মাদকদ্রব্যের চেয়ে ভয়ংকর নেশা

  আহনাফ আবদুল কাদির ০৫ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাদকদ্রব্যের চেয়ে ভয়ংকর নেশা
প্রতীকী ছবি

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বর্তমানে ৮ কোটি ৮ লাখ। এর মধ্যে তরুণদের সংখ্যাই বেশি।

আজকাল এটি তরুণদের কাছে নেশা ও পেশায় পরিণত হয়েছে। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীরা জড়িয়ে পড়ছে ইন্টারনেট নামক ভয়ংকর এই নেশায়।

ফেসবুক, মেসেঞ্জার, ইমো, ওয়াটঅ্যাপ এই নেশার এক একটি অভিন্ন নামমাত্র। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জিং এই পৃথিবীতে বাস্তববাদী জীবন থেকে পরাবাস্তব জীবনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এই নেশা। তরুণদের মন ও মগজে সারা দিন ঘুরপাক খাচ্ছে ইন্টারনেটের অবাধ দুনিয়া।

জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিযোগিতায় ১ম হওয়ার চেয়ে ফেসবুক সেলিব্রেটি হওয়া এখন তাদের কাছে বেশি আনন্দের। জীবনের রঙিন স্বপ্ন বিলীন করে দিচ্ছে আবর্জনার স্তূপে। এখন এটি হয়ে পড়ছে মাদকদ্রব্যের চেয়ে বেশি ভয়ানক, আণবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী।

পড়ার টেবিল, ক্লাস ও কোচিংয়ে শিক্ষকের নজর ফাঁকি দিয়ে, ঘরের কোণে দরজা বন্ধ করে, রাস্তায় হাঁটার ছলে, গল্পের আসরে বারবার ঢু মারছে ইন্টারনেটের রঙিন জগতে। সেই রঙিন জগৎ তাকে নিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারে।

সেখানকার হাজারও অন্ধকার তাকে নিয়ে যাচ্ছে ভয়াবহ অপরাধ জগতে। এর করুণ পরিণতিতে আমরা দেখি কীভাবে নীরবে নিভৃতে পাড়ার ভালো ছেলেটিও হঠাৎ করে আত্মপ্রকাশ করে একজন ভয়ংকর অপরাধী হিসেবে।

কেউ বুঝে উঠার আগেই ততদিনে সে অপরাধ জগতের ডন হয়ে যায়। তারপর আর ফিরে আসার উপায় থাকে না। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে ডেটিং, ব্ল্যাকমেইলিং, পরকীয়া, অশ্লীলতা ও নষ্টামির ছড়াছড়ি এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদসহ বড় বড় অপরাধের সব ফিরিস্তি।

ফলে নীতি-নৈতিকতাহীন ও জ্ঞানের আলো বর্জিত এক মুমূর্ষু জাতি গড়ে উঠছে যাদের সুন্দর কোনো ভবিষ্যৎ নেই। দুচোখে কোনো স্বপ্ন নেই, পৃথিবী গড়ার মন্ত্র নেই। আছে কেবল অন্ধকার আর হতাশার কালো ছায়া।

সেই কালো নিভিয়ে দেয় জাতির সমগ্র আলো। জাতির ভেতরে ও বাইরে হয়ে ওঠে বিষাদময়। তরুণ প্রজন্মকে ইন্টারনেট জগতের এই ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা গেলে রক্ষা পাবে ভবিষ্যৎ, রক্ষা পাবে জাতি।

মানবতার ধর্ম ইসলাম তরুণদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। মানবজাতির শ্রেষ্ঠ সংস্কারক হজরত মুহাম্মদ (সা.) একটি আদর্শবাদী ও নৈতিকতাসম্পন্ন জাতি গঠনে তরুণদের দক্ষতা ও যোগ্যতার আলোকে গড়ে তোলার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

এই উদ্দেশ্যে তিনি একটি মূলনীতি ঘোষণা করেছেন, ‘লা দারারা ওলা দিরারা- কারও ক্ষতি কর না, নিজেকে ক্ষতির মধ্যে ফেল না।’ (তিরমিজি)। মহাগ্রন্থ কোরআনুল কারিমে আল্লাহতায়ালা সময়ের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে মানবজাতিকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষার পথ বাতলে দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ‘প্রতিশ্রুতি সময়ের। নিশ্চয়ই মানবজাতি এক ভয়াবহ পরিস্থিতির ভেতরে রয়েছে। এ ভয়াবহতা কাটিয়ে উঠতে দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে ভালো কাজ করে যেতে হবে। সঠিক পথের দিকে দিকনির্দেশনা দিতে হবে। নির্দেশনা দিয়ে যেতে হবে বাধা পেরিয়ে পথ চলার’ ( সূরা আল আসর)।

সূরা আসরের নির্দেশনা অনুযায়ী সময়ের অপচয় থেকে তরুণদের রক্ষা করে মানবতার কল্যাণে তাদের মেধা, শ্রম ও যোগ্যতাকে কাজে লাগানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে রাষ্ট্রকে। তাদের সময়ের সব নোংরামি ও ক্ষতিকর কাজ থেকে দূরে সরিয়ে সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে হবে। ফেসবুকে সময় নষ্ট করা আজকের প্রজন্মকে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় নিয়ে আসা খুবই জরুরি।

লেখক : শিক্ষক, আল আবরার মডেল মাদ্রাসা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×