শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিন ওয়াজ মাহফিল থেকে
jugantor
শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিন ওয়াজ মাহফিল থেকে

  মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ  

১৮ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শীতকালে আমাদের দেশের গ্রাম-গঞ্জ, এমনকি শহরেও ওয়াজ মাহফিলের ধুম পড়ে যায়। আবহমান কাল ধরে বাঙালি মুসলিম সমাজে এটি প্রচলিত। কুরআন কারিমের ৭৭টি নামের এক নাম হলো ‘ওয়াজ’ বা উপদেশ। মহান আল্লাহ হলেন প্রথম ওয়ায়েজ বা ওয়াজকারী।

প্রিয়নবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) হলেন দ্বিতীয় ওয়াজকারী। ওয়াজ দাওয়াতের প্রচলিত মাধ্যম। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তুমি তোমার প্রতিপালকের পথে আহ্বান করো হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা এবং তাদের সঙ্গে তর্ক করবে উত্তম পন্থায়।’ (নাহল-১২৫)।

দাওয়াতি আলোচনার বিভিন্ন ধরন রয়েছে। যেমন-ওয়াজ, নসিহত, বয়ান, খুতবা, তাফসির ইত্যাদি। ‘ওয়াজ’ হলো সুন্দর, আকর্ষণীয়, যুক্তিপূর্ণ ও হৃদয়স্পর্শী আবেদনময় আলোচনা। দেশ-বিদেশের সমকালীন খ্যাতিসম্পন্ন ওলামায়ে কেরাম তাতে উপস্থিত থেকে কুরআন হাদিসের আলোকে সারগর্ভ নসিহত পেশ করেন। মুসলমানদের ইমান-আকাইদ ও আমলি সংশোধন, আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং যুগসচেতন হওয়ার আহ্বান করেন।

শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণের বাণী ছড়িয়ে দিতে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। তবে মাহফিলগুলো যাতে করে সামাজিক রেওয়াজ ও লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে না হয়-সেদিকে অবশ্য খেয়াল রাখতে হবে। বক্তা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সচেতনতার পরিচয় দিতে হবে। জ্ঞানী ও যুগসচেতন আলেমদের মাহফিলে দাওয়াতের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

এ কথা স্বীকার করতেই হবে, আমাদের বর্তমানের মাহফিলগুলো আগের মতো সেই প্রভাবময় নয়। আগে বক্তাদের যে রকম ইলম ছিল, ছিল সেরকম আমলও। সততা ও একনিষ্ঠতার কোনো ঘাটতি ছিল না। এখনকার ওয়াজ মাহফিলগুলোতে শ্রোতাদের আবেদন রক্ষার্থে বেশিরভাগ মাহফিলগুলোতে এমন সব বক্তাকে দাওয়াত করা হয়, যারা চুক্তিভিত্তিক ওয়াজ করেন।

আমাদের সমাজের সিংহভাগ মানুষই জানেন না-ওয়াজের উদ্দেশ্য কী? হাদিসের আলোকে বলা যায়, ওয়াজের উদ্দেশ্য হবে মানুষকে ইহ-পরকালীন কল্যাণের পথনির্দেশ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিল করা। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন শুধুই ওই আমল কবুল করেন, যা তার সন্তুষ্টির জন্য করা হয়। (বায়হাকি শরিফ)।

হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, যে ভাষার প্রাঞ্জলতা শিখে মানুষের অন্তরকে তার প্রতি আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তার কোনো ফরজ ও নফল ইবাদতকে কবুল করবেন না’। (মিশকাত : ৪১০) ইমাম গাজালি (রহ.)। তার লিখিত গ্রন্থ ‘আইয়্যুহাল ওয়ালাদ’ নামক গ্রন্থে লিখেছেন, ওয়াজকারীদের ওয়াজ দ্বারা উদ্দেশ্য যেন হয় মানুষকে দুনিয়া থেকে আখেরাতের প্রতি, গোনাহ থেকে নেকির প্রতি, লোভ থেকে পরিতুষ্টির প্রতি আহ্বান করা।

এরই ভিত্তিতে বক্তারা শ্রোতাদের পরকালমুখী ও দুনিয়াবিমুখ করে গড়ে তোলার প্রয়াস করা। ইবাদত-বন্দেগি ও তাকওয়ার দীক্ষাদান করা। সর্বোপরি আত্মিক অবস্থা পরিবর্তনের সাধনা করা। এটাই হলো প্রকৃত ওয়াজ। আর যে বক্তা এরূপ উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে ওয়াজ করবে তার ওয়াজ মানুষের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। দ্বীনদার মুসলমানরা যেন এ রকম বক্তা ও ওয়াজ সম্পূর্ণরূপে পরিহার করে। (মাজালিসূল আবরার : ৪৮২)।

বক্তাদের জন্য পাঁচটি জিনিস অত্যাবশ্য-সেগুলো হলো ১. ইলম, কেননা ইলমহীন ব্যক্তি সঠিক ও বিশুদ্ধ বয়ান করতে অক্ষম। ২. আল্লাহর সন্তুষ্ট ও তার দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্য। ৩. যা বয়ান করবেন তা আমল করা। ৪. বক্তা শ্রোতাদের ওপর দয়ার্ত ও বিনম্র হয়ে কথা বলা। ৫. বক্তা ধৈর্যশীল ও সহনশীল হওয়া। (ফাতওয়ায়ে আলমগীরি ৪/১১০)।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে জানা গেল যে, আল্লাহর সন্তুষ্ট, দ্বীনের দাওয়াত ও মানুষের হিদায়াতকে লক্ষ্য না বানিয়ে যতই ওয়াজ হোক তা আল্লাহর কাছে কবুল হবে না এবং মানুষের কোনো উপকারও হয় না। অর্থকড়ি, যশ-খ্যাতি ও দুনিয়াবি কোনো স্বার্থ হাসিলের জন্য যারা ওয়াজ করে বা ওয়াজের আয়োজন করে তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

ওয়াজকারী ব্যক্তির জন্য দুটি গুণ থাকা অপরিহার্য। যদি দুই গুণ না থাকে তাহলে মানুষের হিদায়াত হবে না। কুরআনুল কারিমে আল্লাহপাক ইরশাদ করেন, ‘তোমরা তাদের অনুসরণ করো যারা দ্বীনি বিষয়ে কোনো পারিশ্রমিক চায় না এবং তারা সুপথপ্রাপ্ত’। (সূরা- ইয়াসিন : ২১)।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা.) বলেন, শেষ জামানায় একদল লোক বের হবে, যারা হবে বয়সে অল্প, বিদ্যায় অপরিপক্ব। তারা কুরআনের কথা বলবে, কিন্তু এর প্রভাব নিজ কণ্ঠনালি অতিক্রম করবে না। (অর্থাৎ বাস্তব জীবনের ওপর আমল করবে না।) তারা দুনিয়াবাসীর মধ্যে সবচেয়ে চমৎকার কথা বলবে। অথচ ধনুক থেকে তীর ছোটার গতিতে তারা দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাবে (তিরমিজি)।

এ হাদিসে আমলহীন আলোচকের ব্যাপারে সতর্ক করার পাশাপাশি তাদের ভয়াবহ পরিণামের কথাও বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং, দ্বীনি আলোচক নির্বাচনে অবশ্যই তার ফিকহি প্রজ্ঞার সঙ্গে সঙ্গে আমলি হালচাল জেনে নেওয়া আবশ্যকীয়।

আর চারিত্রিক সৌন্দর্য এমন একটি বিষয়, যা ছাড়া কেউ ইসলামের প্রকৃত দাঈ বা মুবাল্লিগ হতে পারে না। ওয়াজ মাহফিলের আলোচকও প্রকৃতপক্ষে একজন দাঈ ও মুবাল্লিগ। বাস্তবিক অর্থে যিনি ওয়াজ-নসিহত করেন, হেদায়াতের কথা বলেন, তিনি হলেন নবিওয়ালা কাজের উত্তরাধিকারী। সুতরাং অবশ্যই তাকে চারিত্রিক মাধুর্য ও আদর্শিক গুণাবলির অধিকারী হতে হবে।

রাসূল (সা.) বলেন, প্রশংসনীয় গুণাবলিতে পূর্ণতার রূপ দেওয়ার জন্য আমি প্রেরিত হয়েছি। হজরত মুয়ায (রা.) বর্ণনা করেন, আমি যখন উটের পাদানিতে পা রাখি, তখন রাসূল (সা.) সর্বশেষ যে নসিহত করেছিলেন তা হলো, হে মুয়াজ! তুমি মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করবে (মুয়াত্তা মালেক)।

পরিশেষে বলতে চাই, কেউ নিজেকে রাসূলের অনুসারী ও উত্তরাধিকারী বলে দাবি করবে অথচ চারিত্রিক গুণাবলিতে তার আনুগত্য করবে না, তা হতে পারে না। সুতরাং ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক চলাফেরায় সর্বত্র নবি আদর্শের বাস্তবায়ন অপরিহার্য।

আর ওয়াজ মাহফিলের আয়োজকদের কাছে আরও প্রত্যাশা থাকবে, ওয়াজ মাহফিলে কুরআন-হাদিসভিত্তিক আলোচনার জন্য বিজ্ঞ ও বিচক্ষণ আলেম নির্বাচন করুন। তাহলে জাতি আরও বেশি উপকৃত হবে এবং ওয়াজ মাহফিলের মূল উদ্দেশ্য অর্জন হবে। বস্তুত এমন ওয়াজের মাধ্যমে পরকালে নাজাতের আশা করা যায়।

লেখক : ইসলামি গবেষক

শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিন ওয়াজ মাহফিল থেকে

 মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ 
১৮ নভেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শীতকালে আমাদের দেশের গ্রাম-গঞ্জ, এমনকি শহরেও ওয়াজ মাহফিলের ধুম পড়ে যায়। আবহমান কাল ধরে বাঙালি মুসলিম সমাজে এটি প্রচলিত। কুরআন কারিমের ৭৭টি নামের এক নাম হলো ‘ওয়াজ’ বা উপদেশ। মহান আল্লাহ হলেন প্রথম ওয়ায়েজ বা ওয়াজকারী।

প্রিয়নবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) হলেন দ্বিতীয় ওয়াজকারী। ওয়াজ দাওয়াতের প্রচলিত মাধ্যম। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তুমি তোমার প্রতিপালকের পথে আহ্বান করো হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা এবং তাদের সঙ্গে তর্ক করবে উত্তম পন্থায়।’ (নাহল-১২৫)।

দাওয়াতি আলোচনার বিভিন্ন ধরন রয়েছে। যেমন-ওয়াজ, নসিহত, বয়ান, খুতবা, তাফসির ইত্যাদি। ‘ওয়াজ’ হলো সুন্দর, আকর্ষণীয়, যুক্তিপূর্ণ ও হৃদয়স্পর্শী আবেদনময় আলোচনা। দেশ-বিদেশের সমকালীন খ্যাতিসম্পন্ন ওলামায়ে কেরাম তাতে উপস্থিত থেকে কুরআন হাদিসের আলোকে সারগর্ভ নসিহত পেশ করেন। মুসলমানদের ইমান-আকাইদ ও আমলি সংশোধন, আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং যুগসচেতন হওয়ার আহ্বান করেন।

শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণের বাণী ছড়িয়ে দিতে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। তবে মাহফিলগুলো যাতে করে সামাজিক রেওয়াজ ও লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে না হয়-সেদিকে অবশ্য খেয়াল রাখতে হবে। বক্তা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সচেতনতার পরিচয় দিতে হবে। জ্ঞানী ও যুগসচেতন আলেমদের মাহফিলে দাওয়াতের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

এ কথা স্বীকার করতেই হবে, আমাদের বর্তমানের মাহফিলগুলো আগের মতো সেই প্রভাবময় নয়। আগে বক্তাদের যে রকম ইলম ছিল, ছিল সেরকম আমলও। সততা ও একনিষ্ঠতার কোনো ঘাটতি ছিল না। এখনকার ওয়াজ মাহফিলগুলোতে শ্রোতাদের আবেদন রক্ষার্থে বেশিরভাগ মাহফিলগুলোতে এমন সব বক্তাকে দাওয়াত করা হয়, যারা চুক্তিভিত্তিক ওয়াজ করেন।

আমাদের সমাজের সিংহভাগ মানুষই জানেন না-ওয়াজের উদ্দেশ্য কী? হাদিসের আলোকে বলা যায়, ওয়াজের উদ্দেশ্য হবে মানুষকে ইহ-পরকালীন কল্যাণের পথনির্দেশ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিল করা। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন শুধুই ওই আমল কবুল করেন, যা তার সন্তুষ্টির জন্য করা হয়। (বায়হাকি শরিফ)।

হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, যে ভাষার প্রাঞ্জলতা শিখে মানুষের অন্তরকে তার প্রতি আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তার কোনো ফরজ ও নফল ইবাদতকে কবুল করবেন না’। (মিশকাত : ৪১০) ইমাম গাজালি (রহ.)। তার লিখিত গ্রন্থ ‘আইয়্যুহাল ওয়ালাদ’ নামক গ্রন্থে লিখেছেন, ওয়াজকারীদের ওয়াজ দ্বারা উদ্দেশ্য যেন হয় মানুষকে দুনিয়া থেকে আখেরাতের প্রতি, গোনাহ থেকে নেকির প্রতি, লোভ থেকে পরিতুষ্টির প্রতি আহ্বান করা।

এরই ভিত্তিতে বক্তারা শ্রোতাদের পরকালমুখী ও দুনিয়াবিমুখ করে গড়ে তোলার প্রয়াস করা। ইবাদত-বন্দেগি ও তাকওয়ার দীক্ষাদান করা। সর্বোপরি আত্মিক অবস্থা পরিবর্তনের সাধনা করা। এটাই হলো প্রকৃত ওয়াজ। আর যে বক্তা এরূপ উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে ওয়াজ করবে তার ওয়াজ মানুষের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। দ্বীনদার মুসলমানরা যেন এ রকম বক্তা ও ওয়াজ সম্পূর্ণরূপে পরিহার করে। (মাজালিসূল আবরার : ৪৮২)।

বক্তাদের জন্য পাঁচটি জিনিস অত্যাবশ্য-সেগুলো হলো ১. ইলম, কেননা ইলমহীন ব্যক্তি সঠিক ও বিশুদ্ধ বয়ান করতে অক্ষম। ২. আল্লাহর সন্তুষ্ট ও তার দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্য। ৩. যা বয়ান করবেন তা আমল করা। ৪. বক্তা শ্রোতাদের ওপর দয়ার্ত ও বিনম্র হয়ে কথা বলা। ৫. বক্তা ধৈর্যশীল ও সহনশীল হওয়া। (ফাতওয়ায়ে আলমগীরি ৪/১১০)।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে জানা গেল যে, আল্লাহর সন্তুষ্ট, দ্বীনের দাওয়াত ও মানুষের হিদায়াতকে লক্ষ্য না বানিয়ে যতই ওয়াজ হোক তা আল্লাহর কাছে কবুল হবে না এবং মানুষের কোনো উপকারও হয় না। অর্থকড়ি, যশ-খ্যাতি ও দুনিয়াবি কোনো স্বার্থ হাসিলের জন্য যারা ওয়াজ করে বা ওয়াজের আয়োজন করে তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

ওয়াজকারী ব্যক্তির জন্য দুটি গুণ থাকা অপরিহার্য। যদি দুই গুণ না থাকে তাহলে মানুষের হিদায়াত হবে না। কুরআনুল কারিমে আল্লাহপাক ইরশাদ করেন, ‘তোমরা তাদের অনুসরণ করো যারা দ্বীনি বিষয়ে কোনো পারিশ্রমিক চায় না এবং তারা সুপথপ্রাপ্ত’। (সূরা- ইয়াসিন : ২১)।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা.) বলেন, শেষ জামানায় একদল লোক বের হবে, যারা হবে বয়সে অল্প, বিদ্যায় অপরিপক্ব। তারা কুরআনের কথা বলবে, কিন্তু এর প্রভাব নিজ কণ্ঠনালি অতিক্রম করবে না। (অর্থাৎ বাস্তব জীবনের ওপর আমল করবে না।) তারা দুনিয়াবাসীর মধ্যে সবচেয়ে চমৎকার কথা বলবে। অথচ ধনুক থেকে তীর ছোটার গতিতে তারা দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাবে (তিরমিজি)।

এ হাদিসে আমলহীন আলোচকের ব্যাপারে সতর্ক করার পাশাপাশি তাদের ভয়াবহ পরিণামের কথাও বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং, দ্বীনি আলোচক নির্বাচনে অবশ্যই তার ফিকহি প্রজ্ঞার সঙ্গে সঙ্গে আমলি হালচাল জেনে নেওয়া আবশ্যকীয়।

আর চারিত্রিক সৌন্দর্য এমন একটি বিষয়, যা ছাড়া কেউ ইসলামের প্রকৃত দাঈ বা মুবাল্লিগ হতে পারে না। ওয়াজ মাহফিলের আলোচকও প্রকৃতপক্ষে একজন দাঈ ও মুবাল্লিগ। বাস্তবিক অর্থে যিনি ওয়াজ-নসিহত করেন, হেদায়াতের কথা বলেন, তিনি হলেন নবিওয়ালা কাজের উত্তরাধিকারী। সুতরাং অবশ্যই তাকে চারিত্রিক মাধুর্য ও আদর্শিক গুণাবলির অধিকারী হতে হবে।

রাসূল (সা.) বলেন, প্রশংসনীয় গুণাবলিতে পূর্ণতার রূপ দেওয়ার জন্য আমি প্রেরিত হয়েছি। হজরত মুয়ায (রা.) বর্ণনা করেন, আমি যখন উটের পাদানিতে পা রাখি, তখন রাসূল (সা.) সর্বশেষ যে নসিহত করেছিলেন তা হলো, হে মুয়াজ! তুমি মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করবে (মুয়াত্তা মালেক)।

পরিশেষে বলতে চাই, কেউ নিজেকে রাসূলের অনুসারী ও উত্তরাধিকারী বলে দাবি করবে অথচ চারিত্রিক গুণাবলিতে তার আনুগত্য করবে না, তা হতে পারে না। সুতরাং ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক চলাফেরায় সর্বত্র নবি আদর্শের বাস্তবায়ন অপরিহার্য।

আর ওয়াজ মাহফিলের আয়োজকদের কাছে আরও প্রত্যাশা থাকবে, ওয়াজ মাহফিলে কুরআন-হাদিসভিত্তিক আলোচনার জন্য বিজ্ঞ ও বিচক্ষণ আলেম নির্বাচন করুন। তাহলে জাতি আরও বেশি উপকৃত হবে এবং ওয়াজ মাহফিলের মূল উদ্দেশ্য অর্জন হবে। বস্তুত এমন ওয়াজের মাধ্যমে পরকালে নাজাতের আশা করা যায়।

লেখক : ইসলামি গবেষক

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন