নবী মোর পরশমণি, নবী মোর সোনার খনি
jugantor
নবী মোর পরশমণি, নবী মোর সোনার খনি

  আশরাফ জিয়া  

১৫ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তায়েফের বিস্তীর্ণ প্রান্তর। প্রখর রোদের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। তপ্ত ভূমিতে যেন সূর্য গলে গলে পড়ছে। পাথুরে পথ মাড়িয়ে একজন মানুষ দীর্ঘশ্বাসে দৌড়াচ্ছেন।

মানুষটির পা থেকে রক্ত বের হয়ে জুতার সঙ্গে আটকে যাচ্ছে। তিনি ঠিকমতো দৌড়াতে পারছেন না। দৃশ্যটা এক ভয়ংকর প্রলয় আনতে পারে। কারণ দৃশ্যের মানুষটি সাধারণ নন। তিনি একজন মহাপুরুষ। তাকে সৃষ্টি না করলে দোজাহান তৈরি হতো না। তিনি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

তায়েফবাসীর কাছে তিনি ইসলামের দাওয়াত নিয়ে গিয়েছিলেন। সত্যের প্রদীপ জ্বালিয়ে তাদের আলোকিত মানুষ করতে চেয়েছিলেন। তারা গ্রহণ করেনি। দুষ্ট ছেলেদের লেলিয়ে দিয়েছে রাসূলের পেছনে। রাসূল নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দৌড়ে যাচ্ছেন। পৃথিবীর সব কিছু তখন ক্ষোভে অগ্নিশর্মা। আসমানবাসীও।

ফেরেশতা জিবরাইল ছুটে এলেন রাসূলের কাছে। তার চেহারায় ক্রোধ। এ ক্রোধে নিমিষেই ঝলসে যেতে পারে পুরো তায়েফবাসী। তাদের একজন বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আদেশ করুন, পাহাড়ের ফেরেশতাকে আদেশ করি, সে তায়েফের দু’পাশের পাহাড়কে মিলিয়ে দেবে। পুরো জাহান নীরবে তাকিয়ে আছে।

এ বুঝি রাসূল আদেশ দেবেন। এখনই হয়তো ধ্বংস হয়ে যাবে তায়েফবাসী। পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে তায়েফ। সবাইকে অবাক করে রাসূল শান্তির জবাব দিলেন। বললেন, তাদেরকে ছেড়ে দাও। তারা সত্য কবুল করেনি। হয়তো তাদের পরবর্তী প্রজন্ম কবুল করবে। আলোকিত মানুষ হয়ে আলো বিলাবে।

দুই.

মদিনায় আজ আনন্দ। সাহাবাদের মধ্যে নিশ্চিন্তভাব। মুসলমানদের একজন শত্রু মারা গেছে। চরম শত্রু। মুনাফিক সরদার উবাই ইবনে সালুল। এ জঘন্য লোকটা মুসলমানদের অনেক কষ্ট দিয়েছে কাফের, মুশরিকদের চেয়েও বেশি। কিন্তু তার ছেলে আব্দুল্লাহ ভালো মানুষ। সাচ্চা মুসলমান। বাবার মতো হননি। একেবারে বিপরীত।

আব্দুল্লাহ রাসূলের কাছে এলো। তার চেহারায় আকুতি। মিনতির ভারে নুয়ে পড়ছে সে। রাসূল তার দিকে সান্ত্বনার চোখে তাকালেন। নরম করে বললেন, আব্দুল্লাহ, আল্লাহ তোমাকে ধৈর্য দিন। কিছু বলতে এসেছ? আব্দুল্লাহর চেহারায় আশা। সেই আশা ক্ষীণ নয়। রাসূলের সঙ্গে থেকে, কাছ থেকে দেখে এ আশার সৃষ্টি। সেই আশা নিয়ে সে আবদার করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমার আব্বার জানাজার নামাজটা পড়ান।

হয়তো আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন। রাসূল তো রহমাতুল্লিল আলামিন। তিনি কি একজন সাহাবির আবদার ফেলতে পারেন? তিনি রাজি হয়ে গেলেন। উপস্থিত সাহাবারা হতবাক। হুজুর কীভাবে রাজি হলেন। এ লোকটা তো মদিনায় রাসূলের সবচেয়ে বড় শত্রু ছিলেন। কেউ কিছু বলছে না।

হজরত উমর কথা বলে উঠলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, সে তো মুনাফিক। আমাদের প্রচণ্ড কষ্ট দিয়েছে। রাসূল বললেন, উমর, আমাকে যেতে দাও। উমর আবারও বললেন, আল্লাহর রাসূল, আয়েশার কথা ভাববেন না, তিনি শুনলে কতটা কষ্ট পাবেন। এ লোকটিই তো তাঁর নামে কুৎসা রটনাকারীদের প্রধান ছিল। রাসূল আবারও বললেন, উমর, আমাকে যেতে দাও।

উমর যেন এটা কোনোভাবেই মানতে পারছেন না, তিনি শেষবারের মতো বললেন, আল্লাহ তো বলেছেন, এ জাতীয় লোকদের জন্য সত্তরবার ক্ষমা চাইলেও আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। দয়ার নবী শান্ত স্বরে বললেন, আল্লাহতায়ালা আমাকে ইখতিয়ার দিয়েছেন, মাগফিরাতের দোয়া করব অথবা করব না। আর আয়াতে সত্তরবার ক্ষমা প্রার্থনা করলেও ক্ষমা হবে না বলা হয়েছে। আমি সত্তরবারের বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করব। আল্লাহ হয়তো তখন ক্ষমা করবেন।

তিন.

অবশেষে মক্কা বিজয় হলো। রাসূল (সা.) বিজয় বেশে মক্কায় প্রবেশ করলেন। রাসূলের চোখে অশ্রু। এটা আনন্দের অশ্রু। কত বছর পর রাসূল এ শহরে নিশ্চিন্তে প্রবেশ করলেন। এ শহর তো রাসূলেরই শহর। এখানে তাঁর জন্ম। এখানে তিনি বড় হয়েছেন। এটা রাসূলের বাবার শহর। দাদার শহর। এ শহরে শায়িত আছেন প্রিয়তম স্ত্রী হজরত খাদিজা। চাচা আবু তালেব। আরও অনেক আপন মানুষ।

জন্মভূমির প্রতি মানুষের একটা আজন্ম টান থাকে। যেটা তাকে অদৃশ্য শেকলে আটকে রাখে। রাসূলেরও ছিল। কিন্তু এ শহরের মানুষগুলো রাসূলকে এখানে থাকতে দেয়নি। কষ্ট দিয়েছে। রাসূল এক সময় হিজরত করতে বাধ্য হয়েছেন। আজ এ শহর বিজয় করে ফিরেছেন। সেই অপরাধীগুলোর অনেকে আজ রাসূলের সামনে। সামনে আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দা দাঁড়িয়ে আছে।

এ হিন্দাই তো হজরত হামজা (রা.)-এর কলিজা চিবিয়ে চিবিয়ে খেয়েছিল। এ লোকগুলোই তো খোবায়েব (রা.)সহ কয়েকজনকে কাবা প্রান্তরে শূলে চড়িয়েছিল। আজ সবার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কাফেরদের মুখে ভয় অজানা আতঙ্কে তারা নীল হয়ে আছে। চেহারা বিবর্ণ। আজ কী হবে!! এ সময় রাসূল নরম গলায় তাদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের সঙ্গে আজকে আমি কেমন ব্যবহার করব?

তারা রাসূলের এমন কণ্ঠ শুনে আশা পেল। কোনো কঠোর ব্যক্তির কণ্ঠ তো এমন হওয়ার কথা নয়। তাদের আশার কবুতর যেন মুক্ত নীলিমায় ডানা ঝাপটাল। তারা বলল, আপনি তো আমাদের এক মহানুভব ভাই এবং এক মহানুভব ভাইয়ের ছেলে। মহানবী তখন উত্তর দিলেন, ‘ইউসুফ আলাইহিস সালাম তার ভাইদের সঙ্গে যে আচরণ করেছিলেন, আমিও তোমাদের সঙ্গে আজকে সেই আচরণ করলাম। আজ তোমাদের প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই।’

চার.

পৃথিবীতে কে আছে, শত্রুর সঙ্গে এমন আচরণ করবে। আমার রাসূলের জীবনী থেকে তিনটি ঘটনা শুনলাম। এ রকম আরও হাজারো ঘটনা আছে আমার রাসূলের। রাসূলের রহমতের। রাসূলের দয়া ও মহানুভবতার। মানুষ থেকে শুরু করে প্রতিটি প্রাণী রাসূলের রহমত পেয়েছিল।

আল্লাহ রাসূলকে উদ্দেশ করে বলেছেন, আমি আপনাকে পুরো জগতের জন্য রহমত করে পাঠিয়েছি। এ রহমত আমাদের সবার প্রয়োজন। তাঁর শাফায়াত পেলে আল্লাহ আমাদের কোথাও আটকাবেন না। আমরা যদি রাসূলকে ভালোবাসি, তার সুন্নতের অনুসরণ করি রাসূল আমাদের ভালোবাসবেন।

কাউকে ভালোবাসতে হলে, অনুসরণ করতে হলে তাকে জানতে হয়। আমরা কি আমাদের রাসূল (সা.) চিনি, তার জীবন সম্পর্কে জানি? আমাদের জানতে হবে। রাসূলের জীবনচরিত অধ্যয়ন করতে হবে।

রাসূল তো কেয়ামতের দিনে আমাদের জাহান্নাম থেকে মুক্ত করার জন্য অস্থির থাকবেন। সবাই যখন নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে তখন রাসূল বলবেন, হায় আমার উম্মতের মুক্তি কীভাবে হবে, আমার উম্মতের মুক্তি কীভাবে হবে। সেই দয়ালু নবীর জন্য আসুন না একবার দরুদ পড়ি (সা.)। আমার পিতা-মাতা আপনার ওপর কুরবান হোক ইয়া রাসূলুল্লাহ!

নবী মোর পরশমণি, নবী মোর সোনার খনি

 আশরাফ জিয়া 
১৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তায়েফের বিস্তীর্ণ প্রান্তর। প্রখর রোদের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। তপ্ত ভূমিতে যেন সূর্য গলে গলে পড়ছে। পাথুরে পথ মাড়িয়ে একজন মানুষ দীর্ঘশ্বাসে দৌড়াচ্ছেন।

মানুষটির পা থেকে রক্ত বের হয়ে জুতার সঙ্গে আটকে যাচ্ছে। তিনি ঠিকমতো দৌড়াতে পারছেন না। দৃশ্যটা এক ভয়ংকর প্রলয় আনতে পারে। কারণ দৃশ্যের মানুষটি সাধারণ নন। তিনি একজন মহাপুরুষ। তাকে সৃষ্টি না করলে দোজাহান তৈরি হতো না। তিনি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

তায়েফবাসীর কাছে তিনি ইসলামের দাওয়াত নিয়ে গিয়েছিলেন। সত্যের প্রদীপ জ্বালিয়ে তাদের আলোকিত মানুষ করতে চেয়েছিলেন। তারা গ্রহণ করেনি। দুষ্ট ছেলেদের লেলিয়ে দিয়েছে রাসূলের পেছনে। রাসূল নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দৌড়ে যাচ্ছেন। পৃথিবীর সব কিছু তখন ক্ষোভে অগ্নিশর্মা। আসমানবাসীও।

ফেরেশতা জিবরাইল ছুটে এলেন রাসূলের কাছে। তার চেহারায় ক্রোধ। এ ক্রোধে নিমিষেই ঝলসে যেতে পারে পুরো তায়েফবাসী। তাদের একজন বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আদেশ করুন, পাহাড়ের ফেরেশতাকে আদেশ করি, সে তায়েফের দু’পাশের পাহাড়কে মিলিয়ে দেবে। পুরো জাহান নীরবে তাকিয়ে আছে।

এ বুঝি রাসূল আদেশ দেবেন। এখনই হয়তো ধ্বংস হয়ে যাবে তায়েফবাসী। পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে তায়েফ। সবাইকে অবাক করে রাসূল শান্তির জবাব দিলেন। বললেন, তাদেরকে ছেড়ে দাও। তারা সত্য কবুল করেনি। হয়তো তাদের পরবর্তী প্রজন্ম কবুল করবে। আলোকিত মানুষ হয়ে আলো বিলাবে।

দুই.

মদিনায় আজ আনন্দ। সাহাবাদের মধ্যে নিশ্চিন্তভাব। মুসলমানদের একজন শত্রু মারা গেছে। চরম শত্রু। মুনাফিক সরদার উবাই ইবনে সালুল। এ জঘন্য লোকটা মুসলমানদের অনেক কষ্ট দিয়েছে কাফের, মুশরিকদের চেয়েও বেশি। কিন্তু তার ছেলে আব্দুল্লাহ ভালো মানুষ। সাচ্চা মুসলমান। বাবার মতো হননি। একেবারে বিপরীত।

আব্দুল্লাহ রাসূলের কাছে এলো। তার চেহারায় আকুতি। মিনতির ভারে নুয়ে পড়ছে সে। রাসূল তার দিকে সান্ত্বনার চোখে তাকালেন। নরম করে বললেন, আব্দুল্লাহ, আল্লাহ তোমাকে ধৈর্য দিন। কিছু বলতে এসেছ? আব্দুল্লাহর চেহারায় আশা। সেই আশা ক্ষীণ নয়। রাসূলের সঙ্গে থেকে, কাছ থেকে দেখে এ আশার সৃষ্টি। সেই আশা নিয়ে সে আবদার করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমার আব্বার জানাজার নামাজটা পড়ান।

হয়তো আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন। রাসূল তো রহমাতুল্লিল আলামিন। তিনি কি একজন সাহাবির আবদার ফেলতে পারেন? তিনি রাজি হয়ে গেলেন। উপস্থিত সাহাবারা হতবাক। হুজুর কীভাবে রাজি হলেন। এ লোকটা তো মদিনায় রাসূলের সবচেয়ে বড় শত্রু ছিলেন। কেউ কিছু বলছে না।

হজরত উমর কথা বলে উঠলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, সে তো মুনাফিক। আমাদের প্রচণ্ড কষ্ট দিয়েছে। রাসূল বললেন, উমর, আমাকে যেতে দাও। উমর আবারও বললেন, আল্লাহর রাসূল, আয়েশার কথা ভাববেন না, তিনি শুনলে কতটা কষ্ট পাবেন। এ লোকটিই তো তাঁর নামে কুৎসা রটনাকারীদের প্রধান ছিল। রাসূল আবারও বললেন, উমর, আমাকে যেতে দাও।

উমর যেন এটা কোনোভাবেই মানতে পারছেন না, তিনি শেষবারের মতো বললেন, আল্লাহ তো বলেছেন, এ জাতীয় লোকদের জন্য সত্তরবার ক্ষমা চাইলেও আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। দয়ার নবী শান্ত স্বরে বললেন, আল্লাহতায়ালা আমাকে ইখতিয়ার দিয়েছেন, মাগফিরাতের দোয়া করব অথবা করব না। আর আয়াতে সত্তরবার ক্ষমা প্রার্থনা করলেও ক্ষমা হবে না বলা হয়েছে। আমি সত্তরবারের বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করব। আল্লাহ হয়তো তখন ক্ষমা করবেন।

তিন.

অবশেষে মক্কা বিজয় হলো। রাসূল (সা.) বিজয় বেশে মক্কায় প্রবেশ করলেন। রাসূলের চোখে অশ্রু। এটা আনন্দের অশ্রু। কত বছর পর রাসূল এ শহরে নিশ্চিন্তে প্রবেশ করলেন। এ শহর তো রাসূলেরই শহর। এখানে তাঁর জন্ম। এখানে তিনি বড় হয়েছেন। এটা রাসূলের বাবার শহর। দাদার শহর। এ শহরে শায়িত আছেন প্রিয়তম স্ত্রী হজরত খাদিজা। চাচা আবু তালেব। আরও অনেক আপন মানুষ।

জন্মভূমির প্রতি মানুষের একটা আজন্ম টান থাকে। যেটা তাকে অদৃশ্য শেকলে আটকে রাখে। রাসূলেরও ছিল। কিন্তু এ শহরের মানুষগুলো রাসূলকে এখানে থাকতে দেয়নি। কষ্ট দিয়েছে। রাসূল এক সময় হিজরত করতে বাধ্য হয়েছেন। আজ এ শহর বিজয় করে ফিরেছেন। সেই অপরাধীগুলোর অনেকে আজ রাসূলের সামনে। সামনে আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দা দাঁড়িয়ে আছে।

এ হিন্দাই তো হজরত হামজা (রা.)-এর কলিজা চিবিয়ে চিবিয়ে খেয়েছিল। এ লোকগুলোই তো খোবায়েব (রা.)সহ কয়েকজনকে কাবা প্রান্তরে শূলে চড়িয়েছিল। আজ সবার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কাফেরদের মুখে ভয় অজানা আতঙ্কে তারা নীল হয়ে আছে। চেহারা বিবর্ণ। আজ কী হবে!! এ সময় রাসূল নরম গলায় তাদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের সঙ্গে আজকে আমি কেমন ব্যবহার করব?

তারা রাসূলের এমন কণ্ঠ শুনে আশা পেল। কোনো কঠোর ব্যক্তির কণ্ঠ তো এমন হওয়ার কথা নয়। তাদের আশার কবুতর যেন মুক্ত নীলিমায় ডানা ঝাপটাল। তারা বলল, আপনি তো আমাদের এক মহানুভব ভাই এবং এক মহানুভব ভাইয়ের ছেলে। মহানবী তখন উত্তর দিলেন, ‘ইউসুফ আলাইহিস সালাম তার ভাইদের সঙ্গে যে আচরণ করেছিলেন, আমিও তোমাদের সঙ্গে আজকে সেই আচরণ করলাম। আজ তোমাদের প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই।’

চার.

পৃথিবীতে কে আছে, শত্রুর সঙ্গে এমন আচরণ করবে। আমার রাসূলের জীবনী থেকে তিনটি ঘটনা শুনলাম। এ রকম আরও হাজারো ঘটনা আছে আমার রাসূলের। রাসূলের রহমতের। রাসূলের দয়া ও মহানুভবতার। মানুষ থেকে শুরু করে প্রতিটি প্রাণী রাসূলের রহমত পেয়েছিল।

আল্লাহ রাসূলকে উদ্দেশ করে বলেছেন, আমি আপনাকে পুরো জগতের জন্য রহমত করে পাঠিয়েছি। এ রহমত আমাদের সবার প্রয়োজন। তাঁর শাফায়াত পেলে আল্লাহ আমাদের কোথাও আটকাবেন না। আমরা যদি রাসূলকে ভালোবাসি, তার সুন্নতের অনুসরণ করি রাসূল আমাদের ভালোবাসবেন।

কাউকে ভালোবাসতে হলে, অনুসরণ করতে হলে তাকে জানতে হয়। আমরা কি আমাদের রাসূল (সা.) চিনি, তার জীবন সম্পর্কে জানি? আমাদের জানতে হবে। রাসূলের জীবনচরিত অধ্যয়ন করতে হবে।

রাসূল তো কেয়ামতের দিনে আমাদের জাহান্নাম থেকে মুক্ত করার জন্য অস্থির থাকবেন। সবাই যখন নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে তখন রাসূল বলবেন, হায় আমার উম্মতের মুক্তি কীভাবে হবে, আমার উম্মতের মুক্তি কীভাবে হবে। সেই দয়ালু নবীর জন্য আসুন না একবার দরুদ পড়ি (সা.)। আমার পিতা-মাতা আপনার ওপর কুরবান হোক ইয়া রাসূলুল্লাহ!

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন