ধর্মচর্চার শ্রেষ্ঠ সময় যৌবন

  মাহমুদ আহমদ ০৮ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ধর্মচর্চার শ্রেষ্ঠ সময় যৌবন

রমজানের দিনগুলো সবার জন্যই কল্যাণকর, তবে বিশেষ করে যুবসমাজের জন্য একটু বেশি। কেননা যুবসমাজের পরিবর্তনের মাস এটি আর যুবসমাজই পারে পরিবার, দেশ ও পৃথিবী পাল্টাতে। তারাই যে জাতির হৃদস্পন্দন।

প্রবৃদ্ধি, উন্নতি ও কল্যাণের পথে তারাই জাতির বেগবান শিরা-উপশিরা। একটি দেশ ও জাতির জন্য যৌবন হচ্ছে একটি আদর্শ। কিন্তু আজকের যুবসমাজ আলোকিত ভবিষ্যৎকে নিজেরাই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

যুবকদের এই সুন্দর জীবনকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পবিত্র রমজানের গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লামা শেখ সাদী (রহ.) যুবসমাজের উদ্দেশে কত সুন্দরই না বলেছেন : ‘হে যুবক! এখনই ইবাদতের পথ ধর। কেননা বৃদ্ধকাল এসে গেলে যৌবনকাল আর ফিরে পাবে না।’

রমজান কীভাবে যুবকদের পাল্টে দিতে পারে দুই যুবকের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছি, এ লেখায়।

এনামুর রহমান সাদাফ, এমবিবিএস, জেনারেল ফিজিশিয়ান। তিনি বলেন-যুবকদের সংশোধনের জন্য এ মাসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা যুবকরা সারা বছর পুণ্যকাজ না করলেও এ মাসে করার চেষ্টা করে। এখন প্রশ্ন হল বছরের বাকি সময় নামাজ বা কোরআনের দিকে কেনইবা মনোযোগ থাকে না আর কীভাবে এ সম্পর্ককে সারা বছরের জন্য স্থায়ী করা যাবে?

আমার মনে হয় যুবকরা যদি প্রকৃত ইসলাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করে তাহলে বছরের শুধু রমজান মাসে নয় বরং বছরের প্রতিটি দিনই আল্লাহর আদেশের ওপর আমল করার চেষ্টা করবে তারা। যুবকদের জন্য মসজিদকেন্দ্রিক খেলাধুলা, সমাজসেবা কর্ম বা অন্যান্য আয়োজন করলে যুবকরা বছর ধরে সম্পৃক্ত হবে।

কথা হয় নাজনীন আক্তার শিমু, স্নাতকোত্তর, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে, তিনি বলেন- রমজান এলে যুবসমাজ ইবাদতের প্রতি বেশি ঝোঁকেন, রমজান শেষ হতেই ইবাদত-বন্দেগি কমিয়ে দেন।

এর পেছনে অনেক কারণ রয়েছে, পরিবেশগত কারণ অন্যতম বিষয়। যুবসমাজ দেশ থেকে সব ধরনের বিশৃঙ্খলা দূর করতে পারে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রদত্ত অফুরন্ত নিয়ামতের যুবকরা নতুন কিছু সৃষ্টির কারিগর, তাদের অদম্য সাহস, উদ্দীপনা সুন্দর কিছু গড়তে ভূমিকা রাখে। রমজানে যেসব পুণ্যকর্ম যুবকরা করছে তা জীবনে স্থায়ীভাবে রূপ দিতে হবে, তবেই না এ যুবসমাজ মানব নেয়ামত হয়ে গড়ে উঠবে।

আজকে যেই ইসলাম আমরা পালন করছি সেই ইসলামের জয়ের পেছনে এ যুবকদেরই অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। মহানবী (সা.) তার যৌবনের দিনগুলো কীভাবে আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। ত্রিশ বছরের টগবগে যুবক দুনিয়াবী সব কিছু ত্যাগ করে চলে যেতেন নির্জন এক গুহায় আল্লাহর ইবাদত করতে।

হায়! কী অসাধারণই না ছিল মানব দরদী রাসূল (সা.)-এর জীবন। ইসলামের কঠিন পরিস্থিতির সময় যুবকরাই মহানবী (সা.)-এর চারপাশে দিনরাত অবস্থান করতেন। মাত্র ২০ বছর বয়সী হজরত আলী (রা.)-এর মতো যুবক, যিনি বদরের যুদ্ধে পতাকা বহন করেছিলেন।

উসামা বিন জায়েদ (রা.) যিনি ১৮ বছর বয়সে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন। জ্ঞানের সাগর আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, মহানবী (সা.)-এর মৃত্যুর সময় বয়স ছিল মাত্র ১৩। ওহি লেখক জায়েদ ইবনে সাবেত, মদিনায় মহানবীর আগমনের সময় যার বয়স ছিল ১১ বছর। জান্নাতের যুব সম্প্রদায়ের সরদার হবেন হজরত হাসান ও হুসাইন। হজরত ওসমান (রা.)-এর মতো যুবকরাই সেদিন মহানবী (সা.)-এর পাশে এশে দাঁড়িয়েছিলেন। এরা এমনই যুবক ছিলেন যাদের প্রতি আল্লাহ ছিলেন সন্তুষ্ট।

যুগে যুগে যুবসমাজই জাতির হৃদস্পন্দন! গৌরবের নির্মাতা, তারা ইসলামের শিক্ষায় শিক্ষিত হলে সমাজ, রাষ্ট্র বেহেশতি রূপ ধারণ করবে।

[email protected]

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter