রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দাও

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মৃধা রেজাউল করিম

প্রতীকী ছবি।

আল্লাহ সুবনাহু ওয়া তায়ালা পবিত্র কোরআনুল কারিমে বলেন- আর তোমরা নিকটাত্মীয়দের দিয়ে দাও তার অধিকার, আর মিসকিন ও মুসাফিরকে দাও। অতিমাত্রায় ব্যয় করো না, নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। শয়তান তার পালনকর্তার বড়ই অকৃতজ্ঞ। সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত ২৬-২৭।

এ আয়াতে আমরা জানতে পারি আল্লাহতায়ালা আত্মীয়স্বজন, গরিব মিসকিন, সফরকারীসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষের হক আদায় করার কথা বলেছেন।

আমরা সবাই সড়ক, নৌ, বিমান, রেল তথা যাত্রাপথে ভ্রমণ করি। আমরা কতটুকু হক বা সেবা পেয়েছি অথবা কতটুকু অপরের হক আদায় করতে পেরেছি। বরং এ ক্ষেত্রে তো আমরা কেবল দুর্ভোগই লক্ষ্য করছি। নানা ধরনের কষ্ট। ভোগান্তি শঙ্কা ও দুর্ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছি।

সেটা যেমন সড়কপথে, নৌপথে তেমনই রেলপথেও। আমাদের প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাত্রাপথ তথা চলার পথের কষ্ট-দুর্ভোগ দূর করার প্রতি জোর দিয়েছেন।

হজরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- ঈমানের অনেক শাখা-প্রশাখা রয়েছে। এর সর্বোত্তম হল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই) বলা, আর সর্বনিু হল রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেয়া, আর লজ্জাশীলতা (হায়া) হল ঈমানের অঙ্গ (বুখারি ও মুসলিম)।

যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেয়া ঈমানের অঙ্গ বললেন সেখানে দেশজুড়ে আমরা কেবল এর উল্টো চিত্রই দেখছি। পথজুড়ে শুধু কষ্ট আর কষ্ট, ভোগান্তি আর ভোগান্তি। সেটি নানাভাবে অসহনীয়ভাবে হচ্ছে।

দুর্ভোগের মাত্রা চরমে উঠে কারও দায়িত্বহীনতার কারণে কোনো একটি মানুষের মৃত্যু ঘটে। এ দুর্ভোগ শুধু ওই ব্যক্তিরই নয় বরং পুরো পরিবার সমাজ এমনকি সর্বোপরি দেশেরই দুর্ভোগ।

প্রকৃত মুসলমান হতে হলে তো সম্মিলিতভাবে দুর্ভোগমুক্ত করতে হবে রাস্তাঘাট। তবেই আমরা যথাযথ মুসলমান হতে পারব।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনিল আছ রাদিয়াল্লাহুতায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, প্রকৃত মুসলমান তো সে যার মুখ ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে, আর প্রকৃত মুহাজির তো সে যে আল্লাহ যা থেকে নিষেধ করেছেন তা ত্যাগ করে (বুখারি ও মুসলিম)।

তা ছাড়া অসতর্কতা, অসচেতনতা, অব্যবস্থাপনা ও অন্যায়ভাবে যদি একটি প্রাণও খোয়া যায় তাহলে কিয়ামতের দিন আল্লাহর আদালতে খুনি হিসেবে দাঁড়াতে হবে।

আল্লাহু সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কোরআনুল কারিমের সূরা আল মায়িদার ৩২ নং আয়াতে বলেন- ‘এসব কারণেই আমি বনি ইসরাইলের ওপর লিখে দিয়েছি যে কোনো একটি প্রাণকে অন্য একটি প্রাণের বিনিময়ে ছাড়া অথবা পৃথিবীতে ফ্যাসাদ ছাড়া হত্যা করল সে যেন পৃথিবীর সকল মানুষকে হত্যা করল, আর যে একটি প্রাণীকে জীবিত করল বা (রক্ষা করল) সে যেন সকল মানুষকে জীবিত করল।’

অতএব আমাদের সবাইকে রাস্তাঘাটে সজাগ থাকতে হবে। আমাদের কারণে যেন যাত্রাপথে কারও দুর্ভোগে পড়তে না হয়।

হজরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- এক মুসলমান আরেক মুসলমানের ভাই, সে তাকে অপদস্থ করবে না। আর তাকে মিথ্যায় ফেলবে না ধোঁকা দেবে না। তার সঙ্গে জুলুম করবে না। আর নিশ্চয়ই তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের আয়না স্বরূপ। অতএব যদি সে কোনো কষ্ট দুর্ভোগ দেখে সে যেন তার থেকে তা দূর করে দেয়, তিরমিজি।