শান্তি ও কল্যাণের ঘর মসজিদ
jugantor
শান্তি ও কল্যাণের ঘর মসজিদ

  বেলায়েত হুসাইন  

১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মসজিদ আল্লাহর ঘর। মসজিদ মানবতার ঘর। মসজিদ শান্তি ও কল্যাণের ঘর। মানবতার ইহ ও পরকালীন মুক্তি ও সামগ্রিক কল্যাণের কেন্দ্রবিন্দু মসজিদ।

মহানবী (সা.) মদিনায় এসে সর্বপ্রথম যে কাজটি করেন তা হলো-মসজিদ নির্মাণ। প্রিয় নবী (সা.) সুদূরপ্রসারী যে পরিকল্পনা নিয়ে আজ থেকে সাড়ে চৌদ্দশত বছর আগে মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন তা নিয়ে আরব লেখক ড. আলি মুহাম্মদ সাল্লাবির প্রবন্ধ অবলম্বনে বিস্তারিত লিখেছেন- বেলায়েত হুসাইন

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে

একটি আদর্শ মুসলিম সমাজ বিনির্মাণের অন্যতম চালিকাশক্তি হচ্ছে মসজিদ। কেননা, মুসলমানদের পারস্পরিক সংহতি, ঐক্য ও সৌহার্দ্য গড়ে ওঠার পেছনে মসজিদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। প্রতিদিন অন্তত পাঁচবার মুসলমানরা মসজিদে নামাজ পড়তে আসেন।

এভাবে প্রতি ওয়াক্ত নামাজের জন্য মসজিদে উপস্থিতির মাধ্যমে তারা পরস্পরে মিলিত হতে পারেন। এতে করে সামাজিকভাবে ইসলামি আকিদা-বিশ্বাস ও রীতি-নীতি পরিপালনের পথ সুগম হয়। নিজেদের মধ্যে খুব তাড়াতাড়ি মুসলিম ভ্রাতৃত্ব প্রতিস্থাপিত হয়।

ইসলামের সর্বজনীনতার প্রতীক

মসজিদ সব মুসলিমের ইবাদতের জায়গা। এখানে প্রবেশে ধনী-গরিব, কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ এবং উঁচু-নিচু কোনো ভেদাভেদ নেই। যার যখন ইচ্ছা সে তখন মসজিদে এসে আল্লাহর তাসবিহ-তাহলিল ও গুণকীর্তন করবে এবং পবিত্রতা বর্ণনা করবে।

প্রবেশকারী যতক্ষণ মসজিদের হক আদায় করবে এবং তার পবিত্রতা রক্ষা করবে ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না; বরং মসজিদ হবে ইসলামের সর্বজনীনতার প্রতীক-এখানে প্রবেশের পর সবাই সমান।

আলোর ঘর

মসজিদ থেকে ইসলামের আলো দিগ্বিদিক ছড়িয়ে দেওয়া হবে। প্রাথমিক যুগে ইসলামের নানা বিষয়ে জানতে সাহাবিরা মসজিদে এসে মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। হিদায়াত অন্বেষণে দূরদূরান্ত থেকে আগত লোকেরাও আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সঙ্গে দেখা করতেন মসজিদেই। আগতরা মসজিদ থেকেই সত্যের বাণী নিয়ে ফিরে যেতেন।

জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চার আঁতুড়ঘর

মসজিদে দ্বীনি ইলম আহরণ ও বিতরণের পাশাপাশি মহাজাগতিক সব ধরনের জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চারও সুযোগ থাকবে। মুসলিমরা এখানে নিজের চিন্তা-চেতনা আদান-প্রদান করবে। এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণের পর কিছু মানুষ পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে সেখানে বসবাসকারীদের হিদায়াতের সুসংবাদ দেবে এবং হিদায়াত প্রত্যাখ্যানের ভয়াবহ শাস্তির প্রতি সতর্ক করবে। মহাপ্রলয় পর্যন্ত প্রজন্মের পর প্রজন্ম এ ধারা অব্যাহত রাখবে।

অসহায়ের আশ্রয়স্থল

মসজিদ হবে অসহায়ের আশ্রয়স্থল। দরিদ্র পথজন ও আশ্রয়হীন মসজিদে আশ্রয় নেবে। কেউ তাকে বিরক্ত করতে পারবে না। আশ্রয়গ্রহণকারী তার মেধা ও সামর্থ্য অনুযায়ী মসজিদ থেকে হিদায়াতের আলো গ্রহণ করবে। এমন অনেক অসহায় পথচারী আছে যারা মসজিদে এসে সমৃদ্ধ হয়েছে এবং অসংখ্য মানুষের আলোর পথে আসার মাধ্যম হয়েছে। ইতিহাসের পাতায় আজও যাদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ।

বিভক্ত উম্মাহর মিলনস্থল

মসজিদ এমন এক দুর্গ হবে-যেখানে দ্বিধাবিভক্ত উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ হবে। ইসলামের পতাকা সমুন্নত রাখতে আমিরের তত্ত্বাবধানে এক পতাকাতলে সমবেত হবে। আল্লাহর সৈনিক হিসাবে তাদের সংকল্প থাকবে তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করে বাঁচা কিংবা তাঁর রাস্তায় শাহাদাতবরণ করা।

মুজাহিদদের শুশ্রূষাকেন্দ্র

রণাঙ্গনে আহত মুজাহিদরা মসজিদে আশ্রয় নেবে এবং সেখানে তাদের শুশ্রূষার ব্যবস্থা করা হবে। রাসূল (সা.) মসজিদে আশ্রিত যুদ্ধাহত মুজাহিদদের দেখভাল করতেন এবং সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে তাদের প্রয়োজন পূরণের তাকিদ দিতেন এবং তাদের যেন কোনো কষ্ট না হয়-সে জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতেন।

ইসলামের ডাকঘর

মসজিদ মুসলিম সমাজের ডাকঘর হবে। যেখানে বিভিন্ন খবরাখবর আদান-প্রদান হবে। চিঠিপত্র পাঠ করা হবে। মুসলিম নেতারা রাজনীতিবিষয়ক ইতিবাচক-নেতিবাচক সব রকমের আলাপ-আলোচনা করবেন। বিরুদ্ধ রাষ্ট্রের পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ হবে।

হক আদায় করতে হবে

একটি মসজিদের প্রথম ও প্রধান হক এবং অধিকার হলো-সেখানে পাঁচ ওয়াক্ত আজানের সঙ্গে নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। আজানের প্রতিটি শব্দ এক আল্লাহবিরোধী অপশক্তিগুলোর জন্য হবে সতর্কতা। ‘আল্লাহু আকবার’ প্রতিধ্বনি মুসলিম সমাজে এমন অবস্থার সৃষ্টি করবে যে তাদের অন্তরে ‘আল্লাহ-ই সবচেয়ে বড়’ এই কথা সুদৃঢ়ভাবে বদ্ধমূল হবে।

লেখক : শিক্ষক-মারকাযুদ দিরাসাহ আল ইসলামিয়্যাহ ঢাকা

শান্তি ও কল্যাণের ঘর মসজিদ

 বেলায়েত হুসাইন 
১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মসজিদ আল্লাহর ঘর। মসজিদ মানবতার ঘর। মসজিদ শান্তি ও কল্যাণের ঘর। মানবতার ইহ ও পরকালীন মুক্তি ও সামগ্রিক কল্যাণের কেন্দ্রবিন্দু মসজিদ।

মহানবী (সা.) মদিনায় এসে সর্বপ্রথম যে কাজটি করেন তা হলো-মসজিদ নির্মাণ। প্রিয় নবী (সা.) সুদূরপ্রসারী যে পরিকল্পনা নিয়ে আজ থেকে সাড়ে চৌদ্দশত বছর আগে মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন তা নিয়ে আরব লেখক ড. আলি মুহাম্মদ সাল্লাবির প্রবন্ধ অবলম্বনে বিস্তারিত লিখেছেন- বেলায়েত হুসাইন

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে

একটি আদর্শ মুসলিম সমাজ বিনির্মাণের অন্যতম চালিকাশক্তি হচ্ছে মসজিদ। কেননা, মুসলমানদের পারস্পরিক সংহতি, ঐক্য ও সৌহার্দ্য গড়ে ওঠার পেছনে মসজিদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। প্রতিদিন অন্তত পাঁচবার মুসলমানরা মসজিদে নামাজ পড়তে আসেন।

এভাবে প্রতি ওয়াক্ত নামাজের জন্য মসজিদে উপস্থিতির মাধ্যমে তারা পরস্পরে মিলিত হতে পারেন। এতে করে সামাজিকভাবে ইসলামি আকিদা-বিশ্বাস ও রীতি-নীতি পরিপালনের পথ সুগম হয়। নিজেদের মধ্যে খুব তাড়াতাড়ি মুসলিম ভ্রাতৃত্ব প্রতিস্থাপিত হয়।

ইসলামের সর্বজনীনতার প্রতীক

মসজিদ সব মুসলিমের ইবাদতের জায়গা। এখানে প্রবেশে ধনী-গরিব, কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ এবং উঁচু-নিচু কোনো ভেদাভেদ নেই। যার যখন ইচ্ছা সে তখন মসজিদে এসে আল্লাহর তাসবিহ-তাহলিল ও গুণকীর্তন করবে এবং পবিত্রতা বর্ণনা করবে।

প্রবেশকারী যতক্ষণ মসজিদের হক আদায় করবে এবং তার পবিত্রতা রক্ষা করবে ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না; বরং মসজিদ হবে ইসলামের সর্বজনীনতার প্রতীক-এখানে প্রবেশের পর সবাই সমান।

আলোর ঘর

মসজিদ থেকে ইসলামের আলো দিগ্বিদিক ছড়িয়ে দেওয়া হবে। প্রাথমিক যুগে ইসলামের নানা বিষয়ে জানতে সাহাবিরা মসজিদে এসে মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। হিদায়াত অন্বেষণে দূরদূরান্ত থেকে আগত লোকেরাও আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সঙ্গে দেখা করতেন মসজিদেই। আগতরা মসজিদ থেকেই সত্যের বাণী নিয়ে ফিরে যেতেন।

জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চার আঁতুড়ঘর

মসজিদে দ্বীনি ইলম আহরণ ও বিতরণের পাশাপাশি মহাজাগতিক সব ধরনের জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চারও সুযোগ থাকবে। মুসলিমরা এখানে নিজের চিন্তা-চেতনা আদান-প্রদান করবে। এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণের পর কিছু মানুষ পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে সেখানে বসবাসকারীদের হিদায়াতের সুসংবাদ দেবে এবং হিদায়াত প্রত্যাখ্যানের ভয়াবহ শাস্তির প্রতি সতর্ক করবে। মহাপ্রলয় পর্যন্ত প্রজন্মের পর প্রজন্ম এ ধারা অব্যাহত রাখবে।

অসহায়ের আশ্রয়স্থল

মসজিদ হবে অসহায়ের আশ্রয়স্থল। দরিদ্র পথজন ও আশ্রয়হীন মসজিদে আশ্রয় নেবে। কেউ তাকে বিরক্ত করতে পারবে না। আশ্রয়গ্রহণকারী তার মেধা ও সামর্থ্য অনুযায়ী মসজিদ থেকে হিদায়াতের আলো গ্রহণ করবে। এমন অনেক অসহায় পথচারী আছে যারা মসজিদে এসে সমৃদ্ধ হয়েছে এবং অসংখ্য মানুষের আলোর পথে আসার মাধ্যম হয়েছে। ইতিহাসের পাতায় আজও যাদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ।

বিভক্ত উম্মাহর মিলনস্থল

মসজিদ এমন এক দুর্গ হবে-যেখানে দ্বিধাবিভক্ত উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ হবে। ইসলামের পতাকা সমুন্নত রাখতে আমিরের তত্ত্বাবধানে এক পতাকাতলে সমবেত হবে। আল্লাহর সৈনিক হিসাবে তাদের সংকল্প থাকবে তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করে বাঁচা কিংবা তাঁর রাস্তায় শাহাদাতবরণ করা।

মুজাহিদদের শুশ্রূষাকেন্দ্র

রণাঙ্গনে আহত মুজাহিদরা মসজিদে আশ্রয় নেবে এবং সেখানে তাদের শুশ্রূষার ব্যবস্থা করা হবে। রাসূল (সা.) মসজিদে আশ্রিত যুদ্ধাহত মুজাহিদদের দেখভাল করতেন এবং সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে তাদের প্রয়োজন পূরণের তাকিদ দিতেন এবং তাদের যেন কোনো কষ্ট না হয়-সে জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতেন।

ইসলামের ডাকঘর

মসজিদ মুসলিম সমাজের ডাকঘর হবে। যেখানে বিভিন্ন খবরাখবর আদান-প্রদান হবে। চিঠিপত্র পাঠ করা হবে। মুসলিম নেতারা রাজনীতিবিষয়ক ইতিবাচক-নেতিবাচক সব রকমের আলাপ-আলোচনা করবেন। বিরুদ্ধ রাষ্ট্রের পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ হবে।

হক আদায় করতে হবে

একটি মসজিদের প্রথম ও প্রধান হক এবং অধিকার হলো-সেখানে পাঁচ ওয়াক্ত আজানের সঙ্গে নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। আজানের প্রতিটি শব্দ এক আল্লাহবিরোধী অপশক্তিগুলোর জন্য হবে সতর্কতা। ‘আল্লাহু আকবার’ প্রতিধ্বনি মুসলিম সমাজে এমন অবস্থার সৃষ্টি করবে যে তাদের অন্তরে ‘আল্লাহ-ই সবচেয়ে বড়’ এই কথা সুদৃঢ়ভাবে বদ্ধমূল হবে।

লেখক : শিক্ষক-মারকাযুদ দিরাসাহ আল ইসলামিয়্যাহ ঢাকা

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন