মুখে মুখে তাবলিগি ভাই অন্তরে নাই

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কাজী মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন

বিশ্ব মুসলিম ভাই ভাই, কিতাবে আছে বাস্তবে নেই। আল্লাহর অশেষ রহমত দিল্লির নিজামুদ্দীন মাওয়াতী বস্তি থেকে তাবলিগ জামাত শুরু হয়ে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্ব মুসলিম ভাই ভাই এক কাতারে আসতে শুরু করে। একশ বছর পর হঠাৎ বিশ্ব ইজতেমা ২০১৮ তাবলিগ জামাত বিভক্ত হতে শুরু করে।

আলেমরা দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে গেলেন। ফলে সাথীরাও বিভক্ত হয়ে গেলেন।

বাংলাদেশের বিশ্ব ইজতেমা ২০১৯ আসন্ন। যেভাবে গ্রুপিং চলছে ২০১৯ বিশ্ব ইজতেমাতেও যদি এ গ্রুপিং থাকে, ২০১৮ সালের মতো যদি মিছিল-মিটিং চলে এবং বিদেশি মেহমানদের টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমায় যোগদানে বাধা দেয়া হয়, তবে বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমার সমাধি রচনা হয়ে যাবে। এভাবে চললে ১২০-১২৫ রাষ্ট্র থেকে বিদেশি মেহমান আর বাংলাদেশে আসবেন না। ফলে বিশ্ব ইজতেমার ইতি ঘটে যেতে পারে।

বাংলাদেশের আমির, মুরব্বিরা, তাবলিগের আলেমরা এবং পুরনো ত্যাগী সাথীরা কি বোঝেন না? সবার মনে আতঙ্ক, বুঝি বিশ্ব ইজতেমার দাওয়াতের ৩ দিন, ১ চিল্লা, ৩ চিল্লা মেহেনতও বুঝি নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। সময় থাকতে সবাই আবার এক হোন।

সবর, ত্যাগ, পেছনে সমালোচনা ইত্যাদি ত্যাগ করে আবার এক হয়ে বিশ্ব ইজতেমার তসকিল আরম্ভ করুন। আমাদের মনে আছে টঙ্গী মাঠে সার্ভিস লেট্রিনে পড়ে ময়লায় হাবুডুবু খেয়েছে, তবুও ইজতেমায় আসা বন্ধ করেননি মুসল্লিরা। কত কষ্ট মুজাহেদার ফসল টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা, আলেমরা গ্রুপিং করে নিঃশেষ করে দেবেন, তিলে তিলে গড়া একশ বছরের পুরনো এই দ্বীনি সংগঠন তাবলিগ জামাত তথা বিশ্ব ইজতেমার সমাধি রচনা হবে? এটি মানা যায় না।

হুজুগে বাঙালি আমরা বুঝতে পারছি না বাংলাদেশের কত বড় সম্মান এ বিশ্ব ইজতেমা। বিশ্বে বাংলাদেশের খ্যাতি, আমাদের গর্ব, বিশ্বের আগত মেহমান, কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় সব বন্ধ হয়ে যাবে। জানা যায়, রাইবেন্ড (পাকিস্তান) থেকে আলমি শূূরা গঠন করে বিশ্ব ইজতেমা পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। এজন্য ২০১৮ ইজতেমায় মাওলানা সাদ হুজুরকে উপলক্ষ করে ছাত্রসমাজকে দিয়ে মিছিল-মিটিং প্রতিরোধ গড়ে তোলে পাকিস্তানপন্থী ওই আলেমরা।

বাংলাদেশের মুরব্বি, তাবলিগের আলেমদের উচিত গ্রুপিংয়ের ফাঁদে পা না দিয়ে আবার এক হয়ে টঙ্গী ইজতেমা ২০১৯ সফল করার প্রাণপণ চেষ্টা করা। টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ক্ষতিগ্রস্ত হলে আপনারাই দায়ী থাকবেন; যারা গ্রুপিং করছেন।

গত বছর যারা ছাত্রদের উসকানি দিয়ে সাদ হুজুরকে প্রতিরোধ করেছেন। সাদ হুজুর না এলে বিশ্বের মেহমানরা আসবেন না। যেহেতু টঙ্গী ইজতেমা দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। আপসরফার স্বার্থে প্রথম পর্বে বিরোধী আলেমরা বয়ান করে কার কী দোষ প্রকাশ্য ময়দানে প্রকাশ করবেন।

দ্বিতীয় পর্বে মাওলানা সাদ হুজুরকে বয়ান করতে দিতে হবে। তিনি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রুজু করবেন। পেছনে পেছনে কথা কাটাকাটি বন্ধ হোক, দোষ ত্রুটি প্রকাশ্য ময়দানে ফয়সালা হোক। আমার এ লেখা তাবলিগ জামাতকে আবার এক করার আবেদন। মাওলানা সাদ কোনো অন্যায় করলে তিনি আল্লাহর কাছে দায়ী থাকবেন, আমরা সবর করব।

ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন, সরকার নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকবে তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাংলাদেশ র‌্যাব, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী এ ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখা জরুরি। ষড়যন্ত্রকারীদের গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হোক, যাতে গত বছরের মতো মিছিল-মিটিং এবং বিদেশি মেহমানদের আগমনে কেউ কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, আল্লাহ এ দ্বীনি সংগঠনকে হেফাজত করুন।

লেখক : তাবলিগের সাধারণ সাথী ভাই, ফেনী