কুরআনের আদর্শিক সুফল
jugantor
কুরআনের আদর্শিক সুফল

  মাহমুদ আহমদ  

২১ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পৃথিবীতে আজ শান্তি ও নিরাপত্তা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সর্বত্রই ভয়ভীতি আর অশান্তি পরিলক্ষিত হচ্ছে। অস্ত্রশস্ত্র এবং মানুষকে ধ্বংস করে দেওয়ার অস্ত্র ও মাধ্যম সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। একজন মানুষ অন্যজনের শত্রু বনে বসে আছে। শক্তিশালী জাতি তার চেয়ে তুলনামূলক দুর্বল জাতির ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাস দমনের নামে বৃহৎ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একটিই পথ, আর তা হলো পবিত্র কুরআনের শিক্ষার ওপর আমল আর মুসলমানরা যেন নিজেদের আমলের মাধ্যমে ইসলামকে বদনাম করা ছেড়ে দেয়। তারা যেন ইসলামের প্রকৃত শিক্ষায় আমল করে এবং পরস্পর ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়।

অন্য জাতিদের কল্যাণও এতেই নিহিত যে, তারা যেন ইসলামের পতাকাতলে সমবেত হয়ে যায়, কেননা বিশ্বের শান্তি কেবল প্রকৃত ইসলামের সঙ্গেই সম্পৃক্ত। বর্তমানে আমাদের বিশ্ব যেসব বড় বড় সমস্যায় জর্জরিত এসব পরিস্থিতিকে যদি এক বাক্যে বলতে হয় তাহলে মৌলিক সমস্যা হলো, শান্তি উঠে যাওয়া আর এটি নিরসনে আজ পর্যন্ত যত চেষ্টা-প্রচেষ্টা করা হয়েছে, তা বাহ্যত সবই ব্যর্থ হয়েছে। জাতিসংঘ ব্যর্থ হয়েছে আর এখন ইউনাইটেড ন্যাশনসকে পর্যুদস্ত মনে হচ্ছে। পুরো মানবজাতি আজ অস্থির যে, তাদের কখন, কোথা থেকে এবং কীভাবে শান্তি নামের অমূল্য সম্পদ জুটবে। হ্যাঁ, পুরো বিশ্বে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা হতে পারে, কিন্তু তা কেবল পবিত্র কুরআনে উপস্থাপিত শিক্ষামালা অবলম্বনের মাধ্যমেই সম্ভব।

মহানবী (সা.)-এর কল্যাণমণ্ডিত পুরো জীবন এ বিষয়ের জীবন্ত সাক্ষী, তিনি শান্তি ও নিরাপত্তার এক মহান মূর্তিমান প্রতীক হিসাবে জীবনযাপন করেছেন এবং চরম প্রতিকূল ও কঠিন পরিস্থিতিতেও শান্তির পতাকা উঁচু রেখে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন, কুরআনি শিক্ষামালার ওপর আমল করলে পরেই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। মহানবির মাক্কি জীবনী এবং মাদানি যুগেও তার পুরো জীবনাদর্শ এমনসব ঘটনাবলিতে পরিপূর্ণ যে, কীভাবে রাসূলেপাক (সা.) তার মান্যকারীদের কুরআনের শিক্ষামালার কল্যাণে শান্তির মূর্তিমান প্রতীক বানিয়ে দিয়েছেন। যুদ্ধ ক্ষেত্রেও তিনি মুসলমানদের সামনে এক পরম সহানুভূতিপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ উত্তম নৈতিক আদর্শ উপস্থাপন করেছেন। যুদ্ধের নাম নিলেই তো বর্তমান যুগের নামসর্বস্ব সভ্য দেশগুলো নম্রতা, নৈতিক আচরণ, সহমর্মিতা এবং ন্যায়বিচারের সব দাবি সম্পূর্ণভাবে ভুলে যায়, কিন্তু বিশ্ব শান্তির মহানায়ক হজরত মুহাম্মদ (সা.) যুদ্ধ এবং হানাহানির ক্ষেত্রগুলোয় শান্তি ও নিরাপত্তার উন্নত মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করে এমন অতুলনীয় আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা সব যুগে পুরো মানবজাতির জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে। মক্কা বিজয়ের দৃষ্টান্ত এ বিষয়ে স্পষ্ট সাক্ষী। তার সব খুনি শত্রুদের ক্ষমা করে বিশ্ব ইতিহাসে সেই দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা কিয়ামত পর্যন্ত এর কোনো উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যাবে না। বিভিন্ন চুক্তি পালনের ক্ষেত্রে মহানবি (সা.) সর্বদা এমন আদর্শ দেখিয়েছেন, যার দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

শান্তির অভিযাত্রা এক ব্যক্তি সত্তা থেকে শুরু হয়। এর বীজ মূলত সবচেয়ে প্রথমে মানুষের হৃদয়ে বপন করা হয়। এটি যখন বর্ধিত হয়, তখন সেই ব্যক্তির পরিবার শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করে। এরপর এটি পারিবারিক জীবনকে ছাড়িয়ে শান্তির এ কল্যাণ সমাজে এবং চারপাশে বিস্তার লাভ করে। এর পরবর্তী ধাপ জাতীয় শান্তি ও নিরাপত্তা হয়ে থাকে, যা অবশেষে আন্তর্জাতিক শান্তির রূপ ধারণ করে নেয়। এটি কোনো ধারণাপ্রসূত ও কাল্পনিক ফর্মুলা নয় বরং এটি এমনই সত্য, যার প্রকাশ পুরো বিশ্বে দৃষ্টিগোচর হয়। কুরআন মজিদ শান্তির বীজ হিসাবে আল্লাহতায়ালার অস্তিত্বে পূর্ণ ইমান আনাকে উপস্থাপন করেছে। এর স্পষ্ট প্রমাণ হলো, যারা আল্লাহতায়ালার অস্তিত্বে জীবন্ত ইমান রাখে তারা কখনো অস্থিরতা বা মানসিক চাপের ততটুকু শিকার হয় না, যাতে নিজের জীবন সম্পর্কেই নিরাশ হয়ে যেতে হয়। আমরা দেখি সেসব মনোনীত ব্যক্তি, যাদের আল্লাহতায়ালা নিজে বেছে নিয়ে নবুয়তের মর্যাদায় ভূষিত করেন তাদের হৃদয়ে এমন শান্তি ও প্রশান্তি ভরে দেন যে, পার্থিব জগতের শত বিরোধিতা এবং বিপদাপদের ঝড়-তুফান সত্ত্বেও তারা সর্বদা আল্লাহতায়ালার আঁচলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার ফলে শান্তি ও নিরাপত্তার জান্নাতে জীবন কাটান। শান্তি ও নিরাপত্তার অভিযাত্রা পরিবার থেকে শুরু হয়। পরিবারগুলোকে শান্তির নীড়ে পরিণত করার জন্য এবং জান্নাত সদৃশ বানানোর জন্য পবিত্র কুরআন পূর্ণাঙ্গীন শিক্ষামালা উপস্থাপন করেছে।

শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় বাধা হলো, বিশ্বের বিভিন্ন জাতিতে বর্ণের অহংকার ও জাতিগত গর্ব। পবিত্র কুরআন ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় সৌহার্দ ও সহিষ্ণুতার এক মূর্তিমান প্রতীক। দেখুন, পবিত্র কুরআনে কত স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে : ধর্মের ব্যাপারে কোনো বল প্রয়োগ নেই।

লেখক : ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট

কুরআনের আদর্শিক সুফল

 মাহমুদ আহমদ 
২১ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পৃথিবীতে আজ শান্তি ও নিরাপত্তা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সর্বত্রই ভয়ভীতি আর অশান্তি পরিলক্ষিত হচ্ছে। অস্ত্রশস্ত্র এবং মানুষকে ধ্বংস করে দেওয়ার অস্ত্র ও মাধ্যম সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। একজন মানুষ অন্যজনের শত্রু বনে বসে আছে। শক্তিশালী জাতি তার চেয়ে তুলনামূলক দুর্বল জাতির ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাস দমনের নামে বৃহৎ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একটিই পথ, আর তা হলো পবিত্র কুরআনের শিক্ষার ওপর আমল আর মুসলমানরা যেন নিজেদের আমলের মাধ্যমে ইসলামকে বদনাম করা ছেড়ে দেয়। তারা যেন ইসলামের প্রকৃত শিক্ষায় আমল করে এবং পরস্পর ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়।

অন্য জাতিদের কল্যাণও এতেই নিহিত যে, তারা যেন ইসলামের পতাকাতলে সমবেত হয়ে যায়, কেননা বিশ্বের শান্তি কেবল প্রকৃত ইসলামের সঙ্গেই সম্পৃক্ত। বর্তমানে আমাদের বিশ্ব যেসব বড় বড় সমস্যায় জর্জরিত এসব পরিস্থিতিকে যদি এক বাক্যে বলতে হয় তাহলে মৌলিক সমস্যা হলো, শান্তি উঠে যাওয়া আর এটি নিরসনে আজ পর্যন্ত যত চেষ্টা-প্রচেষ্টা করা হয়েছে, তা বাহ্যত সবই ব্যর্থ হয়েছে। জাতিসংঘ ব্যর্থ হয়েছে আর এখন ইউনাইটেড ন্যাশনসকে পর্যুদস্ত মনে হচ্ছে। পুরো মানবজাতি আজ অস্থির যে, তাদের কখন, কোথা থেকে এবং কীভাবে শান্তি নামের অমূল্য সম্পদ জুটবে। হ্যাঁ, পুরো বিশ্বে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা হতে পারে, কিন্তু তা কেবল পবিত্র কুরআনে উপস্থাপিত শিক্ষামালা অবলম্বনের মাধ্যমেই সম্ভব।

মহানবী (সা.)-এর কল্যাণমণ্ডিত পুরো জীবন এ বিষয়ের জীবন্ত সাক্ষী, তিনি শান্তি ও নিরাপত্তার এক মহান মূর্তিমান প্রতীক হিসাবে জীবনযাপন করেছেন এবং চরম প্রতিকূল ও কঠিন পরিস্থিতিতেও শান্তির পতাকা উঁচু রেখে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন, কুরআনি শিক্ষামালার ওপর আমল করলে পরেই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। মহানবির মাক্কি জীবনী এবং মাদানি যুগেও তার পুরো জীবনাদর্শ এমনসব ঘটনাবলিতে পরিপূর্ণ যে, কীভাবে রাসূলেপাক (সা.) তার মান্যকারীদের কুরআনের শিক্ষামালার কল্যাণে শান্তির মূর্তিমান প্রতীক বানিয়ে দিয়েছেন। যুদ্ধ ক্ষেত্রেও তিনি মুসলমানদের সামনে এক পরম সহানুভূতিপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ উত্তম নৈতিক আদর্শ উপস্থাপন করেছেন। যুদ্ধের নাম নিলেই তো বর্তমান যুগের নামসর্বস্ব সভ্য দেশগুলো নম্রতা, নৈতিক আচরণ, সহমর্মিতা এবং ন্যায়বিচারের সব দাবি সম্পূর্ণভাবে ভুলে যায়, কিন্তু বিশ্ব শান্তির মহানায়ক হজরত মুহাম্মদ (সা.) যুদ্ধ এবং হানাহানির ক্ষেত্রগুলোয় শান্তি ও নিরাপত্তার উন্নত মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করে এমন অতুলনীয় আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা সব যুগে পুরো মানবজাতির জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে। মক্কা বিজয়ের দৃষ্টান্ত এ বিষয়ে স্পষ্ট সাক্ষী। তার সব খুনি শত্রুদের ক্ষমা করে বিশ্ব ইতিহাসে সেই দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা কিয়ামত পর্যন্ত এর কোনো উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যাবে না। বিভিন্ন চুক্তি পালনের ক্ষেত্রে মহানবি (সা.) সর্বদা এমন আদর্শ দেখিয়েছেন, যার দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

শান্তির অভিযাত্রা এক ব্যক্তি সত্তা থেকে শুরু হয়। এর বীজ মূলত সবচেয়ে প্রথমে মানুষের হৃদয়ে বপন করা হয়। এটি যখন বর্ধিত হয়, তখন সেই ব্যক্তির পরিবার শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করে। এরপর এটি পারিবারিক জীবনকে ছাড়িয়ে শান্তির এ কল্যাণ সমাজে এবং চারপাশে বিস্তার লাভ করে। এর পরবর্তী ধাপ জাতীয় শান্তি ও নিরাপত্তা হয়ে থাকে, যা অবশেষে আন্তর্জাতিক শান্তির রূপ ধারণ করে নেয়। এটি কোনো ধারণাপ্রসূত ও কাল্পনিক ফর্মুলা নয় বরং এটি এমনই সত্য, যার প্রকাশ পুরো বিশ্বে দৃষ্টিগোচর হয়। কুরআন মজিদ শান্তির বীজ হিসাবে আল্লাহতায়ালার অস্তিত্বে পূর্ণ ইমান আনাকে উপস্থাপন করেছে। এর স্পষ্ট প্রমাণ হলো, যারা আল্লাহতায়ালার অস্তিত্বে জীবন্ত ইমান রাখে তারা কখনো অস্থিরতা বা মানসিক চাপের ততটুকু শিকার হয় না, যাতে নিজের জীবন সম্পর্কেই নিরাশ হয়ে যেতে হয়। আমরা দেখি সেসব মনোনীত ব্যক্তি, যাদের আল্লাহতায়ালা নিজে বেছে নিয়ে নবুয়তের মর্যাদায় ভূষিত করেন তাদের হৃদয়ে এমন শান্তি ও প্রশান্তি ভরে দেন যে, পার্থিব জগতের শত বিরোধিতা এবং বিপদাপদের ঝড়-তুফান সত্ত্বেও তারা সর্বদা আল্লাহতায়ালার আঁচলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার ফলে শান্তি ও নিরাপত্তার জান্নাতে জীবন কাটান। শান্তি ও নিরাপত্তার অভিযাত্রা পরিবার থেকে শুরু হয়। পরিবারগুলোকে শান্তির নীড়ে পরিণত করার জন্য এবং জান্নাত সদৃশ বানানোর জন্য পবিত্র কুরআন পূর্ণাঙ্গীন শিক্ষামালা উপস্থাপন করেছে।

শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় বাধা হলো, বিশ্বের বিভিন্ন জাতিতে বর্ণের অহংকার ও জাতিগত গর্ব। পবিত্র কুরআন ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় সৌহার্দ ও সহিষ্ণুতার এক মূর্তিমান প্রতীক। দেখুন, পবিত্র কুরআনে কত স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে : ধর্মের ব্যাপারে কোনো বল প্রয়োগ নেই।

লেখক : ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন