শিশুদের প্রতি রাসূলুল্লাহর ভালোবাসা
jugantor
শিশুদের প্রতি রাসূলুল্লাহর ভালোবাসা

  এএইচএম আবুল কালাম আযাদ  

২৯ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বনবি মুহাম্মাদ (সা.) শিশুদের মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন, স্নেহ করতেন। যে কোনো শিশুকে তিনি নিজের সন্তানের মতো আদর-সোহাগও করতেন।

নিষ্পাপ শিশু-কিশোরদের মন খুবই সরল, কোমল ও পবিত্র। তিনি বলতেন, ‘শিশুরা বেহেশতের প্রজাপতি।’ অর্থাৎ প্রজাপতিরা যেমন তাদের সুন্দর শরীর আর মন নিয়ে ফুলবনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, শিশুরাও তেমনি তাদের সুন্দর মন নিয়ে পৃথিবীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। প্রজাপতির স্বভাব যেমন নিষ্কলুষ, শিশুরাও তেমনি নিষ্কলুষ।

সন্তানের প্রতি রাসূলুল্লাহর (সা.) ভালোবাসা : রাসূলুল্লাহ (সা.) শিশুদের খুবই ভালোবাসতেন ও স্নেহ করতেন। বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আনাস (রা.) বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চেয়ে আর কাউকেও সন্তানের প্রতি এত অধিক স্নেহ-ভালোবাসা প্রকাশ করতে দেখিনি।’ তিনি প্রাণপ্রিয় কন্যা

‘খাতুনে জান্নাত’ হজরত ফাতেমা (রা.) কে খুবই স্নেহ করে প্রায়ই বলতেন, ‘ফাতেমা আমার কলিজার টুকরা’। শিশু ফাতেমা (রা.) যখন তাঁর কাছে যেতেন, তিনি উঠে দাঁড়াতেন এবং ফাতেমার হাত ধরে চুমু দিয়ে তাকে মজলিসে বসাতেন (আবু দাউদ)।’

এতিম শিশুদের প্রতি রাসূলুল্লাহর (সা.) ভালোবাসা : নবি করিম (সা.) অবহেলিত শিশুদের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসস্থান, চিকিৎসা ও বিনোদনের যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা ও ভালোবাসা দিয়ে ধর্মে-কর্মে যথার্থ মানুষ হিসাবে গঠন করেছিলেন। সব শিশুর প্রতি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ভালোবাসা থাকলেও এতিম শিশুদের প্রতি তাঁর দরদ ছিল আরও বেশি।

এক ঈদের দিনে সকালবেলা নবিজি (সা.) দেখলেন, রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে একটা শিশু কাঁদছে। পরনে তার ছিন্ন বস্ত্র। সারা শরীর কাদায় ঢাকা। শিশুটির কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে তিনি জানতে পারলেন, ছেলেটি এতিম। অর্থাৎ তার মা-বাবা কেউ নেই। এ কথা শুনে তাঁর খুব খারাপ লাগল। শিশুটির প্রতি তাঁর মায়া হলো। তাকে সঙ্গে করে বাড়িতে নিয়ে এলেন।

স্ত্রী আয়েশাকে (রা.) বললেন, শিশুটিকে ভালোভাবে গোসল করিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করিয়ে দিতে। হজরত আয়েশা (রা.) তাকে তেমনিভাবে করিয়ে দেওয়ার পর তিনি নিজ হাতে তাকে নতুন পোশাক পরিয়ে ঈদের নামাজ পড়তে নিয়ে গেলেন। আদর করে শিশুটিকে বললেন, ‘আজ থেকে আমি তোমার বাবা আর আয়েশা তোমার মা।’

শিশুদের সঙ্গে রাসূলুল্লাহর (সা.) খেলাধুলা করা : তিনি বলেন, ‘শিশুদের যে ভালোবাসে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ শিশুদের দেখলে তিনি আদর করতেন। দু’হাত মেলে দিতেন তাদের দিকে। তারপর বলতেন, ‘দেখি তো, কে আগে আমার কাছে পৌঁছাতে পার।’ সব শিশু একসঙ্গে দৌড়ে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ত। কেউ তাঁর কোলে, কেউ তাঁর কাঁধে, কেউ তাঁর বুকে। কেউ ঝুলে পড়ত তাঁর গলায়। এসব শিশুর অনেককেই তিনি হয়তো চিনতেন না। কিন্তু তাদের সবাইকে নিয়ে তিনি আদর করতেন। সবার সঙ্গে আনন্দ করে খেলাধুলা করতেন।

শিশু হাসান (রা.) ও হোসেন (রা.) ছিলেন নবিজির (সা.) নাতি। নবিজি (সা.) তাদের অত্যন্ত স্নেহ করতেন। তাদের দুইজনকে নিয়ে প্রায় সময় তিনি মজার মজার খেলা করতেন। নানা নিজে হামাগুড়ি দিয়ে ঘোড়া সাজতেন। দুই নাতি পিঠে সওয়ার হতেন।

অনেক সময় নবিজি (সা.) যখন নামাজে সেজদায় যেতেন, শিশু দুই নাতি তাঁর পিঠে চড়ে বসতেন। তারা তাঁর পিঠ থেকে না নামা পর্যন্ত তিনি সেজদারত অবস্থায় থাকতেন। কিন্তু কখনোই তিনি বিরক্তিবোধ করতেন না। নিষেধও করতেন না।

শিশুর মোহাব্বতে রাসূলুল্লাহর (সা.) খুতবা বন্ধ করা : নবি করিম (সা.)-এর জীবনে শিশু-কিশোরদের প্রতি স্নেহ-ভালোবাসার অনেক ঘটনা বিদ্যমান। একদিন নবিজি (সা.) মসজিদে খুতবা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ দেখলেন তাঁর শিশু নাতি হাসান (রা.) ও হোসেন (রা.) তাঁর দিকে দৌড়ে আসতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যাওয়ার অবস্থা। সঙ্গে সঙ্গে খুতবা দেওয়া বন্ধ করে মিম্বর থেকে ছুটে এসে তিনি তাদের কোলে তুলে নিলেন। তারপর তাদের সামনে বসিয়ে রেখে আবার খুতবা দিতে শুরু করলেন।

মসজিদে কোনো শিশু এলে তাকে তিনি সামনে ডেকে নিতেন। তিনি তাঁর সাহাবাদের উদ্দেশ করে বলতেন, ‘শিশুদের প্রতি এমন আচরণ করো, যাতে তাদের মধ্যে আত্মসম্মানবোধ সৃষ্টি হয়।’

শিশুদের দুষ্টামিতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কষ্ট না পাওয়া : শিশুদের কোনো ধরনের আচরণেই কখনো তিনি বিরক্ত হতেন না। একবার তিনি একটা শিশুকে কোলে নিয়ে মিষ্টি খাওয়াচ্ছিলেন, এমন সময় শিশুটি হঠাৎ তাঁর কোলে প্রস্রাব করে দিল। কিন্তু তিনি তাতে বিন্দুমাত্র বিরক্তও হলেন না; বরং নিজেই পানি দিয়ে ওই স্থানটি ধুয়ে নিলেন।

এমনিভাবে শিশুদের তিনি অন্তর দিয়ে অকৃত্রিমভাবে ভালোবাসতেন। হজরত আনাস (রা.) দীর্ঘদিন নবিজির (সা.) ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহর (সা.) মতো শিশুদের এত অধিক ভালোবাসতে আর কাউকে দেখিনি।’

