কোরআনের আলোয় নবী পরিবার

  ফিরোজ আহমাদ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মহররম শব্দের অর্থ হারাম, নিষিদ্ধ ও পবিত্র। এ মাস সম্মানিত হওয়ায়, অতীতে আরব দেশগুলোয় এ মাসে সব ধরনের যুদ্ধ-বিগ্রহ-ঝগড়া-ফ্যাসাদ নিষিদ্ধ ছিল। মহররম মাসেই ইসলামের ইতিহাসের নির্মম জঘন্যতম কারবালার ঘটনা হয়েছিল। মহানবী (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-কে শহীদ করা হয়েছে। মহররমের ১০ তারিখে কারবালার প্রান্তরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সূচিত হয় হৃদয়স্পর্শী আশুরার ইতিহাস।

হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তার সঙ্গী-সাথীরা কলেমার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কারবালার ময়দানে শহীদ হয়েছিলেন। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার লড়াই সংগ্রামে আপস করেননি। তাদের মর্যাদা ও পুরস্কার কেয়ামত পর্যন্ত আল্লাহতায়ালার কাছে সংরক্ষিত। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর পথে যারা নিহত হয় তাদেরকে তোমরা মৃত বল না বরং তারা জীবিত। কিন্তু তোমরা বুঝতে পার না। ’ (সূরা বাকারা : ১৫৪)।

আহলে বায়াতের মর্যাদার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে কোরআনে এসেছে। অথচ আমাদের অনেকে আহলে বায়াতের মর্যাদার বিষয়টি সরাসির অস্বীকার না করলেও সুকৌশলে এড়িয়ে যান। আল্লাহতায়ালা আহলে বায়াতের পবিত্রতার বিষয়টি এভাবে উল্লেখ করেছেন, ‘হে নবী পরিবার, আল্লাহতো চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।’ (সূরা আহযাব : ৩৩)।

আহলে বায়াত তথা কলেমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার কিংবা চক্রান্ত আজও থেমে নেই। বিভিন্ন সময় নানা অজুহাত দিয়ে মুনাফেকরা আহলে বায়াতের অনুসারীদের ওপর নির্যাতন নিপীড়ন চালিয়ে আসছে। মুনাফেক বেঈমানদের ফাঁদে পা দিয়ে মুসলমানরা আজ বহু দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ছে। যার ফলশ্রুতিতে মুসলমান ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথ ভয় কর আর মুমিন না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। আর তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধর এবং পরস্পর বিছিন্ন হইও না।’ (সূরা আল ইমরান : ১০১-১০২)।

কারবালার ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে, কলেমার মর্যাদা বাড়াতে মুসলমানকে সব ধরনের বিভেদ ভুলে সংগঠিত হতে হবে। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা তাদের মতো হয়ে যেও না, যাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নিদর্শন আসার পরও তারা ভিন্ন ভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের মতানৈক্য সৃষ্টি করেছে; এরাই হচ্ছে সেসব মানুষ যাদের জন্য কঠোর শাস্তি রয়েছে।’ (সূরা আল ইমরান : ১০৫)। মুসলমানকে কল্যাণমূলক কাজে পরস্পর সহযোগী হতে হবে। কোরআনুল কারিমের নির্দেশগুলো যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। ‘তোমরা কল্যাণমূলক ও খোদাভীরুতার কাজে পরস্পর সহযোগী হও, মন্দ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে পরস্পর সহযোগী হইও না।’ (সূরা মায়িদা : ২)।

আশুরার গুরুত্ব জেনে আহলে বায়াতের মর্যাদা রক্ষার জন্য বিভেদ ভুলে গিয়ে উম্মতকে একসঙ্গে পথ চলতে হবে। মুনাফেক বেঈমান সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।

লেখক : প্রাবন্ধিক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter