বিশ্ব শান্তির জন্য চাই বিশ্বনবির আদর্শ
jugantor
বিশ্ব শান্তির জন্য চাই বিশ্বনবির আদর্শ

  মাহমুদ আহমদ  

২২ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বনবি ও খাতামান নাবিয়্যিন হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বিশ্বময় শান্তি আর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পবিত্র এ রবিউল আউয়াল মাসে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন।

মহানবি (সা.) সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এক বিরল আদর্শ স্থাপন করে গেছেন। নিরপেক্ষ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে উঁচু-নীচু, ধনী-গরিব, আমির-ফকির, মুসলিম-অমুসলিম, আত্মীয় ও অনাÍীয় এক কথায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সঙ্গে তিনি ন্যায়বিচারের অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

মহানবি (সা.) পবিত্র কুরআনের প্রতিটি শিক্ষার ওপর পরিপূর্ণ আমল করে তা নিজ জীবনে বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন। একবার কুরাইশ বংশীয় মাখজুম গোত্রের এক সম্ভ্রান্ত মহিলা চুরির অপরাধে ধরা পড়লে রাসূলুল্লাহ (সা.) তার হাত কর্তনের নির্দেশ দেন।

আভিজাত্য ও বংশমর্যাদার উল্লেখ করে সে মহিলার শাস্তি লাঘবের জন্য রাসূলুল্লাহর (সা.) কাছে তার একান্ত স্নেহভাজন উসামা ইবনে জায়েদ (রা.) সুপারিশ করেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বলেন, ‘তুমি কি আল্লাহর দণ্ডবিধির ব্যাপারে সুপারিশ করছ?’

অতঃপর লোকজনকে আহ্বান করে মহানবি (সা.) দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন, ‘হে মানবমণ্ডলী! নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তী জনগণ পথভ্রষ্ট হয়েছে, এ জন্য যে তাদের কোনো সম্মানিত লোক চুরি করলে তখন তারা তাকে রেহাই দিত। আর যখন কোনো দুর্বল লোক চুরি করত তখন তারা তার ওপর শাস্তি প্রয়োগ করত। আল্লাহর কসম! মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও যদি চুরি করত, তবে অবশ্যই তার হস্ত কর্তন করে দিতাম’ (বোখারি ও মুসলিম)।

ইসলাম একটি শান্তিপ্রিয় ধর্ম এবং এর শিক্ষা অত্যন্ত উচ্চাঙ্গের। ইসলামের শিক্ষাগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো সমাজ ও দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে পৃথিবীতে এ পর্যন্ত যত নবি (আ.)-এর আগমন ঘটেছে, তাদের প্রত্যেককে আল্লাহতায়ালা বিশেষ যেসব দায়িত্ব দিয়েছেন তার মধ্যে প্রধান দায়িত্ব হলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

ইসলামে ন্যায়বিচারের শিক্ষা এমন এক অনিন্দ্যসুন্দর শিক্ষা, যা ন্যায়পরায়ণ প্রত্যেক অমুসলিমও শুনে প্রশংসা না করে পারে না। পৃথিবীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করাই মহানবি (সা.)-এর আগমনের উদ্দেশ্য এবং তিনি নিজ আমল দ্বারা সর্বত্র ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষমও হয়েছিলেন।

পবিত্র কুরআনে যেভাবে ইরশাদ করা হয়েছে ‘বল, আমার প্রভু আমাকে ন্যায়বিচার করার নির্দেশ দিয়েছেন’ (সূরা আরাফ : ২৯)। মহানবি (সা.) তা অক্ষরে অক্ষরে আমল করেছেন।

আল্লাহতায়ালার অনুপম শিক্ষা এবং ইসলামের সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির বহিঃপ্রকাশ তখনই সম্ভব হবে, যখন প্রত্যেক মুসলমান আল্লাহপাকের প্রতিটি আদেশের ওপর আমল করবে। ন্যায়বিচারের আদর্শ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নিজেদের ঘর, সমাজ, আপন-পর, এমনকি শত্রুমিত্র নির্বিশেষে সবার সঙ্গে ন্যায়সুলভ ব্যবহারের মাধ্যমেই আমরা মহানবি (সা.)-এর প্রকৃত অনুসারী বলে দাবি করতে পারি।

এ ছাড়া কেবল মুখে শ্রেষ্ঠ নবির উম্মত হওয়ার দাবির কোনো মূল্য আল্লাহপাকের কাছে নেই। আমাদের নিজ জীবনে মহানবির অনুপম আদর্শের প্রতিফলন ঘটাতে এবং নিজ কর্মের মাধ্যমে আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে হবে। সর্বক্ষেত্রে আমরা যখন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হব, তখনই আমরা আল্লাহর প্রেমিকও হতে পারব আর খায়রে উম্মত হিসাবে নিজদের প্রকাশ করতে পারব এবং আল্লাহর দরবারে মুমিন হিসাবে বিবেচিত হব।

মহানবি সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন। মহানবি (সা.) ঘোষণা দেন, ‘আরবের ওপর অনারবের, অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। সব মানুষ একে অপরের ভাই। সব মানুষ আদমের বংশধর আর আদম মাটি থেকে তৈরি।’ (মুসনাদে আহমাদ)।

মহানবি (সা.) সব মানুষের প্রতি ছিলেন উদার। ধর্ম-বর্ণ-জাতি-গোষ্ঠী বিচারে তিনি কারও প্রতি জুলুম-অন্যায় করেননি। তাই আসুন, মহানবির (সা.) শিক্ষা নিজেদের হৃদয়ে ধারণ করে সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনার চেষ্টা করি। আল্লাহতায়ালা আমাদের সেই তৌফিক দান করুন, আমিন।

লেখক : ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট

বিশ্ব শান্তির জন্য চাই বিশ্বনবির আদর্শ

 মাহমুদ আহমদ 
২২ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বনবি ও খাতামান নাবিয়্যিন হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বিশ্বময় শান্তি আর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পবিত্র এ রবিউল আউয়াল মাসে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন।

মহানবি (সা.) সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এক বিরল আদর্শ স্থাপন করে গেছেন। নিরপেক্ষ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে উঁচু-নীচু, ধনী-গরিব, আমির-ফকির, মুসলিম-অমুসলিম, আত্মীয় ও অনাÍীয় এক কথায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সঙ্গে তিনি ন্যায়বিচারের অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

মহানবি (সা.) পবিত্র কুরআনের প্রতিটি শিক্ষার ওপর পরিপূর্ণ আমল করে তা নিজ জীবনে বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন। একবার কুরাইশ বংশীয় মাখজুম গোত্রের এক সম্ভ্রান্ত মহিলা চুরির অপরাধে ধরা পড়লে রাসূলুল্লাহ (সা.) তার হাত কর্তনের নির্দেশ দেন।

আভিজাত্য ও বংশমর্যাদার উল্লেখ করে সে মহিলার শাস্তি লাঘবের জন্য রাসূলুল্লাহর (সা.) কাছে তার একান্ত স্নেহভাজন উসামা ইবনে জায়েদ (রা.) সুপারিশ করেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বলেন, ‘তুমি কি আল্লাহর দণ্ডবিধির ব্যাপারে সুপারিশ করছ?’

অতঃপর লোকজনকে আহ্বান করে মহানবি (সা.) দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন, ‘হে মানবমণ্ডলী! নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তী জনগণ পথভ্রষ্ট হয়েছে, এ জন্য যে তাদের কোনো সম্মানিত লোক চুরি করলে তখন তারা তাকে রেহাই দিত। আর যখন কোনো দুর্বল লোক চুরি করত তখন তারা তার ওপর শাস্তি প্রয়োগ করত। আল্লাহর কসম! মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও যদি চুরি করত, তবে অবশ্যই তার হস্ত কর্তন করে দিতাম’ (বোখারি ও মুসলিম)।

ইসলাম একটি শান্তিপ্রিয় ধর্ম এবং এর শিক্ষা অত্যন্ত উচ্চাঙ্গের। ইসলামের শিক্ষাগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো সমাজ ও দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে পৃথিবীতে এ পর্যন্ত যত নবি (আ.)-এর আগমন ঘটেছে, তাদের প্রত্যেককে আল্লাহতায়ালা বিশেষ যেসব দায়িত্ব দিয়েছেন তার মধ্যে প্রধান দায়িত্ব হলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

ইসলামে ন্যায়বিচারের শিক্ষা এমন এক অনিন্দ্যসুন্দর শিক্ষা, যা ন্যায়পরায়ণ প্রত্যেক অমুসলিমও শুনে প্রশংসা না করে পারে না। পৃথিবীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করাই মহানবি (সা.)-এর আগমনের উদ্দেশ্য এবং তিনি নিজ আমল দ্বারা সর্বত্র ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষমও হয়েছিলেন।

পবিত্র কুরআনে যেভাবে ইরশাদ করা হয়েছে ‘বল, আমার প্রভু আমাকে ন্যায়বিচার করার নির্দেশ দিয়েছেন’ (সূরা আরাফ : ২৯)। মহানবি (সা.) তা অক্ষরে অক্ষরে আমল করেছেন।

আল্লাহতায়ালার অনুপম শিক্ষা এবং ইসলামের সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির বহিঃপ্রকাশ তখনই সম্ভব হবে, যখন প্রত্যেক মুসলমান আল্লাহপাকের প্রতিটি আদেশের ওপর আমল করবে। ন্যায়বিচারের আদর্শ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নিজেদের ঘর, সমাজ, আপন-পর, এমনকি শত্রুমিত্র নির্বিশেষে সবার সঙ্গে ন্যায়সুলভ ব্যবহারের মাধ্যমেই আমরা মহানবি (সা.)-এর প্রকৃত অনুসারী বলে দাবি করতে পারি।

এ ছাড়া কেবল মুখে শ্রেষ্ঠ নবির উম্মত হওয়ার দাবির কোনো মূল্য আল্লাহপাকের কাছে নেই। আমাদের নিজ জীবনে মহানবির অনুপম আদর্শের প্রতিফলন ঘটাতে এবং নিজ কর্মের মাধ্যমে আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে হবে। সর্বক্ষেত্রে আমরা যখন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হব, তখনই আমরা আল্লাহর প্রেমিকও হতে পারব আর খায়রে উম্মত হিসাবে নিজদের প্রকাশ করতে পারব এবং আল্লাহর দরবারে মুমিন হিসাবে বিবেচিত হব।

মহানবি সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন। মহানবি (সা.) ঘোষণা দেন, ‘আরবের ওপর অনারবের, অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। সব মানুষ একে অপরের ভাই। সব মানুষ আদমের বংশধর আর আদম মাটি থেকে তৈরি।’ (মুসনাদে আহমাদ)।

মহানবি (সা.) সব মানুষের প্রতি ছিলেন উদার। ধর্ম-বর্ণ-জাতি-গোষ্ঠী বিচারে তিনি কারও প্রতি জুলুম-অন্যায় করেননি। তাই আসুন, মহানবির (সা.) শিক্ষা নিজেদের হৃদয়ে ধারণ করে সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনার চেষ্টা করি। আল্লাহতায়ালা আমাদের সেই তৌফিক দান করুন, আমিন।

লেখক : ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন