হে নারী! ইসলাম তোমাকে করেছে মহান
jugantor
হে নারী! ইসলাম তোমাকে করেছে মহান

  সাখাওয়াত হোসাইন কামালী  

২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইসলামপূর্ব যুগে গৃহপালিত পশু, বাজারের পণ্যসামগ্রী আর নারীর মাঝে তেমন কোনো ব্যবধান ছিল না। নারীর সামাজিক স্বীকৃতি তো ছিলই না-বেঁচে থাকার অধিকারটুকুও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

তাদের জন্ম ছিল যেন পরিবার পরিজনের লজ্জার কারণ। নারীকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো! এমন সময় আল্লাহ ঘোষণা করেন, ‘আর যখন জীবন্ত সমাধিস্থ কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে, কী অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল’? (সূরা তাকভীর ৮-৯)।

জাহিলিয়াতের আঁধার ভেদ করে ইসলামের সূর্য উদিত হলো। যাত্রা করল এক নতুন সভ্যতা! শুরু হলো মহাইনকিলাব! বলা যায় নারী জাতির জন্য একটি নতুন দিগন্ত, একটি নতুন নির্দেশনা, একটি নতুন পথ এবং এক বরকতময় বিপ্লব শুরু হলো ইসলামের হাতে ধরে। এ বিপ্লব ছিল ব্যক্তি, পরিবার, রাষ্ট্র থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক জীবন পর্যন্ত। শিক্ষা, চরিত্র, সভ্যতা, সংস্কৃতি, থেকে শুরু করে কোনো কিছুই বাদ দেয়নি এ আলোক যাত্রা।

ইসলামের এ মানবিক উপহার তৎকালের সব ধর্মের ভ্রান্ত মতবাদকে অসার সাব্যস্ত করল-যারা মনে করত, ‘নারীর মতো এত পাপ-পঙ্কিলতাময় প্রাণিজগতে আর নেই। নারী প্রজ্বলিত অগ্নিস্বরূপ। সে ক্ষুরের ধারালো দিক। এসবই তার দেহে সন্নিবিষ্ট’। নারীদের প্রতি ঘৃণাভরে যারা বলেছে, Men should not love their অর্থাৎ ‘নারীদের ভালোবাসা পুরুষদের উচিত নয়’।

ইসলামের এ মহান মানবিক উপহার সেসব দেশ ও সমাজকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করে, যেখানে বিধবা নারীরা স্বামীর চিতায় আত্মাহুতি দিত অবলীলায়! মিথ্যা প্রমাণিত করেছে সেসব সভ্যতাকে, যেখানে মনে করা হতো ‘মানব সমাজে নারীদের স্থান সর্বনিম্নে। অদৃষ্টের কী নির্মম পরিহাস! নারী সর্বাপেক্ষা হতভাগ্য প্রাণী। জগতে নারীর মতো নিকৃষ্ট আর কিছু নেই’।

নারীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ইসলাম যে ভূমিকা রেখেছে, ইসলামের আগে পৃথিবীর বুকে কোনো ধর্ম বা সভ্যতা এভাবে নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি! ইসলাম ও মহানবি (সা.) বিশ্বব্যাপী নারী অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এক কালজয়ী আদর্শ স্থাপন করেছেন! মানব মন ও মানব সমাজে নারী প্রগতির গোড়াপত্তন করে এক বৈপ্লবিক ভূমিকা পালন করেছেন।

দূরীভূত করেছেন নারী-পুরুষের ভেদাভেদ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর যে, মুমিন পুরুষ অথবা নারী সৎকর্ম করে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। সেখানে তাদের বেহিসাব রিজিক দেওয়া হবে।’ (সূরা আল-মু’মিন : ৪০)।

ইসলামের কষ্টিপাথরে নারী-পুরুষের মর্যাদা তুলনামূলক বিচার-বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইসলাম নারীকে শুধু পুরুষের সমমর্যাদা নয়, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরুষ থেকে নারীকে অধিক মর্যাদা দিয়েছে। মা হিসাবে ইসলামে একজন নারীকে একজন পুরুষের চেয়ে তিনগুণ বেশি শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি ও মর্যাদার অধিকারী করেছে।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, একবার এক লোক মহানবি হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর দরবারে এসে জিজ্ঞেস করলেন, আমার সদ্ব্যবহার পাওয়ার বেশি অধিকারী কে? নবিজি (সা.) বললেন, ‘তোমার মা’। ওই লোক জিজ্ঞেস করলেন, তারপর কে? তিনি উত্তর দিলেন ‘তোমার মা’। ওই লোক আবারও জিজ্ঞেস করলেন, তারপর কে? এবারও তিনি উত্তর দিলেন ‘তোমার মা’। (বুখারি)।

রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তির তিনটি কন্যাসন্তান বা তিনজন বোন আছে। আর সে তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করেছেন, তাদের নিজের জন্য অসম্মানের কারণ মনে করেননি, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। (জামে তিরমিজি)। ইসলামের দৃষ্টিতে নারী-পুরুষ একে অন্যের পরিপূরক।

এ প্রসঙ্গে কুরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা তোমাদের আবরণস্বরূপ আর তোমরা তাদের আবরণ।’ (সূরা-২ বাকারা, আয়াত : ১৮৭)। কুরআনে আরও বলা হয়েছে, ‘তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সঙ্গে সদাচরণ করো।’ (সূরা-৪ নিসা, আয়াত : ১৯)।

পারিবারিক জীবনে সংসার পরিচালনার ক্ষেত্রে নারীর ওপর পুরুষের প্রাধান্য থাকলেও সার্বিক মূল্যায়নে ইসলাম নারী জাতিকে পুরুষের সমমর্যাদা ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে অধিক মানমর্যাদার উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত করেছেন, যা অন্য কোনো ধর্ম বা জাতি করেনি।

হে নারী! ইসলাম তোমাকে করেছে মহান

 সাখাওয়াত হোসাইন কামালী 
২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইসলামপূর্ব যুগে গৃহপালিত পশু, বাজারের পণ্যসামগ্রী আর নারীর মাঝে তেমন কোনো ব্যবধান ছিল না। নারীর সামাজিক স্বীকৃতি তো ছিলই না-বেঁচে থাকার অধিকারটুকুও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

তাদের জন্ম ছিল যেন পরিবার পরিজনের লজ্জার কারণ। নারীকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো! এমন সময় আল্লাহ ঘোষণা করেন, ‘আর যখন জীবন্ত সমাধিস্থ কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে, কী অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল’? (সূরা তাকভীর ৮-৯)।

জাহিলিয়াতের আঁধার ভেদ করে ইসলামের সূর্য উদিত হলো। যাত্রা করল এক নতুন সভ্যতা! শুরু হলো মহাইনকিলাব! বলা যায় নারী জাতির জন্য একটি নতুন দিগন্ত, একটি নতুন নির্দেশনা, একটি নতুন পথ এবং এক বরকতময় বিপ্লব শুরু হলো ইসলামের হাতে ধরে। এ বিপ্লব ছিল ব্যক্তি, পরিবার, রাষ্ট্র থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক জীবন পর্যন্ত। শিক্ষা, চরিত্র, সভ্যতা, সংস্কৃতি, থেকে শুরু করে কোনো কিছুই বাদ দেয়নি এ আলোক যাত্রা।

ইসলামের এ মানবিক উপহার তৎকালের সব ধর্মের ভ্রান্ত মতবাদকে অসার সাব্যস্ত করল-যারা মনে করত, ‘নারীর মতো এত পাপ-পঙ্কিলতাময় প্রাণিজগতে আর নেই। নারী প্রজ্বলিত অগ্নিস্বরূপ। সে ক্ষুরের ধারালো দিক। এসবই তার দেহে সন্নিবিষ্ট’। নারীদের প্রতি ঘৃণাভরে যারা বলেছে, Men should not love their অর্থাৎ ‘নারীদের ভালোবাসা পুরুষদের উচিত নয়’।

ইসলামের এ মহান মানবিক উপহার সেসব দেশ ও সমাজকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করে, যেখানে বিধবা নারীরা স্বামীর চিতায় আত্মাহুতি দিত অবলীলায়! মিথ্যা প্রমাণিত করেছে সেসব সভ্যতাকে, যেখানে মনে করা হতো ‘মানব সমাজে নারীদের স্থান সর্বনিম্নে। অদৃষ্টের কী নির্মম পরিহাস! নারী সর্বাপেক্ষা হতভাগ্য প্রাণী। জগতে নারীর মতো নিকৃষ্ট আর কিছু নেই’।

নারীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ইসলাম যে ভূমিকা রেখেছে, ইসলামের আগে পৃথিবীর বুকে কোনো ধর্ম বা সভ্যতা এভাবে নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি! ইসলাম ও মহানবি (সা.) বিশ্বব্যাপী নারী অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এক কালজয়ী আদর্শ স্থাপন করেছেন! মানব মন ও মানব সমাজে নারী প্রগতির গোড়াপত্তন করে এক বৈপ্লবিক ভূমিকা পালন করেছেন।

দূরীভূত করেছেন নারী-পুরুষের ভেদাভেদ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর যে, মুমিন পুরুষ অথবা নারী সৎকর্ম করে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। সেখানে তাদের বেহিসাব রিজিক দেওয়া হবে।’ (সূরা আল-মু’মিন : ৪০)।

ইসলামের কষ্টিপাথরে নারী-পুরুষের মর্যাদা তুলনামূলক বিচার-বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইসলাম নারীকে শুধু পুরুষের সমমর্যাদা নয়, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরুষ থেকে নারীকে অধিক মর্যাদা দিয়েছে। মা হিসাবে ইসলামে একজন নারীকে একজন পুরুষের চেয়ে তিনগুণ বেশি শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি ও মর্যাদার অধিকারী করেছে।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, একবার এক লোক মহানবি হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর দরবারে এসে জিজ্ঞেস করলেন, আমার সদ্ব্যবহার পাওয়ার বেশি অধিকারী কে? নবিজি (সা.) বললেন, ‘তোমার মা’। ওই লোক জিজ্ঞেস করলেন, তারপর কে? তিনি উত্তর দিলেন ‘তোমার মা’। ওই লোক আবারও জিজ্ঞেস করলেন, তারপর কে? এবারও তিনি উত্তর দিলেন ‘তোমার মা’। (বুখারি)।

রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তির তিনটি কন্যাসন্তান বা তিনজন বোন আছে। আর সে তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করেছেন, তাদের নিজের জন্য অসম্মানের কারণ মনে করেননি, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। (জামে তিরমিজি)। ইসলামের দৃষ্টিতে নারী-পুরুষ একে অন্যের পরিপূরক।

এ প্রসঙ্গে কুরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা তোমাদের আবরণস্বরূপ আর তোমরা তাদের আবরণ।’ (সূরা-২ বাকারা, আয়াত : ১৮৭)। কুরআনে আরও বলা হয়েছে, ‘তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সঙ্গে সদাচরণ করো।’ (সূরা-৪ নিসা, আয়াত : ১৯)।

পারিবারিক জীবনে সংসার পরিচালনার ক্ষেত্রে নারীর ওপর পুরুষের প্রাধান্য থাকলেও সার্বিক মূল্যায়নে ইসলাম নারী জাতিকে পুরুষের সমমর্যাদা ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে অধিক মানমর্যাদার উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত করেছেন, যা অন্য কোনো ধর্ম বা জাতি করেনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন