বিনয় মুমিনের অন্যতম গুণ
jugantor
বিনয় মুমিনের অন্যতম গুণ

  মাওলানা বায়েজীদ হোসাইন সালেহ  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় ৭০০ কোটির অধিক মানুষের বসবাস। সব মানুষই আল্লাহর বান্দা। তবে সবাই রহমানের বান্দা নয়। রহমানের বান্দা হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো শালীনতাবোধ সম্পন্ন হওয়া। ব্যক্তিকে নম্র ও ভদ্র হওয়া।

আল্লাহতায়ালা তাঁর খাঁটি বান্দাদের পরিচয় দিয়েছেন এভাবে, তারা প্রকৃত মুমিন, পরহেজগার, উন্নত আদর্শের অনুসারী, তারা বিনম্র পদক্ষেপে চলাফেরা করে, তারা কখনো অহংকার করে না, তাদের মনে যেমন অহংকার থাকে না, তেমনি তাদের চাল-চলনে, কথাবার্তায়, ওঠাবসায় কখনো অহংবোধ পরিলক্ষিত হয় না, তারা রহমানের নাম শ্রবণ করে মুশরিকদের মতো মন্দ কথা বলার ধৃষ্টতা দেখায় না, বিনীত, বিনম্র, নিরহংকার মুমিনদেরই আল্লাহ তার প্রকৃত বান্দা বলে ঘোষণা করেছেন।

প্রিয় নবি (সা.) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য বিনয়ী হয়, আল্লাহতায়ালা তাকে সুউচ্চ মর্যাদা দান করেন। বিনয় অর্থ নিজেকে ছোট মনে করা। হজরত ইয়ায ইবনে হিমার (রা.) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, প্রিয় নবি (সা.) এরশাদ করেছেন, মহান আল্লাহ আমার কছে এ মর্মে ওহি নাজিল করেছেন যে, তোমরা বিনয় অবলম্বন করে চলো। অতএব, কেউ কারও ওপর গর্ব করবে না, কেউ কারও ওপর বাড়াবাড়ি করবে না। (মুসলিম-২৮৬৫)।

অহংকার অর্থ নিজেকে অন্যের তুলনায় বড় মনে করা এবং অন্যকে নিজের চেয়ে ছোট মনে করা। অহংকার অ্যাটম বোমা। অ্যাটম বোমা যেমন জাপানের হিরোশিমা নাগাসাকিতে ধ্বংস করেছে তেমনি অহংকার মানুষকে এরূপই ধ্বংস করে দেয়।

প্রিয় নবি (সা.) এরশাদ করেছেন, যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। শালীনতাবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি অহংকারের মতো বদ স্বভাব থেকে মুক্ত থাকে।

শালীনতাবোধ সম্পন্ন লোকেরা হয় সরল স্বভাবের। আর সরলতা মুমিনের জীবনযাত্রার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। সরল চরিত্রের মানুষ সবার কাছে প্রিয়। সবাই সরল প্রকৃতির মানুষকে ভালোবাসে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রিয় নবি (সা.) এরশাদ করেছেন, ইমানদার ব্যক্তি সরল ও ভদ্র প্রকৃতির হয়, আর পাপী ও প্রতারক নিচু প্রকৃতির হয়। (আবু দাউদ, হাদিস ৪৭৯০)।

এ স্বভাবের লোকদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো সময়, সুযোগ ও শক্তি থাকা সত্ত্বেও শত্রুকে ক্ষমা করে দেওয়া। ক্ষমা মহত্তের লক্ষণ। মহান আল্লাহ ক্ষমাশীল। মানুষ মানুষকে ক্ষমা করার আদেশ দিয়ে আল্লাহ এরশাদ করেছেন- অতএব, তোমরা ক্ষমা কর এবং উপেক্ষা করে যাও যতক্ষণ না আল্লাহ কোনো নির্দেশ দেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। (সূরা বাকারা : আয়াত ১০৯)।

আল্লাহতায়ালা সূরা আলে ইমরানের ১৩৪নং আয়াতে এরশাদ করেন, তারা মুমিনরা হলো ক্রোধ সংবরণকারী ও মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল। আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের ভালোবাসেন।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, প্রিয় নবি (সা.) এরশাদ করেছেন, যারা অপরের প্রতি দয়াশীল, দয়াময় আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে থাকেন। কাজেই জমিনবাসীর প্রতি দয়া কর তাহলে আকাশের প্রভুও তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। (আবু দাউদ-৪৯৪১)।

বিনয়ী ব্যক্তির মধ্যে দয়া-মায়া, প্রেম-প্রীতি, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, আমানতদারিতা, ওয়াদা রক্ষার মতো বহু মহৎ গুণের সন্নিবেশ ঘটে থাকে। তাই তারা মানুষকে ভালোবাসতে জানে এবং মানুষও তাদের ভালোবাসে। ফলে এ মহৎ গুণের অধিকারী ব্যক্তিরা পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য প্রভূত কল্যাণ বয়ে আনে এবং আদর্শ সমাজ ও দেশ গঠনে তারা অনন্য ভূমিকা পালন করে থাকে।

লেখক : খতিব, খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (র.) জামে মসজিদ, আলমবাগ, নতুন জুরাইন, ঢাকা

বিনয় মুমিনের অন্যতম গুণ

 মাওলানা বায়েজীদ হোসাইন সালেহ 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় ৭০০ কোটির অধিক মানুষের বসবাস। সব মানুষই আল্লাহর বান্দা। তবে সবাই রহমানের বান্দা নয়। রহমানের বান্দা হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো শালীনতাবোধ সম্পন্ন হওয়া। ব্যক্তিকে নম্র ও ভদ্র হওয়া।

আল্লাহতায়ালা তাঁর খাঁটি বান্দাদের পরিচয় দিয়েছেন এভাবে, তারা প্রকৃত মুমিন, পরহেজগার, উন্নত আদর্শের অনুসারী, তারা বিনম্র পদক্ষেপে চলাফেরা করে, তারা কখনো অহংকার করে না, তাদের মনে যেমন অহংকার থাকে না, তেমনি তাদের চাল-চলনে, কথাবার্তায়, ওঠাবসায় কখনো অহংবোধ পরিলক্ষিত হয় না, তারা রহমানের নাম শ্রবণ করে মুশরিকদের মতো মন্দ কথা বলার ধৃষ্টতা দেখায় না, বিনীত, বিনম্র, নিরহংকার মুমিনদেরই আল্লাহ তার প্রকৃত বান্দা বলে ঘোষণা করেছেন।

প্রিয় নবি (সা.) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য বিনয়ী হয়, আল্লাহতায়ালা তাকে সুউচ্চ মর্যাদা দান করেন। বিনয় অর্থ নিজেকে ছোট মনে করা। হজরত ইয়ায ইবনে হিমার (রা.) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, প্রিয় নবি (সা.) এরশাদ করেছেন, মহান আল্লাহ আমার কছে এ মর্মে ওহি নাজিল করেছেন যে, তোমরা বিনয় অবলম্বন করে চলো। অতএব, কেউ কারও ওপর গর্ব করবে না, কেউ কারও ওপর বাড়াবাড়ি করবে না। (মুসলিম-২৮৬৫)।

অহংকার অর্থ নিজেকে অন্যের তুলনায় বড় মনে করা এবং অন্যকে নিজের চেয়ে ছোট মনে করা। অহংকার অ্যাটম বোমা। অ্যাটম বোমা যেমন জাপানের হিরোশিমা নাগাসাকিতে ধ্বংস করেছে তেমনি অহংকার মানুষকে এরূপই ধ্বংস করে দেয়।

প্রিয় নবি (সা.) এরশাদ করেছেন, যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। শালীনতাবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি অহংকারের মতো বদ স্বভাব থেকে মুক্ত থাকে।

শালীনতাবোধ সম্পন্ন লোকেরা হয় সরল স্বভাবের। আর সরলতা মুমিনের জীবনযাত্রার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। সরল চরিত্রের মানুষ সবার কাছে প্রিয়। সবাই সরল প্রকৃতির মানুষকে ভালোবাসে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রিয় নবি (সা.) এরশাদ করেছেন, ইমানদার ব্যক্তি সরল ও ভদ্র প্রকৃতির হয়, আর পাপী ও প্রতারক নিচু প্রকৃতির হয়। (আবু দাউদ, হাদিস ৪৭৯০)।

এ স্বভাবের লোকদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো সময়, সুযোগ ও শক্তি থাকা সত্ত্বেও শত্রুকে ক্ষমা করে দেওয়া। ক্ষমা মহত্তের লক্ষণ। মহান আল্লাহ ক্ষমাশীল। মানুষ মানুষকে ক্ষমা করার আদেশ দিয়ে আল্লাহ এরশাদ করেছেন- অতএব, তোমরা ক্ষমা কর এবং উপেক্ষা করে যাও যতক্ষণ না আল্লাহ কোনো নির্দেশ দেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। (সূরা বাকারা : আয়াত ১০৯)।

আল্লাহতায়ালা সূরা আলে ইমরানের ১৩৪নং আয়াতে এরশাদ করেন, তারা মুমিনরা হলো ক্রোধ সংবরণকারী ও মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল। আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের ভালোবাসেন।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, প্রিয় নবি (সা.) এরশাদ করেছেন, যারা অপরের প্রতি দয়াশীল, দয়াময় আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে থাকেন। কাজেই জমিনবাসীর প্রতি দয়া কর তাহলে আকাশের প্রভুও তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। (আবু দাউদ-৪৯৪১)।

বিনয়ী ব্যক্তির মধ্যে দয়া-মায়া, প্রেম-প্রীতি, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, আমানতদারিতা, ওয়াদা রক্ষার মতো বহু মহৎ গুণের সন্নিবেশ ঘটে থাকে। তাই তারা মানুষকে ভালোবাসতে জানে এবং মানুষও তাদের ভালোবাসে। ফলে এ মহৎ গুণের অধিকারী ব্যক্তিরা পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য প্রভূত কল্যাণ বয়ে আনে এবং আদর্শ সমাজ ও দেশ গঠনে তারা অনন্য ভূমিকা পালন করে থাকে।

লেখক : খতিব, খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (র.) জামে মসজিদ, আলমবাগ, নতুন জুরাইন, ঢাকা

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন