তাবলিগ জামাতে কলহ কেন

  কাজী মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন ০৬ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তাবলিগ জামাতে কলহ কেন

কখনও কল্পনাই করিনি তাবলিগ জামাতে কলহ সৃষ্টি হবে। মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) প্রথমদিন মাত্র ২০-২৫ জন দিনমজুর নিয়ে তাবলিগের সূচনা করেন। তাও প্রায় একশ’ বছর, ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে। এরা নিজেরা রান্না করে, নিজের খেয়ে, এত কষ্ট-মেহনত করে দ্বীনের দাওয়াতের কাজ করে।

কাকরাইল মসজিদে তাবলিগের দু’পক্ষের হাতাহাতি, দু’পক্ষকে পুলিশ মসজিদ থেকে বের করে দিল, লজ্জায় মাথা নত হয়ে যায়। দুঃখ লাগে কেন এই আলেমরা তাবলিগ জামাতে ঢুকল, মুহূর্তের মধ্যে কলহ সৃষ্টি করে দিল।

তাদের তো দ্বীনের দাওয়াতের প্রয়োজন নেই। কারণ তারা তো নিজেরাই আলেম। তা হলে কি দিনমজুর, রিকশাওয়ালা, খেটে খাওয়া মানুষদের, ধর্মে অজ্ঞ, অবহেলিত আমজনতার সংগঠনটির এইভাবে সর্বনাশ করে ফেলবে তারা?

পত্রিকার খবর, কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের ছাত্ররা ২৭ এপ্রিল, ২০১৮ কাকরাইল মসজিদে তাবলিগের শূরা কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে আগত অপর একটি গ্রুপকে মসজিদে ঢুকতে বাধা দিলে দু’পক্ষে হাতাহাতি আরম্ভ হয়, ফলে পুলিশ এসে দুই গ্রুপের নেতাদের বের করে দেয়।

আমাদের লজ্জা ও দুঃখ- আল্লাহ্র দ্বীনের কাজে কেন পুলিশের হস্তক্ষেপ জরুরি হল? কওমি ভাইদের বলতে চাই- বিশ্ব মুসলিম জাহানের দিকে তাকান, কীভাবে মুসলমান-মুসলমান হত্যা করছে, মুসলমান হত্যার জন্য অন্য জাতির প্রয়োজন হয় না। দুনিয়ার সব মুসলমানই মুসলমানদের হত্যা করছে।

সূরা যুমার আয়াত-১৮ : বলা হয়েছে ‘যাহারা মনোযোগসহকারে কথা শোনে এবং উহার মধ্যে যাহা উত্তম তাহা গ্রহণ করে (পালন করে)। উহাদের আল্লাহ সৎপথে পরিচালিত করেন এবং উহারাই জ্ঞানবান’।

আল্লাহর এই আদেশ পালন করতে ক্ষতি কী? কথা শুনতে আপত্তি কিসের? যাহা উত্তম, ভালো লাগলে পালন করব, না হয় পালন করব না, বাদ দেব।

তা হলে আর মুসলমানে মুসলমানে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ, হানাহানি, কাটাকাটি, মারামারি হওয়ার কথা নয়। একে অপরকে সহ্য করার কারণেই সরলপথে তাবলিগ জামাতের বর্তমানে দূশ্যমান এ গৌরবময় অবস্থান সৃষ্টি হয়েছে। তিলে তিলে গড়া বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় গর্ব।

বিশ্ব মুসলিমের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইসলামী সম্মেলন হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। টঙ্গির বিশ্ব ইজতেমা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের অবদান, যিনি পাহাড়তলী হাজি ক্যাম্পের স্বল্পপরিসর থেকে সরিয়ে টঙ্গির বিশাল পরিসরে বিশ্ব ইজতেমার অনুমতি দিয়েছিলেন। তাই বাংলাদেশ সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষ এটির প্রতি কড়া দৃষ্টি রাখা জরুরি।

যেন কাকরাইল মসজিদ প্রধান মারকাজে ও টঙ্গি বিশ্ব ইজতেমায় কেউ গ্রুপিং করতে না পারে এবং কওমি ছাত্ররা যেন মারামারিতে জড়িত হতে না পারে।

বিশ্বে বাংলাদেশের গৌরব রক্ষার স্বার্থে কাকরাইল মসজিদে রীতিমতো পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করে তাবলিগের বিভ্রান্তি দূর করা জরুরি। দ্বীন শিক্ষার জন্য কাকরাইল মারকাজে সর্বস্তরের জনতার যাতায়াত অবারিত রাখা বাংলাদেশ পুলিশের দায়িত্ব।

সারা বিশ্বের প্রায় ১২০-১২৫টি রাষ্ট্র থেকে মেহেমানরা টঙ্গি ইজতেমায় আসেন। ইজতেমায় আসতে এবং ধর্মীয় কাজে বাধা দেয়া কোন সভ্যতা, বিশেষ করে মুসলমানদের জন্য।

গত ইজতেমায় ‘সাদ’ হুজুরকে ঢুকতে দেয়া হল না। বয়ান করতে দেয়া হোক না হোক কিন্তু বিদেশি মেহমান হিসেবে ইজতেমায় যোগদান করতে দিয়ে সম্মান দেখান উচিত ছিল।

মাওলানা সাদ কান্দলভি কোনো ভুল করলে, তিনিই আল্লাহ্র দরবারে জবাবদিহি হবেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মেহমান আসবে দিল্লি থেকে মাওলানা জোহাইরুল হাসান আসবেন।

পাকিস্তান থেকে মুরব্বিরা আসবেন এবং দিল্লি থেকে মাওলানা ‘সাদ’ আসবেন, সবাইকে আসতে দিতে হবে, কে বয়ান করবে, শূরা কমিটি সিদ্ধান্ত দেবে। ইজতেমায় যোগদান করতে দিতে হবে দ্বীনের কাজে কাউকেও বাধা দেয়া ইসলামবিরোধী, বেশি জেদাজেদি ভালো না।

বাংলাদেশ সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান : প্রধান মারকাজ কাকরাইল মসজিদে পুলিশি নিয়ন্ত্রণে থাকুক এবং বিশ্বের সব রাষ্ট্র থেকে মেহমান যোগদান করার সব ধরনের বাধা দূর করা হোক। বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশের প্রধান গৌরব, যে কেউ যোগদান করবে মেহমানদের নিরাপত্তা দেয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

লেখক : চিল্লা লাগানো এক তাবলিগী ভাই, ফেনী থেকে

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter