বায়তুল্লায় যাবেন যারা

প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  হাফেজ শাহ শরীফ

হজ করে মুমিন বান্দা-বান্দিরা তার মালিকের সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করেন। বাইতুল্লাহর দর্শন ঈমানকে তাজা করে আত্মা ও নফসকে পরিশুদ্ধ করে। হৃদয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রেম জাগিয়ে দেয়।

শর্ত হচ্ছে, যদি হজে মাবরুর হয়। হজ যেহেতু আর্থিক ও শারীরিক ইবাদত, তাই সবার পক্ষে হজ করা সম্ভব হয় না। হজযাত্রীরা হাজী ক্যাম্প থেকে ইহরামের কাপড় পরে হজের উদ্দেশে রওনা করেন। দুঃখের বিষয় হলেও সত্য, হজ ক্যাম্পে এসে চলে যায় হজের অনুভূতি। একজন যাত্রী এমনটিই বলেন- বাড়ি থেকে যখন বের হয়েছিলেন, তখন হৃদয়টা ছটফট করছিল কখন বাইতুল্লায় পৌঁছব। মনটা আনন্দে উদ্বেলিত ছিল।

কিন্তু হজ ক্যাম্পে এসে সেই অনুভূতিটা হারিয়ে গেছে তার। এখন মনে হচ্ছে কোথাও যেন পিকনিকে বা বেড়াতে যাচ্ছি। বাস্তব চিত্র তাই। হজ ক্যাম্প ঘুরে দেখা যায় গল্প-গুজব, খাওয়া-দাওয়া আর আড্ডার হজযাত্রীরা সময় পার করছেন।

কেউ কেউ মোবাইল নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত। ভেতরের খাবারের ক্যান্টিনগুলোতে জমজমাট আড্ডার পাশাপাশি চলছে ধুমধাম করে খাওয়া। একেকজনকে বিদায় দিতে সঙ্গে এসেছেন আট-দশজন করে আত্মীয়স্বজন। কথা বলছিলাম বরিশালের হজের উদ্দেশে বেরোনো মনিরুজ্জামানের সঙ্গে।

তিনি বললেন, জীবনে প্রথম আমি হজ ক্যাম্পে এসেছি। আমার ধারণা ছিল এখানে এসে অনেক কিছু শিখতে পারব। হজ বিষয়ে বয়ান হবে। হজের নিয়ম-কানুন আলোচনা হবে। দিনভর ইবাদতে সময় কাটিয়ে বাইতুল্লাহর উদ্দেশে রওনা হব। কিন্তু এখন এখানের পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছে, কোথাও যেন ঘুরতে যাওয়ার জন্য রেলওয়ে স্টেশনে এসে ট্রেনের অপেক্ষা করছি। কথা বলছিলাম আবদুল মতিন নামে এক হজযাত্রীর সঙ্গে। তিনি গোপালগঞ্জ থেকে এসেছেন।

তিনি বললেন, এখানে হজযাত্রী ছাড়াও বাইরের অনেক অহেতুক লোক এসে একেবারেই পরিবেশটা নষ্ট করে দিচ্ছে। ছেলেমেয়েরাও এখানে এসে গল্প করছে সেলফি তুলছে। এখানে যদি শুধু হজযাত্রীরা ঢুকতে পারতেন তাহলে হয়তো পরিবেশটা একটু ভালো হতে পারত। পাবনা থেকে আবদুল হাই নামে একজন স্ত্রীকে নিয়ে হজে যাচ্ছেন। ৭৫ বছর বয়সের এই বৃদ্ধ স্ত্রীকে নিয়ে হজ ক্যাম্প সমজিদের বারান্দায় বসে অপেক্ষা করছেন।

এখানকার কর্তব্যরত একজনের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, যাত্রীদের বিশ্রামের জন্য কোনো ব্যবস্থা আছে কিনা। তিনি বলেন, যাত্রীদের বিশ্রামের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। হজ কার্ড পাওয়ার পরই কেবল ওখানে যেতে পারেন।

মুয়াল্লিম হজ এজেন্সির কাছ থেকে কার্ড সংগ্রহ করে যাত্রীদের কাছে পৌঁছায়। হজ কার্ড না থাকায় যাত্রীরা বাইরে বসে কষ্ট করছেন। তিনি বলেন, যাত্রীরা মুয়াল্লিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে হজ কার্ড নিয়ে এলে এভাবে কষ্ট করতে হতো না।

হজ ক্যাম্প ঘুরে বড়ই হতাশ হয়েছি। মনে হচ্ছে, ওখানে আমার না যাওয়াটাই ভালো ছিল। হজ ক্যাম্পে এসে আশেকের হৃদয়ে যদি আল্লাহ প্রেম জাগ্রত না হয় তাহলে মাবুদের দরবারে কতটুকুই বা সমাদর হবে হজ প্রেমিকের? এই সফর তো সাধারণ কোনো সফর নয়। এটা যে আল্লাহকে পাওয়ার সফর। আল্লাহম্মা লাব্বাইক, হে মাবুদ আমি হাজির, প্রতিজ্ঞা নেয়ার সফর।

ই-মেইল : [email protected]