প্রেমের নবী মোস্তফা
jugantor
প্রেমের নবী মোস্তফা

  কালীম মাহফুজ  

১৫ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাসূল আমাদের আদর্শ। আমাদের চেতনা। সবার প্রিয়। পথচলার প্রেরণা। স্বজন থেকেও আপন। আত্মার চেয়েও দামি। আমাদের শিক্ষক তিনি। আমাদের রাহবার তিনি। তিনি মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ।

যিনি এসেছিলেন কল্যাণ নিয়ে। বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হয়ে। কেবল ব্যক্তি কিংবা পারিবারিকই নয় বরং পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা ও সামগ্রিক চেতনার আদর্শিক রূপকার হিসাবে। ব্যক্তি জীবনে চলন বলন ও কথনে, পারস্পরিক আচার আচরণে যেমন ছিলেন সমুন্নত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।

তেমনি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও ছিলেন একজন সফল সমাজ সংস্কারক। বর্বর এক জাতিকে যিনি উন্নীত করেছেন আদর্শের শ্রেষ্ঠ মানদণ্ডে। বানিয়েছেন সত্যের মাপকাঠি। শরিয়তের কষ্টিপাথর। যাদের সমর্থনে নির্ণীত হয় করণীয়। প্রত্যাখ্যানে নিরূপিত হয় বর্জনীয়।

রাসূল (সা.)-এর প্রতি তাদের ভালোবাসা ছিল প্রবাদতুল্য। অবিমিশ্র। মা-বাবা ও সন্তান-সন্ততির চেয়ে বেশি। আপন সত্ত্বা থেকেও বেশি। তাদের ভালোবাসার সামনে দুনিয়ার সম্পদ ছিল মূল্যহীন। যৌবনের রূপ লাবণ্য ছিল অর্থহীন। ক্ষমতার দাপট ছিল গুরুত্বহীন।

আনুগত্য ও ভালোবাসার যে দাস্তান তারা রচনা করেছেন ইতিহাসের পাতায় তা বিরল এক অধ্যায় হিসাবে জ্বলজ্বল করছে। সাহাবায়ে কেরামের জীবনে এর অফুরন্ত নজির রয়েছে।

হিজরতের ঠিক পূর্ব মুহূর্ত। ‘দারুননদওয়া’য় সিদ্ধান্ত হলো প্রত্যেক গোত্রের একেকজন লোক শরিক হয়ে রাসূলের গৃহ ঘেরাও করবে। যখনই তিনি বের হবেন তখন একযোগে আক্রমণ করবে। সিদ্ধান্ত মোতাবেক তারা তার গৃহ ঘেরাও করে বসল। রাসূলে আকরাম (সা.) আঁচ করতে পেরে এ রাতেই হিজরতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। হজরত আলী (রা.)কে দায়িত্ব দিলেন, তিনি যেন তাঁর কাছে গচ্ছিত আমানত যথাযথ জায়গায় ফিরিয়ে দেন। তখন হজরত আলী (রা.) রাসূলের দেওয়া এ গুরু দায়িত্ব আদায়ে একটুও পিছপা হননি। বরং নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও তার বিছানায় শুয়ে পড়লেন। প্রিয় নবীকে বাঁচানোর জন্য নিজের জীবনেরও পরওয়া করেননি।

বদর যুদ্ধের আগের দিন। রাসূল (সা.) যখন চিন্তাক্লিষ্ট। তখন আনসার সাহাবায়ে কেরাম দরাজ কণ্ঠে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা বনি ইসরাইলের মতো যুদ্ধের ময়দান থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে চলে আসার লোক নই! আমরা তো আপনার ডানে-বামে, সম্মুখে-পেছনে থেকে যুদ্ধ করে যাব। আপনার নির্দেশে জীবন কুরবান করে দিতে আমাদের মন উৎসুক হয়ে আছে। (বুখারি)।

এ ছিল রাসূলের প্রতি সাহাবায়ে কেরামের ভালোবাসার এক ঝলক। তাদের জীবনালেখ্যে এমন আরও কত শত ঘটনা রয়েছে যার দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। তাদের ভালোবাসার এ অপরূপ দাস্তান দেখে হজরত আবু সুফিয়ান (রা.) কাফের থাকাবস্থায়ই আশ্চর্যের আতিশয্যে বলেছিলেন, মুহাম্মাদের সহচরবৃন্দ তাঁকে যতটুকু ভালোবাসে আমি এর নজির কোথাও দেখিনি।

রাসূল (সা.)-এর প্রতি তাদের এ অনাবিল ভালোবাসা ও আনুগত্যের প্রতিদান স্বরূপ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঘোষণা দেন, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট। তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। রাসূল (সা.) বলেন, সাহাবিরা সবাই ন্যায়নিষ্ঠ। তাদের মধ্য থেকে যাকেই তুমি অনুসরণ করবে, নিশ্চিত সফলকাম হবে।

লেখক : সৈয়দপুর জামিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসা, সিরাজদিখান, মুন্সীগঞ্জ

প্রেমের নবী মোস্তফা

 কালীম মাহফুজ 
১৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাসূল আমাদের আদর্শ। আমাদের চেতনা। সবার প্রিয়। পথচলার প্রেরণা। স্বজন থেকেও আপন। আত্মার চেয়েও দামি। আমাদের শিক্ষক তিনি। আমাদের রাহবার তিনি। তিনি মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ।

যিনি এসেছিলেন কল্যাণ নিয়ে। বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হয়ে। কেবল ব্যক্তি কিংবা পারিবারিকই নয় বরং পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা ও সামগ্রিক চেতনার আদর্শিক রূপকার হিসাবে। ব্যক্তি জীবনে চলন বলন ও কথনে, পারস্পরিক আচার আচরণে যেমন ছিলেন সমুন্নত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।

তেমনি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও ছিলেন একজন সফল সমাজ সংস্কারক। বর্বর এক জাতিকে যিনি উন্নীত করেছেন আদর্শের শ্রেষ্ঠ মানদণ্ডে। বানিয়েছেন সত্যের মাপকাঠি। শরিয়তের কষ্টিপাথর। যাদের সমর্থনে নির্ণীত হয় করণীয়। প্রত্যাখ্যানে নিরূপিত হয় বর্জনীয়।

রাসূল (সা.)-এর প্রতি তাদের ভালোবাসা ছিল প্রবাদতুল্য। অবিমিশ্র। মা-বাবা ও সন্তান-সন্ততির চেয়ে বেশি। আপন সত্ত্বা থেকেও বেশি। তাদের ভালোবাসার সামনে দুনিয়ার সম্পদ ছিল মূল্যহীন। যৌবনের রূপ লাবণ্য ছিল অর্থহীন। ক্ষমতার দাপট ছিল গুরুত্বহীন।

আনুগত্য ও ভালোবাসার যে দাস্তান তারা রচনা করেছেন ইতিহাসের পাতায় তা বিরল এক অধ্যায় হিসাবে জ্বলজ্বল করছে। সাহাবায়ে কেরামের জীবনে এর অফুরন্ত নজির রয়েছে।

হিজরতের ঠিক পূর্ব মুহূর্ত। ‘দারুননদওয়া’য় সিদ্ধান্ত হলো প্রত্যেক গোত্রের একেকজন লোক শরিক হয়ে রাসূলের গৃহ ঘেরাও করবে। যখনই তিনি বের হবেন তখন একযোগে আক্রমণ করবে। সিদ্ধান্ত মোতাবেক তারা তার গৃহ ঘেরাও করে বসল। রাসূলে আকরাম (সা.) আঁচ করতে পেরে এ রাতেই হিজরতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। হজরত আলী (রা.)কে দায়িত্ব দিলেন, তিনি যেন তাঁর কাছে গচ্ছিত আমানত যথাযথ জায়গায় ফিরিয়ে দেন। তখন হজরত আলী (রা.) রাসূলের দেওয়া এ গুরু দায়িত্ব আদায়ে একটুও পিছপা হননি। বরং নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও তার বিছানায় শুয়ে পড়লেন। প্রিয় নবীকে বাঁচানোর জন্য নিজের জীবনেরও পরওয়া করেননি।

বদর যুদ্ধের আগের দিন। রাসূল (সা.) যখন চিন্তাক্লিষ্ট। তখন আনসার সাহাবায়ে কেরাম দরাজ কণ্ঠে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা বনি ইসরাইলের মতো যুদ্ধের ময়দান থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে চলে আসার লোক নই! আমরা তো আপনার ডানে-বামে, সম্মুখে-পেছনে থেকে যুদ্ধ করে যাব। আপনার নির্দেশে জীবন কুরবান করে দিতে আমাদের মন উৎসুক হয়ে আছে। (বুখারি)।

এ ছিল রাসূলের প্রতি সাহাবায়ে কেরামের ভালোবাসার এক ঝলক। তাদের জীবনালেখ্যে এমন আরও কত শত ঘটনা রয়েছে যার দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। তাদের ভালোবাসার এ অপরূপ দাস্তান দেখে হজরত আবু সুফিয়ান (রা.) কাফের থাকাবস্থায়ই আশ্চর্যের আতিশয্যে বলেছিলেন, মুহাম্মাদের সহচরবৃন্দ তাঁকে যতটুকু ভালোবাসে আমি এর নজির কোথাও দেখিনি।

রাসূল (সা.)-এর প্রতি তাদের এ অনাবিল ভালোবাসা ও আনুগত্যের প্রতিদান স্বরূপ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঘোষণা দেন, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট। তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। রাসূল (সা.) বলেন, সাহাবিরা সবাই ন্যায়নিষ্ঠ। তাদের মধ্য থেকে যাকেই তুমি অনুসরণ করবে, নিশ্চিত সফলকাম হবে।

লেখক : সৈয়দপুর জামিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসা, সিরাজদিখান, মুন্সীগঞ্জ

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন