হে দয়াময় ক্ষমা কর আমায়
jugantor
হে দয়াময় ক্ষমা কর আমায়

  মাহমুদ আহমদ  

২০ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমরা গোনাহগার বান্দা। আমাদের মাঝে শত দোষ রয়েছে। আল্লাহপাক যদি আমাদের দোষগুলোকে আবৃত করে না রাখতেন তাহলে মুখ দেখানোর কোনো উপায় থাকত না। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার বান্দার দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখতে চান, তিনি ইচ্ছা করলে সঙ্গে সঙ্গেই শাস্তি দিতে পারেন। কিন্তু তিনি তা করেন না, আবার অনেক ক্ষেত্রে করেনও। তিনি চান তার বান্দারা যেন নিজের ভুল বুঝতে পেরে নিজেকে পবিত্র করার চেষ্টা করে আর এর জন্য আল্লাহতায়ালার কাছে ক্ষমা চায় আর সর্বদা ইস্তেগফারে রত থাকে।

আমাদের চলার পথে কিছু না কিছু ভুল-ত্রুটি হয়েই থাকে, তাই সব সময় আমরা যদি ইস্তেগফারে রত থাকি তাহলে আল্লাহপাক হয়তো আমাদের এ সামান্য ভুলও ক্ষমা করে দেবেন। এ বিষয়ে একটি হাদিসে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ‘ইস্তেগফার’-এর সঙ্গে আঁকড়ে থাকে (অর্থাৎ ইস্তেগফারে সর্বদা নিয়োজিত থাকে) আল্লাহতায়ালা তাকে সব ধরনের বিপদ-আপদ থেকে উদ্ধারের পথ সৃষ্টি করে দেন আর প্রত্যেক দুরাবস্থা থেকে উত্তরণের রাস্তা বের করে দেন আর তাকে ওইসব রাস্তায় রিজিক (জীবিকা) দান করেন যা সে ধারণাও করতে পারে না’ (আবু দাউদ)।

আমাদের উচিত হবে সর্বদা ইস্তেগফারে রত থাকা। আমরা যখন যেই অবস্থাতেই থাকি না কেন, আমরা ইচ্ছা করলেই খোদাতায়ালাকে স্মরণ করতে পারি। আমরা যদি আমাদের দোষ-ত্রুটিকে ক্ষমা করাতে চাই তাহলে ইস্তেগফারের বিকল্প নেই। তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, আমি ভুল করেছি, তারপর আমার মাঝে অনুশোচনা হলো আর আমি এর জন্য খোদার কাছে ক্ষমা চাইলাম এবং ইস্তেগফার করলাম আর খোদাতায়ালাও আমাকে ক্ষমা করে দিলেন, তাই বলে বারবার ভুল করব আর খোদার কাছে ক্ষমা চাইতে থাকব তা ঠিক নয়। মুমিন একই ভুল বারবার করেন না। আমাদের এমনভাবে ইস্তেগফার করতে হবে যেন আমার দ্বারা এমন ভুল দ্বিতীয়বার আর কখনো সংঘটিত না হয়।

এ ছাড়া সর্বদা আল্লাহতায়ালার কাছে আমাদের এ প্রার্থনাই করতে হবে যেভাবে তিনি পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘রব্বানা জলামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লামতাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানা কুনান্না মিনাল খসিরিন’ অর্থাৎ ‘হে আমাদের প্রভু-প্রতিপালক! নিশ্চয় আমরা নিজেদের প্রাণের ওপর জুলুম করেছি আর তুমি আমাদের ক্ষমা না করলে এবং আমাদের ওপর কৃপা না করলে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব’ (সূরা আরাফ, আয়াত : ২৩)। আমরা যেন সর্বদা মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও তওবা করতে থাকি এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আবার আল্লাহপাক ইরশাদ করেন, ‘ওয়া আনেসতাগফিরু রব্বাকুম ছুম্মা তুবু ইলাইহি’ অর্থাৎ ‘তোমরা তোমাদের প্রভু-প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চাইবে, তার কাছে সবিনয়ে তওবা করবে’ (সূরা হুদ, আয়াত : ৩)।

তাই আমাদের সব সময় আল্লাহপাকের কাছে আমাদের পাপগুলোর জন্য ক্ষমা চাইতে হবে আর তার শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে। তিনি আমাদের না চাইতেও কত কিছুই না দান করছেন। আমরা যদি এ সবের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন না করি তাহলে আমরা অকৃতজ্ঞ হিসাবে পরিগণিত হব। একটি হাদিসে এসেছে, হজরত নুমান বিন বশীর (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘যে ব্যক্তি স্বল্পে তুষ্ট হয় না সে অধিক পেলেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না। আর যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে না সে আল্লাহতায়ালার করুণারাজিরও কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারে না। আল্লাহতায়ালার অনুগ্রহরাজির উত্তম স্বীকারোক্তি প্রকাশ করাটাও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন। আর আল্লাহতায়ালার আশীষগুলোর উত্তম স্বীকারোক্তি প্রকাশ না করাটা অকৃতজ্ঞতা’ (মুসনাদ আহমদ বিন হাম্বল, ৪র্থ খণ্ড)।

অপর একটি হাদিসে হজরত মায়াজ বিন জিবল (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) তার হাত শক্ত করে ধরলেন আর বললেন, ‘হে মায়াজ! আল্লাহর কসম! সত্যিই আমি তোমাকে ভালোবাসি’ অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, ‘হে মায়াজ! আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি যে, তুমি প্রত্যেক নামাজের পর এ দোয়া করতে ভুলে যেও না, ‘আল্লাহুম্মা আইন্নি আলা জিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ইবাদিকা’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে শক্তি-সামর্থ্য দান কর যেন আমি তোমার যপ-গাঁথা আবৃত্তি করতে পারি, তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি আর তোমারই ইবাদত আরও উত্তমরূপে করতে সক্ষম হই’ (আবু দাউদ)।

তাই আসুন, নিজেদের দোষ-ত্রুটির জন্য আল্লাহপাকের দরবারে ক্ষমা চেয়ে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে নিই আর ব্যবসায়-বাণিজ্যসহ যে কাজই আমি করি না কেন নিজেকে সৎ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করি। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে ক্ষমা করে তার সন্তুষ্টির চাদরে আবৃত করে নিন, আমিন।

লেখক : ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট

হে দয়াময় ক্ষমা কর আমায়

 মাহমুদ আহমদ 
২০ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমরা গোনাহগার বান্দা। আমাদের মাঝে শত দোষ রয়েছে। আল্লাহপাক যদি আমাদের দোষগুলোকে আবৃত করে না রাখতেন তাহলে মুখ দেখানোর কোনো উপায় থাকত না। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার বান্দার দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখতে চান, তিনি ইচ্ছা করলে সঙ্গে সঙ্গেই শাস্তি দিতে পারেন। কিন্তু তিনি তা করেন না, আবার অনেক ক্ষেত্রে করেনও। তিনি চান তার বান্দারা যেন নিজের ভুল বুঝতে পেরে নিজেকে পবিত্র করার চেষ্টা করে আর এর জন্য আল্লাহতায়ালার কাছে ক্ষমা চায় আর সর্বদা ইস্তেগফারে রত থাকে।

আমাদের চলার পথে কিছু না কিছু ভুল-ত্রুটি হয়েই থাকে, তাই সব সময় আমরা যদি ইস্তেগফারে রত থাকি তাহলে আল্লাহপাক হয়তো আমাদের এ সামান্য ভুলও ক্ষমা করে দেবেন। এ বিষয়ে একটি হাদিসে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ‘ইস্তেগফার’-এর সঙ্গে আঁকড়ে থাকে (অর্থাৎ ইস্তেগফারে সর্বদা নিয়োজিত থাকে) আল্লাহতায়ালা তাকে সব ধরনের বিপদ-আপদ থেকে উদ্ধারের পথ সৃষ্টি করে দেন আর প্রত্যেক দুরাবস্থা থেকে উত্তরণের রাস্তা বের করে দেন আর তাকে ওইসব রাস্তায় রিজিক (জীবিকা) দান করেন যা সে ধারণাও করতে পারে না’ (আবু দাউদ)।

আমাদের উচিত হবে সর্বদা ইস্তেগফারে রত থাকা। আমরা যখন যেই অবস্থাতেই থাকি না কেন, আমরা ইচ্ছা করলেই খোদাতায়ালাকে স্মরণ করতে পারি। আমরা যদি আমাদের দোষ-ত্রুটিকে ক্ষমা করাতে চাই তাহলে ইস্তেগফারের বিকল্প নেই। তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, আমি ভুল করেছি, তারপর আমার মাঝে অনুশোচনা হলো আর আমি এর জন্য খোদার কাছে ক্ষমা চাইলাম এবং ইস্তেগফার করলাম আর খোদাতায়ালাও আমাকে ক্ষমা করে দিলেন, তাই বলে বারবার ভুল করব আর খোদার কাছে ক্ষমা চাইতে থাকব তা ঠিক নয়। মুমিন একই ভুল বারবার করেন না। আমাদের এমনভাবে ইস্তেগফার করতে হবে যেন আমার দ্বারা এমন ভুল দ্বিতীয়বার আর কখনো সংঘটিত না হয়।

এ ছাড়া সর্বদা আল্লাহতায়ালার কাছে আমাদের এ প্রার্থনাই করতে হবে যেভাবে তিনি পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘রব্বানা জলামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লামতাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানা কুনান্না মিনাল খসিরিন’ অর্থাৎ ‘হে আমাদের প্রভু-প্রতিপালক! নিশ্চয় আমরা নিজেদের প্রাণের ওপর জুলুম করেছি আর তুমি আমাদের ক্ষমা না করলে এবং আমাদের ওপর কৃপা না করলে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব’ (সূরা আরাফ, আয়াত : ২৩)। আমরা যেন সর্বদা মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও তওবা করতে থাকি এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আবার আল্লাহপাক ইরশাদ করেন, ‘ওয়া আনেসতাগফিরু রব্বাকুম ছুম্মা তুবু ইলাইহি’ অর্থাৎ ‘তোমরা তোমাদের প্রভু-প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চাইবে, তার কাছে সবিনয়ে তওবা করবে’ (সূরা হুদ, আয়াত : ৩)।

তাই আমাদের সব সময় আল্লাহপাকের কাছে আমাদের পাপগুলোর জন্য ক্ষমা চাইতে হবে আর তার শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে। তিনি আমাদের না চাইতেও কত কিছুই না দান করছেন। আমরা যদি এ সবের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন না করি তাহলে আমরা অকৃতজ্ঞ হিসাবে পরিগণিত হব। একটি হাদিসে এসেছে, হজরত নুমান বিন বশীর (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘যে ব্যক্তি স্বল্পে তুষ্ট হয় না সে অধিক পেলেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না। আর যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে না সে আল্লাহতায়ালার করুণারাজিরও কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারে না। আল্লাহতায়ালার অনুগ্রহরাজির উত্তম স্বীকারোক্তি প্রকাশ করাটাও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন। আর আল্লাহতায়ালার আশীষগুলোর উত্তম স্বীকারোক্তি প্রকাশ না করাটা অকৃতজ্ঞতা’ (মুসনাদ আহমদ বিন হাম্বল, ৪র্থ খণ্ড)।

অপর একটি হাদিসে হজরত মায়াজ বিন জিবল (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) তার হাত শক্ত করে ধরলেন আর বললেন, ‘হে মায়াজ! আল্লাহর কসম! সত্যিই আমি তোমাকে ভালোবাসি’ অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, ‘হে মায়াজ! আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি যে, তুমি প্রত্যেক নামাজের পর এ দোয়া করতে ভুলে যেও না, ‘আল্লাহুম্মা আইন্নি আলা জিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ইবাদিকা’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে শক্তি-সামর্থ্য দান কর যেন আমি তোমার যপ-গাঁথা আবৃত্তি করতে পারি, তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি আর তোমারই ইবাদত আরও উত্তমরূপে করতে সক্ষম হই’ (আবু দাউদ)।

তাই আসুন, নিজেদের দোষ-ত্রুটির জন্য আল্লাহপাকের দরবারে ক্ষমা চেয়ে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে নিই আর ব্যবসায়-বাণিজ্যসহ যে কাজই আমি করি না কেন নিজেকে সৎ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করি। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে ক্ষমা করে তার সন্তুষ্টির চাদরে আবৃত করে নিন, আমিন।

লেখক : ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন