আনন্দে শুরু : ভেজা চোখে বিদায়

  হাফেজ শাহ শরীফ ২২ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফুরিয়ে গেল রমজান। শেষ হল খতমে তারাবি। কোরআনের পাখিরা ফিরে গেলেন নিজ নিজ ঘরে। দীর্ঘ আরেকটি বছরের অপেক্ষা। আবার কবে ফিরে আসবে কোরআন নাজিলের মাস রমজান। মুসল্লিদের ঐশী বাণী শুনিয়ে হৃদয় শীতল করবেন। রমজান এলে হাফেজদের প্রাণ জেগে ওঠে। আত্মার প্রশান্তি লাভ করে। হাফেজদের সিনায় পুষে রাখা কোরআনের সুরে সুরভিত হয় গোটা দেশ। কোরআনের সঙ্গে হাফেজদের হৃদ্যিক সম্পর্ক। কোরআনের সুর মানব হৃদয়ে পৌঁছানোর জন্য সারা বছর আত্মা ছটফট করে। এ অনুভূটিতা হাফেজরাই অনুভব করতে পারেন। আর এ সুযোগ আসে রমজানের তারাবিতে। তাই রমজান ফুরিয়ে গেলে হাফেজদের হৃদয় কেঁদে ওঠে। তারাবিকে কেন্দ্র করে হাফেজরা রমজানের ২৭ দিন মসজিদে অবস্থান করেন। আর বছর বছর এই ২৭ দিনের থাকে অনেক স্মৃতি। অনেক সুখ-দুঃখের গল্প। এর বহিঃপ্রকাশ ঘটে বিদায় মুহূর্তে চোখের দু’ফোঁটা অশ্রুতে। একদিকে থাকে শেষ কয়টা দিন পরিবারের সঙ্গে সাহরি ইফতারের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার প্রবল ইচ্ছা, অন্যদিকে মুসল্লিদের ভালোবাসা ছেড়ে বিদায়ের কান্না। আজকের লেখায় দু’জন হাফেজের তারাবি শেষে অনুভূতির কথা পাঠকদের জানাচ্ছি-

হাফেজ মুহাম্মদ আল আমিন সরকার (৩২)। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানার চরপাথালিয়া সালমান ফার্সি (রা.) হিফজুল কোরআন মাদ্রাসার পরিচালক এবং বাংলাদেশ বেতারের নিয়মিত তেলাওয়াতকারী। এ বছর তারাবি পড়িয়েছেন রাজধানীর গেণ্ডারিয়া বাইতুল আকবর জামে মসজিদে। তারাবি শেষ হওয়ার অনুভূতির কথা জানতে চাইলে হাফেজ আল আমিন বলেন, কোরআনের শেষ দশ পারা চলে এলেই বিদায়ের ব্যথা বেশি বেশি মনে হতে থাকে। বিশেষ করে যখন কোরআনের শেষের ছোট সূরাগুলো নামাজে পড়তে থাকি তখন চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে থাকে। খুব আফসোস হয় যদি আর কয়টা পারা থাকত। এভাবে শেষ করে আবার আগামী রমজানের অপেক্ষায় থাকি। তারাবির হাদিয়ার টাকা কোন খাতে ব্যয় করেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্রজীবনে টাকাটা ব্যয় করতাম মাদ্রাসা ভর্তি, কিতাব কিনা এবং জরুরি প্রয়োজনে। এখন আমার মাদ্রাসার ছাত্রদের পেছনে ব্যয় করি। হাফেজ এহসানুল্লাহ ফয়েজী (২২)। ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় আল কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র। এ বছর তারাবি পড়িয়েছেন দক্ষিণ খিলগাঁও উত্তর শাহজাহানপুর ঝিল মসজিদে। সঙ্গে ছিলেন ওই মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা আব্দুল হালিম আল আজহারী। বিগত বছরগুলোতে তারাবি শেষে বিদায়ের অনুভূতি জানতে চাইলে হাফেজ এহসানুল্লাহ বলেন, তারাবির শুরুটা হয় খুব আনন্দে। পুরো রমজান মাসের বেশিটা সময় কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে কাটে। মসজিদ ও মুসল্লিদের সঙ্গে গভীর এক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নামাজ শেষে অনেক মুসল্লি দেখা করে মুসাফাহা করেন, দোয়া নেন কথা বলেন খুব আনন্দ লাগে। তাই বিদায় সময়টা খুব কষ্ট হয়। উদাহরণ হিসেবে বলেন, আমি যখন পশ্চিম নন্দীপাড়া মসজিদে প্রথম তারাবি পড়াই, তারাবি শেষে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে আমাকে কিছু বলতে বলা হল। আমি বিদায়ের কথাটি আর বলতে পারিনি। চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি ঝরতে থাকে। এভাবেই জমা হতে থাকে হাফেজদের তারাবি জীবনের স্মৃতি। কেউ হয়তো আগামী রমজানে আগের মসজিদে ফিরে আসবেন, আবার কেউ অন্য মসজিদে তারাবি পড়ানো শুরু করবেন। এ দেশের হাফেজরা যেন ভালো থাকেন। সারা জীবন কোরআনকে ধরে রাখতে পারেন। আগামী রমজানে আবার প্রতিটা মসজিদ থেকে ভেসে আসবে ‘আলিফ লাম মিম। জালিকাল ফিতাবু লা রইবাফিহ্।’ এটাই প্রত্যাশা করে এ দেশের মানুষ।

লেখক : প্রাবন্ধিক

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter