আত্মা পরিশুদ্ধ হয় বিশুদ্ধ তাওবায়
jugantor
আত্মা পরিশুদ্ধ হয় বিশুদ্ধ তাওবায়

  মাসুম আলভী  

১৩ আগস্ট ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মন খারাপ হলে বিনোদনে মত্ত হই; ঘুরে বেড়াই সবুজের সমারোহে। খিদে পেলে কাজ ফেলে খাবার খুঁজি। লেখা শেষ করে বারবার পড়ি; নানা বিশেষণের রঙে বাক্য সাজাই।

রূপচর্চার জন্য পার্লারে যাই; অসুস্থ হলে চিকিৎসাকেন্দ্রে ছুটি। কিন্তু কখনো কি চিন্তা করেছি, আত্মার সম্পাদনার কথা। যখন পাপের সাগরগর্ভে ডুবেছি তখন কি ভেবেছি, আত্মার সম্পাদনা করে সুনির্মল মানুষ হব।

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তবে যে তাওবা করে, ইমান আনে ও সৎকাজ করে, ফলে আল্লাহ তাদের গুনাহগুলো নেক দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।’ (সূরা ফুরকান, আয়াত ৭০)।

শিরক-কুফর, বিদআত, হিংসা-বিদ্বেষ, প্রবৃত্তির অনুসরণ, অহংকার, প্রদর্শনেচ্ছা, পর্দাহীন হয়ে দেহসজ্জা, সম্মান পাওয়ার আগ্রহ, অকারণে মানসিক ব্যস্ততা, অহেতুক রাগারাগি করা, অল্পতে অধৈর্য হওয়া, মানুষের সঙ্গে অসুন্দর আচরণ করা, মানুষের প্রতি কুধারণা, প্রচলিত কুসংস্কার, অকৃতজ্ঞতা, লোভ, অবৈধ উপার্জন, কৃপণতা, অপব্যয়, পরনিন্দা, চোগলখোরি, ঝগড়া, বান্দার হক নষ্ট করা-এ ছাড়া যেসব কাজে আত্মাকে কলুষিত করে, সেগুলো হলো আত্মার রোগ।

এসব কাজ পরিহার করলে আত্মা হয় রোগমুক্ত এবং সবচেয়ে বেশি খুশি হন আল্লাহতায়ালা। আনাস বিন মালেক আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া উট খুঁজে পেয়ে যতটা খুশি হয়, নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর বান্দার তাওবাতে এর চেয়েও বেশি খুশি হন।’ (বুখারি ও মুসলিম)।

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিঃসন্দেহে সে সফলকাম হয়েছে, যে তাকে পরিশুদ্ধ করেছে।’ (সূরা শামস, আয়াত ৯)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জেনে রাখ, দেহের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে; যদি তা সংশোধিত হয়, তবে পুরো দেহই সংশোধিত হয় আর যদি তা নষ্ট হয়, তবে পুরো দেহই নষ্ট হয়। জেনে রাখ, তা অন্তঃকরণ।’ (বুখারি, আস-সহিহ ১/২৮)।

মুমিনের আত্মা দুঃখ-কষ্ট, আনন্দ, বিপদে, দুশ্চিন্তায় হতাশার কালোছায়া নেমে আসতে দেয় না। পাপের কাজ, মানুষের অমঙ্গল নিয়ে আসে এমন কাজ করতে গেলে আল্লাহর ভয়ে হৃদয় আড়ষ্ট হয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তুমি তোমার রবের কাছে ফিরে আস সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে, অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও, আর আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।’ (সূরা ফজর, আয়াত ২৮-৩০)।

কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ, আকাঙ্ক্ষা ও অনুভূতিকে সংযত রাখে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে লোকসকল! তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের কাছ থেকে এসেছে উপদেশ ও অন্তরসমূহে যা আছে তার আরোগ্য এবং মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত।’ (সূরা ইউনূস, আয়াত ৫৭)।

রাসূল (সা.) ও সাহাবিদের দেখানো পথই একমাত্র আত্মশুদ্ধি অর্জনের মাধ্যম। হে আল্লাহ, আমাদের মুমিন এবং প্রশান্ত আত্মার অধিকারী বান্দা হিসাবে কবুল করুন। আমিন

লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক

আত্মা পরিশুদ্ধ হয় বিশুদ্ধ তাওবায়

 মাসুম আলভী 
১৩ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মন খারাপ হলে বিনোদনে মত্ত হই; ঘুরে বেড়াই সবুজের সমারোহে। খিদে পেলে কাজ ফেলে খাবার খুঁজি। লেখা শেষ করে বারবার পড়ি; নানা বিশেষণের রঙে বাক্য সাজাই।

রূপচর্চার জন্য পার্লারে যাই; অসুস্থ হলে চিকিৎসাকেন্দ্রে ছুটি। কিন্তু কখনো কি চিন্তা করেছি, আত্মার সম্পাদনার কথা। যখন পাপের সাগরগর্ভে ডুবেছি তখন কি ভেবেছি, আত্মার সম্পাদনা করে সুনির্মল মানুষ হব।

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তবে যে তাওবা করে, ইমান আনে ও সৎকাজ করে, ফলে আল্লাহ তাদের গুনাহগুলো নেক দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।’ (সূরা ফুরকান, আয়াত ৭০)।

শিরক-কুফর, বিদআত, হিংসা-বিদ্বেষ, প্রবৃত্তির অনুসরণ, অহংকার, প্রদর্শনেচ্ছা, পর্দাহীন হয়ে দেহসজ্জা, সম্মান পাওয়ার আগ্রহ, অকারণে মানসিক ব্যস্ততা, অহেতুক রাগারাগি করা, অল্পতে অধৈর্য হওয়া, মানুষের সঙ্গে অসুন্দর আচরণ করা, মানুষের প্রতি কুধারণা, প্রচলিত কুসংস্কার, অকৃতজ্ঞতা, লোভ, অবৈধ উপার্জন, কৃপণতা, অপব্যয়, পরনিন্দা, চোগলখোরি, ঝগড়া, বান্দার হক নষ্ট করা-এ ছাড়া যেসব কাজে আত্মাকে কলুষিত করে, সেগুলো হলো আত্মার রোগ।

এসব কাজ পরিহার করলে আত্মা হয় রোগমুক্ত এবং সবচেয়ে বেশি খুশি হন আল্লাহতায়ালা। আনাস বিন মালেক আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া উট খুঁজে পেয়ে যতটা খুশি হয়, নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর বান্দার তাওবাতে এর চেয়েও বেশি খুশি হন।’ (বুখারি ও মুসলিম)।

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিঃসন্দেহে সে সফলকাম হয়েছে, যে তাকে পরিশুদ্ধ করেছে।’ (সূরা শামস, আয়াত ৯)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জেনে রাখ, দেহের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে; যদি তা সংশোধিত হয়, তবে পুরো দেহই সংশোধিত হয় আর যদি তা নষ্ট হয়, তবে পুরো দেহই নষ্ট হয়। জেনে রাখ, তা অন্তঃকরণ।’ (বুখারি, আস-সহিহ ১/২৮)।

মুমিনের আত্মা দুঃখ-কষ্ট, আনন্দ, বিপদে, দুশ্চিন্তায় হতাশার কালোছায়া নেমে আসতে দেয় না। পাপের কাজ, মানুষের অমঙ্গল নিয়ে আসে এমন কাজ করতে গেলে আল্লাহর ভয়ে হৃদয় আড়ষ্ট হয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তুমি তোমার রবের কাছে ফিরে আস সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে, অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও, আর আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।’ (সূরা ফজর, আয়াত ২৮-৩০)।

কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ, আকাঙ্ক্ষা ও অনুভূতিকে সংযত রাখে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে লোকসকল! তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের কাছ থেকে এসেছে উপদেশ ও অন্তরসমূহে যা আছে তার আরোগ্য এবং মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত।’ (সূরা ইউনূস, আয়াত ৫৭)।

রাসূল (সা.) ও সাহাবিদের দেখানো পথই একমাত্র আত্মশুদ্ধি অর্জনের মাধ্যম। হে আল্লাহ, আমাদের মুমিন এবং প্রশান্ত আত্মার অধিকারী বান্দা হিসাবে কবুল করুন। আমিন

লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন