মানসিক চাপ এড়ানোর কৌশল
jugantor
মানসিক চাপ এড়ানোর কৌশল

  জাকারিয়া শাহীন  

২৫ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণা উপস্থাপনা প্রবন্ধ-নিবন্ধ থেকে আমরা বলতে পারি; মানসিক চাপ হলো, মানুষের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা বা পরিস্থিতি-যা তার অনুভূতিতে প্রচণ্ড আঘাত করে।

শয়তান মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতাকে ব্যর্থ করার জন্য প্রথম তীর ছোড়ে হতাশা, দুশ্চিন্তা ও ব্যর্থতার। প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.) খুব সুন্দর করেই বলতেন, ‘শয়তানের পাঠশালার প্রথম পাঠ হলো, হতাশা-নিরাশা, দুশ্চিন্তা।’

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘শয়তান তোমাদের দারিদ্র্যের ভয় দেখায়, অভাবের ভয় দেখায় এবং অশ্লীলতার নির্দেশ দেয়।’ (সূরা বাকারা-২৬৮)। শয়তান মুমিনকে ভবিষ্যতে বিপদ-মসিবত, দুরবস্থা, হতাশা-নিরাশার ভয় দেখায়।

মানসিক টেনশন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দুশ্চিন্তা হতাশা থেকে মুক্তির জন্য ইসলামের মৌলিক দিকনির্দেশনাগুলো হলো-

আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা

একজন মানুষ যত বেশি আল্লাহর ওপর আস্থা রাখবে, নিজেকে আল্লাহর কাছে সঁপে দেবে, মানসিক শক্তি ও স্থিরতা ততই বৃদ্ধি পাবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে আল্লাহ-ই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সূরা তালাক-৩)।

আল্লাহতায়ালার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার একটি চমৎকার উপমা রাসূল (সা.) পেশ করেছেন। রাসূল (সা.) বলেন, তোমরা যদি প্রকৃতভাবেই আল্লাহতায়ালার ওপর নির্ভরশীল হতে, তাহলে পাখিদের যেভাবে রিজিক দেওয়া হয়, সেভাবে তোমাদেরও রিজিক দেওয়া হতো। এরা সকাল বেলা খালি পেটে বের হয়, আর সন্ধ্যা বেলায় ভরা পেটে ফিরে আসে।

(সুনান তিরমিজি-২৩৪৪)।

তাকদিরের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস

মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, হতাশা থেকে বাঁচার অন্যতম মাধ্যম হলো নিজের ভালো-মন্দ, আশা-আকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া। তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপন করে যাওয়া মুমিন ব্যক্তির জন্য আবশ্যক। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) (৬৮ হি.) বলেন, আমি একদিন রাসূল (সা.)-এর পেছনে ছিলাম। তিনি বলেন, হে বৎস!

আমি তোমাকে কিছু কথা শিক্ষা দিচ্ছি; তুমি আল্লাহতায়ালার হুকুম-আহকাম যথাযথ আদায় করবে, আল্লাহতায়ালা তোমাকে সব বিপদ-মসিবত থেকে যথাযথভাবে রক্ষা করবেন। তুমি আল্লাহতায়ালার হুকুম-আহকাম যথাযথ আদায় করবে; তাহলে তুমি আল্লাহতায়ালাকে তোমার সামনে পাবে।

আর তুমি যখন কিছু চাইবে আল্লাহর কাছেই চাইবে। যখন কোনো সাহায্য চাইবে আল্লাহর কাছেই চাইবে। জেনে রেখ, যদি সব মানুষ তোমার কোনো উপকার করার ইচ্ছা করে, তবে তারা শুধু এ পরিমাণ উপকার-ই করতে পারবে; যা আল্লাহতায়ালা তোমার জন্য নির্ধারণ করে রেখেছেন। আর সব মানুষ তোমার কোনো ক্ষতি করার ইচ্ছা করে, তবে তারা কেবল এ পরিমাণ ক্ষতি-ই করতে পারবে, যা আল্লাহতায়ালা তোমার জন্য নির্ধারণ করে রেখেছেন (সুনানে তিরমিজি-২৫১৬)।

কায়মনে আল্লাহর কাছে দোয়া করা

রাসূল (সা.) হতাশা, দুশ্চিন্তা, দুঃখ-কষ্ট মানসিক চাপ থেকে রক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন- ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুজনি ওয়া আউজুবিকা মিনাল আজজি ওয়াল কাছালি ওয়া আউজুবিকা মিনাল বুখলি ওয়াল জুবনি ওয়া আউজুবিকা মিন গলাবাতিদদাইনি ওয়া কাহরির রিজাল।

মানসিক চাপ এড়ানোর কৌশল

 জাকারিয়া শাহীন 
২৫ নভেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণা উপস্থাপনা প্রবন্ধ-নিবন্ধ থেকে আমরা বলতে পারি; মানসিক চাপ হলো, মানুষের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা বা পরিস্থিতি-যা তার অনুভূতিতে প্রচণ্ড আঘাত করে।

শয়তান মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতাকে ব্যর্থ করার জন্য প্রথম তীর ছোড়ে হতাশা, দুশ্চিন্তা ও ব্যর্থতার। প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.) খুব সুন্দর করেই বলতেন, ‘শয়তানের পাঠশালার প্রথম পাঠ হলো, হতাশা-নিরাশা, দুশ্চিন্তা।’

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘শয়তান তোমাদের দারিদ্র্যের ভয় দেখায়, অভাবের ভয় দেখায় এবং অশ্লীলতার নির্দেশ দেয়।’ (সূরা বাকারা-২৬৮)। শয়তান মুমিনকে ভবিষ্যতে বিপদ-মসিবত, দুরবস্থা, হতাশা-নিরাশার ভয় দেখায়।

মানসিক টেনশন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দুশ্চিন্তা হতাশা থেকে মুক্তির জন্য ইসলামের মৌলিক দিকনির্দেশনাগুলো হলো-

আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা

একজন মানুষ যত বেশি আল্লাহর ওপর আস্থা রাখবে, নিজেকে আল্লাহর কাছে সঁপে দেবে, মানসিক শক্তি ও স্থিরতা ততই বৃদ্ধি পাবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে আল্লাহ-ই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সূরা তালাক-৩)।

আল্লাহতায়ালার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার একটি চমৎকার উপমা রাসূল (সা.) পেশ করেছেন। রাসূল (সা.) বলেন, তোমরা যদি প্রকৃতভাবেই আল্লাহতায়ালার ওপর নির্ভরশীল হতে, তাহলে পাখিদের যেভাবে রিজিক দেওয়া হয়, সেভাবে তোমাদেরও রিজিক দেওয়া হতো। এরা সকাল বেলা খালি পেটে বের হয়, আর সন্ধ্যা বেলায় ভরা পেটে ফিরে আসে।

(সুনান তিরমিজি-২৩৪৪)।

তাকদিরের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস

মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, হতাশা থেকে বাঁচার অন্যতম মাধ্যম হলো নিজের ভালো-মন্দ, আশা-আকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া। তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপন করে যাওয়া মুমিন ব্যক্তির জন্য আবশ্যক। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) (৬৮ হি.) বলেন, আমি একদিন রাসূল (সা.)-এর পেছনে ছিলাম। তিনি বলেন, হে বৎস!

আমি তোমাকে কিছু কথা শিক্ষা দিচ্ছি; তুমি আল্লাহতায়ালার হুকুম-আহকাম যথাযথ আদায় করবে, আল্লাহতায়ালা তোমাকে সব বিপদ-মসিবত থেকে যথাযথভাবে রক্ষা করবেন। তুমি আল্লাহতায়ালার হুকুম-আহকাম যথাযথ আদায় করবে; তাহলে তুমি আল্লাহতায়ালাকে তোমার সামনে পাবে।

আর তুমি যখন কিছু চাইবে আল্লাহর কাছেই চাইবে। যখন কোনো সাহায্য চাইবে আল্লাহর কাছেই চাইবে। জেনে রেখ, যদি সব মানুষ তোমার কোনো উপকার করার ইচ্ছা করে, তবে তারা শুধু এ পরিমাণ উপকার-ই করতে পারবে; যা আল্লাহতায়ালা তোমার জন্য নির্ধারণ করে রেখেছেন। আর সব মানুষ তোমার কোনো ক্ষতি করার ইচ্ছা করে, তবে তারা কেবল এ পরিমাণ ক্ষতি-ই করতে পারবে, যা আল্লাহতায়ালা তোমার জন্য নির্ধারণ করে রেখেছেন (সুনানে তিরমিজি-২৫১৬)।

কায়মনে আল্লাহর কাছে দোয়া করা

রাসূল (সা.) হতাশা, দুশ্চিন্তা, দুঃখ-কষ্ট মানসিক চাপ থেকে রক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন- ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুজনি ওয়া আউজুবিকা মিনাল আজজি ওয়াল কাছালি ওয়া আউজুবিকা মিনাল বুখলি ওয়াল জুবনি ওয়া আউজুবিকা মিন গলাবাতিদদাইনি ওয়া কাহরির রিজাল।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন