হাফেজ আবু রাহাতের বিশ্বজয়ের গল্প
jugantor
হাফেজ আবু রাহাতের বিশ্বজয়ের গল্প

  ইমরানুল বারী সিরাজী  

০৪ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুরআনের সুর-ছন্দে বাংলাদেশি হাফেজদের বিশ্ব মাতানোর ইতিহাস বহু পুরোনো। সৌদি আরব, দুবাই, ইরাক, ইরান, লিবিয়া, কাতার, কুয়েত, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ তো বটেই ইউরোপ আফ্রিকার দেশগুলোতেও অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বরাবরই শীর্ষ স্থান অর্জন করে আসছেন বাংলাদেশি হাফেজরা।

সম্প্রতি কুয়েতে ১১তম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় ১১৭টি দেশের মাঝে তৃতীয় হয়েছেন বাংলাদেশি হাফেজ আবু রাহাত। দেশটির আমির নওয়াফ আল-আহমেদ আল-জাবের আল-সাবাহর পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত প্রতিযোগিতার পুরস্কার প্রধান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুয়েতের শিক্ষা ও ইসলামবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আজিজ মাজিদ।

অনূর্ধ্ব ১৩ বছরের গ্রুপে তৃতীয় হওয়ায় হাফেজ আবু রাহাত পেয়েছেন দশ হাজার তিনশ দিনার তথা বাংলাদেশি ৩৫ লাখ টাকা ও সম্মাননা ক্রেস্ট। অক্টোবরের মাঝামাঝি শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতার সার্বিক তত্ত্বাবধান করে দেশটির ওজারাতুল আওকাফ (ধর্ম মন্ত্রণালয়)।

হাফেজ আবু রাহাত সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুর উপজেলার পইজুরি গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। বাবা রমজান আলী সরদার একজন মুদি দোকানি। ছেলেকে বড় আলেম ও হাফেজ বানানোর স্বপ্ন থেকেই ভর্তি করেন হাফেজি মাদ্রাসায়। আলিফ বা তা সা শেষ করে-বয়সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে আবু রাহাতের লেখাপড়ার মনোযোগ ও আকর্ষণ। মাত্র নয় মাসেই পবিত্র কুরআনুল কারিমের পরিপূর্ণ হাফেজ হয়ে যান তিনি।

২০২০ সালে জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা পিএইচপি কুরআনের আলোয় প্রথম স্থান অধিকার করে সারা দেশের কোটি কোটি কুরআনপ্রেমী মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করেন আবু রাহাত। তিনি বিশ্বমানের আলেম হয়ে ইসলামের শান্তি ও সুন্দরের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বর্তমানে রাজধানীর মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছেন।

তার শিক্ষক ও মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল শায়েখ নেছার আহমাদ আন নাছিরী বলেন, আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক মানের হাফেজ গড়ার সাধনা করে যাচ্ছে। দেশবাসীর দোয়ায় আমাদের এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০-এর অধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন রাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন।

বিশ্বজয়ী হাফেজ তরিকুল ইসলাম ও সাইফুর রহমান তকি আমাদের এ প্রতিষ্ঠানেরই কৃতী শিক্ষার্থী। হাফেজ আবু রাহাতের এ সাফল্যের বিষয়ে তিনি বলেন, মহান আল্লাহর অশেষ কৃপা, ওস্তাদদের দোয়া, তার ঐকান্তিক সাধনা ফসল হচ্ছে এ বিজয়।

লেখক : খতিব পীরইয়ামেনী জামে মসজিদ, গুলিস্তান. ঢাকা

হাফেজ আবু রাহাতের বিশ্বজয়ের গল্প

 ইমরানুল বারী সিরাজী 
০৪ নভেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুরআনের সুর-ছন্দে বাংলাদেশি হাফেজদের বিশ্ব মাতানোর ইতিহাস বহু পুরোনো। সৌদি আরব, দুবাই, ইরাক, ইরান, লিবিয়া, কাতার, কুয়েত, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ তো বটেই ইউরোপ আফ্রিকার দেশগুলোতেও অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বরাবরই শীর্ষ স্থান অর্জন করে আসছেন বাংলাদেশি হাফেজরা।

সম্প্রতি কুয়েতে ১১তম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় ১১৭টি দেশের মাঝে তৃতীয় হয়েছেন বাংলাদেশি হাফেজ আবু রাহাত। দেশটির আমির নওয়াফ আল-আহমেদ আল-জাবের আল-সাবাহর পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত প্রতিযোগিতার পুরস্কার প্রধান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুয়েতের শিক্ষা ও ইসলামবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আজিজ মাজিদ।

অনূর্ধ্ব ১৩ বছরের গ্রুপে তৃতীয় হওয়ায় হাফেজ আবু রাহাত পেয়েছেন দশ হাজার তিনশ দিনার তথা বাংলাদেশি ৩৫ লাখ টাকা ও সম্মাননা ক্রেস্ট। অক্টোবরের মাঝামাঝি শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতার সার্বিক তত্ত্বাবধান করে দেশটির ওজারাতুল আওকাফ (ধর্ম মন্ত্রণালয়)।

হাফেজ আবু রাহাত সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুর উপজেলার পইজুরি গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। বাবা রমজান আলী সরদার একজন মুদি দোকানি। ছেলেকে বড় আলেম ও হাফেজ বানানোর স্বপ্ন থেকেই ভর্তি করেন হাফেজি মাদ্রাসায়। আলিফ বা তা সা শেষ করে-বয়সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে আবু রাহাতের লেখাপড়ার মনোযোগ ও আকর্ষণ। মাত্র নয় মাসেই পবিত্র কুরআনুল কারিমের পরিপূর্ণ হাফেজ হয়ে যান তিনি।

২০২০ সালে জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা পিএইচপি কুরআনের আলোয় প্রথম স্থান অধিকার করে সারা দেশের কোটি কোটি কুরআনপ্রেমী মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করেন আবু রাহাত। তিনি বিশ্বমানের আলেম হয়ে ইসলামের শান্তি ও সুন্দরের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বর্তমানে রাজধানীর মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছেন।

তার শিক্ষক ও মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল শায়েখ নেছার আহমাদ আন নাছিরী বলেন, আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক মানের হাফেজ গড়ার সাধনা করে যাচ্ছে। দেশবাসীর দোয়ায় আমাদের এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০-এর অধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন রাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন।

বিশ্বজয়ী হাফেজ তরিকুল ইসলাম ও সাইফুর রহমান তকি আমাদের এ প্রতিষ্ঠানেরই কৃতী শিক্ষার্থী। হাফেজ আবু রাহাতের এ সাফল্যের বিষয়ে তিনি বলেন, মহান আল্লাহর অশেষ কৃপা, ওস্তাদদের দোয়া, তার ঐকান্তিক সাধনা ফসল হচ্ছে এ বিজয়।

লেখক : খতিব পীরইয়ামেনী জামে মসজিদ, গুলিস্তান. ঢাকা

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন