যিনি নবীকুল শিরোমণি আমি তো গোলাম তাঁর

  মূল : সাইয়েদ আবুল হাসান আল নদভী, তরজমা : মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বুঝতে শিখুন জমানার নিস্বতা

বন্ধুগণ! জীবন সংগ্রামের পথে হীনমন্যতার যে অনুভূতি আজ আপনাদের যন্ত্রণা˜গ্ধ করছে তার একটা কারণ তো এই, নিজেদের প্রকৃত অবস্থান ও মর্যাদা সম্পর্কে আপনারা অবগত নন। এ সম্পর্কে বিস্তারিত বক্তব্য আগেই বলেছি।

দ্বিতীয় কারণ এই, আজকের পৃথিবীর পকৃত অবস্থা সম্পর্কেও আপনাদের সঠিক ধারণা নেই। জীবনের গুরুভারে আমাদের সময় ও সমাজ কতটা বিপর্যস্ত ও অসহায় এবং হৃদয় ও আত্মার জগতে কেমন ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত তা আপনাদের জানা নেই। অজ্ঞতার কারণে বাইরের চাকচিক্যে আপনাদের মন-মস্তিক এমনই প্রভাবিত যে, করুণার চোখে না দেখে পৃথিবীকে আপনারা কামনার চোখে দেখছেন। আধুনিক জীবনের বাহ্যরূপ তো দেখেছেন, স্বরূপ দেখেননি। কাছে থেকে নির্মোহ দৃষ্টিতে দেখলে পরিষ্কার বুঝতে পারবেন, এই যুগ, এই সমাজ কতটা দেউলিয়া ও হতাশাগ্রস্ত।

সবচেয়ে বড় কথা, সময় ও সমাজ নিজেও তার দেউলিয়াত্ব তীব্রভাবে অনুভব করছে। সওদাগরের সব মুদ্রা জাল প্রামণিত হয়েছে, শিকারির সব তীর লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। দূর থেকে দেখা মরুপথের ‘জলতরঙ্গ’ মরীচিকা সাব্যস্ত হয়েছে। এক কথায় সব দর্শন ও মতবাদ এবং জীবনব্যবস্থা ও সমাজ কাঠামো ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। সব স্বপ্ন আজ দিবা-স্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

আপনার কাছে নবুয়তে মুহাম্মদীর যে জ্ঞানভাণ্ডার ও সত্য-সম্পদ রয়েছে নিজের অযোগ্যতা ও স্থূলদৃষ্টির কারণে সমাজের সামনে তা তুলে ধরতে আপনি সংকোচ বোধ করছেন। কারণ আপনার ধারণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এবং শিল্প ও অর্থনীতির এ বিপ্লবের যুগে উটের যুগের কথা কীভাবে বলা যায়? অথচ বাস্তবতা এই যে, পৃথিবী ও তার মানবসমাজ সেগুলোর জন্যই এখন ব্যাকুল ও সতৃষ্ণ। বিদ্যায়, বুদ্ধিতে ও শিল্পে, শক্তিতে উন্নত সব জাতি আজ এমন ব্যক্তি ও ব্যক্তিত্বের প্রতীক্ষায় আছে যারা তাদের জীবনের নতুন পথ দেখাবে। অনন্ত যাত্রার পাথেয় জোগাবে। মুহাম্মদে আরাবির বাণী ও পায়গাম শোনাবে।

কবির ভাষায়

‘বিশুষ্ক মরুভূমির প্রতিটি তপ্ত বালুকণা তাকিয়ে আছে মেঘের দিকে,

কখন নেমে আসবে বৃষ্টিধারা।

শীতল হবে, তৃপ্ত হবে মরু সাহারা’

আসল সম্পদ ইলমে নববী

আন্তর্দৃষ্টির অভাবে দ্বীন ও শরিয়তের যে বাণী ও বক্তব্যকে আপনি সাধারণ ভাবছেন, আপনার কাছে যার গুরুত্ব নেই, বড় বড় স্কলার ও বিদগ্ধ পণ্ডিৎকে আমি তা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শ্রবণ ও গ্রহণ করতে দেখেছি। জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের সামনে যখনই নবুয়তের শিক্ষা ও দীক্ষার আলোচনা এসেছে পরিষ্কার মনে হয়েছে, বহু উঁচু থেকে অনেক নিচের মানুষকে যেন সম্বোধন করা হচ্ছে। নতুন কিছুর সঙ্গে নতুন পরিচয় যেন তারা লাভ করছে। এমন কিছু যা তাদের কান এত দিন শোনেনি। কিন্তু শোনার জন্য উৎকর্ণ ছিল। দুনিয়ার বাজারে দুনিয়ার পণ্যসম্ভার নিয়ে আপনি হাজির হতে চান, তারপর যদি আমাদের সম্ভার এনেছে আমাদের কাছে বলে, তারা তা ফিরিয়ে দেয় তাহলে কোন যুক্তির জোরে আপনি জামানার শীতল আচরণের অভিযোগ করবেন?

জীবনের যন্ত্রণায় দগ্ধ পৃথিবী তো আশা করে, আপনি তাকে নবুয়তের বাণী ও পায়গাম এবং তত্ত্ব ও হাকিকত শোনাবেন। নবুয়তের পথ ও পন্থা এবং আহকাম ও বিধান বোঝাবেন। পৃথিবী এখনও নবী ও নবুয়তের সামনে মাথা নত করতে প্রস্তুত। মানুষের মেধা ও প্রতিভা এবং চিন্তা ও চেতনা এখনও তা গ্রহণ করার জন্য স্বতঃস্ফূর্ত। যেমন ছিল খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকের পৃথিবীর সীমাবদ্ধ পরিবেশে। আপনার কাছে গ্রিকদের প্রকৃতি বিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান ও মহাকাশ বিজ্ঞানের যে ক’টি ছেঁড়া পাতা আছে তার মোকাবেলায় ইউরোপের কাছে রয়েছে জ্ঞান-বিজ্ঞান, তথ্য ও প্রযুক্তি এবং পরীক্ষা ও নিরীক্ষার বিশাল ভাণ্ডার। সুতরাং এটা বাস্তব সত্য যে, আজকের বিজ্ঞানগর্বী ইউরোপকে গ্রিকদর্শনের তত্ত্ব জটিলতা এবং বুদ্ধিবৃত্তির সূক্ষ্মতা দিয়ে প্রভাবিত করা সম্ভব নয়। কেননা গ্রিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের যুগ শেষ হয়ে গেছে এবং সে তার জীবন ও জীবনীশক্তি হারিয়ে ফেলেছে।

কিন্তু আম্বিয়া আলাইহিমুসসালামের সে ইলম ও হাকিকত এবং রুহানিয়াত ও নুরানিয়াত আপনার কাছে রয়েছে, ইউরোপ-এশিয়া এখনও তা থেকে বঞ্চিত সে জন্য তৃষ্ণার্ত। আপনার চিন্তা-গবেষণার এবং জ্ঞানচর্চার কিছু না কিছু জবাব আছে তাদের কাছে। কন্তিু নবুয়তের মু’জেজা ও অলৌকিকত্বের কোনো জবাব নেই। আপনি আপনার আসল শক্তি ও সম্পদ নিয়ে আগে বাড়ুন এবং পূর্ণ আস্থা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জিন্দেগির ময়দানে নেমে আসুন। এখানে আপনার কোনো প্রতিপক্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। আপনার কাছে মানবতার নামে যে দাওয়াত ও পায়গাম আছে, আপনার কাছে ইলম ও হাকিকতের এবং অন্তর্জ্ঞান ও মারেফাতের যে ঝরণা ধারা রয়েছে, যে মহান সত্তার সঙ্গে আপনার গোলামির সম্পর্ক-সৌভাগ্য রয়েছে, তারপর তো আপনি অবশ্যই সগৌরবে বলতে পারেন-

‘আশ্চর্য কী চাঁদ-তারা যদি হয় আমার অনুগত, আমি তো গোলাম তাঁর যিনি সবার সেরা, যিনি নবীকুল শিরোমণি পথের ধূলিকণাকে যিনি দান করেছেন সিনাই মরুর বিশালতা।’

উর্দু গ্রন্থ’ পা-জা সুরাগে জিন্দেগি থেকে সব্যসাচী লেখক ও উম্মত দরদী সমাজ গবেষক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×