আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না
jugantor
আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না

  আবু ইউসুফ  

০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘অবশ্যই বিশ্বাসীরা সফল হয়েছে’ (সূরা মুমিনুন-০১)। মুমিন কখনোই হতাশ হতে পারে না। হতাশা মুমিনের কাজ নয়। সব সময় আল্লাহর অনুগ্রহ, করুণা এবং দয়ার যে আলোকধারা মুমিনের ওপর বর্ষিত হচ্ছে তা থেকে আপনি (মুমিন) কীভাবে নিরাশ হবেন? ইহকালীন ব্যর্থতা, পরাজয়ে আপনার কি আসে যায়!

আল্লাহর ওপর নির্ভর করে মুমিন কখনো হতাশ হন না। দুনিয়ার অপূর্ণতা তাদের আঘাত দেয় না। বরং তারা প্রতীক্ষার প্রহর গুনে মহাসফলতার। সেই সফলতা, যার ওয়াদা দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহতায়ালা। আল্লাহ বলেন, ‘বলে দাও, হে আমার বান্দারা যারা নিজের আত্মার ওপর জুলুম করেছ আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চিতভাবেই আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করে দেন। তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু। (সূরা জুমার-৫৩)।

দুনিয়া একটি পরীক্ষাগার। আল্লাহ বলেন, আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব ভয়, ক্ষুধা এবং তোমাদের জানমাল ও ফসলাদির ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে। আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন (সূরা বাকারা-১৫৫)। মুমিনদের জন্য পরীক্ষা আসবেই। পরীক্ষা দিয়েছেন নবি-রাসূলরাও।

আমরা যদি প্রিয় নবি (সা.)-এর পবিত্র জীবনের দিকে তাকাই তাহলে দেখব-তার তিন তিনটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করেছিলেন- সবাই শিশু অবস্থায়ই ইন্তেকাল করেন। তিনি তো হতাশ হননি। যে মক্কাবাসী তাকে আল-আমিন উপাধি দিয়েছিল তারাই তো তাকে শিয়াবে আবু তালেবে বন্দি রেখেছিল তিন তিনটি বছর। তাদের জুলুম নির্যাতন এতটাই তীব্র ছিল যে, শেষ পর্যন্ত সহ্য করতে না পেরে আল্লাহর হুকুমে জন্মভূমি থেকে হিজরত করতে হয়েছিল তাকে। তারপরও তো তিনি হতাশ হননি।

আমরা যদি মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই, তিনি আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন-‘হে আমার প্রভু! আমাকে এক সৎ ছেলেসন্তান দান করুন।’ (সূরা সাফফাত-১০০)। তখন আল্লাহ তাকে সুসংবাদ দিলেন, ‘সুতরাং আমি তাকে এক সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দান করলাম।’ (সূরা সাফফাত-১০১)।

যার নাম ইসমাইল (আ.)। প্রাণাধিক প্রিয় পুত্রসন্তান যখন তার সঙ্গে চলাফেরার বয়সে উপনীত হলেন, তখন তাকে কুরবানি করার নির্দেশ করা হলো। তিনি হতাশ হননি বরং তিনি রবের ওপর ভরসা করে পুত্র ইসমাইলকে স্বপ্নের কথা বললেন। ইসমাইল (আ.) বললেন, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা পালন করুন।

হজরত জাকারিয়া (আ.)-এর ঘটনা আমাদের সবারই জানা, তিনি মারইয়াম (আ.)-এর দায়িত্বে ছিলেন। তিনি যখনই মারইয়ামের কক্ষে প্রবেশ করতেন তখনই তার কাছে আনসিজনে বিরল খাদ্যদ্রব্য দেখতে পেতেন। তিনি জিজ্ঞেস করতেন, হে মারইয়াম! এসব তুমি কোথায় পেলে? তিনি বলতেন, ‘এসব আল্লাহর কাছ থেকে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত জীবনোপকরণ দান করেন’ (সূরা ইমরান-৩৭)।

তখন পর্যন্ত জাকারিয়া (আ.)-এর কোনো সন্তানসন্ততি ছিল না। তিনি মনে মনে ভাবলেন আর বললেন, যে আল্লাহ আনসিজনে ফল দিতে পারেন, সে আল্লাহ বৃদ্ধ বয়সে আমাকে সন্তানও দিতে পারবেন। তখন তিনি হতাশ না হয়ে দোয়া করলেন, ‘হে আমার পালনকর্তা!

তোমার কাছ থেকে আমাকে পূত-পবিত্র সন্তান দান কর। নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী।’ (সূরা ইমরান-৩৮)। আল্লাহর ওপর ভরসা করে তার কাছে চাইলে তিনি কাউকে কখনো হতাশ করেন না। অতএব, যারা প্রকৃত মুমিন বান্দা তাদের উচিত দুনিয়াতে দুঃখ-কষ্টে কখনো হতাশ হবে না।

আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না

 আবু ইউসুফ 
০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘অবশ্যই বিশ্বাসীরা সফল হয়েছে’ (সূরা মুমিনুন-০১)। মুমিন কখনোই হতাশ হতে পারে না। হতাশা মুমিনের কাজ নয়। সব সময় আল্লাহর অনুগ্রহ, করুণা এবং দয়ার যে আলোকধারা মুমিনের ওপর বর্ষিত হচ্ছে তা থেকে আপনি (মুমিন) কীভাবে নিরাশ হবেন? ইহকালীন ব্যর্থতা, পরাজয়ে আপনার কি আসে যায়!

আল্লাহর ওপর নির্ভর করে মুমিন কখনো হতাশ হন না। দুনিয়ার অপূর্ণতা তাদের আঘাত দেয় না। বরং তারা প্রতীক্ষার প্রহর গুনে মহাসফলতার। সেই সফলতা, যার ওয়াদা দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহতায়ালা। আল্লাহ বলেন, ‘বলে দাও, হে আমার বান্দারা যারা নিজের আত্মার ওপর জুলুম করেছ আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চিতভাবেই আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করে দেন। তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু। (সূরা জুমার-৫৩)।

দুনিয়া একটি পরীক্ষাগার। আল্লাহ বলেন, আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব ভয়, ক্ষুধা এবং তোমাদের জানমাল ও ফসলাদির ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে। আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন (সূরা বাকারা-১৫৫)। মুমিনদের জন্য পরীক্ষা আসবেই। পরীক্ষা দিয়েছেন নবি-রাসূলরাও।

আমরা যদি প্রিয় নবি (সা.)-এর পবিত্র জীবনের দিকে তাকাই তাহলে দেখব-তার তিন তিনটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করেছিলেন- সবাই শিশু অবস্থায়ই ইন্তেকাল করেন। তিনি তো হতাশ হননি। যে মক্কাবাসী তাকে আল-আমিন উপাধি দিয়েছিল তারাই তো তাকে শিয়াবে আবু তালেবে বন্দি রেখেছিল তিন তিনটি বছর। তাদের জুলুম নির্যাতন এতটাই তীব্র ছিল যে, শেষ পর্যন্ত সহ্য করতে না পেরে আল্লাহর হুকুমে জন্মভূমি থেকে হিজরত করতে হয়েছিল তাকে। তারপরও তো তিনি হতাশ হননি।

আমরা যদি মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই, তিনি আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন-‘হে আমার প্রভু! আমাকে এক সৎ ছেলেসন্তান দান করুন।’ (সূরা সাফফাত-১০০)। তখন আল্লাহ তাকে সুসংবাদ দিলেন, ‘সুতরাং আমি তাকে এক সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দান করলাম।’ (সূরা সাফফাত-১০১)।

যার নাম ইসমাইল (আ.)। প্রাণাধিক প্রিয় পুত্রসন্তান যখন তার সঙ্গে চলাফেরার বয়সে উপনীত হলেন, তখন তাকে কুরবানি করার নির্দেশ করা হলো। তিনি হতাশ হননি বরং তিনি রবের ওপর ভরসা করে পুত্র ইসমাইলকে স্বপ্নের কথা বললেন। ইসমাইল (আ.) বললেন, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা পালন করুন।

হজরত জাকারিয়া (আ.)-এর ঘটনা আমাদের সবারই জানা, তিনি মারইয়াম (আ.)-এর দায়িত্বে ছিলেন। তিনি যখনই মারইয়ামের কক্ষে প্রবেশ করতেন তখনই তার কাছে আনসিজনে বিরল খাদ্যদ্রব্য দেখতে পেতেন। তিনি জিজ্ঞেস করতেন, হে মারইয়াম! এসব তুমি কোথায় পেলে? তিনি বলতেন, ‘এসব আল্লাহর কাছ থেকে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত জীবনোপকরণ দান করেন’ (সূরা ইমরান-৩৭)।

তখন পর্যন্ত জাকারিয়া (আ.)-এর কোনো সন্তানসন্ততি ছিল না। তিনি মনে মনে ভাবলেন আর বললেন, যে আল্লাহ আনসিজনে ফল দিতে পারেন, সে আল্লাহ বৃদ্ধ বয়সে আমাকে সন্তানও দিতে পারবেন। তখন তিনি হতাশ না হয়ে দোয়া করলেন, ‘হে আমার পালনকর্তা!

তোমার কাছ থেকে আমাকে পূত-পবিত্র সন্তান দান কর। নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী।’ (সূরা ইমরান-৩৮)। আল্লাহর ওপর ভরসা করে তার কাছে চাইলে তিনি কাউকে কখনো হতাশ করেন না। অতএব, যারা প্রকৃত মুমিন বান্দা তাদের উচিত দুনিয়াতে দুঃখ-কষ্টে কখনো হতাশ হবে না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন