক নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য নিজ দেহের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত দান করে গেছেন, যুগ যুগ ধরে তার এ ত্যাগ মুসলিম উম্মাহকে এক ইমামের ছত্রছায়ায় জীবন অতিবাহিত করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

ইমাম হোসাইন (রা.) শান্তি চেয়েছিলেন, তিনি ইয়াজিদের প্রতিনিধিদের এ কথাও বলেছিলেন, আমি যুদ্ধ চাই না, আমাকে যেতে দাও, আমি গিয়ে আল্লাহর ইবাদত করতে চাই বা কোনো সীমান্তে আমাকে পাঠিয়ে দাও যেন ইসলামের জন্য যুদ্ধ করতে করতে আমি শাহাদাতবরণ করতে পারি।

কিন্তু ইয়াজিদ বাহিনী তা গ্রহণ করেনি। আল্লাহতায়ালারও প্রতিশোধ নেওয়ার নিজস্ব রীতি আছে যেভাবে হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) নিজেই বলেছিলেন, আল্লাহতায়ালা আমার হত্যার প্রতিশোধ নেবেন আর আল্লাহ প্রতিশোধ নিয়েছেনও। হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর জীবনের একটি উদ্দেশ্য ছিল।

তিনি কখনো রাষ্ট্র ক্ষমতা অর্জনের লোভ রাখতেন না, তিনি সত্য প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। যে ন্যায়ের জন্য ইমাম হোসাইন দণ্ডায়মান হয়েছিলেন অর্থাৎ খেলাফতের নির্বাচনের অধিকার রাষ্ট্রবাসীর ও সব মুসলমানের। কোনো ছেলে পিতাকে উত্তরাধিকার সূত্রে এ অধিকার দিতে পারে না।

তিনি বলেন, এই নীতি আজও সেভাবেই পবিত্র যেভাবে আগে পবিত্র ছিল। তার শাহাদাত এ অধিকারকে আরও স্পষ্ট করেছে। তার ত্যাগ, কুরবানি আমাদের জন্য অনেক শিক্ষা রেখে গেছে। তাই অশান্ত বিশ্বকে শান্তিময় করার জন্য আবারও সত্য ইমাম হোসাইনের মতো নেতার খুবই প্রয়োজন।

লেখক : ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট

masumon83@yahoo.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন