খোদার নূরে আলোকিত হোক আত্মার জমিন
jugantor
খোদার নূরে আলোকিত হোক আত্মার জমিন

  নূর আহমাদ  

২০ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আলো-অন্ধকার, কালো-ভালো মিলিয়ে মানুষের জীবন। তবে মুমিনের জীবন শুধুই আলোয় ভরা। যেখানে অন্ধকারের লেশমাত্র নেই। আলোর ফোয়ারায় মুমিন জীবনের রহস্য সম্পর্কে কুরআন বলে, ‘আল্লাহু ওয়ালিয়্যুল্লাজিনা আমানু ইউখরিজুহুম মিনাজজুলুমাতি ইলান নুর।

অর্থ : মুমিনদের অভিভাবক আল্লাহ। তিনি অন্ধকার জীবন থেকে তাদের আলোর ফোয়ারায় নিয়ে আসেন।’ (সূরা বাকারাহ, আয়াত ২৫৭।)

আরবি মুমিন শব্দটি এসেছে ইমান থেকে। ইমান শব্দের অর্থ বিশ্বাস। যারা মুমিন তারা বিশ্বাসী। যারা বিশ্বাসী তারা নুরানি। জীবনের প্রতিটি বাঁকে তারা নুরের পথে চলে। তাদের প্রতি কাজে নুরের ছোঁয়া থাকে। বিপরীতে যারা অবিশ্বাসী, সন্দেহবাদী, কুরআন তাদের কাফের ও মুনাফিক বলেছে।

এদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘ওয়াল্লাজিনা কাফারু আউলিয়া উহুমুত তাগুত, ইউখরিজুনাহুম মিনান নুরি ইলাজ্জুলুমাত। উলাইকা আসহাবুন নার। হুম ফিহা খালিদুন। অর্থ : আর অবিশ্বাসীদের পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে অপশক্তি। এ অপশক্তি তাদের আলোকিত জীবন থেকে অন্ধকারের গর্তে নিয়ে যায়। ওরাই আগুনের অধিবাসী। সেখানে থাকবে চিরকাল।’ (সূরা বাকারাহ, আয়াত ২৫৭।)

অবিশ্বাসী-সন্দেহবাদীরা কীভাবে আলোর ফোয়ারা থেকে অন্ধকারের গর্তে ঘুরতে থাকে তা বড় মজার ঘটনা। সূরা বাকারার ১৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘ওদের উপমা হচ্ছে, এক ব্যক্তি আগুন জ্বালাল। আগুনে চারপাশ আলোকিত হওয়ার পরই আল্লাহ সে আলো ছিনিয়ে নিলেন। সঙ্গে সঙ্গে ওরা ঘোর অন্ধকারে ডুবে গেল। অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখার থাকল না।’ (সূরা বাকারাহ, আয়াত ১৭।)

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘রাসূল (সা.) যখন মদিনায় এলেন, তিনি মদিনাবাসীর সামনে ইমানের আলো জ্বালালেন। মদিনার ইহুদিরা আগে থেকেই রাসূল (সা.) সম্পর্কে জানতেন। তারা ইমান আনল। ইমানের আলোয় তারা হলাল-হারাম, ভালো-মন্দ, আলো-অন্ধকার চিনল। পরে তারা কুফরি করল এবং হারাম, মন্দ আর অন্ধকার বেছে নিল। তাদের প্রসঙ্গেই আল্লাহতায়ালা বলেছেন, চারদিক আলোকিত হওয়ার পর তাদের থেকে অন্ধকার ছিনিয়ে নেওয়া হলো।’ (তাফসিরে মাজহারি।)

আসলে আল্লাহতায়ালা এমনি এমনি কাউকে অন্ধকারের গর্তে ফেলেন না। প্রথমে বান্দাকে সুযোগ দেন। আলোর ফোয়ারা তার সামনে উদ্ভাসিত করেন। বান্দা যদি ইমানের নুর জীবনে ধারণ করতে পারে তাহলে তার দুনিয়া আখেরাত কামিয়াব। আর যদি আলো দেখে সে বিরক্ত হয়, অসহ্য মনে করে, তাহলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় অন্ধকারের গহিনে। তখন সে আর কিছুই দেখে না। সন্দেহকে ভাবে প্রজ্ঞা, বিশ্বাসকে মনে করে বোকামি! হারামকে ভাবে মজা, মন্দকে ভাবে ভালো!

বিংশ শতাব্দীর অন্যতম কুরআন গবেষক আবদুর রহমান ইবনে নাসির আস সাদি তাফসিরে সাদিতে লেখেন, অবহেলার কারণে আল্লাহ কোনো বান্দার জীবন থেকে নুর তথা আলো নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনের আনন্দ উল্লাসও নিয়ে যান। নিয়ে যান ইবাদতের স্বাদ ও মজা। ফলে তার কাছে আগুন থাকে কিন্তু আলো থাকে না। সে ইবাদতে দাঁড়ায় কিন্তু মজা পায় না। দোয়া করে, দোয়া কবুলের প্রমাণ চোখে পড়ে না। সে ভাবে আমার যা কিছু ভালো তা আমার নিজেরই অর্জন। অথবা অর্জন কোনো পির-ফকির, দেবদেবী বা পাথর মূর্তির। এক কথায় আল্লাহর রহমতের ছোঁয়া সে অনুভব করে না। একইভাবে, যখন সে বিপদে পড়ে তখনো আল্লাহ ছাড়া আর সব কিছুর ভয় মনে এসে জড়ো হয়। এ ভয় আসলে মনের। তাই আল্লাহতায়ালা আক্ষেপের সুরে বলেছেন, ‘এ নির্বোধদের চোখে আবরণ পড়েনি, আবরণ পড়েছে ওদের অন্তরে!’ (সূরা হজ, আয়াত ৪৬।)

মহাকবি শেখ সাদি বলেছেন, কারও অন্তর যখন আবরণ পড়ার কারণে কলুষিত-অন্ধকার হয়ে যায়, তখন বাদুড়ের মতো আলো তার অসহ্য লাগে। বাদুড় যেমন সূর্যকে অভিশাপ দেয়, তেমনি এ হতভাগাও ইমান, ইসলাম, হালাল ইত্যাদি নেক আমলকে সেকেলে-কুসংস্কার-অন্ধ বিশ্বাস বলে ঘাড় ফিরিয়ে নেয়। অথচ বাদুড় যেমন অন্ধকারে থেকে বিশাল আলোর জগৎ সম্পর্কে কিছুই জানে না, তেমনি এ পোড়া কপালও গোমরাহির আঁধারে ডুবে আলোর ঝরনার রিনঝিন আনন্দ উপলব্ধি করতে পারে না। এক ব্যক্তি অল্পে তুষ্ট। বিশাল বাড়ি, দামি গাড়ি না হলেও তার মুখে তৃপ্তির হাসি লেগে থাকে। অন্যদিকে খোদার নুরহারা ওই বদনসিবের বিলাসী জীবন, অঢেল সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও তার কপালের ভাঁজ এক মুহূর্তের জন্যও মিলিয়ে যায় না। গভীর নিঃশব্দ রাতে ইমানের নুর নিয়ে অল্পে তুষ্ট বান্দা যখন তৃপ্তির ঘুমে বিভোর, অতৃপ্ত আলোহীন কালো মানুষ তখন হরেক নেশায় বেঘোর। হায়! জীবন থেকে খোদায়ী নুর চলে গেলে এমনই হয়। সব থেকেও তখন মানুষের কিছুই থাকে না।

শুধু যে দুনিয়াতেই তারা আলোহীন অন্ধকার জগতের বাসিন্দা তা নয়, আখেরাতেও অন্ধকার তাদের পিছু ছাড়বে না। আল্লাহ বলেন, ‘দুনিয়ায় যারা আলোহীন ছিল, আখেরাতে তারা আরও বেশি অন্ধ ও পথহারা হবে।’ (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত ৭২।) অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আর যে আমার কুরআনের আলো থেকে দূরে সরে যাবে, তার জীবন হবে অর্থহীন এবং মহাবিচার দিবসে তাকে তোলা হবে দৃষ্টিহীনরূপে। সেদিন সেই পাপিষ্ঠ বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমি তো পৃথিবীতে চক্ষুষ্মান ছিলাম, কেন আমাকে অন্ধরূপে ওঠালে? আল্লাহ বলবেন, তুমি তো চোখ থাকতেও অন্ধের মতো ছিলে। কুরআনের নুর তোমার কাছে এসেছিল কিন্তু তুমি তার প্রতি ফিরেও তাকওনি। তাই আজ তোমাকে অন্ধরূপে উঠানো হলো।’ (সূরা তাহা, আয়াত ১২৪-১২৬।)

হে আমার দরদি পাঠক! আসুন, কালো জীবন থেকে মাবুদ রাব্বানার কাছে পানাহ চাই। ভিক্ষে চাই আলোকিত জীবন। হে আল্লাহ! আপনার কাছে অন্ধকারের জীবন এবং জীবনের অন্ধকার থেকে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমাদের আপনি আলোকিত জীবন দিন! আপনার আলো আমাদের চোখে আকর্ষণীয় করে দিন! জীবনের আনন্দ ও ইবাদতের মজা বাড়িয়ে দিন! স্থায়ী হেদায়াত দিন! বিশ্বাসে অটল রাখুন! আমরা যখন মারা যাব, যখন কবর থেকে পুনরুত্থিত হব, আপনার নুর যেন আমাদের চারপাশে ঝলমল করতে থাকে! আপনার হাবিবের উসিলায় আমাদের দোয়া কবুল করুন! আমিন!

লেখক : শিক্ষার্থী, ডিপ্লোমা ইন অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Email : noorahmadbangladesh22@gmail.com

খোদার নূরে আলোকিত হোক আত্মার জমিন

 নূর আহমাদ 
২০ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আলো-অন্ধকার, কালো-ভালো মিলিয়ে মানুষের জীবন। তবে মুমিনের জীবন শুধুই আলোয় ভরা। যেখানে অন্ধকারের লেশমাত্র নেই। আলোর ফোয়ারায় মুমিন জীবনের রহস্য সম্পর্কে কুরআন বলে, ‘আল্লাহু ওয়ালিয়্যুল্লাজিনা আমানু ইউখরিজুহুম মিনাজজুলুমাতি ইলান নুর।

অর্থ : মুমিনদের অভিভাবক আল্লাহ। তিনি অন্ধকার জীবন থেকে তাদের আলোর ফোয়ারায় নিয়ে আসেন।’ (সূরা বাকারাহ, আয়াত ২৫৭।)

আরবি মুমিন শব্দটি এসেছে ইমান থেকে। ইমান শব্দের অর্থ বিশ্বাস। যারা মুমিন তারা বিশ্বাসী। যারা বিশ্বাসী তারা নুরানি। জীবনের প্রতিটি বাঁকে তারা নুরের পথে চলে। তাদের প্রতি কাজে নুরের ছোঁয়া থাকে। বিপরীতে যারা অবিশ্বাসী, সন্দেহবাদী, কুরআন তাদের কাফের ও মুনাফিক বলেছে।

এদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘ওয়াল্লাজিনা কাফারু আউলিয়া উহুমুত তাগুত, ইউখরিজুনাহুম মিনান নুরি ইলাজ্জুলুমাত। উলাইকা আসহাবুন নার। হুম ফিহা খালিদুন। অর্থ : আর অবিশ্বাসীদের পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে অপশক্তি। এ অপশক্তি তাদের আলোকিত জীবন থেকে অন্ধকারের গর্তে নিয়ে যায়। ওরাই আগুনের অধিবাসী। সেখানে থাকবে চিরকাল।’ (সূরা বাকারাহ, আয়াত ২৫৭।)

অবিশ্বাসী-সন্দেহবাদীরা কীভাবে আলোর ফোয়ারা থেকে অন্ধকারের গর্তে ঘুরতে থাকে তা বড় মজার ঘটনা। সূরা বাকারার ১৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘ওদের উপমা হচ্ছে, এক ব্যক্তি আগুন জ্বালাল। আগুনে চারপাশ আলোকিত হওয়ার পরই আল্লাহ সে আলো ছিনিয়ে নিলেন। সঙ্গে সঙ্গে ওরা ঘোর অন্ধকারে ডুবে গেল। অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখার থাকল না।’ (সূরা বাকারাহ, আয়াত ১৭।)

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘রাসূল (সা.) যখন মদিনায় এলেন, তিনি মদিনাবাসীর সামনে ইমানের আলো জ্বালালেন। মদিনার ইহুদিরা আগে থেকেই রাসূল (সা.) সম্পর্কে জানতেন। তারা ইমান আনল। ইমানের আলোয় তারা হলাল-হারাম, ভালো-মন্দ, আলো-অন্ধকার চিনল। পরে তারা কুফরি করল এবং হারাম, মন্দ আর অন্ধকার বেছে নিল। তাদের প্রসঙ্গেই আল্লাহতায়ালা বলেছেন, চারদিক আলোকিত হওয়ার পর তাদের থেকে অন্ধকার ছিনিয়ে নেওয়া হলো।’ (তাফসিরে মাজহারি।)

আসলে আল্লাহতায়ালা এমনি এমনি কাউকে অন্ধকারের গর্তে ফেলেন না। প্রথমে বান্দাকে সুযোগ দেন। আলোর ফোয়ারা তার সামনে উদ্ভাসিত করেন। বান্দা যদি ইমানের নুর জীবনে ধারণ করতে পারে তাহলে তার দুনিয়া আখেরাত কামিয়াব। আর যদি আলো দেখে সে বিরক্ত হয়, অসহ্য মনে করে, তাহলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় অন্ধকারের গহিনে। তখন সে আর কিছুই দেখে না। সন্দেহকে ভাবে প্রজ্ঞা, বিশ্বাসকে মনে করে বোকামি! হারামকে ভাবে মজা, মন্দকে ভাবে ভালো!

বিংশ শতাব্দীর অন্যতম কুরআন গবেষক আবদুর রহমান ইবনে নাসির আস সাদি তাফসিরে সাদিতে লেখেন, অবহেলার কারণে আল্লাহ কোনো বান্দার জীবন থেকে নুর তথা আলো নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনের আনন্দ উল্লাসও নিয়ে যান। নিয়ে যান ইবাদতের স্বাদ ও মজা। ফলে তার কাছে আগুন থাকে কিন্তু আলো থাকে না। সে ইবাদতে দাঁড়ায় কিন্তু মজা পায় না। দোয়া করে, দোয়া কবুলের প্রমাণ চোখে পড়ে না। সে ভাবে আমার যা কিছু ভালো তা আমার নিজেরই অর্জন। অথবা অর্জন কোনো পির-ফকির, দেবদেবী বা পাথর মূর্তির। এক কথায় আল্লাহর রহমতের ছোঁয়া সে অনুভব করে না। একইভাবে, যখন সে বিপদে পড়ে তখনো আল্লাহ ছাড়া আর সব কিছুর ভয় মনে এসে জড়ো হয়। এ ভয় আসলে মনের। তাই আল্লাহতায়ালা আক্ষেপের সুরে বলেছেন, ‘এ নির্বোধদের চোখে আবরণ পড়েনি, আবরণ পড়েছে ওদের অন্তরে!’ (সূরা হজ, আয়াত ৪৬।)

মহাকবি শেখ সাদি বলেছেন, কারও অন্তর যখন আবরণ পড়ার কারণে কলুষিত-অন্ধকার হয়ে যায়, তখন বাদুড়ের মতো আলো তার অসহ্য লাগে। বাদুড় যেমন সূর্যকে অভিশাপ দেয়, তেমনি এ হতভাগাও ইমান, ইসলাম, হালাল ইত্যাদি নেক আমলকে সেকেলে-কুসংস্কার-অন্ধ বিশ্বাস বলে ঘাড় ফিরিয়ে নেয়। অথচ বাদুড় যেমন অন্ধকারে থেকে বিশাল আলোর জগৎ সম্পর্কে কিছুই জানে না, তেমনি এ পোড়া কপালও গোমরাহির আঁধারে ডুবে আলোর ঝরনার রিনঝিন আনন্দ উপলব্ধি করতে পারে না। এক ব্যক্তি অল্পে তুষ্ট। বিশাল বাড়ি, দামি গাড়ি না হলেও তার মুখে তৃপ্তির হাসি লেগে থাকে। অন্যদিকে খোদার নুরহারা ওই বদনসিবের বিলাসী জীবন, অঢেল সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও তার কপালের ভাঁজ এক মুহূর্তের জন্যও মিলিয়ে যায় না। গভীর নিঃশব্দ রাতে ইমানের নুর নিয়ে অল্পে তুষ্ট বান্দা যখন তৃপ্তির ঘুমে বিভোর, অতৃপ্ত আলোহীন কালো মানুষ তখন হরেক নেশায় বেঘোর। হায়! জীবন থেকে খোদায়ী নুর চলে গেলে এমনই হয়। সব থেকেও তখন মানুষের কিছুই থাকে না।

শুধু যে দুনিয়াতেই তারা আলোহীন অন্ধকার জগতের বাসিন্দা তা নয়, আখেরাতেও অন্ধকার তাদের পিছু ছাড়বে না। আল্লাহ বলেন, ‘দুনিয়ায় যারা আলোহীন ছিল, আখেরাতে তারা আরও বেশি অন্ধ ও পথহারা হবে।’ (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত ৭২।) অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আর যে আমার কুরআনের আলো থেকে দূরে সরে যাবে, তার জীবন হবে অর্থহীন এবং মহাবিচার দিবসে তাকে তোলা হবে দৃষ্টিহীনরূপে। সেদিন সেই পাপিষ্ঠ বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমি তো পৃথিবীতে চক্ষুষ্মান ছিলাম, কেন আমাকে অন্ধরূপে ওঠালে? আল্লাহ বলবেন, তুমি তো চোখ থাকতেও অন্ধের মতো ছিলে। কুরআনের নুর তোমার কাছে এসেছিল কিন্তু তুমি তার প্রতি ফিরেও তাকওনি। তাই আজ তোমাকে অন্ধরূপে উঠানো হলো।’ (সূরা তাহা, আয়াত ১২৪-১২৬।)

হে আমার দরদি পাঠক! আসুন, কালো জীবন থেকে মাবুদ রাব্বানার কাছে পানাহ চাই। ভিক্ষে চাই আলোকিত জীবন। হে আল্লাহ! আপনার কাছে অন্ধকারের জীবন এবং জীবনের অন্ধকার থেকে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমাদের আপনি আলোকিত জীবন দিন! আপনার আলো আমাদের চোখে আকর্ষণীয় করে দিন! জীবনের আনন্দ ও ইবাদতের মজা বাড়িয়ে দিন! স্থায়ী হেদায়াত দিন! বিশ্বাসে অটল রাখুন! আমরা যখন মারা যাব, যখন কবর থেকে পুনরুত্থিত হব, আপনার নুর যেন আমাদের চারপাশে ঝলমল করতে থাকে! আপনার হাবিবের উসিলায় আমাদের দোয়া কবুল করুন! আমিন!

 

লেখক : শিক্ষার্থী, ডিপ্লোমা ইন অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Email : noorahmadbangladesh22@gmail.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন