এবার যাদের হারালাম
jugantor
এবার যাদের হারালাম

  রাকিবুল হাসান  

৩১ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এবার যাদের হারালাম

হেমন্তে গাছের হলুদ পাতা যেমন ঝরে যায়, তেমনি আমাদের দেওয়াল থেকে ঝরে গেল আরেকটি গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। টুপ করে খসে পড়ল জীবন থেকে আরও একটি বছর। এ বছর আমরা হারিয়েছি দেশের শীর্ষস্থানীয় অনেক আলেমকে। আলেমের মৃত্যু মানে একটি পৃথিবীর মৃত্যু। চলে যাওয়া আলেমদের নিয়ে লিখেছেন-রাকিবুল হাসান

মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস

মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস (রহ.) ৩১ মার্চ ২০২১ সালে ঢাকার শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তিনি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় একজন ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।

তিনি যশোর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি ও আল হাইআতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি যশোর মাদানিনগর মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস ও ঢাকার জামিয়া আরাবিয়্যা দারুল উলুম নতুনবাগসহ আরও অনেক মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস ছিলেন।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী (রহ.) ১৯ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরীর সিএসসিআর হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। ১৯৫৩ সালের ৮ অক্টোবর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার বাবুনগর গ্রামের তার জন্ম। পড়াশোনা করেছেন দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী এবং করাচিতে। ১৯৭৮ সালে বাবুনগর মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসাবে তার কর্মজীবনের সূচনা।

২০০৩ সালে তিনি দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন। পরে তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক নিযুক্ত হন। সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির পর আমৃত্যু তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসার শাইখুল হাদিস এবং শিক্ষা সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। আরবি, উর্দু ও বাংলায় তার রচিত ও সম্পাদিত প্রায় ত্রিশটি গ্রন্থ রয়েছে।

মুফতি আবদুস সালাম চাটগামী

হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রধান মুফতি আবদুস সালাম চাটগামী (রহ.) ৮ সেপ্টেম্বর ইন্তেকাল করেন। ১৯৪৩ সালে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানার নলদিয়া গ্রামে তার জন্ম। কর্মজীবনে তিনি ছিলেন পাকিস্তানের জামেয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া বানূরী টাউন করাচির সাবেক প্রধান মুফতি এবং দারুল উলুম হাটহাজারীর মুফতি ও মুহাদ্দিস। তাকে অভিহিত করা হয় বাংলাদেশের মুফতি আজম (গ্রান্ড মুফতি) বলে। করাচির প্রথম সারির প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলাদেশি এ আলেমের একাধিক গ্রন্থ মুদ্রিত হয়।

মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী

মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী (রহ.) ২৯ নভেম্বর ল্যাবএইড হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানাধীন ধুরুং গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। তিনি ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব, আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া মাখজানুল উলুম মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও শায়খুল হাদিস। এ ছাড়া তিনি ছিলেন দারুল উলুম হাটহাজারী ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মজলিসে শূরার সদস্য, যুক্তরাজ্যের জামিয়া খাতামুন্নাবিয়্যীনসহ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মসজিদ-মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক।

মাওলানা আবদুর রব

হাকিমুল ইসলাম হজরত মাওলানা জাকারিয়া (রহ.)-এর বিশিষ্ট খলিফা, জামিয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ মাদ্রাসার সাবেক শূরা প্রধান মাওলানা আবদুর রব (রহ.) ৭ জানুয়ারি মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। তিনি মদিনা হুজুর নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন। তিনি আল্লামা আহমদ শফী (রহ.)-এর সহপাঠী ছিলেন। তারা একসঙ্গে হাটহাজারী মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। তিনি ভারতের সাহারানপুরে শায়খুল হাদিস জাকারিয়া (রহ.)-এর কাছে সহিহ বোখারি ও আবু দাউদ পড়েছেন।

আল্লামা বেলায়েতুল্লাহ নূর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস আল্লামা বেলায়েতুল্লাহ নূর (রহ.) ১৩ ফেব্রুয়ারি বারডেম হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৪৯ বছর। তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ ও জেলা জামে মসজিদের সাবেক খতিব প্রয়াত মুফতি নুরুল্লাহর চতুর্থ ছেলে। তিনি গাজীপুর বরমী ও জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন।

মাওলানা সৈয়দ মাসউদ আহমদ

জামিয়া দ্বীনিয়া মৌলভীবাজারের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.)-এর অন্যতম খলিফা হজরত মাওলানা সৈয়দ মাসউদ আহমদ সাহেব ২ সেপ্টেম্বর সিলেট ওমেন্স মেডিকেল কলেজে ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক)-এর সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন।

মাওলানা শরীফুদ্দীন শাহ চৌধুরী

উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ প্রাচীন দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া আরাবিয়া দারুল হিদায়া, পোরশা, নওগাঁর মুহতামিম হজরত মাওলানা শরীফুদ্দীন শাহ চৌধুরী (রহ.) ১২ জানুয়ারি রাজশাহী পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি তার স্ত্রী, তিন মেয়েসহ হাজার হাজার ছাত্র-শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীদের রেখে গেছেন।

হাফেজ মানসূর আহমাদ

খুলনা শামছুল উলুম খাদেমুল ইসলাম পল্লীমঙ্গল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম হাফেজ মানসূর আহমাদ (রহ.) ৪ সেপ্টেম্বর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ডায়াবেটিস, কিডনি, ক্যানসারে ভুগছিলেন। তিনি ছিলেন খুলনা অঞ্চলের প্রথিতযশা ওলামায়ে কেরামের উস্তাদ, হুফ্ফাজের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি।

মাওলানা সাইফউদ্দীন ইয়াহইয়া

মাসিক কাবার পথের সম্পাদক বিশিষ্ট গবেষক আলেম মাওলানা সাইফউদ্দীন ইয়াহইয়া (রহ.) ৮ জুলাই সকাল ছয়টায় রাজধানীর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তিনি একাধারে ছিলেন দক্ষ সংগঠক, জনহিতৈষী রাজনীতিক, গবেষক আলেম, জনপ্রিয় লেখক ও সম্পাদক। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হতো মাসিক কাবার পথে ও সাপ্তাহিক ইসলাহ। তার সুনিপুণ সম্পাদনায় পত্রিকা দুটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।

এই চলে যাওয়ার ধারা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। একজন আলেম চলে যাওয়া মানে মাথার ওপর থেকে একখণ্ড শীতল মেঘ সরে যাওয়া। একটি ঝলমলে প্রদীপ নিভে যাওয়া। এক এক করে বাংলাদেশ হারাচ্ছে তার ধর্মীয় অভিভাবক। আলো ও ছায়ার বটবৃক্ষ। শূন্যতা গ্রাস করছে, হাহাকার বাড়ছে। আমাদেরই প্রয়োজনে-কল্যাণে তাদের বেঁচে থাকাটা খুব দরকার। দোয়ায় প্রার্থনায় তাদের বেঁচে থাকার মিনতি হয়ে উঠুক আমাদের কান্না, আমাদের অশ্রু। যারা চলে গেছে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে, তাদের মাগফিরাতের জন্য আমাদের হাত উঠুক মহামহিমের দরবারে। তার দরবার হতে, কেউ ফেরে না খালি হাতে।

এবার যাদের হারালাম

 রাকিবুল হাসান 
৩১ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
এবার যাদের হারালাম
ছবি: যুগান্তর

হেমন্তে গাছের হলুদ পাতা যেমন ঝরে যায়, তেমনি আমাদের দেওয়াল থেকে ঝরে গেল আরেকটি গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। টুপ করে খসে পড়ল জীবন থেকে আরও একটি বছর। এ বছর আমরা হারিয়েছি দেশের শীর্ষস্থানীয় অনেক আলেমকে। আলেমের মৃত্যু মানে একটি পৃথিবীর মৃত্যু। চলে যাওয়া আলেমদের নিয়ে লিখেছেন-রাকিবুল হাসান

মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস

মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস (রহ.) ৩১ মার্চ ২০২১ সালে ঢাকার শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তিনি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় একজন ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।

তিনি যশোর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি ও আল হাইআতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি যশোর মাদানিনগর মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস ও ঢাকার জামিয়া আরাবিয়্যা দারুল উলুম নতুনবাগসহ আরও অনেক মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস ছিলেন।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী (রহ.) ১৯ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরীর সিএসসিআর হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। ১৯৫৩ সালের ৮ অক্টোবর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার বাবুনগর গ্রামের তার জন্ম। পড়াশোনা করেছেন দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী এবং করাচিতে। ১৯৭৮ সালে বাবুনগর মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসাবে তার কর্মজীবনের সূচনা।

২০০৩ সালে তিনি দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন। পরে তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক নিযুক্ত হন। সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির পর আমৃত্যু তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসার শাইখুল হাদিস এবং শিক্ষা সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। আরবি, উর্দু ও বাংলায় তার রচিত ও সম্পাদিত প্রায় ত্রিশটি গ্রন্থ রয়েছে।

মুফতি আবদুস সালাম চাটগামী

হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রধান মুফতি আবদুস সালাম চাটগামী (রহ.) ৮ সেপ্টেম্বর ইন্তেকাল করেন। ১৯৪৩ সালে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানার নলদিয়া গ্রামে তার জন্ম। কর্মজীবনে তিনি ছিলেন পাকিস্তানের জামেয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া বানূরী টাউন করাচির সাবেক প্রধান মুফতি এবং দারুল উলুম হাটহাজারীর মুফতি ও মুহাদ্দিস। তাকে অভিহিত করা হয় বাংলাদেশের মুফতি আজম (গ্রান্ড মুফতি) বলে। করাচির প্রথম সারির প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলাদেশি এ আলেমের একাধিক গ্রন্থ মুদ্রিত হয়।

মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী

মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী (রহ.) ২৯ নভেম্বর ল্যাবএইড হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানাধীন ধুরুং গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। তিনি ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব, আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া মাখজানুল উলুম মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও শায়খুল হাদিস। এ ছাড়া তিনি ছিলেন দারুল উলুম হাটহাজারী ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মজলিসে শূরার সদস্য, যুক্তরাজ্যের জামিয়া খাতামুন্নাবিয়্যীনসহ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মসজিদ-মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক।

মাওলানা আবদুর রব

হাকিমুল ইসলাম হজরত মাওলানা জাকারিয়া (রহ.)-এর বিশিষ্ট খলিফা, জামিয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ মাদ্রাসার সাবেক শূরা প্রধান মাওলানা আবদুর রব (রহ.) ৭ জানুয়ারি মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। তিনি মদিনা হুজুর নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন। তিনি আল্লামা আহমদ শফী (রহ.)-এর সহপাঠী ছিলেন। তারা একসঙ্গে হাটহাজারী মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। তিনি ভারতের সাহারানপুরে শায়খুল হাদিস জাকারিয়া (রহ.)-এর কাছে সহিহ বোখারি ও আবু দাউদ পড়েছেন।

আল্লামা বেলায়েতুল্লাহ নূর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস আল্লামা বেলায়েতুল্লাহ নূর (রহ.) ১৩ ফেব্রুয়ারি বারডেম হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৪৯ বছর। তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ ও জেলা জামে মসজিদের সাবেক খতিব প্রয়াত মুফতি নুরুল্লাহর চতুর্থ ছেলে। তিনি গাজীপুর বরমী ও জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন।

মাওলানা সৈয়দ মাসউদ আহমদ

জামিয়া দ্বীনিয়া মৌলভীবাজারের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.)-এর অন্যতম খলিফা হজরত মাওলানা সৈয়দ মাসউদ আহমদ সাহেব ২ সেপ্টেম্বর সিলেট ওমেন্স মেডিকেল কলেজে ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক)-এর সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন।

মাওলানা শরীফুদ্দীন শাহ চৌধুরী

উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ প্রাচীন দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া আরাবিয়া দারুল হিদায়া, পোরশা, নওগাঁর মুহতামিম হজরত মাওলানা শরীফুদ্দীন শাহ চৌধুরী (রহ.) ১২ জানুয়ারি রাজশাহী পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি তার স্ত্রী, তিন মেয়েসহ হাজার হাজার ছাত্র-শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীদের রেখে গেছেন।

হাফেজ মানসূর আহমাদ

খুলনা শামছুল উলুম খাদেমুল ইসলাম পল্লীমঙ্গল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম হাফেজ মানসূর আহমাদ (রহ.) ৪ সেপ্টেম্বর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ডায়াবেটিস, কিডনি, ক্যানসারে ভুগছিলেন। তিনি ছিলেন খুলনা অঞ্চলের প্রথিতযশা ওলামায়ে কেরামের উস্তাদ, হুফ্ফাজের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি।

মাওলানা সাইফউদ্দীন ইয়াহইয়া

মাসিক কাবার পথের সম্পাদক বিশিষ্ট গবেষক আলেম মাওলানা সাইফউদ্দীন ইয়াহইয়া (রহ.) ৮ জুলাই সকাল ছয়টায় রাজধানীর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তিনি একাধারে ছিলেন দক্ষ সংগঠক, জনহিতৈষী রাজনীতিক, গবেষক আলেম, জনপ্রিয় লেখক ও সম্পাদক। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হতো মাসিক কাবার পথে ও সাপ্তাহিক ইসলাহ। তার সুনিপুণ সম্পাদনায় পত্রিকা দুটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।

এই চলে যাওয়ার ধারা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। একজন আলেম চলে যাওয়া মানে মাথার ওপর থেকে একখণ্ড শীতল মেঘ সরে যাওয়া। একটি ঝলমলে প্রদীপ নিভে যাওয়া। এক এক করে বাংলাদেশ হারাচ্ছে তার ধর্মীয় অভিভাবক। আলো ও ছায়ার বটবৃক্ষ। শূন্যতা গ্রাস করছে, হাহাকার বাড়ছে। আমাদেরই প্রয়োজনে-কল্যাণে তাদের বেঁচে থাকাটা খুব দরকার। দোয়ায় প্রার্থনায় তাদের বেঁচে থাকার মিনতি হয়ে উঠুক আমাদের কান্না, আমাদের অশ্রু। যারা চলে গেছে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে, তাদের মাগফিরাতের জন্য আমাদের হাত উঠুক মহামহিমের দরবারে। তার দরবার হতে, কেউ ফেরে না খালি হাতে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ফিরে দেখা ২০২১

৩১ ডিসেম্বর, ২০২১
৩১ ডিসেম্বর, ২০২১
৩১ ডিসেম্বর, ২০২১
৩১ ডিসেম্বর, ২০২১