মাদক ও জুয়া কী বলে ইসলাম
jugantor
মাদক ও জুয়া কী বলে ইসলাম

  মাহমুদ আহমদ  

১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সম্প্রতি এলএসডি নামক মাদকসেবনের দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া কয়েকজন ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদকাসক্ত যুবকদের এ অবস্থা দেখে সচেতন মহলকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে, মাদক বর্তমান যুবসমাজকে কোন পথে নিয়ে যাচ্ছে, এর পরিণতি কী?

সর্বনাশা এ নেশা থেকে বেরিয়ে আসা অনেকটা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশ, জাতি ও সমাজের উজ্জ্বল নক্ষত্র আজকের তরুণ সমাজ। এর কুপ্রভাবে যেভাবে আমাদের তারুণ্য শক্তি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত, তা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে আমাদের তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার নাম। সব সংঘাত- সংঘর্ষের চিরন্তন ও মহাসমন্বয় হচ্ছে ইসলাম। জীবনাদর্শ, জীবনব্যবস্থা ও জীবনবিধান হিসাবে ইসলামে রয়েছে সব সমস্যার সঠিক সমাধান। এতে রয়েছে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি সমস্যার সমাধান আর মৃত্যুর পর আখেরাতের অনন্ত জীবনে নিশ্চিত সুখ-শান্তি লাভের উপায়।

তাই ইসলাম মানুষের সঠিক পথের দিশারী, দুনিয়া ও আখেরাতের সর্বাঙ্গীন ও পূর্ণাঙ্গ একমাত্র জীবনব্যবস্থা। শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপনের জন্য আমাদের যা কিছু প্রয়োজন তাকে বৈধ করেছেন আর যা ক্ষতিকর তা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তেমনিভাবে যাবতীয় নেশাজাতীয় জিনিস, যা মানুষের জন্য ক্ষতি ও ধ্বংস ছাড়া কিছুই বয়ে আনে না, সেসব জিনিস থেকে ইসলাম দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

ইসলামের আবির্ভাবের আগে এবং মহানবীর (সা.) আগমনের সময় তৎকালীন মক্কায় নানা ধরনের নেশা ও জুয়ার প্রচলন ছিল। কুরআনে মদ ও জুয়াকে ঘৃণ্য বস্তু এবং শয়তানের কাজ বলা হয়েছে। এগুলো থেকে দূরে থাকার আদেশ দেওয়া হয়েছে। মদ ও জুয়ার মাধ্যমে পরস্পর শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়।

উপরন্তু এগুলোর মাধ্যমে শয়তান মানুষকে নামাজ ও আল্লাহতায়ালার স্মরণ থেকে বিমুখ রাখে। মদ ও জুয়া হারাম হওয়ার বিষয়টি অস্বীকারের কোনো সুযোগ নেই।

বর্তমান সমাজে লটারি, হাউজি, বাজি ধরা, চাক্কি ঘোরানো, রিং নিক্ষেপ প্রভৃতি নামে নানা ধরনের জুয়ার প্রচলন রয়েছে। এগুলো কখনো মানুষের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। জুয়ার যাবতীয় প্রক্রিয়াকে হারাম এবং নিষিদ্ধ ঘোষণা করে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করে। তুমি বলো এ দুটিতে রয়েছে মহাপাপ’ (সূরা বাকারা, আয়াত : ২১৯)।

এ বিষয়ে হাদিসে উল্লেখ আছে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত মহানবী (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা মদ, জুয়া ও বাদ্যযন্ত্র হারাম করেছেন’ (বায়হাকি ও মিশকাত)। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন, ‘পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, জুয়ায় অংশগ্রহণকারী, খোঁটাদাতা ও মদ্যপায়ী জান্নাতে যাবে না’ (দারেমি ও মিশকাত)।

বর্তমানকালে বিশ্বময় এই যে নতুন নুতন নেশাদ্রব্য এবং জুয়ার ব্যাপকতা তা মূলত হওয়ারই কথা। কেননা শেষ যুগের লক্ষণাবলি আজ স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। যেমন মুসলমানদের মাঝে অনৈক্য ও দলাদলি, মিথ্যা ও দুর্নীতির সর্বাগ্রাসী প্রাদুর্ভাব, ত্রিত্ববাদী খ্রিষ্টান তথা দাজ্জালের সর্বগ্রাসী আগ্রাসন।

সুদ, মদ, জুয়া ও ব্যভিচারের ছড়াছড়ি। আকাশের আবরণ উন্মোচিত। মহাকাশ বিজ্ঞানে অভূতপূর্ব উন্নতি। বন্য জীবজন্তু জড়ো করে দেশে দেশে চিড়িয়াখানা স্থাপন। পুস্তক-পুস্তিকার ব্যাপক প্রকাশনা। নর্তকি ও গায়িকাদের প্রাধান্য। উঁচু উঁচু অট্টালিকা নির্মাণের প্রতিযোগিতা ইত্যাদি ইত্যাদি।

তাই এ যুগে সব ধরনের মন্দ কাজ থেকে নিরাপদ থাকা অনেকটাই কঠিন বিষয় হলেও একজন মুসলমান হিসাবে আমাকে এসব থেকে মুক্ত থাকতেই হবে। বিশেষ করে যাবতীয় নেশা ও জুয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। পরিবারের কর্তা হিসাবে সন্তানদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে।

আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে প্রকৃত ইসলামের শিক্ষার ওপর জীবন পরিচালনার তৌফিক দান করুন, আমিন।

লেখক: ইসলামী গবেষক ও কলামিস্ট

masumon83@yahoo.com

মাদক ও জুয়া কী বলে ইসলাম

 মাহমুদ আহমদ 
১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সম্প্রতি এলএসডি নামক মাদকসেবনের দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া কয়েকজন ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদকাসক্ত যুবকদের এ অবস্থা দেখে সচেতন মহলকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে, মাদক বর্তমান যুবসমাজকে কোন পথে নিয়ে যাচ্ছে, এর পরিণতি কী?

সর্বনাশা এ নেশা থেকে বেরিয়ে আসা অনেকটা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশ, জাতি ও সমাজের উজ্জ্বল নক্ষত্র আজকের তরুণ সমাজ। এর কুপ্রভাবে যেভাবে আমাদের তারুণ্য শক্তি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত, তা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে আমাদের তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার নাম। সব সংঘাত- সংঘর্ষের চিরন্তন ও মহাসমন্বয় হচ্ছে ইসলাম। জীবনাদর্শ, জীবনব্যবস্থা ও জীবনবিধান হিসাবে ইসলামে রয়েছে সব সমস্যার সঠিক সমাধান। এতে রয়েছে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি সমস্যার সমাধান আর মৃত্যুর পর আখেরাতের অনন্ত জীবনে নিশ্চিত সুখ-শান্তি লাভের উপায়।

তাই ইসলাম মানুষের সঠিক পথের দিশারী, দুনিয়া ও আখেরাতের সর্বাঙ্গীন ও পূর্ণাঙ্গ একমাত্র জীবনব্যবস্থা। শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপনের জন্য আমাদের যা কিছু প্রয়োজন তাকে বৈধ করেছেন আর যা ক্ষতিকর তা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তেমনিভাবে যাবতীয় নেশাজাতীয় জিনিস, যা মানুষের জন্য ক্ষতি ও ধ্বংস ছাড়া কিছুই বয়ে আনে না, সেসব জিনিস থেকে ইসলাম দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

ইসলামের আবির্ভাবের আগে এবং মহানবীর (সা.) আগমনের সময় তৎকালীন মক্কায় নানা ধরনের নেশা ও জুয়ার প্রচলন ছিল। কুরআনে মদ ও জুয়াকে ঘৃণ্য বস্তু এবং শয়তানের কাজ বলা হয়েছে। এগুলো থেকে দূরে থাকার আদেশ দেওয়া হয়েছে। মদ ও জুয়ার মাধ্যমে পরস্পর শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়।

উপরন্তু এগুলোর মাধ্যমে শয়তান মানুষকে নামাজ ও আল্লাহতায়ালার স্মরণ থেকে বিমুখ রাখে। মদ ও জুয়া হারাম হওয়ার বিষয়টি অস্বীকারের কোনো সুযোগ নেই।

বর্তমান সমাজে লটারি, হাউজি, বাজি ধরা, চাক্কি ঘোরানো, রিং নিক্ষেপ প্রভৃতি নামে নানা ধরনের জুয়ার প্রচলন রয়েছে। এগুলো কখনো মানুষের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। জুয়ার যাবতীয় প্রক্রিয়াকে হারাম এবং নিষিদ্ধ ঘোষণা করে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করে। তুমি বলো এ দুটিতে রয়েছে মহাপাপ’ (সূরা বাকারা, আয়াত : ২১৯)।

এ বিষয়ে হাদিসে উল্লেখ আছে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত মহানবী (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা মদ, জুয়া ও বাদ্যযন্ত্র হারাম করেছেন’ (বায়হাকি ও মিশকাত)। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন, ‘পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, জুয়ায় অংশগ্রহণকারী, খোঁটাদাতা ও মদ্যপায়ী জান্নাতে যাবে না’ (দারেমি ও মিশকাত)।

বর্তমানকালে বিশ্বময় এই যে নতুন নুতন নেশাদ্রব্য এবং জুয়ার ব্যাপকতা তা মূলত হওয়ারই কথা। কেননা শেষ যুগের লক্ষণাবলি আজ স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। যেমন মুসলমানদের মাঝে অনৈক্য ও দলাদলি, মিথ্যা ও দুর্নীতির সর্বাগ্রাসী প্রাদুর্ভাব, ত্রিত্ববাদী খ্রিষ্টান তথা দাজ্জালের সর্বগ্রাসী আগ্রাসন।

সুদ, মদ, জুয়া ও ব্যভিচারের ছড়াছড়ি। আকাশের আবরণ উন্মোচিত। মহাকাশ বিজ্ঞানে অভূতপূর্ব উন্নতি। বন্য জীবজন্তু জড়ো করে দেশে দেশে চিড়িয়াখানা স্থাপন। পুস্তক-পুস্তিকার ব্যাপক প্রকাশনা। নর্তকি ও গায়িকাদের প্রাধান্য। উঁচু উঁচু অট্টালিকা নির্মাণের প্রতিযোগিতা ইত্যাদি ইত্যাদি।

তাই এ যুগে সব ধরনের মন্দ কাজ থেকে নিরাপদ থাকা অনেকটাই কঠিন বিষয় হলেও একজন মুসলমান হিসাবে আমাকে এসব থেকে মুক্ত থাকতেই হবে। বিশেষ করে যাবতীয় নেশা ও জুয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। পরিবারের কর্তা হিসাবে সন্তানদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে।

আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে প্রকৃত ইসলামের শিক্ষার ওপর জীবন পরিচালনার তৌফিক দান করুন, আমিন।

লেখক: ইসলামী গবেষক ও কলামিস্ট

masumon83@yahoo.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন