প্রজন্মের সময় ঠুকরে খায় ফেসবুক

চরিত্র এবং বিবেক ধ্বংসের হাতিয়ার

  মুফতি আহসান শরিফ ০৫ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রজন্মের সময় ঠুকরে খায় ফেসবুক
প্রতীকী ছবি

ফেসবুক ব্যবহারকারী হিসেবে বিশ্বে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। এ শহরে প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ মানুষ ফেসবুকে সক্রিয়। উদ্দেশ্য, কেবল মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বাড়ানো। প্রতিনিয়ত নিজেকে জানান দেয়া।

পরিচিতদের মাঝে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করা। অপরিচিতদের মাঝে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলা। অন্যের কাজ দেখে উৎসাহ বাড়ানো।

কেবল এটুকু হলে ঠিক ছিল। আমাদের তরুণরা এখানে সীমাবদ্ধ আছে কি? তাদের নৈতিকতা, চারিত্রিক উৎকর্ষ ও শালীনতার কতটুকু আমরা দেখতে পাই? মুসলিম যুবক-যুবতীরা ফেসবুক ব্যবহার করতে গিয়ে নিজের পরিচয় ভুলে যায়। সারাক্ষণ ফেসবুকে ডুবে থাকে।

কখন আজান হয়, কখন সালাত আদায় করতে হবে, তা যেন তার দায়িত্বে পড়ে না। পড়াশোনা বা নিয়মতান্ত্রিকতা যেন তার জন্য থাকতে নেই।

চলাফেরার নিরাপত্তার কথা ভাবার সময় কই। রিকশা, বাস বা সিএনজি, কোথাও অবসর নেই। কখন প্রিয়তম বা প্রিয়তমা নক করে, এ ভাবনা তার দেহমনজুড়ে থাকে।

অপরিণতদের এলার্জি অন্য জায়গায়। বিপরীত লিঙ্গের আবরণহীন তৃপ্তিদায়ক অংশটুকু খুঁজতে তারা ব্যাকুল। রাত-বিরাত মরিয়া হয়ে খুঁজতে থাকে, কাছের কাউকে পাওয়া যায় কিনা।

কেউ আবার নিজেকে মেলে দেখাতে তৃপ্তিবোধ করে। এখন কেবল ফেসবুক নয়, ইমুতেও একান্তে নিজেকে মেলে ধরছে ছেলেমেয়েরা, অশ্লীলতায় ভেসে যাওয়া এবং ইমানহারা ও যৌবনহারা হয়ে দেউলিয়া হচ্ছে সমাজ।

এগুলো যে গুনাহ, আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন, এ জন্য জাহান্নামে যেতে হবে এ কথা ভাবার সময় কারও নেই! মানুষের প্রতিটি মুহূর্তই লিপিবদ্ধ হচ্ছে মুনকার-নকির ফেরেশতার রেকর্ডে, এ কথা ভুলে গেলে চলবে না।

কবর জগতে মানুষের কৃত গুনাহের কারণে তখন সে অনুতপ্ত হবে। গুনাহ করেছে নিজের কাছে বিশ্বাস হবে না।

সূরা আলে ইমরানের ১৮২ নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, এ হল তারই প্রতিফল, যা তোমরা ইতোপূর্বে নিজের হাতে পাঠিয়েছ। বস্তুত আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অত্যাচার করেন না।

আমাদের জাতীয় সংসদে রাতে ফেসবুক বন্ধের যে দাবি উঠেছে, আমরা একে সাধুবাদ জানাই। আমরা মনে করি প্রধানমন্ত্রী মমতাময়ী মা হিসেবে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে সচেষ্ট হবেন।

লেখক : প্রিন্সিপাল, মাদরাসাতুল বালাগ ঢাকা

E-mail: [email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter