বঙ্গবন্ধুর ধর্মপ্রেম
jugantor
বঙ্গবন্ধুর ধর্মপ্রেম

  আমিনুল ইসলাম হুসাইনী  

১৩ আগস্ট ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শেখ মুজিব একটি নাম, একটি ইতিহাস। যে ইতিহাস বাঙালিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। শিখিয়েছে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে। বঙ্গবন্ধু শুধু রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বের গুণেই বলিয়ান ছিলেন না, ছিলেন একজন যুগশ্রেষ্ঠ ইসলামি নেতাও।

শেখ মুজিব একটি নাম, একটি ইতিহাস। যে ইতিহাস বাঙালিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। শিখিয়েছে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে। বঙ্গবন্ধু শুধু রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বের গুণেই বলিয়ান ছিলেন না, ছিলেন একজন যুগশ্রেষ্ঠ ইসলামি নেতাও।

বাংলাদেশে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশ ও নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক বিনির্মাণে তিনি যে অসামান্য অবদান রেখেছেন, তা বিরল। তিনি যেমন ইসলামি গবেষণা সংস্থা হিসাবে ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন, তেমনি পুনর্গঠিত করেন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।

বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে পবিত্র কুরআনের তিলাওয়াত এবং বাংলা তরজমা প্রচারের উদ্যোগও করা হয় তারই নির্দেশনায়। শুধু কি তাই? হজযাত্রীদের জন্য ‘ভ্রমণকর’ রহিত করা, তাবলিগ জামাতের কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় কাকরাইল মসজিদের জন্য অতিরিক্ত জমি বরাদ্দ দেওয়া, বিশ্ব ইজতেমা সুন্দর ও সফলভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য টঙ্গীতে আলাদা স্থানও নির্ধারণ করে দিয়েছেন ইসলামপ্রিয় এই মহান মানুষটি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ওরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বঙ্গবন্ধুর নামটিও ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। এমনকি বঙ্গবন্ধুর লাশের প্রতিও দেখিয়েছে অমানবিক আচরণ।

ঘাতকরা সেদিন বঙ্গবন্ধুর লাশের সঙ্গে অসৌজন্যতা দেখিয়ে হয়তো ভেবেছিল, তারা সফল হয়েছে। কিন্তু আল্লাহ যাকে সম্মানিত করেন, তাকে অপমানিত করবে সাধ্য কার? পবিত্র কুরআনে তো বলাই আছে, আল্লাহ ‘যাকে ইচ্ছা সম্মান দান করেন, আর যাকে ইচ্ছা অপমান করেন।’ (সূরা আল ইমরান, আয়াত : ২৬)।

সেদিন যারা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে ভেবেছিল, বাংলাদেশের মানুষের মন থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলেছে, তাদের সেই ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণিত করে আল্লাহতায়ালা বঙ্গবন্ধুর নামকে আজ পুরো বিশ্বে সূর্যের মতো আলোকিত করে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু আজ পুরো পৃথিবীতে স্বীকৃত, সমাদৃত।

সেদিন যারা বাংলার মানুষকে বঙ্গবন্ধুর জানাজায় অংশগ্রহণ করতে দেয়নি, আজ তারা এবং তাদের উত্তরসূরিরা বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করছে, দোয়া মাহফিলে হাত তুলে মোনাজাত করছে। আসলে এই বাধ্য হওয়াটাই আল্লাহর ফয়সালা। কারণ বঙ্গবন্ধু ছিলেন ইসলামের জন্য নিবেদিত প্রাণ। ন্যায়পরায়ণ শাসক। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘কুরআনের ধারক-বাহক ও ন্যায়পরায়ণ শাসকের প্রতি সম্মান দেখানো মহান আল্লাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৪৩)।

বঙ্গবন্ধুর ধর্মময় জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, তাকে স্নেহের ছায়ায় আগলে রেখেছেন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ, আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী (রহ.)-এর মতো সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম ওলামারা।

সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করার কথা শুনে মওলানা ভাসানী সেদিন কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, ‘সব শেষ হয়ে গেল, সব শেষ হয়ে গেল’। তিনি সেদিন এতটাই কষ্ট পেয়েছিলেন যে, ওইদিন মুখে কোনো খাবারই তুলতে পারেননি।

বঙ্গবন্ধুর গায়ের কালো কোটের ইতিহাস কে না জানে? আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী (রহ.) নিজ গা থেকে কোটটি খুলে বঙ্গবন্ধুকে দিয়ে বলেছিলেন, ‘গায়ে দাও তো নাতি, দেখি তোমাকে কেমন লাগে?’ কোট পরার পর তিনি বঙ্গবন্ধুকে বললেন, ‘দারুণ লাগছে তো নেতাকে। এখন তোমাকে সত্যিকারের জাতীয় নেতা মনে হচ্ছে।’ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল, বড় হয়ে তিনি মাওলানা তর্কবাগীশ হবেন। আদর্শ নেতা হিসাবে তর্কবাগীশের ছবি যে তার হৃদয়পটে আঁকা হয়েছিল।

লেখক: ইমাম ও খতিব, কসবা জামে মসজিদ। কসবা, বি-বাড়িয়া।

Email: aminulislamhossaini15@gmail.com

বঙ্গবন্ধুর ধর্মপ্রেম

 আমিনুল ইসলাম হুসাইনী 
১৩ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
শেখ মুজিব একটি নাম, একটি ইতিহাস। যে ইতিহাস বাঙালিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। শিখিয়েছে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে। বঙ্গবন্ধু শুধু রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বের গুণেই বলিয়ান ছিলেন না, ছিলেন একজন যুগশ্রেষ্ঠ ইসলামি নেতাও।
ছবি: সংগৃহীত

শেখ মুজিব একটি নাম, একটি ইতিহাস। যে ইতিহাস বাঙালিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। শিখিয়েছে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে। বঙ্গবন্ধু শুধু রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বের গুণেই বলিয়ান ছিলেন না, ছিলেন একজন যুগশ্রেষ্ঠ ইসলামি নেতাও।

বাংলাদেশে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশ ও নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক বিনির্মাণে তিনি যে অসামান্য অবদান রেখেছেন, তা বিরল। তিনি যেমন ইসলামি গবেষণা সংস্থা হিসাবে ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন, তেমনি পুনর্গঠিত করেন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।

বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে পবিত্র কুরআনের তিলাওয়াত এবং বাংলা তরজমা প্রচারের উদ্যোগও করা হয় তারই নির্দেশনায়। শুধু কি তাই? হজযাত্রীদের জন্য ‘ভ্রমণকর’ রহিত করা, তাবলিগ জামাতের কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় কাকরাইল মসজিদের জন্য অতিরিক্ত জমি বরাদ্দ দেওয়া, বিশ্ব ইজতেমা সুন্দর ও সফলভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য টঙ্গীতে আলাদা স্থানও নির্ধারণ করে দিয়েছেন ইসলামপ্রিয় এই মহান মানুষটি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ওরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বঙ্গবন্ধুর নামটিও ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। এমনকি বঙ্গবন্ধুর লাশের প্রতিও দেখিয়েছে অমানবিক আচরণ।

ঘাতকরা সেদিন বঙ্গবন্ধুর লাশের সঙ্গে অসৌজন্যতা দেখিয়ে হয়তো ভেবেছিল, তারা সফল হয়েছে। কিন্তু আল্লাহ যাকে সম্মানিত করেন, তাকে অপমানিত করবে সাধ্য কার? পবিত্র কুরআনে তো বলাই আছে, আল্লাহ ‘যাকে ইচ্ছা সম্মান দান করেন, আর যাকে ইচ্ছা অপমান করেন।’ (সূরা আল ইমরান, আয়াত : ২৬)।

সেদিন যারা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে ভেবেছিল, বাংলাদেশের মানুষের মন থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলেছে, তাদের সেই ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণিত করে আল্লাহতায়ালা বঙ্গবন্ধুর নামকে আজ পুরো বিশ্বে সূর্যের মতো আলোকিত করে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু আজ পুরো পৃথিবীতে স্বীকৃত, সমাদৃত।

সেদিন যারা বাংলার মানুষকে বঙ্গবন্ধুর জানাজায় অংশগ্রহণ করতে দেয়নি, আজ তারা এবং তাদের উত্তরসূরিরা বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করছে, দোয়া মাহফিলে হাত তুলে মোনাজাত করছে। আসলে এই বাধ্য হওয়াটাই আল্লাহর ফয়সালা। কারণ বঙ্গবন্ধু ছিলেন ইসলামের জন্য নিবেদিত প্রাণ। ন্যায়পরায়ণ শাসক। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘কুরআনের ধারক-বাহক ও ন্যায়পরায়ণ শাসকের প্রতি সম্মান দেখানো মহান আল্লাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৪৩)।

বঙ্গবন্ধুর ধর্মময় জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, তাকে স্নেহের ছায়ায় আগলে রেখেছেন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ, আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী (রহ.)-এর মতো সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম ওলামারা।

সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করার কথা শুনে মওলানা ভাসানী সেদিন কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, ‘সব শেষ হয়ে গেল, সব শেষ হয়ে গেল’। তিনি সেদিন এতটাই কষ্ট পেয়েছিলেন যে, ওইদিন মুখে কোনো খাবারই তুলতে পারেননি।

বঙ্গবন্ধুর গায়ের কালো কোটের ইতিহাস কে না জানে? আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী (রহ.) নিজ গা থেকে কোটটি খুলে বঙ্গবন্ধুকে দিয়ে বলেছিলেন, ‘গায়ে দাও তো নাতি, দেখি তোমাকে কেমন লাগে?’ কোট পরার পর তিনি বঙ্গবন্ধুকে বললেন, ‘দারুণ লাগছে তো নেতাকে। এখন তোমাকে সত্যিকারের জাতীয় নেতা মনে হচ্ছে।’ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল, বড় হয়ে তিনি মাওলানা তর্কবাগীশ হবেন। আদর্শ নেতা হিসাবে তর্কবাগীশের ছবি যে তার হৃদয়পটে আঁকা হয়েছিল।

লেখক: ইমাম ও খতিব, কসবা জামে মসজিদ। কসবা, বি-বাড়িয়া।

Email: aminulislamhossaini15@gmail.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : অশ্রুঝরা আগস্ট