মুজাদ্দেদে আলফে সানি (রহ.)
jugantor
মুজাদ্দেদে আলফে সানি (রহ.)

  মুনশি মুহাম্মদ উবাইদুল্লাহ  

১৯ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মাথা বরাবর একটি সাইনবোর্ড। ইংরেজিতে লেখা ‘দরগাহ শরিফ’। নাক বরাবর বড় বড় উর্দু হরফ। লেখা-‘কুতুবে রাব্বানি মুজাদ্দেদে আলফে সানি (রহ.) কা রওজা শরিফ।’

ডানে মোটা দাগে লেখা আয়াতুল কুরসি। বিড়বিড়িয়ে পাঠ করতে করতে ঢুকলাম। হাতের দু’পাশে জমকালো দুটি বাংলো। মুজাদ্দেদে আলফে সানি (রহ.)-এর বংশধরের নিবাস এটি। পূর্ব-দক্ষিণে রয়েছে আরও একটি ভবন। হাতের ইশারায় ভেতরে যেতে বলল একজন। দেখলাম, বড় একটি কামরা।

ওপরে লেখা-‘লঙ্গরখানা’। ভেতরে বড় সাইজের ৫০টি নিচু টেবিল সাজানো। দু’পাশে বসার জন্য বেশ কয়েকটি বিছানা। একসঙ্গে ৪০০ লোকের খাবার খাওয়ার সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা। গোটা দরগাহে সব মিলিয়ে রয়েছে ১৫টি ভবন।

মুজাদ্দেদে আলফে সানি (রহ.)-এর সমাধিক্ষেত্র মসজিদের পূর্ব-উত্তরে। ওজুখানার পাশে প্রধান ফটক। ওপরে বেশকিছু সতর্কবাণী লেখা-‘নারীদের ভেতরে যাওয়া নিষেধ, বাচ্চাদের সঙ্গে নেবেন না’, ইত্যাদি। কে শোনে কার কথা! সমাধিক্ষেত্রে ঢোকার আগে চারপাশে রয়েছে অজানা ৩০টি কবর।

সেগুলোর ওপর আগরবাতি জ্বলছে। নজর আটকাল গম্বুজেঘেরা আলাদা একটি ঘরে। গেটে লেখা হজরতজির নাম। অতি আগ্রহে কদম রাখলাম ভেতরে। এখানেও চোখে পড়ল মা-বোনদের। কুরআন শরিফ হাতে বসে আছেন তারা; কেউ বা তাবিজ, পানির বোতল, তেলের শিশি নিয়ে কবরের পাশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভিড় ঠেলে এগোলাম সামনে। দেখলাম, ক’জন দু’হাত তুলে প্রার্থনা করছে।

একে একে লাইন পেয়ে গেলাম। প্রাণভরে সালাম দিলাম ভেতরে ঢুকে। কবরের ওপর রয়েছে বিশেষ কিসিমের ঝাড়বাতি। মুজাদ্দেদে আলফে সানি (রহ.)-এর পাশেই শুয়ে আছেন তার দুই ছেলে। বড় বুজুর্গ ছিলেন তারাও। নাম-খাজা আহমদ (রহ.) ও খাজা সাঈদ (রহ.)।

দরগাহের অপর পাশে আলাদা করে রয়েছে তার তৃতীয় ছেলের কবর। নাম-খাজা মাসুম (রহ.)। হজরতের কবরের পাশে চোখে পড়ল একটি রুপির বাক্স। কবর জেয়ারত শেষে দর্শনার্থীরা কিছু না কিছু ফেলে যান তাতে।

পা ফেললাম সমাধিক্ষেত্রের দ্বিতীয় তলায়। ওপর থেকে দেখতে লাগলাম পুরো দরগাহ এলাকা। সময় তখন মধ্যদুপুর। মসজিদে জুমার আজান পড়ল। এ জুমার দিনেই ১৫৬১ খ্রিষ্টাব্দ মোতাবেক ৯৭১ হিজরির ১৪ শাওয়াল দিনগত রাতে তার জন্ম। আবুল বারাকাত তার উপনাম। বদরুদ্দিন তার উপাধি। জন্মের প্রায় ৪০০ বছর আগে প্রসিদ্ধ অলি শায়খ আহমদ জাম (রহ.) তার নাম রাখেন ‘আহমদ’।

জন্মের সময় তার মা অদৃশ্য আওয়াজে জানতে পারেন বিষয়টি। পিতা শায়খ আবদুল আহাদ (রহ.) ছিলেন মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় খলিফা উমর (রা.)-এর ২৭তম অধস্তন পুরুষ। ‘হে আল্লাহ, উমর ইবনুল খাত্তাব অথবা আবু জাহেলের মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করো।’ রাসূল (সা.) একবার এ দোয়া করেছিলেন।

মহানবি (সা.)-এর সেই দোয়া হজরত উমর (রা.)-এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। রাসূল (সা.)-এর ওফাতের হাজার বছর পর যখন পৃথিবীময় আবার শিরক, বেদাত, কুফরির সয়লাব হলো, তখন উমর (রা.)-এর বংশধর মুজাদ্দেদে আলফে সানি (রহ.)-এর মাধ্যমে ইসলাম আবার শিরক, বেদাতমুক্ত হয়। বিশেষভাবে বাদশাহ আকবরের দিন-ই এলাহিকে চিরতরে নিঃশেষ করার অবদান মুজাদ্দেদে আলফে সানি (রহ.)-এরই।

তিনি পিতার কাছে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। কয়েক বছরের মধ্যেই কুরআনুল কারিমের হিফজ সম্পন্ন করেন। এরপর চলে যান শিয়ালকোটের বিখ্যাত আলেম কামাল কাশ্মীরির কাছে।

সেখানে হাদিস, ফিকহ ও তাফসিরের পাশাপাশি আরবি সাহিত্যও অধ্যয়ন করেন। এরপর দেশে ফিরে অধ্যয়ন ও অধ্যাপনায় মনোনিবেশ করেন। কিন্তু জ্ঞানার্জনের অদম্য আগ্রহ তাকে আবার রাহতাস ও জৌনপুরে নিয়ে যায়। তিনি আগ্রায় অবস্থান করে আবুল ফজল ও আবুল ফয়জের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষালাভ করেন। সেখানে থাকাবস্থায় খুব কাছ থেকে সমসাময়িক চিন্তাধারা, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের সুযোগ পান।

কিছুদিনের মধ্যেই স্বীয় পিতা তাকে সেরহিন্দে ডেকে পাঠান। তিনি পিতার কাছ থেকে চিশতিয়া তরিকার দীক্ষা গ্রহণ করেন। সে সময় তিনি সোহরাওয়ার্দিয়া ও কাদরিয়া তরিকার দীক্ষাও লাভ করেন। তার উস্তাদ ইয়াকুব কাশ্মীরি (রহ.)-এর মাধ্যমে তিনি আরও একটি তরিকার শিক্ষা গ্রহণ করেন। কিন্তু কোনোটার দ্বারাই পরিপূর্ণ আত্মতৃপ্তি পাচ্ছিলেন না। ১০০৮ হিজরিতে হজযাত্রায় দিল্লি পৌঁছলে তার জনৈক বন্ধু খাজা বাকিবিল্লাহ নকশেবন্দি (রহ.)-এর কামালাত সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। শায়খের প্রতি অন্তরে আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। তিনি তার খেদমতে হাজির হন। খাজা সাহেবের সান্নিধ্যে অল্পদিন অবস্থান করার দ্বারা মুজাদ্দেদ (রহ.)-এর বহুদিনের আধ্যাত্মিক অতৃপ্তির অবসান ঘটে। অপরদিকে খাজা সাহেব (রহ.) মুজাদ্দেদে আলে সানি (রহ.)-এর সততা, সরলতা, সুন্নতের অনুসরণ ও শরিয়তের পালন দেখে অভিভূত হন। শায়খের নির্দেশে তিনি নিজ এলাকা সেরহিন্দে ফিরে আসেন।

কর্মজীবনে আসার পর তার কাছে স্পষ্ট হয়, রাষ্ট্র কীভাবে ইসলামের বিরোধিতায় অবতীর্ণ হয়েছে। তার ইমানি সুপ্ত আগুন জ্বলে ওঠে। অবস্থার পরিবর্তনই তার মূল টার্গেটে পরিণত হয়। অবতীর্ণ হন বিপ্লবের ময়দানে। সংশোধনের নিয়তে রাজ্যের কর্মকর্তাদের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের কাছে যাতায়াত আরম্ভ করেন। তারা দেখতে পেল, তিনি শুধু রক্ত-মাংসে গড়া একজন মানুষ নন; তার ভেতর রয়েছে মনুষ্যত্বের যাবতীয় গুণাবলি। তখন তারা তার সামনে নিজেদের সোপর্দ করে দিল। তার এ তৎপরতার সময় সম্রাট আকবর জীবিত ছিল। এর কিছুদিন পরই আকবর মারা যায়।

মুজাদ্দেদে আলফে সানি (রহ.) স্বীয় চিন্তাধারাকে বিভিন্ন রচনা দ্বারা প্রকাশ করেছেন। আল বাবদা ওয়াল মাআদ, রিসালা-ই তাহলিলিয়্যা, রিসালা ফি ইসবাতিন নবুওয়্যাহ ওয়া আদাবিল মুরিদিন, রদ্দে রাওয়াফিজ ও মাকতুবাত তার উল্লেখযোগ্য রচনা। অনেকের ধারণা, মাওলানা রুমি (রহ.)-এর মসনবির পর তার মাকতুবাতই ইসলামি দর্শন, নিগূঢ় তত্ত্ব, শরিয়ত ও তরিকতের বড় ভান্ডার। বিশ্বময় ইসলামের আলো ছড়িয়ে ১০৩৪ হিজরির ২৮ সফরে তিনি রাব্বে কারিমের ডাকে সাড়া দেন।

মুজাদ্দেদে আলফে সানি (রহ.)

 মুনশি মুহাম্মদ উবাইদুল্লাহ 
১৯ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মাথা বরাবর একটি সাইনবোর্ড। ইংরেজিতে লেখা ‘দরগাহ শরিফ’। নাক বরাবর বড় বড় উর্দু হরফ। লেখা-‘কুতুবে রাব্বানি মুজাদ্দেদে আলফে সানি (রহ.) কা রওজা শরিফ।’

ডানে মোটা দাগে লেখা আয়াতুল কুরসি। বিড়বিড়িয়ে পাঠ করতে করতে ঢুকলাম। হাতের দু’পাশে জমকালো দুটি বাংলো। মুজাদ্দেদে আলফে সানি (রহ.)-এর বংশধরের নিবাস এটি। পূর্ব-দক্ষিণে রয়েছে আরও একটি ভবন। হাতের ইশারায় ভেতরে যেতে বলল একজন। দেখলাম, বড় একটি কামরা।

ওপরে লেখা-‘লঙ্গরখানা’। ভেতরে বড় সাইজের ৫০টি নিচু টেবিল সাজানো। দু’পাশে বসার জন্য বেশ কয়েকটি বিছানা। একসঙ্গে ৪০০ লোকের খাবার খাওয়ার সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা। গোটা দরগাহে সব মিলিয়ে রয়েছে ১৫টি ভবন।

মুজাদ্দেদে আলফে সানি (রহ.)-এর সমাধিক্ষেত্র মসজিদের পূর্ব-উত্তরে। ওজুখানার পাশে প্রধান ফটক। ওপরে বেশকিছু সতর্কবাণী লেখা-‘নারীদের ভেতরে যাওয়া নিষেধ, বাচ্চাদের সঙ্গে নেবেন না’, ইত্যাদি। কে শোনে কার কথা! সমাধিক্ষেত্রে ঢোকার আগে চারপাশে রয়েছে অজানা ৩০টি কবর।

সেগুলোর ওপর আগরবাতি জ্বলছে। নজর আটকাল গম্বুজেঘেরা আলাদা একটি ঘরে। গেটে লেখা হজরতজির নাম। অতি আগ্রহে কদম রাখলাম ভেতরে। এখানেও চোখে পড়ল মা-বোনদের। কুরআন শরিফ হাতে বসে আছেন তারা; কেউ বা তাবিজ, পানির বোতল, তেলের শিশি নিয়ে কবরের পাশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভিড় ঠেলে এগোলাম সামনে। দেখলাম, ক’জন দু’হাত তুলে প্রার্থনা করছে।

একে একে লাইন পেয়ে গেলাম। প্রাণভরে সালাম দিলাম ভেতরে ঢুকে। কবরের ওপর রয়েছে বিশেষ কিসিমের ঝাড়বাতি। মুজাদ্দেদে আলফে সানি (রহ.)-এর পাশেই শুয়ে আছেন তার দুই ছেলে। বড় বুজুর্গ ছিলেন তারাও। নাম-খাজা আহমদ (রহ.) ও খাজা সাঈদ (রহ.)।

দরগাহের অপর পাশে আলাদা করে রয়েছে তার তৃতীয় ছেলের কবর। নাম-খাজা মাসুম (রহ.)। হজরতের কবরের পাশে চোখে পড়ল একটি রুপির বাক্স। কবর জেয়ারত শেষে দর্শনার্থীরা কিছু না কিছু ফেলে যান তাতে।

পা ফেললাম সমাধিক্ষেত্রের দ্বিতীয় তলায়। ওপর থেকে দেখতে লাগলাম পুরো দরগাহ এলাকা। সময় তখন মধ্যদুপুর। মসজিদে জুমার আজান পড়ল। এ জুমার দিনেই ১৫৬১ খ্রিষ্টাব্দ মোতাবেক ৯৭১ হিজরির ১৪ শাওয়াল দিনগত রাতে তার জন্ম। আবুল বারাকাত তার উপনাম। বদরুদ্দিন তার উপাধি। জন্মের প্রায় ৪০০ বছর আগে প্রসিদ্ধ অলি শায়খ আহমদ জাম (রহ.) তার নাম রাখেন ‘আহমদ’।

জন্মের সময় তার মা অদৃশ্য আওয়াজে জানতে পারেন বিষয়টি। পিতা শায়খ আবদুল আহাদ (রহ.) ছিলেন মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় খলিফা উমর (রা.)-এর ২৭তম অধস্তন পুরুষ। ‘হে আল্লাহ, উমর ইবনুল খাত্তাব অথবা আবু জাহেলের মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করো।’ রাসূল (সা.) একবার এ দোয়া করেছিলেন।

মহানবি (সা.)-এর সেই দোয়া হজরত উমর (রা.)-এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। রাসূল (সা.)-এর ওফাতের হাজার বছর পর যখন পৃথিবীময় আবার শিরক, বেদাত, কুফরির সয়লাব হলো, তখন উমর (রা.)-এর বংশধর মুজাদ্দেদে আলফে সানি (রহ.)-এর মাধ্যমে ইসলাম আবার শিরক, বেদাতমুক্ত হয়। বিশেষভাবে বাদশাহ আকবরের দিন-ই এলাহিকে চিরতরে নিঃশেষ করার অবদান মুজাদ্দেদে আলফে সানি (রহ.)-এরই।

তিনি পিতার কাছে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। কয়েক বছরের মধ্যেই কুরআনুল কারিমের হিফজ সম্পন্ন করেন। এরপর চলে যান শিয়ালকোটের বিখ্যাত আলেম কামাল কাশ্মীরির কাছে।

সেখানে হাদিস, ফিকহ ও তাফসিরের পাশাপাশি আরবি সাহিত্যও অধ্যয়ন করেন। এরপর দেশে ফিরে অধ্যয়ন ও অধ্যাপনায় মনোনিবেশ করেন। কিন্তু জ্ঞানার্জনের অদম্য আগ্রহ তাকে আবার রাহতাস ও জৌনপুরে নিয়ে যায়। তিনি আগ্রায় অবস্থান করে আবুল ফজল ও আবুল ফয়জের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষালাভ করেন। সেখানে থাকাবস্থায় খুব কাছ থেকে সমসাময়িক চিন্তাধারা, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের সুযোগ পান।

কিছুদিনের মধ্যেই স্বীয় পিতা তাকে সেরহিন্দে ডেকে পাঠান। তিনি পিতার কাছ থেকে চিশতিয়া তরিকার দীক্ষা গ্রহণ করেন। সে সময় তিনি সোহরাওয়ার্দিয়া ও কাদরিয়া তরিকার দীক্ষাও লাভ করেন। তার উস্তাদ ইয়াকুব কাশ্মীরি (রহ.)-এর মাধ্যমে তিনি আরও একটি তরিকার শিক্ষা গ্রহণ করেন। কিন্তু কোনোটার দ্বারাই পরিপূর্ণ আত্মতৃপ্তি পাচ্ছিলেন না। ১০০৮ হিজরিতে হজযাত্রায় দিল্লি পৌঁছলে তার জনৈক বন্ধু খাজা বাকিবিল্লাহ নকশেবন্দি (রহ.)-এর কামালাত সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। শায়খের প্রতি অন্তরে আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। তিনি তার খেদমতে হাজির হন। খাজা সাহেবের সান্নিধ্যে অল্পদিন অবস্থান করার দ্বারা মুজাদ্দেদ (রহ.)-এর বহুদিনের আধ্যাত্মিক অতৃপ্তির অবসান ঘটে। অপরদিকে খাজা সাহেব (রহ.) মুজাদ্দেদে আলে সানি (রহ.)-এর সততা, সরলতা, সুন্নতের অনুসরণ ও শরিয়তের পালন দেখে অভিভূত হন। শায়খের নির্দেশে তিনি নিজ এলাকা সেরহিন্দে ফিরে আসেন।

কর্মজীবনে আসার পর তার কাছে স্পষ্ট হয়, রাষ্ট্র কীভাবে ইসলামের বিরোধিতায় অবতীর্ণ হয়েছে। তার ইমানি সুপ্ত আগুন জ্বলে ওঠে। অবস্থার পরিবর্তনই তার মূল টার্গেটে পরিণত হয়। অবতীর্ণ হন বিপ্লবের ময়দানে। সংশোধনের নিয়তে রাজ্যের কর্মকর্তাদের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের কাছে যাতায়াত আরম্ভ করেন। তারা দেখতে পেল, তিনি শুধু রক্ত-মাংসে গড়া একজন মানুষ নন; তার ভেতর রয়েছে মনুষ্যত্বের যাবতীয় গুণাবলি। তখন তারা তার সামনে নিজেদের সোপর্দ করে দিল। তার এ তৎপরতার সময় সম্রাট আকবর জীবিত ছিল। এর কিছুদিন পরই আকবর মারা যায়।

মুজাদ্দেদে আলফে সানি (রহ.) স্বীয় চিন্তাধারাকে বিভিন্ন রচনা দ্বারা প্রকাশ করেছেন। আল বাবদা ওয়াল মাআদ, রিসালা-ই তাহলিলিয়্যা, রিসালা ফি ইসবাতিন নবুওয়্যাহ ওয়া আদাবিল মুরিদিন, রদ্দে রাওয়াফিজ ও মাকতুবাত তার উল্লেখযোগ্য রচনা। অনেকের ধারণা, মাওলানা রুমি (রহ.)-এর মসনবির পর তার মাকতুবাতই ইসলামি দর্শন, নিগূঢ় তত্ত্ব, শরিয়ত ও তরিকতের বড় ভান্ডার। বিশ্বময় ইসলামের আলো ছড়িয়ে ১০৩৪ হিজরির ২৮ সফরে তিনি রাব্বে কারিমের ডাকে সাড়া দেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন