স্বামীর উত্তরাধিকার ও জানের সদকা প্রসঙ্গে
jugantor
ইসলাম বিষয়ক প্রশ্নোত্তর
স্বামীর উত্তরাধিকার ও জানের সদকা প্রসঙ্গে

  উত্তর দিয়েছেন-মুফতি তানজিল আমির  

০৭ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আবদুর রহমান ফাইয়াজ গোপীবাগ, ঢাকা

প্রশ্ন : ছেলেমেয়ে থাকাবস্থায় স্বামী মারা গেলে স্ত্রী স্বামীর সম্পদ কতটুকু পাবে?

উত্তর : যদি স্বামী বিয়ের সময় মোহর না দিয়ে থাকেন, তা হলে প্রথমে তার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে মোহর আদায় করতে হবে। এ ছাড়া স্বামীর অন্যান্য ঋণ আদায়ের পর অবশিষ্ট সম্পদ ওয়ারিশদের মাঝে বণ্টন হবে।

মৃত ব্যক্তির সন্তানসন্ততি থাকলে স্ত্রী পাবেন স্বামীর সম্পদের আট ভাগের এক ভাগ। আর সন্তানাদি না থাকলে স্ত্রী পাবেন চার ভাগের এক ভাগ।

সূত্র : সূরা নিসা থেকে কুরআনের মিরাসসংক্রান্ত আয়াতগুলোর অর্থ ও তাফসির।

আহমাদ বিন আবদুস সালাম টঙ্গী, গাজীপুর

প্রশ্ন : জানের সদকা দেওয়া বা জানের কুরবানির মান্নত করা জায়েজ কিনা?

উত্তর : জানের বদলে (হালাল পশুর) জানের দান, সদকা, কুরবানি করার মান্নত করা নিষেধ নয়। তবে এ মান্নত দ্বারা কুরবানির উপযুক্ত একটি সম্পূর্ণ জন্তু দান করা ওয়াজিব হবে।

কেননা, কুরআন মাজিদে আল্লাহতায়ালা হজরত ইবরাহিম (আ.) কর্তৃক তার ছেলে ইসমাইলের কুরবানির পরিবর্তে পশু কুরবানি করার কথা উল্লেখ করে বলেন-‘আমি তার পরিবর্তে দিলাম জবেহ করার জন্য এক মহান জন্তু’। (সূরা সাফফাত, ১০৭ আয়াত)।

অনুরূপভাবে বিশিষ্ট তাবিঈ ইকরামা (রা.) থেকে বর্ণিত-হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) ফতওয়া দিয়েছিলেন ওই ব্যক্তির ব্যাপারে, যে নিজের ওপর নিজের জান জবেহ করা আবশ্যক করে নিয়েছে, তাকে (তার জানের পরিবর্তে দিয়াত বিধানের আলোকে) ১০০ উট জবেহ করার হুকুম করেন।

হজরত ইকরামা (রা.) বলেন, এ ঘটনার পর আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, যদি আমি তাকে একটি দুম্বার ব্যাপারে ফতওয়া দিতাম, তাহলে তার জন্য একটি দুম্বা জবেহ করলেই যথেষ্ট হতো। কেননা, আল্লাহতায়ালা স্বীয় কিতাবে বলেছেন এবং আমি তার পরিবর্তে দিলাম জবেহ করার জন্য এক মহান জন্তু (একটি দুম্বা কুরবানির নিয়ম প্রদান করলাম)। (তাফসিরে ইবন কাসির-১২/৪৪, মাকতাবাতু আওলাদিশ শাইখ)।

সুতরাং যে ব্যক্তি এ মান্নত করবে সে একটি গরু কিংবা এক বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সি একটি ছাগল বা বকরি গরিব-মিসকিনদের দান করবেন অথবা তা কোনো মাদ্রাসার লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে দান করবেন। তার জন্য এভাবেই তার মান্নত পুরা করা ওয়াজিব।

স্মরণীয় যে, মান্নত শরিয়তে নিষেধ নয় বটে; তবে পছন্দনীয়ও নয়। শরিয়ত উদ্বুদ্ধ করে নফল সদকার প্রতি; মান্নতের প্রতি নয়।

উত্তর দিয়েছেন-মুফতি তানজিল আমির, তরুণ আলেম ও গণমাধ্যমকর্মী

ইসলাম বিষয়ক প্রশ্নোত্তর

স্বামীর উত্তরাধিকার ও জানের সদকা প্রসঙ্গে

 উত্তর দিয়েছেন-মুফতি তানজিল আমির 
০৭ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আবদুর রহমান ফাইয়াজ গোপীবাগ, ঢাকা

প্রশ্ন : ছেলেমেয়ে থাকাবস্থায় স্বামী মারা গেলে স্ত্রী স্বামীর সম্পদ কতটুকু পাবে?

উত্তর : যদি স্বামী বিয়ের সময় মোহর না দিয়ে থাকেন, তা হলে প্রথমে তার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে মোহর আদায় করতে হবে। এ ছাড়া স্বামীর অন্যান্য ঋণ আদায়ের পর অবশিষ্ট সম্পদ ওয়ারিশদের মাঝে বণ্টন হবে।

মৃত ব্যক্তির সন্তানসন্ততি থাকলে স্ত্রী পাবেন স্বামীর সম্পদের আট ভাগের এক ভাগ। আর সন্তানাদি না থাকলে স্ত্রী পাবেন চার ভাগের এক ভাগ।

সূত্র : সূরা নিসা থেকে কুরআনের মিরাসসংক্রান্ত আয়াতগুলোর অর্থ ও তাফসির।

আহমাদ বিন আবদুস সালাম টঙ্গী, গাজীপুর

প্রশ্ন : জানের সদকা দেওয়া বা জানের কুরবানির মান্নত করা জায়েজ কিনা?

উত্তর : জানের বদলে (হালাল পশুর) জানের দান, সদকা, কুরবানি করার মান্নত করা নিষেধ নয়। তবে এ মান্নত দ্বারা কুরবানির উপযুক্ত একটি সম্পূর্ণ জন্তু দান করা ওয়াজিব হবে।

কেননা, কুরআন মাজিদে আল্লাহতায়ালা হজরত ইবরাহিম (আ.) কর্তৃক তার ছেলে ইসমাইলের কুরবানির পরিবর্তে পশু কুরবানি করার কথা উল্লেখ করে বলেন-‘আমি তার পরিবর্তে দিলাম জবেহ করার জন্য এক মহান জন্তু’। (সূরা সাফফাত, ১০৭ আয়াত)।

অনুরূপভাবে বিশিষ্ট তাবিঈ ইকরামা (রা.) থেকে বর্ণিত-হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) ফতওয়া দিয়েছিলেন ওই ব্যক্তির ব্যাপারে, যে নিজের ওপর নিজের জান জবেহ করা আবশ্যক করে নিয়েছে, তাকে (তার জানের পরিবর্তে দিয়াত বিধানের আলোকে) ১০০ উট জবেহ করার হুকুম করেন।

হজরত ইকরামা (রা.) বলেন, এ ঘটনার পর আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, যদি আমি তাকে একটি দুম্বার ব্যাপারে ফতওয়া দিতাম, তাহলে তার জন্য একটি দুম্বা জবেহ করলেই যথেষ্ট হতো। কেননা, আল্লাহতায়ালা স্বীয় কিতাবে বলেছেন এবং আমি তার পরিবর্তে দিলাম জবেহ করার জন্য এক মহান জন্তু (একটি দুম্বা কুরবানির নিয়ম প্রদান করলাম)। (তাফসিরে ইবন কাসির-১২/৪৪, মাকতাবাতু আওলাদিশ শাইখ)।

সুতরাং যে ব্যক্তি এ মান্নত করবে সে একটি গরু কিংবা এক বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সি একটি ছাগল বা বকরি গরিব-মিসকিনদের দান করবেন অথবা তা কোনো মাদ্রাসার লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে দান করবেন। তার জন্য এভাবেই তার মান্নত পুরা করা ওয়াজিব।

স্মরণীয় যে, মান্নত শরিয়তে নিষেধ নয় বটে; তবে পছন্দনীয়ও নয়। শরিয়ত উদ্বুদ্ধ করে নফল সদকার প্রতি; মান্নতের প্রতি নয়।

উত্তর দিয়েছেন-মুফতি তানজিল আমির, তরুণ আলেম ও গণমাধ্যমকর্মী

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন