রোজা রাখার বায়না দিন ভর খায় না

  হাফেজ শাহ শরীফ ০১ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাদমান, ইয়াসিন ও আল-আমিন (খুদে রোজাদার)
সাদমান, ইয়াসিন ও আল-আমিন (খুদে রোজাদার)

আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের বসন্তকাল রমজান মাস। বাকি এগারো মাসের চেয়ে রমজানের গুরুত্ব মহত্ব অনেক বেশি। এ মাসে ঘরে ঘরে বিরাজ করে রমজানের আমেজ। এ আমেজ ছোটদের কোমল হৃদয়ও স্পর্শ করে।

রমজানে ছোটদের রোজা রাখার উৎসাহ জাগে, শরিক হয় তারাবি ইফতার আর সাহরিতে। শরিয়তের দৃষ্টিতে ছোটদের রোজা রাখার বাধ্যবাধকতা নেই। অনেকেই আব্বু-আম্মুর কাছে বায়না ধরে সাহরির সময় ঘুম থেকে তাদের জানিয়ে দিতে।

সবার সঙ্গে সাহারি খেয়ে সেও নিয়ত করে রোজা রাখার। রোজা রাখা তিন শিশুর কথা আজকের লেখায়।

সাদমান সাকিব আদিব। পিতা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। বয়স ১০। রজধানীর প্লে-পেন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। রোজা রাখা শুরু করেছে সাত-আট বছর বয়স থেকে। গত রমজানের সব কয়টি রোজা রেখেছে।

এ রমজানেও সবগুলো রোজা রাখার নিয়ত করেছে। এত ছোট বয়স থেকে রোজা রাখার কারণ জানতে চাইলে সে বলে, পরিবারের সবাই রোজা রাখে এবং আব্বু আম্মু আমাকেও রোজা রাখতে বলেন। তাই সওয়াবের নিয়তে রোজা রাখছি।

মোহাম্মদ ইয়াসিন। পিতা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। শায়েখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র। ১০ বছর বয়সে ৯ পারা কোরআন মুখস্থ করেছে। রোজা রাখার ব্যাপারে তার আগ্রহ অনেক বেশি।

গত বছর সব কয়টি রোজা রেখেছে। এ বছরও সব রোজা রাখায় ইচ্ছা রয়েছে। রোজার দিনগুলো কেমন কাটে জানতে চাইলে সে বলে, বেশিরভাগ সময় কোরআন তেলাওয়াত করে কাটাই।

মোহাম্মদ আল আমিন। পিতা আনোয়ার হোসেন। বয়স ৯। রাজধানীয় কুড়িলে হাজী কমর উদ্দীন নূরীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র। ৬ পারা কোরআন মুখস্থ করেছে। গত বছর সব কয়টি রোজা রেখেছে।

এ বছরও সব রোজা রাখবে ইচ্ছা করেছে। রোজা রাখতে কেমন লাগে জানতে চাইলে সে বলে। আমার মতো মাদ্রাসার আরও অনেক ছাত্র রোজা রাখে। রোজার দিনগুলো খুব আনন্দ লাগে। আমাদের প্রতিযোগিতা চলে কে কয়টি রোজা রাখতে পারে। তারা কেউ রোজার বিধান সম্পর্কে তেমন জ্ঞান রাখে না।

বড়দের কাছে জেনেছে রোজা আল্লাহর ফরজ বিধান। এ থেকেই তারা রোজা রাখছে। দুঃখের বিষয় আমাদের সমাজে দেখা যায় অনেক প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়েরা রোজা থেকে গাফেল। হোটেলগুলোতে পর্দা টানিয়ে চলে ধুমধাম খাওয়া।

অনেক বাবা-মা আছেন যারা স্কুল, প্রাইভেট পরীক্ষা সন্তানের স্বাস্থ্যহানি ঘটবে এমন অজুহাতে আল্লাহর ফরজ বিধান লঙ্ঘনে ছেলেমেয়েদেয় সমর্থন করে। এই শিক্ষা তাদের রোজা থেকে ছিটকে দেবে একদিন।

কিয়ামতের দিন অভিভাবককে তার অধিনস্থদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, হে মুমিনগণ তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর (সূরা তাহরীম-৬)। তাই ছোট থেকেই শিশুদের ধর্মীয় বিধান পালনে পিতা-মাতায় প্রচেষ্টা চালাতে হবে। আল্লাহ এ দেশের ছোটদের হেফাজত করুন। ওরা যেন সুন্দর হয়ে গড়ে ওঠে। এ পরিবেশ এ রমজান থেকেই দান করুন।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter