মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া
jugantor
মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া

  মোহাম্মদ আলী  

০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নারী জাগরণের অগ্রণী বীরযোদ্ধা বেগম রোকেয়া। যাকে বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূতও বলা হয়ে থাকে। একজন সশিক্ষিত নারী।

বিবিসি বাংলার এক জরিপে তিনি ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি’ তালিকায় অন্যতম। নিজে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ না পেলেও তিনি অন্য নারীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ ও প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আজীবন লড়াই করে গেছেন। কুসংস্কারে নিমজ্জিত একটি অন্ধকার সমাজব্যবস্থার ধ্যানধারণা থেকে তিনি নারী জাতিকে আলোর পথ দেখিয়েছেন।

১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বেগম রোকেয়ার জন্ম। তার বাবা ও মা দুজনই ছিলেন উচ্চ বংশীয় ও জমিদার পরিবারের। তার বাবা জমিদার হলেও ছিলেন অত্যন্ত রক্ষণশীল। ফলে ঘরের বাইরে যাওয়া ছিল তার জন্য অত্যন্ত দুষ্কর।

এটা শুধু তার জন্যই নয়, সে সময়ের সমাজব্যবস্থাটাই ছিল এমন। এ এলাকায় ধর্মীয় প্রকৃত শিক্ষার অভাব ছিল। ফলে ধর্মীয় কুসংস্কারে আক্রান্ত ছিল সমাজব্যবস্থা। এতসব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে তিনি হয়ে উঠলেন নারী জাগরণের অগ্রদূত। নারী শিক্ষা, নারী অধিকার ও নারীর ক্ষমতায়নে তার ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। রোকেয়ার জন্মস্থান ছিল নারী শিক্ষায় পিছিয়ে। পায়রাবন্দে জমিদার পরিবারে ছেলেদের জন্য লেখাপড়ার সুব্যবস্থা থাকলেও মেয়েদের জন্য তেমন কোনো ব্যবস্থা ছিল না। পর্দার নামে মেয়েদের বাড়ির ভেতরে থাকতে হতো। তাই পড়াশোনা তো দূরের কথা কোনো প্রয়োজনেই নারীরা সহজে বাড়ির বাইরে যেতে পারতেন না।

পর্দা ব্যবস্থার বিপক্ষে রোকেয়ার অবস্থান ছিল না বরং পর্দার নামে সামাজিক কুসংস্কারের বিপক্ষে তার বক্তব্য ছিল সুস্পষ্ট। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, পর্দা মানে ঘরে বন্দি থাকা নয়, শিক্ষা থেকে বিরত থাকা নয়। ইসলাম কখনো নারী শিক্ষার বিষয়ে কম গুরুত্ব দিতে বলেনি।

মহানবি (সা.) বলেছেন ‘সব মুসলিম নর-নারীর ওপর জ্ঞানার্জন ফরজ’। অপরদিকে মুসলিম নর-নারী উভয়ের জন্যই পৃথক পর্দার বিধান রয়েছে। নিজ নিজ পর্দা মেনে নিজ নিজ শিক্ষা গ্রহণে কোনো বাধা থাকার কথা নয়। তাই ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে পর্দার নামে নারীদের চার দেওয়ালের ভেতরে রাখার যে কুসংস্কার প্রচলন ছিল তা ভেঙেছেন বেগম রোকেয়া।

বেগম রোকেয়া ছিলেন একজন সশিক্ষিত নারী। পিত্রালয়ে তিনি বড় বোনের কাছে বাংলা ও বড় ভাইয়ের কাছ থেকে ইংরেজি শিখেছেন। প্রতি রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে বড় ভাইয়ের সান্নিধ্যে তিনি লেখাপড়া করেছেন। ষোলো বছর বয়সে বিয়ে হয় (১৮৯৬) একজন উচ্চিশিক্ষত ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে। তার স্বামীর ছিল এটা দ্বিতীয় বিয়ে। আগের স্ত্রীর এক মেয়ে রেখে মারা যাওয়ায় তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বড় ভাই ইব্রাহীম সাবের ছিলেন এ বিয়ের উদ্যোক্তা।

স্বামী অবাঙালি হলেও তার কুসংস্কারমুক্ত, উদার ও শিক্ষানুরাগী মনের ছোঁয়া পেয়ে তারা খুব সুখেই দাম্পত্য জীবনযাপন করছিলেন। উচ্চশিক্ষিত স্বামীর ঘরে তিনি লেখাপড়ায় আরও মনোনিবেশ করেন। কিন্তু বিয়ের কয়েক বছর পরই স্বামী সাখাওয়াত হোসেন দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হন। দুটি চক্ষু নষ্ট হয়ে যায়। বেগম রোকেয়া তার স্বামীর চক্ষু হিসাবে কাজ করেছেন।

তিনি গভীর অনুরাগে স্বামীর রোগশয্যার পাশে তাকে নানা বিষয়ে পাঠ করে শোনাতেন। বিবাহিত জীবনের বেশিরভাগ সময় বেগম রোকেয়াকে শুধু স্বামীর রোগে নিরলস সেবা করতে হয়েছে। অসুস্থ স্বামীর সেবায় তিনি কখনো ক্লান্তিবোধ করেননি। ১৯০৯ সালে সাখাওয়াত হোসেন ইন্তেকাল করেন। তেইশ বছর দাম্পত্য জীবনকালে রোকেয়া দুই সন্তানের জননী ছিলেন। কিন্তু তিনি মাতৃত্বের পূর্ণ স্বাদ আস্বাদন করতে পারেননি। প্রথম শিশুকন্যা মাত্র পাঁচ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় শিশুকন্যা চার মাস বয়সে অকালে মৃত্যুবরণ করে।

স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি তার প্রথম পক্ষের মেয়ে ও জামাতার দুর্ব্যবহারে নিঃসম্বল অবস্থায় স্বামীর বাড়ি ত্যাগ করেন। পরে তিনি কলকাতায় বসবাস করেন। তিনি কলকাতায় একটি গার্লস স্কুল স্থাপন করেন। তার জীবনে এত ঘাত-প্রতিঘাত এবং প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি নারী অধিকার ও নারীর ক্ষমতায়ন আন্দোলনে পিছপা হননি। প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি না থাকলেও লেখালেখি চালিয়ে গেছেন আমৃত্যু। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী, ভাষাবিদ, দার্শনিক, সমাজ-সংস্কারক ও মানবতাবদী ব্যক্তিত্ব। তার লেখা পরে গ্রন্থ হিসাবে প্রকাশিত হয়েছে; যা আজও দেশ-বিদেশে পাঠক সমাদৃত।

বেগম রোকেয়া নারী জাগরণের শুধু স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন না বরং তার স্বপ্ন-সাধনা, লালিত বোধ-বিশ্বাস ও আদর্শকে বাস্তবে রূপায়ণের জন্য স্বীয় সমাজে বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞের আয়োজনও করেছিলেন। তার কর্মকাণ্ড শুধু মুসলিম নারী নয় বাংলার সব নারী জাগরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। আজ রোকেয়া নেই। তার কর্ম রয়েছে। তিনি নারী শিক্ষার জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এখন নারী শিক্ষার পৃথক স্কুল আছে, কলেজ আছে। আছে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়। নারীরা এগিয়ে চলেছে পুরুষের সমান।

রোকেয়ার জন্মভূমি রংপুরেই হয়েছে তার নামে বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা আশাবাদী, নারীর উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে নজির সৃষ্টি করবে। কারণ, এ দেশে এখনো রোকেয়ার উত্তরসূরিরা আছেন; রোকেয়ার দর্শন ও রোকেয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারা সদা জাগ্রত। এ সমাজ কুসংস্কারমুক্ত হোক। সার্বজনীন শিক্ষা নিশ্চিত হোক। বাল্যবিয়েমুক্ত হোক। নারী-পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমানে সমান এগিয়ে যাক। জয় হোক এ দেশের সব নারী-পুরুষের।

লেখক : উপ-পরিচালক (জনসংযোগ), বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর

মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া

 মোহাম্মদ আলী 
০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নারী জাগরণের অগ্রণী বীরযোদ্ধা বেগম রোকেয়া। যাকে বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূতও বলা হয়ে থাকে। একজন সশিক্ষিত নারী।

বিবিসি বাংলার এক জরিপে তিনি ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি’ তালিকায় অন্যতম। নিজে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ না পেলেও তিনি অন্য নারীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ ও প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আজীবন লড়াই করে গেছেন। কুসংস্কারে নিমজ্জিত একটি অন্ধকার সমাজব্যবস্থার ধ্যানধারণা থেকে তিনি নারী জাতিকে আলোর পথ দেখিয়েছেন।

১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বেগম রোকেয়ার জন্ম। তার বাবা ও মা দুজনই ছিলেন উচ্চ বংশীয় ও জমিদার পরিবারের। তার বাবা জমিদার হলেও ছিলেন অত্যন্ত রক্ষণশীল। ফলে ঘরের বাইরে যাওয়া ছিল তার জন্য অত্যন্ত দুষ্কর।

এটা শুধু তার জন্যই নয়, সে সময়ের সমাজব্যবস্থাটাই ছিল এমন। এ এলাকায় ধর্মীয় প্রকৃত শিক্ষার অভাব ছিল। ফলে ধর্মীয় কুসংস্কারে আক্রান্ত ছিল সমাজব্যবস্থা। এতসব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে তিনি হয়ে উঠলেন নারী জাগরণের অগ্রদূত। নারী শিক্ষা, নারী অধিকার ও নারীর ক্ষমতায়নে তার ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। রোকেয়ার জন্মস্থান ছিল নারী শিক্ষায় পিছিয়ে। পায়রাবন্দে জমিদার পরিবারে ছেলেদের জন্য লেখাপড়ার সুব্যবস্থা থাকলেও মেয়েদের জন্য তেমন কোনো ব্যবস্থা ছিল না। পর্দার নামে মেয়েদের বাড়ির ভেতরে থাকতে হতো। তাই পড়াশোনা তো দূরের কথা কোনো প্রয়োজনেই নারীরা সহজে বাড়ির বাইরে যেতে পারতেন না।

পর্দা ব্যবস্থার বিপক্ষে রোকেয়ার অবস্থান ছিল না বরং পর্দার নামে সামাজিক কুসংস্কারের বিপক্ষে তার বক্তব্য ছিল সুস্পষ্ট। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, পর্দা মানে ঘরে বন্দি থাকা নয়, শিক্ষা থেকে বিরত থাকা নয়। ইসলাম কখনো নারী শিক্ষার বিষয়ে কম গুরুত্ব দিতে বলেনি।

মহানবি (সা.) বলেছেন ‘সব মুসলিম নর-নারীর ওপর জ্ঞানার্জন ফরজ’। অপরদিকে মুসলিম নর-নারী উভয়ের জন্যই পৃথক পর্দার বিধান রয়েছে। নিজ নিজ পর্দা মেনে নিজ নিজ শিক্ষা গ্রহণে কোনো বাধা থাকার কথা নয়। তাই ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে পর্দার নামে নারীদের চার দেওয়ালের ভেতরে রাখার যে কুসংস্কার প্রচলন ছিল তা ভেঙেছেন বেগম রোকেয়া।

বেগম রোকেয়া ছিলেন একজন সশিক্ষিত নারী। পিত্রালয়ে তিনি বড় বোনের কাছে বাংলা ও বড় ভাইয়ের কাছ থেকে ইংরেজি শিখেছেন। প্রতি রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে বড় ভাইয়ের সান্নিধ্যে তিনি লেখাপড়া করেছেন। ষোলো বছর বয়সে বিয়ে হয় (১৮৯৬) একজন উচ্চিশিক্ষত ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে। তার স্বামীর ছিল এটা দ্বিতীয় বিয়ে। আগের স্ত্রীর এক মেয়ে রেখে মারা যাওয়ায় তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বড় ভাই ইব্রাহীম সাবের ছিলেন এ বিয়ের উদ্যোক্তা।

স্বামী অবাঙালি হলেও তার কুসংস্কারমুক্ত, উদার ও শিক্ষানুরাগী মনের ছোঁয়া পেয়ে তারা খুব সুখেই দাম্পত্য জীবনযাপন করছিলেন। উচ্চশিক্ষিত স্বামীর ঘরে তিনি লেখাপড়ায় আরও মনোনিবেশ করেন। কিন্তু বিয়ের কয়েক বছর পরই স্বামী সাখাওয়াত হোসেন দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হন। দুটি চক্ষু নষ্ট হয়ে যায়। বেগম রোকেয়া তার স্বামীর চক্ষু হিসাবে কাজ করেছেন।

তিনি গভীর অনুরাগে স্বামীর রোগশয্যার পাশে তাকে নানা বিষয়ে পাঠ করে শোনাতেন। বিবাহিত জীবনের বেশিরভাগ সময় বেগম রোকেয়াকে শুধু স্বামীর রোগে নিরলস সেবা করতে হয়েছে। অসুস্থ স্বামীর সেবায় তিনি কখনো ক্লান্তিবোধ করেননি। ১৯০৯ সালে সাখাওয়াত হোসেন ইন্তেকাল করেন। তেইশ বছর দাম্পত্য জীবনকালে রোকেয়া দুই সন্তানের জননী ছিলেন। কিন্তু তিনি মাতৃত্বের পূর্ণ স্বাদ আস্বাদন করতে পারেননি। প্রথম শিশুকন্যা মাত্র পাঁচ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় শিশুকন্যা চার মাস বয়সে অকালে মৃত্যুবরণ করে।

স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি তার প্রথম পক্ষের মেয়ে ও জামাতার দুর্ব্যবহারে নিঃসম্বল অবস্থায় স্বামীর বাড়ি ত্যাগ করেন। পরে তিনি কলকাতায় বসবাস করেন। তিনি কলকাতায় একটি গার্লস স্কুল স্থাপন করেন। তার জীবনে এত ঘাত-প্রতিঘাত এবং প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি নারী অধিকার ও নারীর ক্ষমতায়ন আন্দোলনে পিছপা হননি। প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি না থাকলেও লেখালেখি চালিয়ে গেছেন আমৃত্যু। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী, ভাষাবিদ, দার্শনিক, সমাজ-সংস্কারক ও মানবতাবদী ব্যক্তিত্ব। তার লেখা পরে গ্রন্থ হিসাবে প্রকাশিত হয়েছে; যা আজও দেশ-বিদেশে পাঠক সমাদৃত।

বেগম রোকেয়া নারী জাগরণের শুধু স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন না বরং তার স্বপ্ন-সাধনা, লালিত বোধ-বিশ্বাস ও আদর্শকে বাস্তবে রূপায়ণের জন্য স্বীয় সমাজে বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞের আয়োজনও করেছিলেন। তার কর্মকাণ্ড শুধু মুসলিম নারী নয় বাংলার সব নারী জাগরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। আজ রোকেয়া নেই। তার কর্ম রয়েছে। তিনি নারী শিক্ষার জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এখন নারী শিক্ষার পৃথক স্কুল আছে, কলেজ আছে। আছে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়। নারীরা এগিয়ে চলেছে পুরুষের সমান।

রোকেয়ার জন্মভূমি রংপুরেই হয়েছে তার নামে বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা আশাবাদী, নারীর উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে নজির সৃষ্টি করবে। কারণ, এ দেশে এখনো রোকেয়ার উত্তরসূরিরা আছেন; রোকেয়ার দর্শন ও রোকেয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারা সদা জাগ্রত। এ সমাজ কুসংস্কারমুক্ত হোক। সার্বজনীন শিক্ষা নিশ্চিত হোক। বাল্যবিয়েমুক্ত হোক। নারী-পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমানে সমান এগিয়ে যাক। জয় হোক এ দেশের সব নারী-পুরুষের।

লেখক : উপ-পরিচালক (জনসংযোগ), বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন