কোরআন জানা এক শিক্ষিকা

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আশরাফুল আলম পিনটু

কোরআন জানা এক শিক্ষিকা ছিলেন। জীবনযাপনে একটি আয়াত আমল করতে বলতেন শিক্ষার্থীদের।

‘এবং হে আমার প্রতিপালক। আমি তোমার কাছে ছুটে এসেছি, যেন তুমি সন্তুষ্ট হও।’

তিনি বলতেন, ‘এই আয়াত আমাকে চালায়। যতই কাজে ব্যস্ত থাকি আজান শুনলেই এ আয়াত মনে করি। আর সঙ্গে সঙ্গে সব কাজ রেখে দিই। প্রার্থনায় দাঁড়িয়ে যাই। রাত তিনটায় ঘড়ির অ্যালার্ম বাজে। জেগে আবার ঘুমিয়ে পড়তে ইচ্ছা করে। তখনই আয়াতটি মনে করি- এবং হে আমার প্রতিপালক। আমি তোমার কাছে ছুটে এসেছি, যেন তুমি সন্তুষ্ট হও।

আমি আবার উঠে পড়ি। আল্লাহর সামনে দাঁড়াই।’

স্বামী তার সঙ্গে একটি ব্যবস্থা করে নিয়েছিলেন। সারা দিন কাজ করতেন দূরে কোথাও। ফেরার সময় স্ত্রীকে ফোন করতেন। স্বামীর জন্য গরম খাবার রান্না করতেন শিক্ষিকা। স্বামীও বাড়ি ফিরে খেয়েদেয়ে বিশ্রাম নিতে পারতেন সহজেই।

একদিন স্বামী তাকে মাশি তৈরি করতে বললেন। মাশি আঙুর পাতা জড়ানো এক ধরনের খাবার। এ খাবার তৈরি করতে অনেক সময় লাগে। অনেক পাতা জড়িয়ে নিতে হয় প্রথমে। তারপর রান্নার জন্য পাত্রে রাখতে হয়। শিক্ষিকা পাতা জড়াচ্ছিলেন। আর মাত্র তিনটি পাতা জড়াতে বাকি। এমন সময় আজান হল। বাকি পাতা জড়াতে আরও মিনিট পাঁচেক লেগে যাবে। তিনি পাতাগুলো রেখে দিলেন। চলে গেলেন নামাজ পড়তে।

তার স্বামী বাড়ি ফিরলেন। দেখলেন তখনও খাবার তৈরি হয়নি। তার স্ত্রী জায়নামাজে। আরও দেখলেন, মাত্র তিনটি পাতা জড়াতে বাকি আছে। একটু মন খারাপ হল তার। বিড়বিড় করলেন, কাজটা শেষ করে রান্না চড়িয়ে নামাজ পড়লেই তো হতো!’

স্বামী শিক্ষিকার কাছে গেলেন। আবিষ্কার করলেন, তার স্ত্রী জায়নামাজেই ইন্তেকাল করেছেন।

সুবহানআল্লাহ! শিক্ষিকা আর দশজনের মতো হাতের কাজ সারতে চাননি। নামাজে গেছেন। না গেলে হয়তো রান্নাঘরেই মারা যেতেন।

কোরআন বলছে : ওয়া জিলতু ইলাইকা রাব্বি লিতারদা।

-এবং হে আমার প্রতিপালক। আমি তোমার কাছে ছুটে এসেছি, যেন তুমি সন্তুষ্ট হও। সূরা তোয়া-হা ২০ : ৮৪

* অ্যান্ড আই হারিড টু ইউ অবলম্বনে

লেখক : সাংবাদিক ও শিশু সাহিত্যিক