নবিজির প্রতি শিশুদের মোহাব্বত : নবিজি (সা.) শুধু শিশুদের ভালোবাসতেন না, শিশুরাও নবিজি (সা.) কে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন। নবিজি (সা.) কোন পথ দিয়ে আসবেন জানতে পেরে সে এলাকার শিশুরা পথের দু’পাশে এসে হাজির হতো। নবিজির (সা.) আগমন ঘটলে তারা নেচে-গেয়ে আনন্দ-উল্লাস শুরু করে দিত। নবিজিও (সা.) এতে খুব আনন্দ করতেন। শিশুরাও নবিজির (সা.) আদর পেয়ে আনন্দে উচ্ছল হয়ে উঠত।

শিশুদের ভালো শিক্ষা দেওয়ার নির্দেশ : শিশুদের কোনো ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন না করে তাদের সঙ্গে সব সময় ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাদানের কথা উল্লেখ করে নবি করিম (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরা শিশু সন্তানদের স্নেহ করো, তাদের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করো এবং সদাচরণ ও শিষ্টাচার শিক্ষা দাও।’ (তিরমিজি)।

অন্যকে জ্ঞানদান করা উত্তম কাজ। কিন্তু শিশুদের জ্ঞানদান করা আরও উত্তম। তাই রাসূলুল্লাহ (সা.) মানব সন্তানকে সুশিক্ষা প্রদানের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘সন্তানকে সদাচার শিক্ষা দেওয়া দান-খয়রাতের চেয়েও উত্তম।’ শিশুদের উত্তম ও যুগোপযোগী শিক্ষাদানের জন্য তিনি নির্দেশ প্রদান করেছেন, ‘তোমাদের সন্তানদের উত্তমরূপে জ্ঞানদান করো। কেননা তারা তোমাদের পরবর্তী যুগের জন্য (মুসলিম) সৃষ্ট।’

শিশুদের কোমল ও পবিত্র মনে যদি একবার কোনো খারাপ ধারণা বা ভয়ভীতি প্রবেশ করে, তবে তা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে থেকে যায়। তাই নবি করিম (সা.) শিশু-কিশোরদের সঙ্গে খেলাচ্ছলেও মিথ্যা বা প্রতারণা করতে নিষেধ করেছেন।

শিশুদের প্রতি রাসূলুল্লাহর ভালোবাসা

 এএইচএম আবুল কালাম আযাদ 
২৯ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বনবি মুহাম্মাদ (সা.) শিশুদের মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন, স্নেহ করতেন। যে কোনো শিশুকে তিনি নিজের সন্তানের মতো আদর-সোহাগও করতেন।

নিষ্পাপ শিশু-কিশোরদের মন খুবই সরল, কোমল ও পবিত্র। তিনি বলতেন, ‘শিশুরা বেহেশতের প্রজাপতি।’ অর্থাৎ প্রজাপতিরা যেমন তাদের সুন্দর শরীর আর মন নিয়ে ফুলবনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, শিশুরাও তেমনি তাদের সুন্দর মন নিয়ে পৃথিবীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। প্রজাপতির স্বভাব যেমন নিষ্কলুষ, শিশুরাও তেমনি নিষ্কলুষ।

সন্তানের প্রতি রাসূলুল্লাহর (সা.) ভালোবাসা : রাসূলুল্লাহ (সা.) শিশুদের খুবই ভালোবাসতেন ও স্নেহ করতেন। বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আনাস (রা.) বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চেয়ে আর কাউকেও সন্তানের প্রতি এত অধিক স্নেহ-ভালোবাসা প্রকাশ করতে দেখিনি।’ তিনি প্রাণপ্রিয় কন্যা

‘খাতুনে জান্নাত’ হজরত ফাতেমা (রা.) কে খুবই স্নেহ করে প্রায়ই বলতেন, ‘ফাতেমা আমার কলিজার টুকরা’। শিশু ফাতেমা (রা.) যখন তাঁর কাছে যেতেন, তিনি উঠে দাঁড়াতেন এবং ফাতেমার হাত ধরে চুমু দিয়ে তাকে মজলিসে বসাতেন (আবু দাউদ)।’

এতিম শিশুদের প্রতি রাসূলুল্লাহর (সা.) ভালোবাসা : নবি করিম (সা.) অবহেলিত শিশুদের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসস্থান, চিকিৎসা ও বিনোদনের যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা ও ভালোবাসা দিয়ে ধর্মে-কর্মে যথার্থ মানুষ হিসাবে গঠন করেছিলেন। সব শিশুর প্রতি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ভালোবাসা থাকলেও এতিম শিশুদের প্রতি তাঁর দরদ ছিল আরও বেশি।

এক ঈদের দিনে সকালবেলা নবিজি (সা.) দেখলেন, রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে একটা শিশু কাঁদছে। পরনে তার ছিন্ন বস্ত্র। সারা শরীর কাদায় ঢাকা। শিশুটির কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে তিনি জানতে পারলেন, ছেলেটি এতিম। অর্থাৎ তার মা-বাবা কেউ নেই। এ কথা শুনে তাঁর খুব খারাপ লাগল। শিশুটির প্রতি তাঁর মায়া হলো। তাকে সঙ্গে করে বাড়িতে নিয়ে এলেন।

স্ত্রী আয়েশাকে (রা.) বললেন, শিশুটিকে ভালোভাবে গোসল করিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করিয়ে দিতে। হজরত আয়েশা (রা.) তাকে তেমনিভাবে করিয়ে দেওয়ার পর তিনি নিজ হাতে তাকে নতুন পোশাক পরিয়ে ঈদের নামাজ পড়তে নিয়ে গেলেন। আদর করে শিশুটিকে বললেন, ‘আজ থেকে আমি তোমার বাবা আর আয়েশা তোমার মা।’

শিশুদের সঙ্গে রাসূলুল্লাহর (সা.) খেলাধুলা করা : তিনি বলেন, ‘শিশুদের যে ভালোবাসে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ শিশুদের দেখলে তিনি আদর করতেন। দু’হাত মেলে দিতেন তাদের দিকে। তারপর বলতেন, ‘দেখি তো, কে আগে আমার কাছে পৌঁছাতে পার।’ সব শিশু একসঙ্গে দৌড়ে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ত। কেউ তাঁর কোলে, কেউ তাঁর কাঁধে, কেউ তাঁর বুকে। কেউ ঝুলে পড়ত তাঁর গলায়। এসব শিশুর অনেককেই তিনি হয়তো চিনতেন না। কিন্তু তাদের সবাইকে নিয়ে তিনি আদর করতেন। সবার সঙ্গে আনন্দ করে খেলাধুলা করতেন।

শিশু হাসান (রা.) ও হোসেন (রা.) ছিলেন নবিজির (সা.) নাতি। নবিজি (সা.) তাদের অত্যন্ত স্নেহ করতেন। তাদের দুইজনকে নিয়ে প্রায় সময় তিনি মজার মজার খেলা করতেন। নানা নিজে হামাগুড়ি দিয়ে ঘোড়া সাজতেন। দুই নাতি পিঠে সওয়ার হতেন।

অনেক সময় নবিজি (সা.) যখন নামাজে সেজদায় যেতেন, শিশু দুই নাতি তাঁর পিঠে চড়ে বসতেন। তারা তাঁর পিঠ থেকে না নামা পর্যন্ত তিনি সেজদারত অবস্থায় থাকতেন। কিন্তু কখনোই তিনি বিরক্তিবোধ করতেন না। নিষেধও করতেন না।

শিশুর মোহাব্বতে রাসূলুল্লাহর (সা.) খুতবা বন্ধ করা : নবি করিম (সা.)-এর জীবনে শিশু-কিশোরদের প্রতি স্নেহ-ভালোবাসার অনেক ঘটনা বিদ্যমান। একদিন নবিজি (সা.) মসজিদে খুতবা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ দেখলেন তাঁর শিশু নাতি হাসান (রা.) ও হোসেন (রা.) তাঁর দিকে দৌড়ে আসতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যাওয়ার অবস্থা। সঙ্গে সঙ্গে খুতবা দেওয়া বন্ধ করে মিম্বর থেকে ছুটে এসে তিনি তাদের কোলে তুলে নিলেন। তারপর তাদের সামনে বসিয়ে রেখে আবার খুতবা দিতে শুরু করলেন।

মসজিদে কোনো শিশু এলে তাকে তিনি সামনে ডেকে নিতেন। তিনি তাঁর সাহাবাদের উদ্দেশ করে বলতেন, ‘শিশুদের প্রতি এমন আচরণ করো, যাতে তাদের মধ্যে আত্মসম্মানবোধ সৃষ্টি হয়।’

শিশুদের দুষ্টামিতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কষ্ট না পাওয়া : শিশুদের কোনো ধরনের আচরণেই কখনো তিনি বিরক্ত হতেন না। একবার তিনি একটা শিশুকে কোলে নিয়ে মিষ্টি খাওয়াচ্ছিলেন, এমন সময় শিশুটি হঠাৎ তাঁর কোলে প্রস্রাব করে দিল। কিন্তু তিনি তাতে বিন্দুমাত্র বিরক্তও হলেন না; বরং নিজেই পানি দিয়ে ওই স্থানটি ধুয়ে নিলেন।

এমনিভাবে শিশুদের তিনি অন্তর দিয়ে অকৃত্রিমভাবে ভালোবাসতেন। হজরত আনাস (রা.) দীর্ঘদিন নবিজির (সা.) ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহর (সা.) মতো শিশুদের এত অধিক ভালোবাসতে আর কাউকে দেখিনি।’

নবিজির প্রতি শিশুদের মোহাব্বত : নবিজি (সা.) শুধু শিশুদের ভালোবাসতেন না, শিশুরাও নবিজি (সা.) কে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন। নবিজি (সা.) কোন পথ দিয়ে আসবেন জানতে পেরে সে এলাকার শিশুরা পথের দু’পাশে এসে হাজির হতো। নবিজির (সা.) আগমন ঘটলে তারা নেচে-গেয়ে আনন্দ-উল্লাস শুরু করে দিত। নবিজিও (সা.) এতে খুব আনন্দ করতেন। শিশুরাও নবিজির (সা.) আদর পেয়ে আনন্দে উচ্ছল হয়ে উঠত।

শিশুদের ভালো শিক্ষা দেওয়ার নির্দেশ : শিশুদের কোনো ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন না করে তাদের সঙ্গে সব সময় ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাদানের কথা উল্লেখ করে নবি করিম (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরা শিশু সন্তানদের স্নেহ করো, তাদের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করো এবং সদাচরণ ও শিষ্টাচার শিক্ষা দাও।’ (তিরমিজি)।

অন্যকে জ্ঞানদান করা উত্তম কাজ। কিন্তু শিশুদের জ্ঞানদান করা আরও উত্তম। তাই রাসূলুল্লাহ (সা.) মানব সন্তানকে সুশিক্ষা প্রদানের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘সন্তানকে সদাচার শিক্ষা দেওয়া দান-খয়রাতের চেয়েও উত্তম।’ শিশুদের উত্তম ও যুগোপযোগী শিক্ষাদানের জন্য তিনি নির্দেশ প্রদান করেছেন, ‘তোমাদের সন্তানদের উত্তমরূপে জ্ঞানদান করো। কেননা তারা তোমাদের পরবর্তী যুগের জন্য (মুসলিম) সৃষ্ট।’

শিশুদের কোমল ও পবিত্র মনে যদি একবার কোনো খারাপ ধারণা বা ভয়ভীতি প্রবেশ করে, তবে তা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে থেকে যায়। তাই নবি করিম (সা.) শিশু-কিশোরদের সঙ্গে খেলাচ্ছলেও মিথ্যা বা প্রতারণা করতে নিষেধ করেছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন