যার শুভাগমনে দুনিয়া মাতোয়ারা
jugantor
যার শুভাগমনে দুনিয়া মাতোয়ারা

  এসএম আনওয়ারুল করীম  

২২ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে, মধু পূর্ণিমারই সেথা চাঁদও দোলে।’ হ্যাঁ আমিনা মায়ের কোলে এমন এক স্বপ্নপুরুষের শুভাগমন ঘটে, যার আগমনে তামাম জাহান হয় মাতোয়ারা।

আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগের কথা। আরব দেশের মক্কা নগরের কোরাইশ বংশে ঠিকরে পড়ে এক আলোর দ্যুতি। যে আলোকরশ্মি প্রত্যক্ষ করতে অধীর আগ্রহে প্রত্যক্ষমাণ ছিল সমগ্র সৃষ্টি। সেই মহান অতিথির আগমনের প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছিল সপ্ত আকাশ, সাত জমিন, নক্ষত্ররাজি, আকাশ, পাতাল, বায়ু তথা নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের কুল মাখলুকাত।

শুভ্র আকাশের মেঘপুঞ্জ নেচে নেচে গাইছিল তার প্রশংসাগাথা। তার শুভাগমনে আনন্দে পাতাগুলোকে দুলিয়ে নৃত্য প্রদর্শনে বাধ্য করছিল বাতাসের হিল্লোল। মহাসমুদ্রের ঢেউয়ের নাচন আনন্দের আতিশয্যে যার কদমবুচির আগ্রহে নিক্কনধ্বনি তুলছিল।

পৃথীবির বৃক্ষরাজি বিচিত্র পত্রপল্লবে সৃজিত পাখা নিয়ে যাকে বাতাস করে ধন্য হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিল। তিনি বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত উম্মতের কাণ্ডারি বিশ্বনবি হজরত মোহাম্মাদ (সা.)। হাদিসে কুদসিতে খোদ আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন : আমি মোহাম্মাদকে সৃষ্টি না করলে কুল কায়েনাতের কিছুই সৃষ্টি করতাম না।

সুতরাং অতি সহজেই অনুমেয় যে, যাকে সৃষ্টি না করলে বিশ্বজাহানের কিছুই অস্তিত্বে আসত না, যার বদৌলতে সমগ্র মাখলুকাত সৃষ্টি-তার আগমনে সৃষ্টিজগৎ উল্লাসে মেতে উঠবে আর হুর-পরি বর্ণিল সাজে সাজবে এটিই স্বাভাবিক। ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের রবিউল আউয়াল মাসের সোমবার সুবহে সাদিকের নির্মল প্রকৃতিতে ধরাধামে আগমন করেন বিশ্বনবি মোহাম্মাদ (সা.)।

মোহাম্মাদ (সা.) বিশ্বনবি। তিনি এক আদর্শ মহামানব। তিনি মানবজীবনের সব ক্ষেত্রে আদর্শ। শিশু, যুবা, আবালবৃদ্ধবনিতা নির্বিশেষে তিনি সবার জন্যই আদর্শ। ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, পেশাজীবী-সবার জীবনেই তিনি আদর্শ।

মহানবি (সা.) শুধু রবিউল আউয়াল মাসের জন্যই আমাদের নবি নন, তিনি আমাদের জীবনের সার্বক্ষণিক নবি। অতএব, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার আদর্শ অনুসরণ করে চলতে হবে। তবেই পরিলক্ষিত হবে শান্তিময় হানাহানিমুক্ত এক সোনালি বসুন্ধরা।

যার শুভাগমনে দুনিয়া মাতোয়ারা

 এসএম আনওয়ারুল করীম 
২২ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে, মধু পূর্ণিমারই সেথা চাঁদও দোলে।’ হ্যাঁ আমিনা মায়ের কোলে এমন এক স্বপ্নপুরুষের শুভাগমন ঘটে, যার আগমনে তামাম জাহান হয় মাতোয়ারা।

আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগের কথা। আরব দেশের মক্কা নগরের কোরাইশ বংশে ঠিকরে পড়ে এক আলোর দ্যুতি। যে আলোকরশ্মি প্রত্যক্ষ করতে অধীর আগ্রহে প্রত্যক্ষমাণ ছিল সমগ্র সৃষ্টি। সেই মহান অতিথির আগমনের প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছিল সপ্ত আকাশ, সাত জমিন, নক্ষত্ররাজি, আকাশ, পাতাল, বায়ু তথা নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের কুল মাখলুকাত।

শুভ্র আকাশের মেঘপুঞ্জ নেচে নেচে গাইছিল তার প্রশংসাগাথা। তার শুভাগমনে আনন্দে পাতাগুলোকে দুলিয়ে নৃত্য প্রদর্শনে বাধ্য করছিল বাতাসের হিল্লোল। মহাসমুদ্রের ঢেউয়ের নাচন আনন্দের আতিশয্যে যার কদমবুচির আগ্রহে নিক্কনধ্বনি তুলছিল।

পৃথীবির বৃক্ষরাজি বিচিত্র পত্রপল্লবে সৃজিত পাখা নিয়ে যাকে বাতাস করে ধন্য হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিল। তিনি বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত উম্মতের কাণ্ডারি বিশ্বনবি হজরত মোহাম্মাদ (সা.)। হাদিসে কুদসিতে খোদ আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন : আমি মোহাম্মাদকে সৃষ্টি না করলে কুল কায়েনাতের কিছুই সৃষ্টি করতাম না।

সুতরাং অতি সহজেই অনুমেয় যে, যাকে সৃষ্টি না করলে বিশ্বজাহানের কিছুই অস্তিত্বে আসত না, যার বদৌলতে সমগ্র মাখলুকাত সৃষ্টি-তার আগমনে সৃষ্টিজগৎ উল্লাসে মেতে উঠবে আর হুর-পরি বর্ণিল সাজে সাজবে এটিই স্বাভাবিক। ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের রবিউল আউয়াল মাসের সোমবার সুবহে সাদিকের নির্মল প্রকৃতিতে ধরাধামে আগমন করেন বিশ্বনবি মোহাম্মাদ (সা.)।

মোহাম্মাদ (সা.) বিশ্বনবি। তিনি এক আদর্শ মহামানব। তিনি মানবজীবনের সব ক্ষেত্রে আদর্শ। শিশু, যুবা, আবালবৃদ্ধবনিতা নির্বিশেষে তিনি সবার জন্যই আদর্শ। ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, পেশাজীবী-সবার জীবনেই তিনি আদর্শ।

মহানবি (সা.) শুধু রবিউল আউয়াল মাসের জন্যই আমাদের নবি নন, তিনি আমাদের জীবনের সার্বক্ষণিক নবি। অতএব, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার আদর্শ অনুসরণ করে চলতে হবে। তবেই পরিলক্ষিত হবে শান্তিময় হানাহানিমুক্ত এক সোনালি বসুন্ধরা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন