তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে
jugantor
তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে

  মুহাম্মাদ আকতার আল-হুসাইন  

২২ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সত্য ও সুন্দরের বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে এসেছেন অসংখ্য নবি ও রাসূল। সর্বশেষ নবি হিসাবে এসেছিলেন মুহাম্মাদ (সা.)। তাঁর আগমনের খবর বর্ণিত হয়েছে আগেকার বহু আসমানি কিতাবে। তাঁর শুভাগমন সংবাদ দিয়ে গেছেন অগণিত আল্লাহর দূত। এ সম্পর্কে বিস্তারিত লিখেছেন-মুহাম্মাদ আকতার আল-হুসাইন

আল্লাহর সুসংবাদ

স্মরণ করুন! যখন আল্লাহ নবিদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন এই বলে-আমি তোমাদের যে কিতাব ও প্রজ্ঞা দান করেছি তা গ্রহণ কর। অতঃপর তোমাদের কাছে যা আছে তার সমর্থক একজন রাসূল আসবেন। তখন অবশ্যই তোমরা তাঁর প্রতি ইমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে। তিনি বলেছিলেন, তোমরা কি স্বীকার করলে এবং এ ব্যাপারে আমার চুক্তি গ্রহণ করলে?

তারা বলেছিলেন, স্বীকার করলাম। তিনি বলেছিলেন, তাহলে তোমরা সাক্ষী থেক, আর আমিও তোমাদের সঙ্গে সাক্ষী থাকলাম। (আল-ইমরানের ৮১)। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আল্লাহতায়ালা সব রাসূলদের কাছ থেকে মুহাম্মাদ (সা.) সম্পর্কে অঙ্গীকার নেন যে, তারা স্বয়ং যদি তাঁর সময়ে জীবিত থাকেন, তবে যেন তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেন তথা ইমান আনেন এবং তাঁকে সাহায্য করেন।

আপন উম্মতকেও যেন এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়ে যান। আল্লাহতায়ালা রুহ জগতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আগমনের সুসংবাদ দিয়েছিলেন। তা-ও আবার সব নবি রাসূলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়ে যে, শেষ নবির সাক্ষাৎ পেলে তার প্রতি ইমান আনতে ও ইসলাম প্রচারে সাহায্য করতে।

আদম (আ.)-এর সুসংবাদ

হজরত আদম (আ.) আপন পুত্র শীস (আ.)কে লক্ষ্য করে বললেন, হে আমার ছেলে! আমার পরে তুমি খলিফা হবে। সুতরাং খলিফা হওয়ার পর খেলাফতকে খোদাভীতির মুকুট ও দৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরবে। আর যখন আল্লাহর নাম নেবে তখন মুহাম্মাদ (সা.) এর নাম নেবে।

তার কারণ হলো, আমি যখন রুহ আর মাটির মধ্যে ছিলাম, তখন এই পবিত্র নাম আরশের খুঁটিতে আল্লাহর নামের সঙ্গে লিখিত দেখেছি। এরপর আমি সব আকাশ ভ্রমণ করেছি, আকাশের কোনো একটি স্থান পাইনি, যেখানে এই পবিত্র নাম লেখা নেই। আমার রব আমাকে জান্নাতে দিলেন, তখন জান্নাতের এমন কোনো প্রাসাদ বা কক্ষ পাইনি, যেখানে এই পবিত্র নাম লেখা নেই।

আমি মুহাম্মাদ (সা.) এর পবিত্র নাম লেখা দেখেছি হুরদের কপালে, জান্নাতের সব গাছের পাতায়, বিশেষ করে তুবা ও সিদরাতুল মুনতাহা নামক গাছের পাতায় পাতায়, পর্দার কিনারায় এবং ফেরেশতাদের চোখের মণিতে এই পবিত্র নাম লেখা দেখেছি। সুতরাং হে আমার ছেলে!

তুমি এই পবিত্র নাম বেশি বেশি জপতে থাক। কেননা ফেরেশতারা আগে থেকেই এ পবিত্র নাম জপনে নিয়োজিত আছেন।

ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়া

হে আমাদের প্রভু! আর তুমি তাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল প্রেরণ কর, যিনি তাদের আপনার আয়াতগুলো পাঠ করে শোনাবেন। এবং তাদের কিতাব ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেবেন, আর তাদের পরিশুদ্ধ করবেন। তুমিই তো মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (বাকারা ১২৯)।

হজরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছিলেন আমাদের নবির আগমনের জন্য, আর সেই দোয়ার জবাব আল্লাহতায়ালা বলেছেন-আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, যখন তিনি তাদের নিজেদের থেকেই তাদের মধ্যে এমন একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের তাঁর আয়াতগুলো তথা কুরআন শরিফ পাঠ করে শোনান, তাদের পরিশোধন করেন ও কিতাব এবং জ্ঞান শিক্ষা দেন, যদিও তারা আগে স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে ছিল।

তাওরাত ও ইঞ্জিলে সুসংবাদ

পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবগুলোয়ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আগমনের সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছিল। আল্লাহতায়ালা বলেছেন-পূর্ববর্তীদের কিতাবগুলোয় (তাওরাত ও ইঞ্জিল)-এর উল্লেখ রয়েছে। (সূরা আশশু’আরার ১৬৪)।

হজরত আতা ইবনে ইয়াসার (রা.) বলেন, আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললাম, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যেসব গুণ তাওরাতে উল্লেখ আছে, তা আমাকে বলে দিন। তখন তিনি আমাকে বললেন, হ্যাঁ কুরআন শরিফে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যেসব গুণাবলি উল্লেখ করা হয়েছে, এ রকম অনেক গুণ দিয়ে তাওরাতেও ডাকা হয়েছে।

যেমন-হে নবি! আমি আপনাকে পাঠিয়েছি একজন সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসাবে।

ঈসা (আ.)-এর সুসংবাদ

স্মরণ করুন মরিয়মের পুত্র ঈসা বলেছিলেন, হে বনি ইসরাঈল! আমি তোমাদের কাছে প্রেরিত আল্লাহর রাসূল। আমার সামনে যে তাওরাত আছে, আমি তাকে সত্য কিতাব বলছি এবং আমার পর আহমাদ নামের একজন রাসূল আসার সুসংবাদ দিচ্ছি। অতঃপর সে যখন স্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এলো, তখন তারা বলল, এত পরিষ্কার এক জাদু।

লেখক : আলেম ও প্রাবন্ধিক

তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে

 মুহাম্মাদ আকতার আল-হুসাইন 
২২ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সত্য ও সুন্দরের বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে এসেছেন অসংখ্য নবি ও রাসূল। সর্বশেষ নবি হিসাবে এসেছিলেন মুহাম্মাদ (সা.)। তাঁর আগমনের খবর বর্ণিত হয়েছে আগেকার বহু আসমানি কিতাবে। তাঁর শুভাগমন সংবাদ দিয়ে গেছেন অগণিত আল্লাহর দূত। এ সম্পর্কে বিস্তারিত লিখেছেন-মুহাম্মাদ আকতার আল-হুসাইন

আল্লাহর সুসংবাদ

স্মরণ করুন! যখন আল্লাহ নবিদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন এই বলে-আমি তোমাদের যে কিতাব ও প্রজ্ঞা দান করেছি তা গ্রহণ কর। অতঃপর তোমাদের কাছে যা আছে তার সমর্থক একজন রাসূল আসবেন। তখন অবশ্যই তোমরা তাঁর প্রতি ইমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে। তিনি বলেছিলেন, তোমরা কি স্বীকার করলে এবং এ ব্যাপারে আমার চুক্তি গ্রহণ করলে?

তারা বলেছিলেন, স্বীকার করলাম। তিনি বলেছিলেন, তাহলে তোমরা সাক্ষী থেক, আর আমিও তোমাদের সঙ্গে সাক্ষী থাকলাম। (আল-ইমরানের ৮১)। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আল্লাহতায়ালা সব রাসূলদের কাছ থেকে মুহাম্মাদ (সা.) সম্পর্কে অঙ্গীকার নেন যে, তারা স্বয়ং যদি তাঁর সময়ে জীবিত থাকেন, তবে যেন তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেন তথা ইমান আনেন এবং তাঁকে সাহায্য করেন।

আপন উম্মতকেও যেন এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়ে যান। আল্লাহতায়ালা রুহ জগতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আগমনের সুসংবাদ দিয়েছিলেন। তা-ও আবার সব নবি রাসূলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়ে যে, শেষ নবির সাক্ষাৎ পেলে তার প্রতি ইমান আনতে ও ইসলাম প্রচারে সাহায্য করতে।

আদম (আ.)-এর সুসংবাদ

হজরত আদম (আ.) আপন পুত্র শীস (আ.)কে লক্ষ্য করে বললেন, হে আমার ছেলে! আমার পরে তুমি খলিফা হবে। সুতরাং খলিফা হওয়ার পর খেলাফতকে খোদাভীতির মুকুট ও দৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরবে। আর যখন আল্লাহর নাম নেবে তখন মুহাম্মাদ (সা.) এর নাম নেবে।

তার কারণ হলো, আমি যখন রুহ আর মাটির মধ্যে ছিলাম, তখন এই পবিত্র নাম আরশের খুঁটিতে আল্লাহর নামের সঙ্গে লিখিত দেখেছি। এরপর আমি সব আকাশ ভ্রমণ করেছি, আকাশের কোনো একটি স্থান পাইনি, যেখানে এই পবিত্র নাম লেখা নেই। আমার রব আমাকে জান্নাতে দিলেন, তখন জান্নাতের এমন কোনো প্রাসাদ বা কক্ষ পাইনি, যেখানে এই পবিত্র নাম লেখা নেই।

আমি মুহাম্মাদ (সা.) এর পবিত্র নাম লেখা দেখেছি হুরদের কপালে, জান্নাতের সব গাছের পাতায়, বিশেষ করে তুবা ও সিদরাতুল মুনতাহা নামক গাছের পাতায় পাতায়, পর্দার কিনারায় এবং ফেরেশতাদের চোখের মণিতে এই পবিত্র নাম লেখা দেখেছি। সুতরাং হে আমার ছেলে!

তুমি এই পবিত্র নাম বেশি বেশি জপতে থাক। কেননা ফেরেশতারা আগে থেকেই এ পবিত্র নাম জপনে নিয়োজিত আছেন।

ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়া

হে আমাদের প্রভু! আর তুমি তাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল প্রেরণ কর, যিনি তাদের আপনার আয়াতগুলো পাঠ করে শোনাবেন। এবং তাদের কিতাব ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেবেন, আর তাদের পরিশুদ্ধ করবেন। তুমিই তো মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (বাকারা ১২৯)।

হজরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছিলেন আমাদের নবির আগমনের জন্য, আর সেই দোয়ার জবাব আল্লাহতায়ালা বলেছেন-আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, যখন তিনি তাদের নিজেদের থেকেই তাদের মধ্যে এমন একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের তাঁর আয়াতগুলো তথা কুরআন শরিফ পাঠ করে শোনান, তাদের পরিশোধন করেন ও কিতাব এবং জ্ঞান শিক্ষা দেন, যদিও তারা আগে স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে ছিল।

তাওরাত ও ইঞ্জিলে সুসংবাদ

পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবগুলোয়ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আগমনের সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছিল। আল্লাহতায়ালা বলেছেন-পূর্ববর্তীদের কিতাবগুলোয় (তাওরাত ও ইঞ্জিল)-এর উল্লেখ রয়েছে। (সূরা আশশু’আরার ১৬৪)।

হজরত আতা ইবনে ইয়াসার (রা.) বলেন, আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললাম, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যেসব গুণ তাওরাতে উল্লেখ আছে, তা আমাকে বলে দিন। তখন তিনি আমাকে বললেন, হ্যাঁ কুরআন শরিফে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যেসব গুণাবলি উল্লেখ করা হয়েছে, এ রকম অনেক গুণ দিয়ে তাওরাতেও ডাকা হয়েছে।

যেমন-হে নবি! আমি আপনাকে পাঠিয়েছি একজন সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসাবে।

ঈসা (আ.)-এর সুসংবাদ

স্মরণ করুন মরিয়মের পুত্র ঈসা বলেছিলেন, হে বনি ইসরাঈল! আমি তোমাদের কাছে প্রেরিত আল্লাহর রাসূল। আমার সামনে যে তাওরাত আছে, আমি তাকে সত্য কিতাব বলছি এবং আমার পর আহমাদ নামের একজন রাসূল আসার সুসংবাদ দিচ্ছি। অতঃপর সে যখন স্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এলো, তখন তারা বলল, এত পরিষ্কার এক জাদু।

লেখক : আলেম ও প্রাবন্ধিক

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন